📘 নবী (ﷺ) জীবনের টুকরো কথা 📄 ইয়াতীম অসহায়দের প্রতি দয়া

📄 ইয়াতীম অসহায়দের প্রতি দয়া


রহমতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াতীম, দুঃস্থ ও অসহায়দের প্রতি অপরিসীম দয়া, অনুকম্পা ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করতেন। অনেক দুঃস্থ অনাথের মুখে তিনি হাসি ফুটিয়েছেন।

সপ্তম হিজরীতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমরা সম্পাদন করে মদীনা ফিরার পথে একটি হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটলো। নির্মমভাবে শাহাদাত বরণকারী হযরত হামযা (রাযি.)-এর ইয়াতীম কন্যা উমামা নিজের নানা বাড়ী মক্কাতেই ছিলো। শিশু উমামার নযর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর পড়তেই সে চাচা! চাচা!! বলে দৌড়ে নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে চলে এলো। হযরত সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে যদিও শিশু উমামার চাচাতো ভাই হতেন, কিন্তু সে ইজ্জত ও সম্মানার্থে নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে চাচা বলে ডাকলো।

সেখানে হযরত সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে হযরত আলী (রাযি.) উপস্থিত ছিলেন। তিনি উমামাকে আপন কোলে তুলে নিলেন। উমামাকে দেখে হযরত আলী (রাযি.)-এর ভাই হযরত জা'ফর এবং হযরত সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম হযরত যায়েদ (রাযি.) হযরত আলী (রাযি.)-এর কাছে এলেন। এবার তিন জনেই হযরত উমামা (রাযি.) কে নেয়ার জন্য ঠাণ্ডা ঝগড়া শুরু করে দিলেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক পাশে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য অবলোকন করছিলেন আর তাঁর দু'চোখ বেয়ে অশ্রুধারা প্রবাহিত হচ্ছিলো। কারণ তখন হযরত সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্মরণ হলো চাচা হযরত হামযা (রাযি.)-এর নির্মম শাহাদাতের কথা।

হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের চাচাতো বোন উমামার প্রতি এ অনুকম্পা প্রদর্শনের জন্য তিন জনের উপরই খুশি হলেন। অতঃপর হযরত আলী (রাযি.) কে লক্ষ্য করে বললেন, হে আলী (রাযি.)! আমি তোমার থেকে আর তুমি আমার থেকে। হযরত যায়েদ (রাযি.) কে লক্ষ্য করে বললেন, হে যায়েদ! তুমি আমার ভাই এবং আমার দোস্ত। হযরত জা'ফর (রাযি.) কে লক্ষ্য করে বললেন, হে জা'ফর তুমি আকৃতি এবং প্রকৃতির দিক থেকে আমার মতই। অতঃপর উমামাকে হযরত জা'ফর (রাযি.)-এর স্ত্রী হযরত আসমা (রাযি.)-এর হাতে সোপর্দ করে দিলেন। যিনি হযরত উমামার (রাযি.) খালা ছিলেন। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, খালা মায়ের মতই হয়ে থাকেন। (ইবনে কাসীর : ৪/২০৩)

হযরত আনাস (রাযি.) প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খাস খাদেম ছিলেন। শৈশবে তাঁর মা তাঁকে হযরত সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাতে সোপর্দ করেছিলেন। হযরত আনাস (রাযি.) বর্ণনা করেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাজ করতে গিয়ে কখনো আমাকে গোস্যার শিকার হতে হয়নি। শুধু একবার হযরত সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে কোন কাজে পাঠিয়েছিলেন। আমি শিশুসুলভ অভ্যাস হেতু কাজের কথা ভুলে ছোট ছোট ছেলেদের সাথে খেলাধুলায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমার দেরী দেখে হযরত সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে খুঁজতে বেরোলেন এবং আমাকে খেলায় রত অবস্থায় দেখে ধরে বললেন, 'তোমাকে কাজে পাঠিয়েছি আর তুমি খেলায় লিপ্ত হয়ে পড়েছো? মনে চায় হাতের মেসওয়াক দিয়ে তোমাকে খুব মারতে।" এটিই ছিলো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের গোস্যার বহিঃপ্রকাশ।

হযরত আনাস (রাযি.) বলেন, এছাড়া আর কোন দিন হযরত সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে কিছুই বলেননি। এমনকি একথাও বলেননি যে, এটি করলে কেন? কিংবা এমনটি করলে না কেন?

