📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আবদুল্লাহ ইবনে আমরের ভূমিকা

📄 আবদুল্লাহ ইবনে আমরের ভূমিকা


আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রা. তদের পিছু পিছু গেলেন এবং বললেন, আমি তোমাদেরকে অনুরোধ করছি তোমরা তোমাদের মুসলমান ভাইদেরকে এবং আল্লাহর নবীকে উপস্থিত শত্রুর হামলার মুখে ফেলে যেও না। তারা বললো, যুদ্ধ হবে মনে করলে তোমাদের রেখে যেতাম না। আমাদের মনে হচ্ছে যুদ্ধ হবে না।
তারা যখন কিছুতেই রণাঙ্গনে ফিরে আসতে রাজি হলো না তখন আবদুল্লাহ বললেন, হে আল্লাহর দুশমনরা! আল্লাহ তোমাদেরকে দূরেই সরিয়ে দিন। আল্লাহ তার রসূলকে তোমাদের মুখাপেক্ষী রাখবেন না। আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। "৪৩২
এসব দলত্যাগী মুনাফেকদের ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا أَصَابَكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعُنِ فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَ لِيَعْلَمَ الْمُؤْمِنِينَ وَ لِيَعْلَمَ الَّذِينَ نَافَقُوْا وَ قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِ ادْفَعُوْا قَالُوْا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالًا لَّا تَبَعْنُكُمْ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْإِيْمَانِ يَقُوْلُوْنَ بِأَفْوَاهِهِمْ مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُوْنَ
আর তোমাদের উপর যে বিপদ এসেছিল দুই দল মুখোমুখি হওয়ার দিন তা আল্লাহর অনুমতিক্রমে এবং যাতে তিনি মুমিনদেরকে জেনে নেন। আর যাতে তিনি জেনে নেন মুনাফেকদেরকে। আর তাদেরকে বলা হয়েছিল, এসো, আল্লাহর পথে লড়াই কর অথবা প্রতিরোধ কর। তারা বলেছিল, যদি আমরা লড়াই হবে জানতাম তবে অবশ্যই তোমাদেরকে অনুসরণ করতাম। সেদিন তারা কুফরির বেশি কাছাকাছি ছিল তাদের ঈমানের তুলনায়। তারা তাদের মুখে বলে, যা তাদের অন্তরসমূহে নেই। আর তারা যা গোপন করে সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত। ৪৩৩

টিকাঃ
৪৩২ সহীহ আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ: ২৭৭।
৪৩৩ সূরা আলে ইমরান: ১৬৬-১৬৭।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 বানু সালামা ও বানু হারেসা

📄 বানু সালামা ও বানু হারেসা


মুনাফেক আবদুল্লাহ ইবনে উবাই নিজের দল নিয়ে মুসলিম বাহিনী থেকে সরে যায়। এতে বনু সালামা ও বনু হারেসা গোত্রের লোকজনও প্রভাবিত হয়। তারাও ফিরে যেতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের মনোবল বাড়িয়ে দেন। ফলে এই অপরাধ থেকে তারা রক্ষা পায়।
إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتْنِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلَا وَ اللَّهُ وَلِيُّهُمَا وَ عَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ
যখন তোমাদের মধ্য থেকে দু'দল পিছু হটার ইচ্ছা করল, অথচ আল্লাহ তাদের উভয়ের অভিভাবক। আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনগণ তাওয়াক্কুল করে। ৪০৮
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ বলেন, কুরআনে কারীমের উপরোক্ত আয়াত আমাদের বনু সালামা ও বনু হারেসার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। আয়াতের শেষাংশ অর্থাৎ 'আল্লাহ উভয় গোত্রের অভিভাবক।' এই অংশটুকু না হলে হয়তো এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়াকে আমরা পছন্দ করতাম না। ৪০৯
মুনাফেকরা এভাবে দলত্যাগ করার ফলে মুসলমানদের দুটি গোত্রে মানসিকভাবে প্রভাবিত হয়। তারাও মদিনায় ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের মনোবল বাড়িয়ে দেন। ফলে তারা مسلمانوں সাথে থেকে যান। মুনাফেকদের এভাবে পৃষ্ঠ প্রদর্শনের পর তাদের ব্যাপারে কী করা হবে তা নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে দুইরকম মতামত দেখা যায়। এক দল মত দেন হঠাৎ এভাবে মুসলিম বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করা ও তাদের বিপর্যস্ত অবস্থায় ফেলার দায়ে তাদের হত্যা করা উচিত। অন্য একদল মত দেন তাদের হত্যা করা উচিত নয়। ৪১০
এই দুই দলের বিরোধ নিরসনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنْفِقِينَ فِئَتَيْنِ وَ اللهُ أَرْكَسَهُمْ بِمَا كَسَبُوا أَتُرِيدُوْنَ أَنْ تَهْدُوْا مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا
মুনাফেকদের ব্যাপারে তোমাদের কী হলো যে, তোমরা দু' দল হয়ে গেলে? অথচ তারা যা কামাই করেছে তার জন্য তাদেরকে আল্লাহ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তোমরা কি তাকে হেদায়াত করতে চাও? আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি কখনো তার জন্য কোন পথ পাবে না। ৪১১

