📄 শোকসন্তপ্ত নারীজির धैर्य হতে প্রাপ্ত শিক্ষা
ক. সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব রা.
হামযাকে দেখতে আবদুল মুত্তালিবের কন্যা সাফিয়া এলেন। হামযা ছিলেন তার সহোদর ভাই। রসূলুল্লাহ সা. সাফিয়ার পুত্র যুবায়ের ইবনুল আওয়امকে বললেন, 'তুমি তোমার মার সাথে দেখা করে তাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দাও যেন সে ভাইয়ের এ বিকৃত অবস্থা দেখতে না পায়।' যুবায়ের রা. গিয়ে বললেন, মা, রসূলুল্লাহ সা. আপনাকে ফিরে যেতে বলছেন। সাফিয়া রা. বললেন, কেন? আমার ভাইয়ের লাশ বিকৃত করার কথা আমি শুনেছি। ওটা আল্লাহর পথেই হয়েছে এবং তা আমার জন্য খুশির ব্যাপার। ইনশাআল্লাহ আমি সবর করবো এবং সন্তুষ্ট থাকবো।
যুবায়ের রসূল সা.-এর কাছে গিয়ে সাফিয়ার এই বক্তব্য জানালে রসূল সা. বললেন, আচ্ছা, তাহলে তাকে বাঁধা দিও না। সাফিয়া গিয়ে হামযাকে দেখে ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়লেন ও তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। ৫৬০
খ. হামনা বিনতে জাহাশ রা.
রসূলুল্লাহ সা. মদীনা অভিমুখে রওনা হলেন। এই সময় হামনা বিনতে জাহাশ তার সাথে দেখা করলেন। তখন তাকে তার ভ্রাতা আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশের শাহাদাতের খবর দেয়া হলে তিনি ইন্না লিল্লাহ পড়লেন ও ইস্তিগফার করলেন। এরপর তাকে তার মামা হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিবের শাহাদাতের খবর দেয়া হলে তিনি পুনরায় ইন্না লিল্লাহ পড়লেন ও ইস্তিগফার করলেন। এরপর তাকে জানানো হলো যে, তার স্বামী মুসআব ইবনে উমায়ের শহীদ হয়েছেন, তখন তিনি চিৎকার করে উঠলেন। তখন রসূলুল্লাহ সা. মন্তব্য করলেন, 'এজন্য মেয়ের স্বামী তার কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।' মামা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে তাকে অবিচলিত এবং স্বামীর মৃত্যুর খবরে চিৎকার করতে দেখেই তিনি এ কথা বলেন।
রসূলুল্লাহ সা. হামনাকে তার বিচলিত হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার সন্তানদের এতিম হয়ে যাওয়ার কথা মনে করেই আমি বেশি ব্যথিত হয়েছি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সা. তার জন্য ও তার সন্তানদের জন্য উত্তম প্রতিদানের দোআ করেন। ৫৬১
পরে হামনা বিনতে জাহাশ তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের ঘরে মুহাম্মাদ ও ইমরান জন্মগ্রহণ করেন। ৫৬২
তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ হামনার পূর্বের সন্তানদেরও খুব ভালোবাসতেন। ৫৬৩
গ. দিনার গোত্রের এক নারী সাহাবীর ঘটনা
সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. বলেন, দিনার গোত্রের জনৈক নারীর স্বামী, ভাই ও পিতা উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল। তাকে তার আপনজনের নিহত হওয়ার খবর শোনানো হলে সে নির্বিকারভাবে বললো, রসূলুল্লাহ সা.-এর কি অবস্থা? সবাই বললো, তিনি ভালো আছেন। তুমি যেমন পছন্দ কর, তিনি সে রকমই আছেন। মহিলা বললো, রসূলুল্লাহ সা.-কে একটু দেখাও। আমি তাকে দেখে নিই। তখন রসূলুল্লাহ সা.-কে দেখানো হলো। মহিলা দেখেই বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আপনি নিরাপদে আছেন, এটা দেখার পর আমার কাছে অন্য যে কোন মসিবত নিতান্তই তুচ্ছ। ৫৬৪
এমনই ছিল মুসলমানদের ঈমানী চেতনা।
ঘ. সাদ ইবনে মুআযের মা কাবশা রা.-এর ঘটনা
রসূলুল্লাহ সা.-এর দিকে দৌড়ে আসছিলেন সাআদ ইবনে মুআয রা.-এর মা। তখন রসূলুল্লাহ সা. ঘোড়ায় আরোহী ছিলেন এবং তার লাগাম ছিল সাআد-এর হাতে। সাআদ বললেন, আল্লাহর রসূল! আমার মা আসছেন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তার আগমন শুভ হোক। তিনি কাছে এসে সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নবীজিকে পর্যবেক্ষণ করে বললেন, যখন আমি আপনাকে নিরাপদ দেখছি তখন প্রতিটি বিপদ আমার জন্য অত্যন্ত তুচ্ছ। রসূলুল্লাহ সা. তাকে তার ছেলে আমর ইবনে মুআয রা.-এর শাহাদাতের ব্যাপারে সান্তনা দিয়ে ধৈর্য ধারণ করার উপদেশ দিয়ে বললেন, সাআদের মা! তুমি খুশি হও এবং অন্যান্য শহীদদের স্বজনদের সুসংবাদ দাও। নিঃসন্দেহে তারা সবাই জান্নাতে সমবেত হয়েছেন। তারা সংখ্যায় ১২ জন এবং তাদেরকে পরিবার-পরিজনদের জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং তা আল্লাহ কবুল করবেন।
উম্মে সাআদ বললেন, আল্লাহর রসূল! আমরা এতে সন্তুষ্ট। এত বড় সুসংবাদের পর আর কি কান্না করতে পারি? আবার তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা যারা তাদের মৃত্যুর পরেও বেঁচে আছি আমাদের জন্য দোআ করুন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, হে আল্লাহ! তাদের দুশ্চিন্তা দূর করুন, তাদের বিপদ লাঘব করে দিন। তাদেরকে কল্যাণ দান করুন। ৫৬৫
টিকাঃ
৫৬০ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/১০৮।
৫৬১ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৭৪।
৫৬২ আল ইসাবাহ: ৮/৮৮।
৫৬০ আবু ফারিস প্রণীত গাযওয়ায়ে উহুদ : ১০৯।
৫৬৪ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৪/৪৮।
৫৬৫ ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী : ১/৩১৫-৩১৬।