📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 উবাদা ইবনে সামিতের দায়মুক্তি

📄 উবাদা ইবনে সামিতের দায়মুক্তি


এরপর উবাদা ইবনে সামিত রা. রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হলেন। বনু কায়নুকার সাথে তারও মৈত্রী সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার কোনো পরোয়া না করে তাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিলেন এবং তাদের সাথে তার কৃত চুক্তির দায়দায়িত্ব থেকে তিনি আল্লাহ ও রসূলের সামনে নিজেকে মুক্ত বলে ঘোষণা করলেন। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমার মিত্র ও বন্ধু শুধুমাত্র আল্লাহ, রসূল ও মুমিনগণ। এসব কাফিরের মৈত্রী থেকে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত। ৩৯৫
মদীনা থেকে বনু কায়নুকার বহিষ্কারাদেশ চূড়ান্ত হলে রসূলুল্লাহ সা. উবাদা ইবনে সামিত রা.-কে তাদের নির্বাসন প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করার নির্দেশ দেন। বনু কায়নুকার লোকেরা তাকে বললো, আপনি আমাদের সাথে বন্ধুত্বের চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের আচরণ করছেন? জবাবে তিনি বলেন, যখন থেকে তোমরা مسلمانوں বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলে, তখন আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে গিয়ে বলেছিলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি তাদের ও তাদের মিত্রদের সাথে নিজের মৈত্রী-চুক্তি বাতিল ঘোষণা করছি।
মৈত্রী চুক্তির ক্ষেত্রে ইবনে উবাই ও উবাদা ইবনে সামিত ছিলেন সমপর্যায়ের। ইবনে উবাই উবাদা ইবনে সামিত রা. কে বনু কায়নুকার কিছু পরীক্ষিত বন্ধুত্বের ঘটনা স্মরণ করিয়ে বললো, তাদের মিত্রতা আপনি কীভাবে ছিন্ন করছেন? এটা আপনার উচিত হয়নি। উবাদা ইবনে সামিত জবাবে বললেন, হে আবুল হুবাব, শত্রুতা-মিত্রতার নীতিমালায় পরিবর্তন এসেছে। পুরনো যাবতীয় চুক্তি বাতিল করেছে ইসলাম। আপনি এমন বিষয়ে বাড়াবাড়ি করছেন, যার করুণ পরিণতি অতিসত্বর দেখতে পাবেন। বনু কায়নুকা রসূলুল্লাহ সা.-কে বললো, আমাদের কিছু ঋণ আছে। আমরা তা আদায় করতে আগ্রহী। নবীজি সা. তাদের সেই ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেন। উবাদা ইবনে সামিত রা. তাদের নির্বাসনের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইলে তারা আরও কিছু সময় চায়। তিনি বললেন, তোমাদের তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। এর বেশি এক মুহূর্তও সময় দেওয়া হবে না। আর এটি রসূলুল্লাহ সা.-এর বিধান। আমার ক্ষেত্রে হলে এই সুযোগও পেতে না। এরপর তিনি তাদের পেছনে পেছনে যান এবং তাদের সিরিয়ার আজরাআত নামক স্থানে পৌঁছে দেন। ৩৯৬
এভাবেই চরম অপমানিত হয়ে মদীনা থেকে বহিষ্কৃত হয় মদীনার ক্ষমতাধর রণপটু গোত্র বনু কায়নুকা। জনসংখ্যায় তারা ছিল বিপুল। তাদের ছিল বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম। নির্বাসনের সময় যাবতীয় অস্ত্রশস্ত্র ও সহায়-সম্পত্তি مسلمانوں গণিমত হিসেবে ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় তারা। চরম শিক্ষা পায় ইহুদি জাতি। مسلمانوں ব্যাপারে ভয় ঢুকে যায় তাদের ভেতর। ৩৯৭

টিকাঃ
৩৯৫ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ: ১/২৮২-২৮৩।
৩৯৬ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ: ১/২৮৪-২৮৫।
৩৯৭ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ১/১৪৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00