📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা 📄 ‘তুমি নও, আল্লাহই মাটির মুঠি নিক্ষেপ করেছেন’

📄 ‘তুমি নও, আল্লাহই মাটির মুঠি নিক্ষেপ করেছেন’


আরশের অধিপতি মহান প্রতিপালকের দরবারে দোআ শেষে রসূলুল্লাহ সা. নিজের জন্য স্থাপিত মঞ্চের বাইরে আসেন। এক মুষ্টি পাথর হাতে নিয়ে তা কাফেরদের দিকে নিক্ষেপ করে বলেন, 'তাদের চেহারা ধুলোয় ধুসরিত হোক।' অতঃপর তিনি পরিপূর্ণ শক্তি নিয়ে শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। সাহাবায়ে কেরাম নবীজির নির্দেশ পালন করেন। এদিকে আল্লাহ তাআলা তার রসূলের নিক্ষিপ্ত পাথরের কণাগুলো প্রতিটি মুশরিকর চোখে পৌছে দিয়েছিলেন-যা মারাত্মক বিঘ্নতা ঘটায় তাদের কর্মকাণ্ডে। ১৯৮
এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَقَى
তুমি নিক্ষেপ করোনি যখন তুমি নিক্ষেপ করেছিলে; বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছেন। ১৯৯
আয়াতের ব্যাখ্যা: আল্লাহ তাআলা প্রথমে পাথর নিক্ষেপের ব্যাপারটি রসূলুল্লাহ সা.-এর দিকে সম্বন্ধিত করেছেন। যার অর্থ বাহ্যিকভাবে যদিও রসূলুল্লাহ সা. পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন, কিন্তু সেই পাথর আল্লাহ তাআলাই ঠিক জায়গায় পৌছিয়েছিলেন।২০০ এ থেকে বোঝা যায়, রসূলুল্লাহ সা. বস্তুগত উপকরণ অলম্বন করে আল্লাহ তাআলার সাহায্যের ওপর ভরসা করেছেন।
এরপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্য এসেছে। বদরযুদ্ধে মুসলমানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরনের বস্তুগত উপকরণ ব্যবহার করেছিলেন।
অতঃপর আল্লাহর সাহায্যে তারা বিজয়ী হন। রণাঙ্গনে উপযোগী অবস্থান, সাহসী নেতৃত্ব ও আত্মিক শক্তি مسلمانوں বিজয়ে ভূমিকা রেখেছিল। এ যুদ্ধে আল্লাহ কোনো প্রকার মাধ্যম ছাড়াই মুসলমানদের সাহায্য করেন। এটা এ যুদ্ধের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মুসলমানরা যদি আল্লাহ তাআলার প্রতি একনিষ্ঠ হয় এবং তাঁর দীনের ওপর অবিচল থাকে তাহলে আল্লাহ এভাবেই তাদের সাহায্য করেন।২০১

টিকাঃ
১৯৮ আল মুসতাফাদ মিন কাসাসিল কুরআন: ২/১২৫।
১৯৯ সুরা আনফাল: ১৭।
২০০ যাদুল মাআদ: ৩/১৮৩।
২০১ আল আসাসু ফিস সুন্নাহ: ১/৪৭৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية