📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 উমাইয়া ইবনে খালফের পতন

📄 উমাইয়া ইবনে খালফের পতন


আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. বলেন, আমি উমাইয়া ইবনে খালফের সঙ্গে এ মর্মে একটা চুক্তিনামা করলাম যে, সে মক্কায় আমার মাল-সামান হেফাজত করবে আর আমি মদীনায় তার মাল-সামান হেফাজত করবো। যখন আমি চুক্তিনামায় আমার নামের শেষে ‘রহমান’ শব্দটি উল্লেখ করলাম তখন সে বললো, আমি কোনো রহমানকে চিনি না। জাহিলী যুগে তোমার যে নাম ছিল সেটা লিখো। তখন আমি তাতে ‘আবদে আমর’ লিখে দিলাম। বদর যুদ্ধের দিন যখন লোকজন বেখেয়াল হলো, তখন আমি উমাইয়াকে রক্ষা করার জন্য একটি পাহাড়ের দিকে গেলাম। বেলাল রা. তাকে দেখে ফেললেন। তিনি দৌড়ে গিয়ে আনসারদের এক মজলিসে বললেন, ওই যে দেখো উমাইয়া ইবনে খালফ। যদি উমাইয়া বেঁচে যায়, তবে আমার বেঁচে থেকে লাভ নেই। তখন আনসারদের একদল তার সাথে আমাদের পেছনে পেছনে ছুটলেন। যখন আমার আশঙ্কা হলো যে, তারা আমাদের নিকট এসে পড়বেন, তখন আমি উমাইয়ার ছেলেকে তাদের জন্য পেছনে রেখে এলাম, যাতে তাদের দৃষ্টি তার ওপর পড়ে। তারা তাকে হত্যা করলেন। তারপরও তারা ক্ষান্ত হলেন না, তারা আমাদের পিছু ধাওয়া করলেন। উমাইয়া ছিল স্থূলকায়। যখন আনসাররা আমাদের কাছে পৌঁছে গেলেন, তখন আমি তাকে বললাম, বসে পড়ো। সে বসে পড়লো। আমি তাকে বাঁচানোর জন্য আমার শরীর দিয়ে তাকে আড়াল করে রাখলাম। কিন্তু তারা আমার নীচ দিয়ে তরবারি ঢুকিয়ে তাকে হত্যা করে ফেললো। তাদের একজনের তরবারির আঘাত আমার পায়েও লাগলো। রাবী বলেন, আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. তার পায়ের সে আঘাত আমাদেরকে দেখাতেন। ২৩৭
অন্য এক বর্ণনায় আবদুর রহমান ইবনে আউফ বলেন, মক্কায় অবস্থানকালে উমাইয়া ইবনে খালফের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ। ইসলাম গ্রহণ করে আমি আমার নাম পরিবর্তন করে আবদুর রহমান নাম রাখি। মক্কায় অবস্থানকালে সে আমাকে বারবার বলতো, হে আবদে আমর, তুমি কি তোমার পিতা-মাতার নির্বাচিত নামটি অপছন্দ করছো? আমি বলতাম, হ্যাঁ। উত্তরে সে আমাকে বলতো, আমি কোনো 'রহমান'-কে চিনি না। তুমি আমার জন্য এমন কোনো নাম নির্বাচন করে দাও, যা বলে আমি তোমাকে ডাকতে পারি। কেননা, তোমার নতুন নির্বাচিত নাম নিয়ে আমি তোমাকে ডাকবো না। আবার 'আবদে আমর' বলে ডাকলে তুমি সাড়া দিও না।
আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. বলেন, সে যখনই আমাকে আমার পুরাতন নামে ডাকতো আমি জবাব দিতাম না। এভাবে কিছুদিন গেলে আমি তাকে বললাম, হে আবু আলী, তুমি তোমার ইচ্ছামতো আমার জন্য কোনো নাম নির্বাচন করে নাও। উত্তরে সে আমাকে বললো, তাহলে তুমি 'আবদুল ইলাহ'। আমি এতে ইতিবাচক সাড়া দেই। পরে সে যখন আমার কাছে আসত, তখন এ নামে ডাকত। আমিও তার জবাব দিতাম।
বদরের দিন আমি তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সে তখন তার ছেলে আলী ইবনে উমাইয়ার সাথে দাঁড়ানো। আমার হাতে ছিল কাফেরদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া কয়েকটি বর্ম। আমাকে দেখে 'আবদে আমর' বলে ডাকলে আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম না। অতঃপর সে আমাকে 'আবদুল ইলাহ' বলে ডাকলে আমি তার দিকে তাকাই। সে আমাকে বলতে লাগলো, আমাকে কি তোমার প্রয়োজন নেই? আমি কি তোমার জন্য এসব বর্ম থেকে লাভজনক নই? আমি বললাম, আল্লাহর শপথ, অবশ্যই। অতঃপর আমি আমার হাতের বর্মগুলো ফেলে দিলাম এবং তাকে ও তার ছেলেকে নিয়ে নিরাপদ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। তখনও সে বলছিল, আমি আজকের মতো বিভীষিকাময় সময় কখনও দেখিনি। তোমার কি দুধের প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই?
ইবনে হিশাম বলেন, সে মূলত এখানে দুধ দ্বারা একথা বোঝাতে চাচ্ছিলো যে, আমাকে নিরাপদ আশ্রয় দিলে তাকে আমি দুগ্ধবতী উষ্ট্রীর মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করবো। ২৩৮

টিকাঃ
২৩৭ সহীহ বুখারী: ২৩০১।
২৩৮ সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ : ২৪২।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 শিক্ষা ও তাৎপর্য

📄 শিক্ষা ও তাৎপর্য


১. বেলাল রা. যখন দেখলেন, তার নিপীড়ক উমাইয়া ইবনে খালফ আবদুর রহমান ইবনে আওফের হাতে বন্দী, তখন তিনি চিৎকার করে বললেন, 'যদি উমাইয়া বেঁচে যায়, তবে আমার বেঁচে থেকে লাভ নেই।'
কারণ, উমাইয়া ইবনে খালফ মক্কায় বেলাল রা.-এর ওপর অকথ্য নিপীড়ন চালিয়েছিল। বেলাল রা. ইসলামের এই শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলেন; যাতে পৃথিবীবাসী কাফেরদের দূরাচার থেকে রক্ষা পেতে পারে। তাদের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার মুসলমানরা যেন তার পরিণতি দেখে কিছুটা প্রশান্তি পেতে পারে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنْصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
যুদ্ধ করো ওদের সাথে। আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন এবং তাদের মনের ক্ষোভ দূর করবেন। আর আল্লাহ যার প্রতি ইচ্ছা ক্ষমাশীল হবেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। ২৩৯
২. উমাইয়া ইবনে খালফের এই নিকৃষ্ট মৃত্যুর মাঝে অহংকারী লোকদের জন্য একটি শিক্ষা রয়েছে। এতে এমন লোকদের পরিণতির উদাহরণ রয়েছে, যারা নিজেদের ক্ষমতার নেশায় মত্ত হয়ে অসহায়-দরিদ্র মানুষদের ওপর নির্যাতন করে। তাদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। আল্লাহ তাআলা মাঝে-মধ্যে মজলুম ব্যক্তিদেরকে তাদের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ দেন। যার দৃষ্টান্ত আমরা উমাইয়া ইবনে খালফসহ অন্যান্য কাফের নেতাদের ক্ষেত্রে দেখেছি। ২৪০ আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ
আর আমি চাইলাম সেই দেশে যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে এবং তাদেরকে নেতা বানাতে, আর তাদেরকে উত্তরাধিকারী বানাতে। ২৪১
৩. আনসার সাহাবীদের সাহায্যে বেলাল রা. আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-এর বন্দীকে ছিনিয়ে নেন। তারপরও আবদুর রহমান ইবনে আউফ তার সাথে বিরূপ আচরণ করেননি। বরং তিনি বলছিলেন, আল্লাহ বেলালের ওপর রহম করুন। তার কারণে আমার বর্মগুলোও হাতছাড়া হয়েছে আর আমার বন্দীও হাতছাড়া হয়েছে। ২৪২ তার এমন আচরণের মাঝে আমরা সাহাবায়ে কেরামের পারস্পরিক ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধের উপমা দেখতে পাই। ২৪৩
৪. উমাইয়া ইবনে খালফের স্ত্রী উম্মে সাফওয়ান ইসলাম গ্রহণের পর একবার মক্কায় হুবাব ইবনে মুনজির রা.-কে দেখছিলেন। তাকে বলা হলো, এই ব্যক্তি বদরযুদ্ধের দিন আপনার ছেলে আলী ইবনে উমাইয়ার পা কেটে দিয়েছিল। উত্তরে তিনি বলেন, 'কাফের অবস্থায় যারা মরেছে তাদের নিয়ে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই। আল্লাহ তাআলা আমার ছেলেকে তার আঘাতের মাধ্যমে লাঞ্ছিত করেছেন আর আমার ছেলেকে আঘাতের মাধ্যমে তাকে সম্মানিত করেছেন। আমার ছেলে আলী যখন মক্কা থেকে বেরিয়েছিল তখন তার অন্তঃকরণে ইসলাম প্রবেশ করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য-সে অন্য দীনের ওপর মারা গেছে। ২৪৪
উম্মে সাফওয়ানের এই কথাগুলো তার ঈমানি শক্তি ও পরিপূর্ণ বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি। 'আল ওয়ালা ওয়াল বারা'র চমৎকার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন তিনি। নিজের গোত্রের না-হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানদের প্রতিই ছিল তার ভালোবাসা আর কাফের হওয়ার কারণে নিজের ছেলের প্রতি জন্মেছিল তার অনিহা।
আলী ইবনে উমাইয়ার ব্যাপারে তার মা উম্মে সাফওয়ানের ভাষ্য- 'আমার ছেলে আলী যখন মক্কা থেকে বেরিয়েছিল তখন তার অন্তঃকরণে ইসলাম প্রবেশ করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য-সে অন্য দীনের ওপর মারা গেছে।' এর মর্ম হচ্ছে, যাদেরকে মক্কা নগরীতে মুসলমান হিসেবে সন্দেহ করা হতো এবং জোর করে বদরযুদ্ধে কাফেরদের সঙ্গে আনা হয়েছিলো, আলী ইবনে উমাইয়া ছিল এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলে مسلمانوں স্বল্পতা দেখে তারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। তারা বলে, এদেরকে এদের ধর্ম প্রতারিত করেছে। ২৪৫ তাদের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে কারীমে এসেছে:
إِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ غَرَّ هَؤُلَاءِ دِينُهُمْ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
যখন মুনাফেকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা বলছিল, 'এদেরকে এদের ধর্ম ধোকায় ফেলেছে' এবং যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তবে তো আল্লাহ নিশ্চই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান। ২৪৬

টিকাঃ
২৩৯ সূরা তাওবাহ: আয়াত ১৪-১৫।
২৪০ আত তারীখুল ইসলামী: ৪/১৫২-১৫৩।
২৪১ সুরা কাসাস: আয়াত ৫।
২৪২ সীরাতে ইবনে হিশাম: ২/২৪৪।
২৪৩ আত তারীখুল ইসলামী: ৪/১৫৩।
২৪৪ আত তারীখুল ইসলামী: ৪/১৫৪।
২৪৫ তাফসীরে তাবারী: ১০/২১।
২৪৬ সূরা আনফাল : আয়াত ৪৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 যুবায়েরের হাতে উবায়দা ইবনে সাঈদের পতন

📄 যুবায়েরের হাতে উবায়দা ইবনে সাঈদের পতন


যুবায়ের রা. বলেছেন, বদর যুদ্ধের দিন আমি উবায়দা ইবনে সাঈদ ইবনে আসকে এমন বর্মাবৃত অবস্থায় দেখলাম যে, তার দু'চোখ ব্যতীত আর কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। তাকে আবু যাতিল কারিশ বলে ডাকা হতো। সে বললো, আমি আবু যাতিল কারিশ। আমি বর্শা দিয়ে তার ওপর হামলা করলাম এবং তার চোখ ফুঁড়ে দিলাম। সে তৎক্ষণাৎ মারা গেলো। হিশام বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে, যুবায়ের রা. বলেছেন, উবায়দা ইবনে সাঈদ ইবনে আসের লাশের ওপর পা রেখে বেশ বল প্রয়োগ করে তার চোখ থেকে আমি বর্শাটি টেনে বের করলাম। এতে বর্শার উভয় প্রান্ত বাঁকা হয়ে যায়।
উরওয়াহ বলেন, রসূলুল্লাহ সা. যুবায়েরের নিকট বর্শাটি চাইলে তিনি তা তাকে দেন। রসূলুল্লাহ সা.-এর মৃত্যুর পর তিনি তা নিয়ে যান এবং পরে আবু বকর রা. তা চাইলে তিনি তাকে বর্শাটি দেন। আবু বকরের মৃত্যুর পর ওমর রা. চাইলে তিনি তাকে বর্শাটি দেন। উমরের মৃত্যুর পর যুবায়ের রা. পুনরায় বর্শাটি নিয়ে যান। এরপর ওসমান রা. বর্শাখানা চাইলে তিনি ওসমানকে তা দেন। ওসমান রা.-এর শাহাদাতের পর তা আলী রা.-এর লোকজনের হাতে চলে যায়। পরবর্তীতে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. তাদের থেকে বর্শাটি চেয়ে নিয়ে যান। শহীদ হওয়া পর্যন্ত বর্শাটি তার কাছেই ছিল। ২৪৭
উপরোক্ত ঘটনা থেকে তীরন্দাজিতে যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রা.-এর দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বেশ দক্ষতার সাথে প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য ভেদ করেছিলেন। পরিপূর্ণ সশস্ত্র একজন ব্যক্তিকে এভাবে হত্যা করা বেশ দুরূহ ব্যাপার। এ ঘটনা থেকে তার শারীরিক শক্তিরও প্রমাণ পাওয়া যায়।২৪৮

