📘 নবী (ﷺ) জীবনের টুকরো কথা 📄 লাজ-শরম

📄 লাজ-শরম


নির্লজ্জ সমাজ ব্যবস্থায় অশ্লীলতার স্রোত যখন তীব্র গতিতে প্রবাহমান। পবিত্র কা'বা গৃহ বিবস্ত্র অবস্থায় প্রদক্ষিণ করাকে যখন ইবাদত বলে জ্ঞান করা হতো। সে মানবতাহীন বৈরী পরিবেশেও শিশু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের লাজ-শরম ও সম্ভ্রম যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করেছেন। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর লাজ-শরম একজন কুমারী মেয়ের লাজ-শরমের চাইতেও বেশী ছিলো।

পবিত্র কা'বাগৃহ পুনঃনির্মাণ কালে আবাল, বৃদ্ধ-বনিতা নির্বিশেষে সকলেই পরিধেয় বস্ত্র খুলে মাথায় বেঁধে পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সকলের সাথে পাথর বহন করছিলেন। কিন্তু নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরনে তখনো বস্ত্র ছিলো। কচি ও নম্র শরীর বিধায় অমসৃন পাথরের ঘায়ে শরীর বা মাথায় ক্ষত হয়ে যেতে পারে ভেবে চাচা আব্বাস (রাযি.) পরনের লুঙ্গি খুলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাথায় বেঁধে দিলেন। আর অমনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেহুঁশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন, চোখ দু'টো বড় বড় হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পরে হুঁশ ফিরে এলে তিনি বলতে লাগলেন, আমার লুঙ্গি! আমার লুঙ্গি!! সাথে সাথে হযরত আব্বাস (রাযি.) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লুঙ্গি পরিয়ে দিলেন।

হযরত তুফাইল (রাযি.) বর্ণনা করেন, যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সতর নগ্ন করা হলো। সাথে সাথে তিনি একটি গায়েবী আওয়ায শুনতে পেলেন "হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তোমার লজ্জাস্থানকে নগ্নতা থেকে রক্ষা কর, তোমার সতর হিফাযত কর।" আর এটিই ছিলো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্রুত সর্বপ্রথম অদৃশ্যের আওয়ায।

অপর এক বর্ণনায় আছে যে, প্রিয় নবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর লুঙ্গি খোলা হয়নি বরং হযরত আব্বাস (রাযি.) শুধু তাকে লুঙ্গি খুলে মাথায় বেঁধে নিতে বলেছিলেন, আর তিনি তার কথা শুনে লুঙ্গি খুলবেন কি না তা ভাবছিলেন এ ভাবনার এক পর্যায়ে কাপড় খুললে কেমন শরম হবে সে অনুভূতিতেই তিনি বেহুশ হয়ে জমিনে লুটিয়ে পড়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।

📘 নবী (ﷺ) জীবনের টুকরো কথা 📄 যৌবনে প্রবৃত্তি দমন

📄 যৌবনে প্রবৃত্তি দমন


প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপন যৌবনে কুপ্রবৃত্তির চাহিদা দমন ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এমন বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা হযরত ইউসুফ (আ.)-এর পবিত্রতা ও প্রবৃত্তি দমনের চাইতেও অধিক বিস্ময়কর ছিল। যৌবনের শুরু থেকে পঁচিশ বৎসর বয়স পর্যন্ত মানুষের মন বিভিন্ন কামনা-বাসনা ও উচ্চাভিলাসে পূর্ণ থাকে। কিন্তু যৌবনের এ প্রধান অংশটাই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাটিয়েছেন সম্পূর্ণ একা। তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ স্বভাব ও চরিত্রকে এত উন্নত ও পবিত্র রেখেছেন, যার ফলে কোন দুশমনও নবীজী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চারিত্রিক ব্যাপারে সামান্যতম অপবাদ দেয়া কিংবা অঙ্গুলি নির্দেশ করার অবকাশ পায়নি।

আবু জাহল ও তার দলবল কঠোর থেকে কঠোরতম বিরোধিতায় লিপ্ত ছিলো। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মস্তিষ্ক বিকৃত পাগল, মাতাল, জাদুকর ইত্যাদিসহ হাজারো রকমের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে অভিযুক্ত করতো। কিন্তু এত কিছুর পরেও এ পবিত্র জীবনে কোনরূপ চারিত্রিক অভিযোগ উত্থাপনের সাহস পর্যন্ত কেউ করেনি। এ দুশমন গোষ্ঠী নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনে সামান্যতম স্পট খুঁজে পেলেই তাকে অপপ্রচারের বিরাট হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতো, কিন্তু ওরা তা পারেনি, কারণ ফুলের ন্যায় শিশির শুভ্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চরিত্রের অদ্ভূত স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা তাদেরকে মুখ খোলার সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি।

