📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 বদরে প্রকাশিত রসূলুল্লাহ সা.-এর মুজিযা

📄 বদরে প্রকাশিত রসূলুল্লাহ সা.-এর মুজিযা


বদর দিবসে রসূলুল্লাহ সা.-এর বেশ কয়েকটি মুজিযা দেখা গিয়েছিল। একটি ছিল রসূল সা.-এর অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান। নিঃসন্দেহে অদৃশ্যের জ্ঞান আল্লাহর জন্য বিশেষায়িত। কুরআনে কারীমে একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা অদৃশ্যের জ্ঞানকে শুধু নিজের জন্যে নির্দিষ্ট করেছেন। যেমন:
قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ
বলো, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জীবিত করে উঠানো হবে।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ
আর তাঁর কাছে রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ, তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানে না এবং তিনি অবগত রয়েছেন স্থলে ও সমুদ্রে যা কিছু আছে। আর কোনো পাতা ঝরে না, কিন্তু তিনি তা জানেন এবং জমিনের অন্ধকারে কোনো দানা পড়ে না, না কোনো ভেজা এবং না কোনো শুষ্ক কিছু; কিন্তু রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে।
আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রসূলগণ গায়েবী ইলম তথা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন না। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
قُلْ لَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكَ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ
বলো, আমি তোমাদেরকে বলি না আমার কাছে আল্লাহর ধন-ভান্ডার আছে, আর আমি অদৃশ্যের খবরও জানি না। আর আমি তোমাদেরকে এ কথাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা, আমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয় তাছাড়া (অন্য কিছুর) আমি অনুসরণ করি না। বলো, অন্ধ আর চোখওয়ালা কি সমান, তোমরা কি চিন্তা করে দেখো না?৩৬২
অদৃশ্যের জ্ঞান কেবল আল্লাহ তাআলারই আছে। অন্য কাউকে এ জ্ঞান দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন আয়াতে এ কথাও তুলে ধরা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী তার প্রেরিত নবী-রসূলের কাউকে নির্দিষ্ট পরিমাণ গায়েবী ইলম ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে থাকেন। আল্লাহর প্রেরিত নবী-রসূলের জন্য তা মুজিযা। এটা তাদের নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণও বটে। এ ব্যাপারে কুরআনে কারীমে এসেছে:
مَا كَانَ اللَّهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتَّى يَمِيزَ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى الْغَيْبِ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَجْتَبِي مِنْ رُسُلِهِ مَنْ يَشَاءُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَإِنْ تُؤْمِنُوا وَتَتَّقُوا فَلَكُمْ أَجْرٌ عَظِيمٌ
অসৎকে সৎ থেকে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় আছো, আল্লাহ মুমিনদেরকে সে অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে গায়েবের বিধান জ্ঞাত করেন না, তবে আল্লাহ তার রসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছে বেছে নেন, কাজেই তোমরা আল্লাহ এবং তার রসূলগণের প্রতি ঈমান আনো। যদি তোমরা ঈমান আনো আর তাকওয়া অবলম্বন করো, তাহলে তোমাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার। ৩৬৩
অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا
একমাত্র তিনিই অদৃশ্যের জ্ঞানী, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না। তবে তাঁর মনোনীত রসূল ছাড়া। আর তিনি তখন তার আগে-পিছে পাহারাদার নিযুক্ত করবেন।৩৬৪
সুতরাং বোঝা গেলো, অদৃশ্যের যেসব বিষয় রসূলুল্লাহ সা. বলেছিলেন তা আল্লাহ তাআলা তাকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়েছিলেন। সেটা তার নবুওয়াত ও রিসালাতের সত্যতারও প্রমাণ। বদর যুদ্ধের আগে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে পাওয়া অদৃশ্যের বিভিন্ন সংবাদ রসূলুল্লাহ সা. সাহাবীদের বলেন।৩৬৫

টিকাঃ
৩৬২ সূরা আনআম: ৫০।
৩৮০ সূরা আলে ইমরান: ১৭৯।
৩৬৪ সূরা জিন: ২৬-২৭।
৩৬৫ নাদরাতুন নায়ীম: ১/৪৫৩।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 উমাইয়া ইবনে খালফের পতন

📄 উমাইয়া ইবনে খালফের পতন


আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, সাআদ ইবনে মুআয রা. উমরাহ আদায় করার জন্য মক্কায় যান। তিনি সাফওয়ানের পিতা উমাইয়া ইবনে খালফের বাড়িতে অতিথি হলেন। উমাইয়াহও সিরিয়ায় যাওয়ার পথে মদীনায় সাআদ রা.-এর বাড়িতে অবস্থান করতেন। উমাইয়া সাআদ রা.-কে বললেন, একটু অপেক্ষা করুন, দুপুরে মানুষের চলাফেরা কমে গেলে আপনি গিয়ে তাওয়াফ করে নেবেন।
সাআদ রা. তাওয়াফ করছিলেন। এমতাবস্থায় আবু জেহেল এসে উপস্থিত হলেন। সাআদকে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কাবায় তাওয়াফকারী লোকটি কে? সাআদ রা. বললেন, আমি সাআদ। আবু জেহেল বললো, তুমি নির্বিঘ্নে কাবার তাওয়াফ করছো? অথচ তোমরাই মুহাম্মাদ ও তার সাথিদেরকে আশ্রয় দিয়েছো? সাআদ রা. বললেন, হ্যাঁ। এভাবে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এ সময় উমাইয়া সাআদ রা.-কে বললেন, আবুল হাকামের সঙ্গে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলো না। সে মক্কাবাসীদের নেতা। সাআদ রা. বললেন, আল্লাহর কসম! তুমি যদি আমাকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে বাধা দাও, তবে আমিও সিরিয়ার সঙ্গে তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ করে দেবো। উমাইয়া সাআদ রা.-কে বলতে লাগলেন, তোমার স্বর উঁচু করো না।
উমাইয়া সাআদকে নিবৃত করতে চাইলে সাআদ রা. ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি মুহাম্মাদ সা.-কে বলতে শুনেছি, তারা তোমাকে হত্যা করবে। উমাইয়া বললেন, আমাকেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমাইয়া বললেন, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ কখনও মিথ্যা কথা বলেন না।
এরপর উমাইয়া তার স্ত্রীর কাছে ফিরে এসে বললেন, তুমি কি জানো, আমার ইয়াসরিবি ভাই আমাকে কী বলেছে? স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, কী বলেছে? উমাইয়া বললেন, সে মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছে যে, তারা আমাকে হত্যা করবে। তার স্ত্রী বললেন, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ মিথ্যা বলেন না।
মক্কার পৌত্তলিকরা বদরের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন। এক ঘোষক ঘোষণা দিলে উমাইয়ার স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিলো, তোমার ইয়াসরিবি ভাই তোমাকে যে কথা বলেছিল সে কথা কি তোমার মনে নেই? তখন উমাইয়া বদরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। আবু জেহেল তাকে বললো, তুমি এখানকার একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। আমাদের সঙ্গে দুই একদিন পথ চলো। উমাইয়া তাদের সঙ্গে চললো।
চলতে চলতে সে বদরে পৌঁছে যায় এবং আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় সে বদরে নিহত হয়। ৩৬৬

টিকাঃ
৩৬৬ সহীহ বুখারী: ৩৬৩২।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ধর্মদ্রোহীদের পতনস্থল

📄 ধর্মদ্রোহীদের পতনস্থল


আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, একবার আমরা ওমর রা.-এর সাথে মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে যাচ্ছিলাম। পথে আমরা চাঁদ দেখার চেষ্টা করছিলাম। আমি অত্যন্ত প্রখর দৃষ্টির অধিকারী ছিলাম তাই আমি চাঁদ দেখতে পেয়েছিলাম। আমি ছাড়া অন্য কেউ চাঁদ দেখতে পাচ্ছিলো না। আমি ওমর রা.-কে বললাম, আপনি কি চাঁদ দেখছেন না? তিনি তা দেখছিলেন না। আমাকে বলছিলেন, - আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে চাঁদ দেখে নেবো। অতঃপর তিনি আমাদের বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপারে শোনাতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন, রসূলুল্লাহ সা. বদরযুদ্ধের একদিন পূর্বে বদরে নিহত কাফেরদের ব্যাপারে আমাদেরকে জানিয়েছিলেন। তাদের কে কোথায় মারা যাবে, তাও তিনি জানান। রসূলুল্লাহ সা. আমাদের বলেছিলেন, এটি অমুকের মৃত্যুস্থান হবে ইনশাআল্লাহ। উমর বলেন, আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ সা. যে জায়গা দেখিয়েছিলেন কাফেরদের নিহতরা প্রত্যেকেই সেই চিহ্নিত স্থানে মারাই যায়। ৩৬৭