টিকাঃ
৪০৮ সুরা আলে ইমরান: ১২২।
৪০৯ সহীহ বুখারী: ৪০৫১।
৪১০ 'আস সীরাতুন নববিয়‍্যাহ আসসহীহাহ ৩/৩৮২।
৪১১ সূরা নিসা: ৮৮।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 বিশ্বনবীর থেকে সহযোগিতা লাভের বিধান

📄 বিশ্বনবীর থেকে সহযোগিতা লাভের বিধান


রসূলুল্লাহ সা. যাত্রাপথে মুজাহিদদের নিয়ে শায়খাইন পৌঁছার পর দেখেন, সেখানে একটি ছোট বাহিনী চেঁচামেচিতে লিপ্ত। এদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্রের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? উত্তরে বলা হলো, এরা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মিত্র ইহুদি গোষ্ঠী। তখন তিনি বলেন, 'আমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে অন্য মুশরিকদের সাহায্য গ্রহণ করতে পারি না। ৪০৮
এই উক্তি দ্বারা নবীজি সা. তার উম্মতকে ইসলামের শত্রুদের কাছ থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত করেন। ৪০৯

টিকাঃ
৪০৮ সহীহ আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ: ২৭৮।
৪০৯ সাদিক উরজুন প্রণীত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ: ৩/৫৬১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 অল্পবয়সি সাহাবীদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত না-করা

📄 অল্পবয়সি সাহাবীদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত না-করা


রসূলুল্লাহ সা. শায়খাইন নামক স্থানে সৈন্যদের কাতার বিন্যস্ত করছিলেন। এ সময় তিনি ১৪ কিংবা তার চেয়ে কম বয়সীদের ফিরিয়ে দেন। ফিরিয়ে দেওয়া সেসব সাহাবীর তালিকায় আবদুল্লাহ ইবনে ওমর, যায়েদ ইবনে সাবিত, উসামা ইবনে যায়েদ, বারা ইবনে আযেব, আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর মতো বিখ্যাত সাহাবীরাও ছিলেন। মজার ব্যাপার হলো তারা সংখ্যায়ও ছিলেন প্রায় চৌদ্দ জন। ৪১০
তাদের বয়সী হযরত রাফি ইবনে খাদীজ রা.-কে রসূল যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেন। কারণ রসূল সা.-কে বলা হয়েছিল, তিনি একজন দক্ষ তীরন্দাজ। এটা দেখে হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রা. সৎ বাবা মিররী ইবনে সিনান রা.-এর কাছে যান। তিনি ছিলেন বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর চাচা। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, বাবা, রসূল সা. রাফি'কে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন অথচ আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন! আমি কিন্তু মল্লযুদ্ধে তাকে হারিয়ে দিতে পারি।
হযরত মিররী ইবনে সিনান রা. তাকে নিয়ে রসূলের কাছে এলেন। সবিস্তারে বললেন এই ঘটনা। রসূলুল্লাহ সা. কিশোর সাহাবীদ্বয়কে বললেন, তোমরা আমার সামনে মল্লযুদ্ধ করো তো দেখি! দুই কিশোর সামুরা এবং রাফি মল্লযুদ্ধ শুরু করেন। তবে বিজয়ী হন হযরত সামুরা রা.। রসূল সা. দু'জনকেই যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য অনুমতি দিয়ে দিলেন।
এখানে রসূলুল্লাহ সা.-এর দূরদর্শিতা লক্ষণীয়। তিনি বিশেষ সামরিক যোগ্যতার কারণে হযরত রাফি এবং সামুরা রা.-কে অনুমতি প্রদান করেন। ৪৪১
অন্য অল্পবয়সীদের তিনি ফিরিয়ে দেন। ৪৪১
এটাও লক্ষণীয়-সেই যুগের মুসলমানরা ছিলেন মহানবী সা.-এর আদর্শে উজ্জীবিত এবং ঈমানী দৃঢ়তায় বলিয়ান। তাই তারা পার্থিব জীবন তুচ্ছজ্ঞান করে শাহাদাতের অমীয় সুধা পানের জন্য ছিলেন উদগ্রীব। এ কারণে যুবক-বৃদ্ধ সবাই যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য উন্মুখ ছিলেন।

টিকাঃ
৪১০ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ ৩/৩৮৩।
৪৪১ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ ৩/৩৮৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00