📄 মুক্তিপণের পরিবর্তে শিক্ষা প্রদান
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, বদরের দিন কিছু যুদ্ধবন্দীর মুক্তিপণ আদায়ের সামর্থ্য ছিল না। রসূলুল্লাহ সা. নির্ধারণ করেন, তারা আনসারদের শিশুদের পড়তে ও লিখতে শেখাবে-এটাই তাদের মুক্তিপণ। ৩২০
অতঃপর যুদ্ধবন্দীরা মদীনার শিশুদের লেখাপড়া শেখাতে আরম্ভ করে। কোনো বন্দী ১০ জন শিশুকে শিক্ষা প্রদান করলে তাকে মুক্ত করে দেওয়া হতো। ৩২১
তৎকালীন সময়ে রসূলুল্লাহ সা.-এর প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিল। তবুও শিক্ষাদানকে যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণ হিসেবে নির্ধারণ করেন। এ থেকে ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। কুরআনে কারীমের প্রথম ওহীও শিক্ষার ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন :
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اِقْرَأْ وَ رَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ
পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট-বাঁধা রক্তপিণ্ড হতে। পড়, আর তোমার রব মহামহিম। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। ৩২২
পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াত ও অসংখ্য হাদীসে শিক্ষার প্রতি مسلمانوں উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষিতদের মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে।
আনসারী শিশুদের পড়ালেখা শেখানোর মাধ্যমে রসূল সা. মদিনার নিরক্ষরতা দূর করতে ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে প্রথম উদ্যোগ নিলেন; যা ইসলামকে শক্তিশালী করে।
টিকাঃ
৩২০ সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ: ২৬১।
৩২১ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়া: ৩/৭৪।
৩২২ সূরা আলাক ১-৪।
📄 যুদ্ধবন্দীদের বিধান
মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতাই যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। এক্ষেত্রে ইসলাম তাকে চার ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। যথা:
১. হত্যা: রসূলুল্লাহ সা. উকবা ইবনে আবী মুঈত ও নাযার ইবনে হারেসকে হত্যার নির্দেশ দেন।
২. দয়া: মুক্তিপণ ব্যতীত তাদের মুক্ত করে দেওয়া। যেমন রসূলুল্লাহ সা. আবু ইয্যাকে মুক্তিপণ ছাড়াই মুক্ত করে দিয়েছিলেন।
৩. মুক্তিপণ: মুক্তিপণের বিনিময়ে কাউকে মুক্ত করে দেওয়া। যেমন, রসূল সা. তার চাচা আব্বাস, নওফেল ইবনে হারেস ও আকিল ইবনে আবু তালিবকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
৪. দাস বানিয়ে রাখা: যেমন, সাআদ ইবনে মুআয কুরাইজা গোত্র সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিতে গিয়ে তাদের যুদ্ধে সক্ষম ব্যক্তিদের হত্যা করা, শিশু ও নারীদের যুদ্ধবন্দী বানিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং তাদের ধনসম্পদ বণ্টন করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ৩২৩
টিকাঃ
৩২৩ আবু ফারিস প্রণীত গাযওয়াতু বদর আলকুবরা: ১০১।