📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 রসূলুল্লাহ সা.-এর দোআ ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা

📄 রসূলুল্লাহ সা.-এর দোআ ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা


আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
আর স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ফরিয়াদ করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন যে, 'নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে পর পর আগমনকারী এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করছি'। ১৯৩
রসূলুল্লাহ সা. যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলিম বাহিনীকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর আবু বকর রা.-কে সাথে নিয়ে তার জন্য নির্মিত মঞ্চে আসেন। সাআদ ইবনে মুআয রা. উদ্যত তরবারি নিয়ে তার প্রহরায় নিয়োজিত হন। নবীজি আল্লাহর কাছে তার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দোআ করেন:
اللهُمَّ أَنْجِزْ مَا وَعَدْتَنِي اللهُمَّ إِنَّكَ إِنْ تُهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةَ مِنْ أَهْلِ الإسْلامِ فَلَا تُعْبَدْ فِي الْأَرْضِ أَبَدًا
হে আল্লাহ, আপনি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পূরণ করুন। হে আল্লাহ, আজ যদি مسلمانوں ছোট এ দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে এই পৃথিবীতে আপনার ইবাদত করার আর কেউ থাকবে না।
তিনি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কাঁদতে লাগলেন। এতে তার চাদর পড়ে গেলো। আবু বকর সিদ্দীক রা. তার চাদর ঠিক করে দিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! শান্ত হোন। আপনি আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নাকাটি করেছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তার ওয়াদা পূর্ণ করবেন।' ১৯৪ অতঃপর আল্লাহ তাআলা উপরোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর বর্ণনায় এসেছে, রসূলুল্লাহ সা. বদরযুদ্ধের দিন দোআ করেন:
اللهُمَّ إِنِّي أَنْشُدُكَ عَهْدَكَ وَوَعْدَكَ اللَّهُمَّ إِنْ شِئْتَ لَمْ تُعْبَدْ
হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করার জন্য প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি যদি চান (কাফেররা জয়লাভ করুক) তাহলে পৃথিবীতে আপনার ইবাদত আর হবে না।
আবু বকর রা. তার হাত ধরে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ সা. এ আয়াত পড়তে পড়তে বের হলেন :
سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ
সংঘবদ্ধ দলটি শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পিঠ দেখিয়ে পালাবে। ১৯৫
ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় এসেছে, রসূলুল্লাহ সা. বলেন, 'হে আল্লাহ, এদিকে কুরায়েশ বাহিনী অহংকার ও দাম্ভিকতা নিয়ে আপনার শত্রুতা করে যাচ্ছে। তারা আপনার রসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার প্রতিশ্রুত সাহায্য প্রার্থনা করছি।'১৯৬
জগতের সকল নেতা ও শাসকের জন্য এতে শিক্ষার বহু উপাদান রয়েছে। কেবল আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে একনিষ্ঠচিত্তে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করার নির্দেশনা এতে আমরা পাই। তার সামনে বিনয়াবনত হয়ে তার সাহায্য কামনার শিক্ষা রয়েছে এতে। রসূলুল্লাহ সা.-এর উভয় কাঁধ থেকে চাদর পড়ে গিয়েছিল। তিনি হাত তুলে আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দোআ করছিলেন। তার সেদিনের দোআ আমাদের চিন্তার খোরাক যোগায়। আমাদের নেতাদের উচিত এ ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আল্লাহ ও তার রসূলের আদর্শ অবলম্বন করা। ১৯৭

টিকাঃ
১৯৩ সুরা আনফাল: ৯।
১৯৪ সহীহ মুসলিম : ১৭৬৩।
১৯৫ সহীহ বুখারী: ৩৯৫৩।
১৯৬ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৩/২৬৭।
১৯৭ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ: ৩/৩৬।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ‘তুমি নও, আল্লাহই মাটির মুঠি নিক্ষেপ করেছেন’

📄 ‘তুমি নও, আল্লাহই মাটির মুঠি নিক্ষেপ করেছেন’


আরশের অধিপতি মহান প্রতিপালকের দরবারে দোআ শেষে রসূলুল্লাহ সা. নিজের জন্য স্থাপিত মঞ্চের বাইরে আসেন। এক মুষ্টি পাথর হাতে নিয়ে তা কাফেরদের দিকে নিক্ষেপ করে বলেন, 'তাদের চেহারা ধুলোয় ধুসরিত হোক।' অতঃপর তিনি পরিপূর্ণ শক্তি নিয়ে শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। সাহাবায়ে কেরাম নবীজির নির্দেশ পালন করেন। এদিকে আল্লাহ তাআলা তার রসূলের নিক্ষিপ্ত পাথরের কণাগুলো প্রতিটি মুশরিকর চোখে পৌছে দিয়েছিলেন-যা মারাত্মক বিঘ্নতা ঘটায় তাদের কর্মকাণ্ডে। ১৯৮
এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَقَى
তুমি নিক্ষেপ করোনি যখন তুমি নিক্ষেপ করেছিলে; বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছেন। ১৯৯
আয়াতের ব্যাখ্যা: আল্লাহ তাআলা প্রথমে পাথর নিক্ষেপের ব্যাপারটি রসূলুল্লাহ সা.-এর দিকে সম্বন্ধিত করেছেন। যার অর্থ বাহ্যিকভাবে যদিও রসূলুল্লাহ সা. পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন, কিন্তু সেই পাথর আল্লাহ তাআলাই ঠিক জায়গায় পৌছিয়েছিলেন।২০০ এ থেকে বোঝা যায়, রসূলুল্লাহ সা. বস্তুগত উপকরণ অলম্বন করে আল্লাহ তাআলার সাহায্যের ওপর ভরসা করেছেন।
এরপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্য এসেছে। বদরযুদ্ধে মুসলমানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরনের বস্তুগত উপকরণ ব্যবহার করেছিলেন।
অতঃপর আল্লাহর সাহায্যে তারা বিজয়ী হন। রণাঙ্গনে উপযোগী অবস্থান, সাহসী নেতৃত্ব ও আত্মিক শক্তি مسلمانوں বিজয়ে ভূমিকা রেখেছিল। এ যুদ্ধে আল্লাহ কোনো প্রকার মাধ্যম ছাড়াই মুসলমানদের সাহায্য করেন। এটা এ যুদ্ধের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মুসলমানরা যদি আল্লাহ তাআলার প্রতি একনিষ্ঠ হয় এবং তাঁর দীনের ওপর অবিচল থাকে তাহলে আল্লাহ এভাবেই তাদের সাহায্য করেন।২০১

টিকাঃ
১৯৮ আল মুসতাফাদ মিন কাসাসিল কুরআন: ২/১২৫।
১৯৯ সুরা আনফাল: ১৭।
২০০ যাদুল মাআদ: ৩/১৮৩।
২০১ আল আসাসু ফিস সুন্নাহ: ১/৪৭৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00