টিকাঃ
৩৬৭ সহীহ মুসলিম: ২৮৭৩।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের প্রার্থিত সম্পদ

📄 আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের প্রার্থিত সম্পদ


রসূলের আরও একটি মু'জিযা হলো, রসূলুল্লাহ সা. আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কাছে মুক্তিপণ চাইলে তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছে কোনো অর্থ নেই। রসূলুল্লাহ সা. তাকে বলেন, তুমি এবং তোমার স্ত্রী উম্মুল ফযল মিলে যে সম্পদ মাটিতে পুঁতে রেখেছো, ওই সম্পদ কোথায়? তুমি যুদ্ধযাত্রার পূর্বে তাকে বলেছিলে, যদি আমি এই যুদ্ধে মারা যাই তাহলে এ সম্পদ আমার পুত্র ফযল, আবদুল্লাহ ও কুসামের জন্য ব্যয় করবে।
রসূলুল্লাহ সা.-এর এই কথা শুনে আব্বাস বললেন, আল্লাহর কসম হে আল্লাহর রসূল! আমি একথা বিশ্বাস করছি যে আপনি আল্লাহর রসূল। আমার সম্পদের কথা আমি ও উম্মুল ফজল ছাড়া অন্য কেউ জানে না।
বদরযুদ্ধের পর উমায়ের ইবনে ওয়াহাব জুমাহী তার ছেলের মুক্তিপণের ব্যাপারে আলোচনার ভান করে রসূল সা.-কে হত্যার উদ্দেশ্যে এলে তিনি তাকে তার ও সাফওয়ান ইবনে উমাইয়ার মধ্যকার আলাপ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেন। অত্যন্ত গোপনীয় এসব তথ্য শুনে তিনি চমকে গিয়েছিলেন। ফলে তিনি ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেন। ৩৬৮
ইবনুল কায়্যিম রহ. যাদুল মাআদ গ্রন্থে লিখেন, বদরযুদ্ধের দিন উক্কাশা ইবনে মুহসিনের তরবারি ভেঙে যায়। রসূলুল্লাহ সা. তাকে কাঠের একটি ছুরি দিয়ে বলেন, তুমি ভালো করে এটা ধরো।
উক্কাশা কাঠের তরবারিটি ধরে দেখেন সেটা খুবই ধারালো তরবারির মতো দেখাচ্ছে। এ তরবারি তার কাছে সারাজীবন ছিল এবং তিনি এটা নিয়েই যুদ্ধে অংশ নিতেন। আর এই তরবারি নিয়েই আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর যুগে মুরতাদদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে তিনি শাহাদাত লাভ করেন। ৩৬৯
রিফাআ ইবনে রাফে রা. বলেন, বদরযুদ্ধের দিন আমি চোখে তীরবিদ্ধ হই। রসূলুল্লাহ সা. তার পবিত্র থুথু আমার চোখে লাগিয়ে দেন এবং আমার জন্য দোআ করেন। এরপর তীরের আঘাতের বিন্দুমাত্র কষ্টও আর ছিল না। ৩৭০
ড. আবু শাহবা বলেন, এটা মনে করার সুযোগ নেই যে, পবিত্র কুরআনের পর রসূলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে অন্য কোনো অলৌকিক ঘটনার প্রয়োজন নেই। কেননা, রসূলুল্লাহ সা.-এর এসব মুজিযা ছিল অত্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী। অনেকেই এমন মুজিযা দেখে ঈমান আনতেন। অনেকের ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পেতো। এসব মুজিযা দেখে তারা নিশ্চিত হতেন যে, রসূলুল্লাহ সা. নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্রেরিত রসূল। তার কাছে ওহী আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। কেননা, এমন অদৃশ্যের বিষয় ওহী ছাড়া পাওয়া যেতে পারে না। কোনো ব্যক্তির হাতে ধরা কাঠের টুকরো যদি ধারালো তরবারিতে রূপান্তরিত হয়, নিশ্চয় তার ঈমানের ভিত সুদৃঢ় হবে! সব যুগের মানবজাতির জন্য তিনি অনন্য কীর্তি রেখে যেতে প্রয়াস পাবেন। ৩৭১

টিকাঃ
৩৬৮ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/১৭৮।
৩৬৯ যাদুল মাআদ: ৩/১৮৬।
৩৭০ যাদুল মাআদ: ৩/১৮৬।
৩৭১ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/১৭৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00