একবার ঈদের মাঠে যাওয়ার পথে একটি ইয়াতীম শিশুকে পথে বসে কাঁদতে দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আদর করে তার দুঃখের কথা জিজ্ঞাসা করলেন। সব শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিজের বাড়ী নিয়ে গেলেন এবং গোসল করিয়ে সুন্দর জামা কাপড় পরিয়ে তাকে ঈদগাহে নিয়ে গেলেন। ক্রন্দনরত শিশুটির মুখে এবার আনন্দের হাসি ফুটে উঠলো। এভাবেই তিনি সদা-সর্বদা ইয়াতীম অসহায়দের প্রতি স্নেহ-মমতা ও দয়া-অনুকম্পা প্রদর্শন করেছেন। পিতৃস্নেহে সিক্ত করে তাদের ব্যাথা বেদনা ভুলিয়ে দিতে চেষ্টা করেছেন।

📘 নবী (ﷺ) জীবনের টুকরো কথা 📄 অসুস্থের সেবা

📄 অসুস্থের সেবা


প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থের খোঁজ-খবর নেয়া এবং তাদের সেবা করার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি নিজেও এ বিষয়টিকে অত্যন্ত সচেতনতার সাথে লক্ষ্য রেখেছেন। অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করাকে তিনি এক মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের হক ও অধিকার বলে বর্ণনা করেছেন। শুধু মুসলমানই নয় বরং জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সেবা করার ব্যাপারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত উদার ছিলেন। এমনকি অনেক সময় হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ মুনাফিকের সেবা করার জন্যও স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে যেতেন এবং সেবা করতেন।

হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমরা কোন অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য তার কাছে যাবে, তখন তার হাত এবং কপালে নিজের হাত রাখবে এবং তাকে সান্ত্বনা দিবে। তার সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দু'আ করবে। (সীরাতুন্নবী (সা.) ২১৬) প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একজন খাদেম ছিলো ইয়াহুদী। সে অসুস্থ হয়ে পড়লে নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার খোঁজ-খবর নিতে সে ইয়াহুদী খাদেমের বাড়ী গেলেন। দীর্ঘ সময় তার মাথার কাছে বসে তাকে সান্ত্বনা দিলেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ আশ্চর্য ব্যবহারে খাদেমটি দারুণ ভাবে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিলো।

মদীনার খযরজ গোত্র প্রধান হযরত সা'দ ইবনে উবাদা (রাযি.) একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে দেখার জন্য তাঁর বাড়ীতে গেলেন। হযরত সা'দ (রাযি.)-এর অবস্থা এতই শোচনীয় ছিলো যে, রহমতের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে দেখে কেঁদে উঠলেন। তাঁর মোবারক চক্ষুদয় অশ্রুশিক্ত হয়ে উঠলো। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আরোগ্যের জন্য আল্লাহর দরবারে দু'আ করলেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা হযরত সা'দ (রাযি.) কে সুস্থতা দান করেন।

সাহাবী হযরত জাবির (রাযি.) একবার অসুস্থ হয়ে দীর্ঘ দিন বিছানায় পড়ে থাকেন। এ সময়ে বেশ কয়েক বার নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাড়ী যান। তার খোঁজ খবর নেন। হযরত জাবির (রাযি.)-এর বাড়ী বেশ দূরে থাকার পরেও নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিবারই পায়ে হেঁটে তাঁর বাড়ীতে গিয়ে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

একদিন হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গিয়ে দেখতে পেলেন, রোগের তীব্রতায় হযরত জাবির (রাযি.) বেহুশ হয়ে পড়ে আছেন। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন নিজ হাতে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেন। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বরকতপূর্ণ পানির ছিটায় হযরত জাবিরের (রাযি.) জ্ঞান ফিরে আসে। এরপর আস্তে আস্তে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন।

এমনি আরো অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যা থেকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা শুশ্রূষার প্রমাণ পাওয়া যায়। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপরের দুঃখে দুঃখিত হতেন। তা বিদূরিত করার সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। আর এজন্যই তো তিনি "রাহমাতুল্লিল আলামীন"।

📘 নবী (ﷺ) জীবনের টুকরো কথা 📄 জীব-জন্তুর প্রতি সদাচার

📄 জীব-জন্তুর প্রতি সদাচার


প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু মানুষের প্রতিই সদাচরণ প্রদর্শন করেছেন— তা নয়, বরং তিনি আল্লাহপাকের সৃষ্ট অন্যান্য প্রাণী ও জীব জন্তুর প্রতিও অত্যন্ত ন্যায়সংগত ও সদাচরণ প্রদর্শন করতেন। কারণ তিনি শুধু মানুষের নবী ছিলেন না বরং তিনি মানুষ ও জীব-জন্তু নির্বিশেষে সকলেরই নবী ছিলেন।

একবার এক সফরে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দু'জন সাথী একটি চড়ুই পাখির বাসা থেকে দু'টি বাচ্চা ধরে নিয়ে এলে মা চড়ুইটি তার বাচ্চার সাথে সাথে করুণ সুরে ডেকে ডেকে মুক্তির আবেদন জানাতে লাগলো এবং আছাড়-পাছাড় খেয়ে সাথে সাথে চলতে লাগলো। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ অবস্থা দেখে বললেন, এ চড়ুইর বাচ্চা ধরে এনে কে এ চড়ুইটিকে এমন অস্থির করে তুলেছে? বাচ্চা দু'টিকে ছেড়ে দাও” সাথীদ্বয় তৎক্ষণাৎ বাচ্চা দু'টি ছেড়ে দিলো (সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৬/২৪১)।