দীর্ঘ পঁচিশ বৎসর একাকী জীবন যাপনের পরও তিনি কোন সুন্দরী যুবতী মেয়েকে বিয়ে করেননি বরং চল্লিশ বছরের এক বিধবা মহিলাকে তিনি পত্নী হিসেবে বরণ করেন। যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বয়স ছিলো মাত্র পঁচিশ বছর। তবে যে বিধবা মহিলাকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বরণ করলেন, তিনিও ছিলেন সারা আরবে সৎ স্বভাব ও উন্নত গুণাবলীর কারণে প্রসিদ্ধ। লোকেরা তাকে ডাকতো "ত্বাহিরা” বা পবিত্রতার অধিকারিনী মহিলা নামে। আর সে দিকটি লক্ষ্য করেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রৌঢ়া মহিলাকে পত্নী হিসেবে গ্রহণ করে নিলেন।

হযরত খাদীজা (রাযি.)-এর সাথে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বৈবাহিক জীবন ২৮ বছর স্থায়ী ছিলো। এর মধ্যে নবুওওতের পূর্বে পনেরো বছর আর নবুওওতের পরে তের বছর, নবুওওতপূর্ব পনেরো বছরের বেশীর ভাগ সময় ব্যবসা, জনসেবা ও নির্জনে সাধনা অধ্যাবসায়ের মাধ্যমেই কেটেছে। আর নবুওওত পরবর্তী তের বছর ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগ এবং এক্ষেত্রে কাফির গোষ্ঠীর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করেই কাটাতে হয়েছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বয়স যখন তিপ্পান্ন বছর তখন হযরত খাদীজা (রাযি.) ইন্তিকাল করেন। হযরত খাদীজা (রাযি.)-এর বয়স তখন আটষট্টি বৎসর। এ সময় পর্যন্ত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য কোন মহিলার সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হননি। জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি এক প্রৌঢ়া মহিলাকে নিয়ে কাটিয়ে দিলেন। এর থেকেই বুঝা যায় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ প্রবৃত্তিকে কিভাবে অবদমিত করেছিলেন।

📘 নবী (ﷺ) জীবনের টুকরো কথা 📄 সত্য-ন্যায়ের অনুসরণ

📄 সত্য-ন্যায়ের অনুসরণ


আরবের একটি নষ্ট প্রাপ্ত ও ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের মাঝে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। যাকে তৎকালীন বিশ্বের সকল জাতির মাঝে সবচাইতে নিকৃষ্ট জাতি ও সম্প্রদায় বলে আখ্যায়িত করা হলে তা অত্যুক্তি হবে না। কিন্তু তার মাঝে যুবক নবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সত্যানুসন্ধিৎসু মনোভাব গোটা জাতি ও সম্প্রদায়ের মাঝে তাঁকে এক ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রমাণিত করতে সক্ষম হয়েছিলো। দীর্ঘ দিনের বিগ্রহ আর প্রবৃত্তি পূজা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কলুষমুক্ত পবিত্র জীবনে কোনই প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি।

বিভিন্ন ভূত প্রেত আর বিগ্রহের নামে উৎসর্গকৃত খাদ্য দ্রব্য যখন সকলেই ভক্তি শ্রদ্ধার সাথে ভক্ষণ করতো, তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে সে খাদ্য উপস্থাপন করা হলে তিনি পরিস্কার ভাষায় বলে দিতেন, আমি শুধু ঐসকল খাদ্যই গ্রহণ করবো যাতে আল্লাহ পাকের নাম নেয়া হয়েছে (ফাতহুল বারী)।

তৎকালীন লোকদের মাঝে তাদের ভ্রান্ত ধর্মের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ছিলো প্রচুর। কিন্তু তা সত্ত্বেও যুবক নবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে সব আচার অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকতেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চাচা ফুফুরা হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাথে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখাতো, চেষ্টা করতো, কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে যেতে অস্বীকার করতেন। এরপরেও যদি আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে খুব বেশী পীড়াপীড়ি করা হতো তবে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে অন্যত্র চলে যেতেন।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সকলের তুলনায় ভিন্ন ও ব্যতিক্রমী চালচলন লক্ষ্য করে অনেকে ধারণা করতো যে, তিনি হয়তো জীন-ভূতের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে এসব অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন। এজন্য তারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতো তোমার নীতি-নৈতিকতা যথেষ্ট উন্নত বিধায় তুমি এমন অমূলক সন্দেহ পোষণ করো না যে, তোমাকে প্রভু কোন জীন-ভূতের দ্বারা আক্রান্ত করবেন (ফাতহুল বারী)। তাদের একথা শৈশব-যৌবনে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উত্তম ও উন্নত স্বভাবের একটি সুস্পষ্ট স্বীকৃতি ছিলো।

