📄 যুদ্ধের ময়দানে রসূল সা.-এর কৌশল
রসূল সা. মুশরিকদের সাথে বদরের যুদ্ধে একটি নতুন রীতির প্রচলন করেন। তিনি শত্রুর মোকাবিলায় সৈন্যদের কাতারবন্দী করেন। এ দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে কুরআনের এই আয়াতে,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانُ مَرْصُوصُ
আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে সারিবদ্ধভাবে সৃদৃঢ় প্রাচীরের মতো।
বদরে সাহাবীরা নামাযের মতো কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান। প্রথম কাতারে বর্শাধারীরা দাঁড়ান অশ্বারোহীদের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য। এর পেছনের কাতারে দাঁড়ান তীরন্দাজরা। এই রীতির কয়েকটি ফায়েদা
১. শত্রুকে স্বল্প সংখ্যক সৈন্যকেও বিপুল সংখ্যক মনে করে। মুসলমান বাহিনীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়।
২. সেনাপতি রসূল সা.-এর হাতে সতর্কতামূলক শক্তি দেয়া হয়। তিনি আক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। গোপন আক্রমণ প্রতিরোধ করা সহজ হয়। সেনা বাহিনীকে অশ্বারোহী ও পদাতিকদের থেকে রক্ষা করা সহজ হয়। এই যুদ্ধকৌশল বদরের যুদ্ধের একটি উদ্ভাবন হিসেবে গণ্য হয়। ১৭১
রসূল সা.-এর সিরাত নিয়ে গবেষকদের চোখে ধরা পড়বে যে নবী সা. বিভিন্ন যুদ্ধে শত্রুর কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নতুন নতুন যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে চমকে দিয়েছেন। আরব কোনো দিন দেখেনি এমন কিছু যুদ্ধ কৌশল নবী সা. বদরে উহুদে ও অন্যান্য যুদ্ধে প্রয়োগ করেছেন।
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই যুদ্ধকৌশলগুলো নবী সা.-এর দূরদর্শিতা সম্পর্কে মুগ্ধতা তৈরি করে। তার সমর কৌশলগুলো পুরোপুরি আধুনিক সমরকৌশলের অনুরূপ। ১৭২
রসূল সা. বদরে প্রতিরক্ষার কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন। আগে বেড়ে কুরায়েশ বাহিনীকে আক্রমণ করেননি। তার সমর কৌশলের সাথে প্রতিপক্ষ পেরে ওঠেনি। আগে বেড়ে আক্রমণ করার ফলে তাদের কেন্দ্রস্থল নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে তাদের মনোবল ভেঙে পড়ে। এভাবেই শত্রুর সংখ্যা মুসলমান বাহিনীর চেয়ে তিন গুণ বেশি হওয়ার পরও আল্লাহর তওফিকে শত্রুর ওপর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ১৭৩
যুদ্ধের সময় রসূল সা. পুরো বাহিনীর বিভিন্ন অংশকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন; যখন যেখানে প্রয়োজন হচ্ছিলো। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি তাদেরকে নির্দেশের জায়গায় পরামর্শ দিচ্ছিলেন। কারণ রসূল সা. তার সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা ও প্রতাপ দিয়ে বরং তাদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন। তিনি তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন না। পরামর্শ দিতেন এবং বাস্তবায়নের ভার তাদের বিবেক বুদ্ধির ওপর ছেড়ে দিতেন। বদরের ময়দানে তার দিক নির্দেশনার কয়েকটি দৃষ্টান্ত:
১. রসূল সা. সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন শত্রু কাছে এলে তীর নিক্ষেপ করতে। কারণ কাছাকাছি লক্ষবস্তুতে তীর ছোড়া বেশি সহজ এবং লক্ষ্যভেদী। রসূল সা. বলেছিলেন, যখন কাফেররা তোমাদের কাছাকাছি আসবে তখন তাদেরকে তীর দিয়ে আঘাত করো। ১৭৪
২. রসূল সা. দুই বাহিনী একে অপরের মধ্যে ঢুকে যাওয়ার আগে তরবারি কোষমুক্ত করতে নিষেধ করেছিলেন। ১৭৫ রসূল সা. বলেছিলেন, তারা তোমাদের ওপরে এসে পড়ার আগ পর্যন্ত তোমরা তরবারি কোষমুক্ত করো না।১৭৬
৩. রসূল সা. সাহাবীদের তীর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে মিতব্যায়ী হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ১৭৭ রসূল সা. বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের তীর শেষ করে ফেলো না। ১৭৮
এই শিক্ষাগুলো আধুনিক সমরবিদ্যায় আমরা দেখতে পাই। অথচ রসূল সা. কোনো সামরিক বিদ্যালয়ে ক্লাস করা ছাড়াই এই দিক নির্দেশনাগুলো দিয়েছিলেন। নবী সা. বহু আগে যা শিখিয়ে গেছেন, তা আমরা এখন আবিস্কার করছি।
টিকাঃ
১৭১ আর-রাসূলুল কায়েদ (পৃঃ ১১১, ১১৬, ১১৭)
১৭২ আল মাদখাল ইলাল আকীদা ওয়াল এসত্রেতাজিয়্যাতুল আসকারিয়্যাহ, মুহাম্মাদ মাহফুয (পৃঃ ১২১)
১৭৩ মুকাওয়ামাতুন নাসর, ড. আহমদ আবুশ শাবাব (২/১৫৪)
১৭৪ সহীহুস সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ
১৭৫ গাযওয়াতুল বাদারিল কুবরা লিআবি ফারেস (পৃ: ৬৩, ৬৪)
১৭৬ সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃঃ ২৩৯)
১৭৭ গাযওয়াতু বাদারিল কুবরা (পৃ: ৬৩, ৬৪)
১৭৮ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাবু মান শাহিদা বাদরা (হাদিস: ৩৯৮৪, ৩৯৮৫)
📄 শত্রুদের প্রাকৃতিক পরিবেশে কাজে লাগানো
রসূলুল্লাহ সা. শত্রুর মোকাবিলায় প্রাকৃতিক পরিবেশকেও কাজে লাগাতেন। যার কিছু দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাই বদরযুদ্ধে। মাকরিযী রহ. বলেন, কুরায়েশ বাহিনী আসার আগেই রসূলুল্লাহ সা. চলে আসেন রণাঙ্গনে। তিনি যখন সাহাবায়ে কেরামকে যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধ করেন, তখন ছিল সূর্যোদয়ের সময়। তাদের তিনি পশ্চিমমুখী করে দাঁড় করান-এতে সূর্য পড়ে যায় তাদের পেছনে। পক্ষান্তরে সূর্যের কিরণ শত্রুপক্ষের চেহারায় পড়ছিল। ১৭৯
এভাবে নবীজি প্রাকৃতিক পরিবেশকে নিজেদের পক্ষে রেখেছিলেন। সূর্যের কিরণ সরাসরি চোখে পড়ায় শত্রুরা সামনে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলো না। তাদের চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল। ১৮০ নবীজির এমন কৌশল থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে সূর্যের অবস্থান, বায়ুবেগ ও অপেক্ষাকৃত ভালো ভূমি নির্বাচন যুদ্ধজয়ে বেশ তাৎপর্যবহ ভূমিকা পালন করে। আল্লাহ তাআলা এসব আমাদের দান করেছেন নিজেদের উপকারে কাজে লাগানোর জন্যই। ১৮১
টিকাঃ
১৭৯ আল কিয়াদাতুর আসকারীয়া: ৪৫৩।
১৮০ তুহফাতুল আহওয়াযী বিশারহি মাজামিয়িত তিরমিযী: ৭/১৭৫।
১৮১ আল কিয়াদাতুর আসকারীয়া ফি আহদির রসূল: ৪৫৩।
📄 সমরসারিতে সাওয়াদ ইবনে গাযিয়্যাহ
রসূলুল্লাহ সা. গাযওয়ায়ে বদরে মুসলিম বাহিনীকে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধ করে শত্রুপক্ষের মুখোমুখী দাঁড় করান। তার হাতে ছিল একটি তীর। এটা দিয়ে তিনি সারি সাজাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, এক লোক সারি থেকে কিছুটা সামনে বেড়ে দাঁড়ানো। নাম তার সাওয়াদ ইবনে গাযিয়্যাহ। রসূলুল্লাহ সা. তীর দিয়ে তার পেটে খোঁচা দিয়ে বললেন, 'সাওয়াদ! সোজা হয়ে দাঁড়াও।' সাওয়াদ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে কষ্ট দিয়েছেন! অথচ আল্লাহ তাআলা আপনাকে সত্য ও ন্যায়ের সঙ্গে পাঠিয়েছেন। আমি এর প্রতিশোধ নিতে চাই! নবীজি বললেন, 'তুমি প্রতিশোধ নাও।' সাওয়াদ ইবনে গাযিয়্যাহ রা. রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে তার পেটে চুমুর পরশ বুলিয়ে দিলেন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, সাওয়াদ, তুমি কেন এমনটি করলে? জবাবে সাওয়াদ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কারণ আপনার ভালোই জানা। আমি কেবল আপনার শরীরের সংস্পর্শে আসার একটি উপায় খুঁজছিলাম। নবীজি এটা শুনে তার জন্য দোআ করলেন। ১৮২
সাওয়াদ রা.-এর এ ঘটনায় যে শিক্ষা আমাদের সামনে আসে, তা হলো:
১. ইসলামে শৃঙ্খলার গুরুত্ব অপরিসীম।
২. সর্বক্ষত্রে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা জরুরি: রসূলুল্লাহ সা. নিজে তাকে প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।
৩. সৈনিকদের সাথে অধিনায়কের হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ করা উচিত।
৪. সৈন্যদের মনে শাহাদাতের মর্যাদা লাভের প্রত্যাশা থাকা উচিত।
৫. রসূলুল্লাহ সা.-এর পবিত্র দেহ অত্যন্ত পুতঃপবিত্র। তার স্পর্শ বরকতময়। তাই সাওয়াদ রসূলুল্লাহ সা.-এর শরীরের স্পর্শ পেতে চেয়েছিলেন।
৬. পুরুষের পেট পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। রসূলুল্লাহ সা. সাওয়াদকে প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ করে দিতে নিজের পেট থেকে কাপড় সরিয়ে নিয়েছিলেন। পেট পর্দার অংশ হলে তিনি এমনটি করতেন না। ১৮৩
টিকাঃ
১৮২ সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ: ২৩৬।
১৮৩ আবু ফারিস প্রণীত গাযওয়াতু বদর: ৫২।
📄 সাথীদের যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে রসূল সা. যা করতেন
রসূলুল্লাহ সা. সাহাবায়ে কেরামকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলেন। এতে তাদের মনোবল বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর প্রতিদান ও সাহায্যপ্রাপ্তির ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাস তাদের মধ্যে সঞ্চারিত করেন তিনি। আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের ফযিলত ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নের ভয়াবহতা সম্পর্কিত নববী বাণীগুলোও তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। রসূল সা. তাদেরকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্তির উপায় সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সাথে পরাজয়ের কারণগুলোও বিশদভাবে জানিয়ে দেন -যাতে তারা সেসব কাজ থেকে দূরে থাকে। ১৮৪
রসূল সা. সাহাবায়ে কেরামকে আল্লাহর নির্দেশেই যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। আল্লাহ বলেন:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةً يَغْلِبُوا أَلْفًا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ
হে নবী, তুমি মুমিনদেরকে লড়াইয়ে উৎসাহ দাও, যদি তোমাদের মধ্য থেকে বিশজন ধৈর্যশীল থাকে, তারা দুই শত জনকে পরাস্ত করবে, আর যদি তোমাদের মধ্যে এক শত জন থাকে, তারা কাফেরদের এক হাজার জনকে পরাস্ত করবে। কারণ, তারা (কাফেররা) এমন জাতি যারা বোঝে না। ১৮৫
বদর যুদ্ধে রসূলুল্লাহ সা. সাহাবীদের বলছিলেন: 'তোমরা আসমান- জমিনের প্রশস্ততার সমান জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও।' উমায়ের ইবনে হুমাম আনসারী রা. জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! জান্নাতের প্রশস্ততা কি আসমান-জমিনের প্রশস্ততার সমান? জবাবে নবীজি বললেন, 'হ্যাঁ'। উমায়ের বলে ওঠেন, 'বাহ বাহ!' রসূলুল্লাহ সা. তাকে বিস্ময় প্রকাশের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আল্লাহর শপথ! আমি সেসব জান্নাতবাসীর একজন হতে চাই। রসূলুল্লাহ সা. তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, 'নিঃসন্দেহে তুমি তাদের একজন।'
এরপর উমায়ের নিজের থলে থেকে কয়েকটি খেজুর বের করেন। খেতে খেতে বলেন, যদি আমি এসব খেজুর খাওয়ার জন্যও কিছু সময় অতিবাহিত করি, তবে তো বেশ কিছু সময় নষ্ট হয়ে যাবে। এ কথা বলে তিনি খেজুরগুলো ফেলে দেন এবং রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এক সময় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ১৮৬
আরেক বর্ণনায় এসেছে: আনাস রা. বলেন, উমায়ের তার হাতে থাকা খেজুরগুলো ফেলে দিয়ে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করতে করতে যুদ্ধ করতে লাগলেন:
ركضا إلى الله بغير زاد إلا التقى وعمل المعاد والصبر في الله على الجهاد وكل زاد عرضة النفاد غير التقى والبر والرشاد
কোনো প্রকার পাথেয় ছাড়া আল্লাহর পথে বেরিয়ে পড়ার মাঝে রয়েছে তাকওয়া ও পরকালের সম্বল।
আল্লাহর জন্য জিহাদের তরে চাই ধৈর্যের পাথেয়। কারণ, তাকওয়া, সৎকর্ম ও কল্যাণ ছাড়া সব পাথেয় নিঃশেষ হয়ে যাবে।'
এভাবে প্রাণপন লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেন উমায়ের রা.। ১৮৭
মুসলিম মুজাহিদদের সাহসবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে রসূলুল্লাহ সা. কাফের নেতৃবৃন্দের নিহত হওয়ার আগাম সুসংবাদ দেন। এমনকি তিনি তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুর স্থানও সাহাবাদের দেখান। ১৮৮
পাশাপাশি তিনি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই মুসলিমদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্তির সুসংবাদ দেন। আবু বকর রা.-কে তিনি বলেন, 'হে আবু বকর, সুসংবাদ গ্রহণ করো।' একথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর রসূলের মুখোমুখি হলে তিনি বলেন:
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يُقَاتِلُهُمُ الْيَوْمَ رَجُلٌ فَيُقْتَلُ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ
সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আজ যে ব্যক্তি কাফেরদের সাথে ধৈর্য ও নিষ্ঠা সহকারে যুদ্ধ করবে এবং শুধু সামনের দিকে এগুতে থাকবে, কোন অবস্থায় পিছু হটবে না, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। ১৮৯
নবীজির এই বাণীগুলো সাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তী আল্লাহর পথের সৈনিকদের মনোবল বৃদ্ধি করেছে যুগে যুগে। ১৯০
রসূল নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার অনুমতি ব্যতীত কেউ যেন শত্রুর দিকে অগ্রসর না হয়। আনাস রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবায়ে কেরাম বদর প্রান্তরে কাফেরদের আগেই পৌঁছে যান। কুরায়েশ বাহিনী তাদের পর রণাঙ্গনে আসে। রসূলুল্লাহ সা. তখন সাহাবীদের নির্দেশনা দিতে গিয়ে বলছিলেন, 'তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যেন শত্রুপক্ষের দিকে আমার আগে অগ্রসর না হয়। '১৯১ পরে মুশরিকরা মুসলিম বাহিনীর ওপর আক্রমণে উদ্যত হলে রসূলুল্লাহ সা. বলেন:
قوموا إلى جنة عرضها السموات والأرض
তোমরা আসমান-জমিনের সমান প্রশস্ত জান্নাত অর্জনে এগিয়ে যাও। ১৯২
টিকাঃ
১৮৪ আবু ফারিস প্রণীত আল মাদরাসাতুন নববিয়্যাহ আল আসকারীয়া: ১৪০।
১৮৫ সুরা আনফাল: ৬৫।
১৮৬ 'মুখতাসার সহীহ মুসলিম লিলমুনযিরী: ১১৫৮।
১৮৭ সিফাতুস সাফওয়াহ: ১/৪৮৮। যাদুল মাআদ: ৩/১৮২।
১৮৮ জামিউল উসুল: ৮/২০২।
১৮৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ২/২৩৯।
১৯০ আবু ফারিস প্রণীত আল মাদরাসাতুন নববিয়্যাহ আল আসকারীয়া: ১৪৩।
১৯১ সহীহ মুসলিম: ১৯০১।
১৯২ আবু ফারিস প্রণীত আল মাদরাসাতুন নববিয়্যাহ আল আসকারীয়া: ১১৫৭।