টিকাঃ
২৪৭ সহীহ বুখারী: ৩৯৯৮।
২৪৮ আত তারীখুল ইসলামী: ৪/১৬৩।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আসওয়াদ মাখযুমীর পতন

📄 আসওয়াদ মাখযুমীর পতন


ইবন ইসহাক বলেন, আসওয়াদ ইবনে আবদুল আসাদ মাখযুমী ছিল কুরায়েশদের মধ্যে চরম অসৎ ও ওগুা স্বভাবের লোক। সে তার ঘৃণ্য তৎপরতা শুরু করে দিলো। সে ঘোষণা করলো, 'মুসলমানদের জলাধার থেকে আমি পানি পান করবো কিংবা তা ভেঙ্গে ফেলবো। এ কাজ করতে গিয়ে আমার মৃত্যু ঘটলেও পরোয়া করি না।' তিনি ময়দানে নামলে হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. তার মুখোমুখি হলেন। দুইজনের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চলাকালে হামযা আসওয়াদের পায়ে তরবারির আঘাত করলেন। তার পা কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো। এ সময় সে চৌবাচ্চার কাছেই ছিল। সে চিৎ হয়ে পড়ে গেল এবং তার পা থেকে ফিনকি দিযে রক্ত ছুটতে লাগলো। সে পুনরায় হামাগুড়ি দিয়ে চৌবাচ্চার দিকে এগুলো এবং নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে চৌবাচ্চার সীমানার ভেতরে ঢুকে পড়লো। হামযা তার পিছু ধেয়ে গেলেন এবং চৌবাচ্চার সীমানার ভেতরেই তাকে হত্যা করলেন।২৪৯
উমাইয়া ইবনে খালফ আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমাদের মধ্যে যে নিজের বুকে ময়ূরের পেখম লাগিয়ে ঘুরছে ওই ব্যক্তি কে? জবাবে আবদুর রহমান ইবনে আউফ বলেছিলেন, 'তিনি হামযা।' উমাইয়া বললেন, ওই ব্যক্তি অত্যন্ত ভয়ংকরভাবে আমাদের বাহিনীকে লণ্ডভণ্ড করেছে।২৫০
এটা কাফেরদের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকে প্রাপ্ত স্বীকারোক্তি। উমাইয়া ইবনে খালফের এ স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায়, হামযা রা. শত্রুবাহিনীর ব্যাপক ধ্বংস সাধন করেছিলেন এবং তাদের লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিলেন।২৫১
রণাঙ্গনে হামযা রা.-এর হাতে নিহত হওয়া কাফেরদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি ছিলেন উপরোল্লিখিত আসওয়াদ মাখযূমী। এই হতভাগা দাম্ভিক ব্যক্তিটি মুসলমানদের চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু আল্লাহর সিংহ হামযা তাকে রুখে দেন। তাকে পৌঁছে দেন মৃত্যুর দুয়ারে। ইসলামবিদ্বেষীরা এ থেকে চরম শিক্ষা নিতে পারে।২৫২

টিকাঃ
২৪৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ২/২৩৭।
২৫০ আত তারীখুল ইসলামী: ৪/১৫১।
২৫১ আত তারীখুল ইসলামী: ৪/১৫২।
২৫২ আত তারীখুল ইসলামী: ৪/১২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00