যদি প্রশ্ন করা হয়—মূর্তি পূজায় ডুবন্ত জাতির মাঝে জন্ম নিয়ে, তাদের সমাজে বসবাস করেও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে মূর্তি প্রতিমার প্রতি প্রকৃতিগত ভাবে এহেন ঘৃণা ও অনীহা সৃষ্টি হওয়া কিভাবে সম্ভব হলো? তবে তার একটিই জবাব যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উস্তাদ ছিলেন স্বয়ং রাব্বুল আলামীন। মহান আল্লাহ পাকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশেই তিনি পরিচালিত হয়েছেন। মহান আল্লাহ পাকই তাকে সকল পাপ পঙ্কিলতা থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, আর এর কারণ হলো অদূর ভবিষ্যতেই তিনি গোটা বিশ্ববাসীর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং সকলের নীতি-নৈতিকতা, সভ্যতা-ভব্যতা, আখলাক-চরিত্রের একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তাঁর বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

📘 নবী (ﷺ) জীবনের টুকরো কথা 📄 গান-বাজনা পরিহার

📄 গান-বাজনা পরিহার


জীবনের শুরু থেকে নবুওওত লাভের পূর্ব পর্যন্ত মহান আল্লাহ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যাবতীয় নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ রূপে সংরক্ষিত রেখেছেন। বিশেষতঃ যৌবন বয়সে মানব প্রকৃতিতে যে সব কামনা-বাসনার সৃষ্টি হয়ে থাকে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা থেকেও ছিলেন সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র। তৎকালীন সময়ে গান-বাজনার ব্যাপক ছড়াছড়ি সত্ত্বেও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি দিনও ওসব আসরে যোগদান করেননি। সাময়িকভাবে কখনো সামান্য মনোভাব সৃষ্টি হলেও মহান আল্লাহ বিশেষ তত্ত্বাবধানে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তা থেকে হিফাযত করছেন।

হযরত আলী (রাযি.) থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে, তিনি বলেছেন, আমি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি, হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যৌবনকালে জাহিলী যুগের গর্হিত ও নিন্দনীয় কার্যকলাপে অংশগ্রহণের কোন ইচ্ছাও আমার মনে সৃষ্টি হয়নি। তবে দু'বার আমার মনে (সঙ্গী-সাথী ও পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে) সামান্য ইচ্ছা সৃষ্টি হলেও মহান আল্লাহ আমাকে তা থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, একবার আমি বকরী চড়াতে মাঠে গেলাম এবং আমার এক সাথীকে বললাম, ভাই! তুমি আমার বকরীগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখো, আমি মক্কা গিয়ে কিছু কিচ্ছা-কাহিনী শুনে আসি। একথা বলে আমি রওয়ানা করেছিলাম, ইতিমধ্যে এক জায়গায় গানের আওয়ায শুনতে পেলাম। লোকদের জিজ্ঞাসা করলাম, তারা জবাব দিলো, ঐ বাড়ীতে অমুকের বিবাহ অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিনা, তাই তারা গান-বাজনা করে আনন্দ-উল্লাস করছে। তখন আমার মনে একটা ভাব সৃষ্টি হলো, আমি চিন্তা করলাম, এখানে বসেই কিছুক্ষণ গান শুনবো। আমি সে মতে এক জায়গায় বসে গেলাম। কিন্তু সাথে সাথে মহান আল্লাহ আমার কানে মোহর মেরে দিলেন। আমি তখন আর কিছুই শুনতে পেলাম না। আমার চোখে ঘুম নেমে এলো আমি শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি মহান আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমার চোখে আল্লাহপাক এমন ঘুম দিলেন যে, এক ঘুমে রাত্র শেষ হয়ে যখন সকাল হলো তখন আমার চোখে সূর্যের কিরণ পড়ায় আমি জেগে উঠলাম। সকালে উঠে আমি যখন আমার সে সাথীর কাছে মাঠে ফিরে গেলাম তখন সে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, বলো তুমি কি শুনে এলে? আমি তাকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে বললাম।

পরের দিনও আমার মনে সে একই ইচ্ছা জাগলো, এবারও আমি শহরের পথ ধরে রওয়ানা হলাম, কিন্তু মহান আল্লাহ এবারও আমার চোখে ঘুম দিয়ে দিলেন এবং আমি গান শুনা থেকে বেঁচে গেলাম। এরপর থেকে আর কোনদিন আমার মনে এ জাতীয় কোন ধ্যান-ধারণা বা ইচ্ছার সৃষ্টি হয়নি। (খাসায়েসে কুবরা ১/৮৮)

এ ছিলো মহান শিক্ষক নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যৌবনের তারুণ্য দীপ্ত সময়ে তদানীন্তন সমাজে ব্যাপক ভাবে প্রচলিত গান বাজনা থেকে বেঁচে থাকার অবস্থা। কারণ তিনিই তো হবেন সে নবী যিনি সারা দুনিয়ার মানুষের উত্তম চরিত্র গঠন ও তাদেরকে সভ্যতা-ভব্যতার প্রশিক্ষণ দিয়ে আদর্শ মানুষে পরিণত করার মহান দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। সুতরাং সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রকৃতি ও স্বভাব এমনি স্বচ্ছ ও পবিত্র হওয়াই তো বাঞ্ছনীয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px