অন্য এক সময়ের কথা। সাহাবায়ে কিরাম (রাযি.) অনেক পিঁপড়া দেখে তা দূর করার জন্য পিঁপড়ার স্তূপের মাঝে আগুনের চুলা জ্বালিয়ে দিলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দেখে তৎক্ষণাৎ চুলা নিভিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। জীব-জন্তুর ব্যাপারে নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছেন। যেখানে জীব-জন্তুর প্রতি দয়া, অনুগ্রহ তাদের দানা-পানির ব্যবস্থা এবং ওগুলোকে সাধ্যের অতিরিক্ত কষ্ট না দেয়ার হুকুম করেছেন।

ইমাম বুখারী (রহ.) জীব-জানোয়ারের প্রতি দয়া সংক্রান্ত একটি ভিন্ন অধ্যায় কায়েম করেছেন। সেখানে তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটি নিম্নরূপ।

এক ব্যক্তি একটি কুকুরকে পিপাসায় কাতর দেখতে পেলো। সে দেখলো, কুকুরটি পানির পিপাসা নিবারণ করার জন্য জিহ্বা বের করে কাদা মাটি চাটছে। লোকটির দয়া হলো, সে কুয়া হতে পানি তুললো এবং কুকুরটিকে তা পান করালো। এতটুকু দয়া দেখানোর কারণে মহান আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবায়ে কিরাম (রাযি.) এ ঘটনা শুনে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমতে জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! জানোয়ারের উপর দয়া করলেও কি সে কারণে পরকালে সওয়াব পাওয়া যায়? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিলেন, প্রত্যেক প্রাণীর প্রতি সদাচরণ করলেই তার একটা সওয়াব ও প্রতিদান রয়েছে।

একবার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বাগানে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য গেলেন। এ বাগানটি ছিলো একজন আনসারীর সে বাগানে একটি উট বাঁধা ছিলো। সে উটটি নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখে আহাজারী করতে লাগলো। তার দু'চোখ গড়িয়ে পানি পড়তে শুরু করলো। এক পর্যায়ে উটটি চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণীকূলের ভাষা বুঝতেন। তিনি উটটির কাছে এলেন এবং তার গর্দানে হাত বুলালেন, উটটি নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর পেয়ে কান্না থামালো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, এ উটের মালিক কে? একথা শুনে উটের মালিক কাছে এলো। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, এসব জীব-জন্তুর ব্যাপারে তুমি কি মহান আল্লাহকে ভয় কর না, যে জন্তুর মালিক আল্লাহ পাক তোমাকে বানিয়েছেন? উটটি আমার কাছে অভিযোগ করেছে, তুমি নাকি তাকে কষ্টের মধ্যে রাখ এবং তার প্রয়োজন পুরা করো না। অতঃপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে উটটির ব্যাপারে উপদেশ দিলেন এবং তাকে কষ্ট না দেয়ার নির্দেশ দিলেন। (আখলাকে রাসূলে আকরাম (সা.) পৃ. ৬৩)

📘 নবী (ﷺ) জীবনের টুকরো কথা 📄 শেষ কথা

📄 শেষ কথা


প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পূর্ণ জীবনটিই উত্তম ও উন্নত গুণাবলীর বাস্তব নমুনা। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নবুওওত পরবর্তী জীবন যেমন আমাদের জন্য আদর্শ, তেমনি নবুওওতপূর্ব জীবনও আমাদের জন্য অনুকরণীয়। এক কথায় নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সকল গুণের আধার। উপরে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সে উন্নত ও সার্বজনীন গুণাবলী হতে মাত্র কয়েকটি দিক নিয়ে আলোচনা করা হলো। এভাবে আলোচনা করলে দীর্ঘ ভলিউমের গ্রন্থ তৈরী হতে থাকবে তবুও হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুণাবলীর আলোচনা শেষ হবে না। কারণ, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহান আল্লাহ তা'আলা নিজ কুদরতী হাতে সকল উত্তম ও উন্নত গুণাবলীর মূর্ত প্রতীক হিসেবে তৈরী করে বিশ্ববাসীর জন্য এক মহত্তম আদর্শ হিসেবে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, (হে বিশ্ব মানব মণ্ডলী!) তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে রয়েছে অতি উত্তম আদর্শ। (সূরা আহযাব: ২১)

মহান আল্লাহ আমাদেরকে নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উন্নত চরিত্র বৈশিষ্ট ও উত্তম আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে উজ্জ্বল, উন্নত ও ইহ-পরকালীন সফল জীবন গড়ে তোলার তাওফীক দান করুন, আমীন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px