📄 বাস্তবতা বোধ
কতগুলো কচি-কাঁচা একত্রিত হয়ে আনন্দ ফুর্তি করছে। অতীত দিনের বর্ণনা সম্বলিত সংগীত গাইছে। ওরা সকলেই ছিল মেয়ে। মেয়েলী শিশু কণ্ঠের সম্মিলিত সুরের তালে যেন ওরা পথ প্রান্তর গুঞ্জরিত করে তুলেছিল। এক পর্যায়ে ওরা নিজেদের সৌভাগ্যের বর্ণনা দিয়ে বললো, "আমাদের মাঝে এমন একজন নবী আছেন, যিনি বলে দিতে পারেন আগামীকাল কি ঘটবে"
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে পথ ধরে কোথাও যাচ্ছিলেন। তিনি কচি কচি বাচ্চা মেয়েদের চোখ জুড়ানো সে দৃশ্য দেখতে পেলেন। তিনি শুনলেন ওদের সু মধুর কণ্ঠের মিষ্টি কথা "আমাদের মাঝে এমন একজন নবী আছেন, যিনি বলে দিতে পারেন আগামীকাল কি ঘটবে" সাথে সাথে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাচ্চাদের বারণ করলেন। তিনি শিশুদের বললেন, "একথা বলো না—এর আগে যা বলছিলে তাই বলতে থাকো"।
অন্য একদিনের কথা— নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পুত্র হযরত ইবরাহীম (রাযি.) যেদিন ইন্তেকাল করলেন, ঘটনাক্রমে সেদিন সূর্য গ্রহণ হলো। লোকেরা বলতে লাগলো, আজ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পুত্র বিয়োগে সূর্যও শোক পালন করছে। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কানে একথা পড়তেই তিনি সকলকে ডেকে একত্রিত করলেন এবং লোকদের এ ভুল ধারণার অপনোদন কল্পে এক বিশেষ বক্তব্য পেশ করলেন, যার সারমর্ম ছিল নিম্নরূপ: "সূর্য তার নির্ধারিত গতিপথেই বিচরণ করে থাকে, কারো ইন্তিকালে সূর্য শোক পালন করে না বা সূর্য গ্রহণ হয় না। আজকের এ সূর্য গ্রহণও কারো ইন্তিকালের কারণে নয়, বরং সূর্যের স্বাভাবিক গতি-ধারাতেই আজ সূর্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে এধরণের বাস্তব ও সঠিক বক্তব্য তুলে ধরার মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্বের আজ বড়ই অভাব। আর এই একটি অভাবই সমাজে সৃষ্টি করেছে আরো অগনিত অভাব-অনটন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাস্তবতা বোধের অনুপম দৃষ্টান্ত উপরের দু'টি প্রসংগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমরা আমাদের মাঝে বাস্তবতাবোধ সৃষ্টি করতে পারি। পূরণ করতে পারি এর অভাব জনিত কারণে সৃষ্ট সমাজের সমূহ অপূর্ণতা।
📄 ন্যায় পরায়নতা
এক মহিলা চুরি করলো। নাম তার ফাতিমা। বিচার এলো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে। ইসলামী শরীয়তের কানুনের ব্যাপারে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত কঠোর। তাই তিনি তাকে যথাযথ শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। মহিলা কুরাইশ বংশের ছিল বিধায় অনেকের ধারণা হলো যে, হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ কুরাইশ বংশের মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করে হয়তো তাকে ক্ষমা করতে পারেন। তাই তারা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অত্যন্ত প্রিয় এক সাহাবীর মাধ্যমে সুপারিশ করালো। সে সাহাবী ছিলেন হযরত উসামা ইবনে যাইদ (রাযি.)। যাকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যাধিক মহব্বত করতেন। সুপারিশ শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উসামা (রাযি.) কে বললেন, তুমি কি আমাকে আল্লাহ পাকের বিধানের ব্যাপারে ছাড় দিতে সুপারিশ করছো? তুমি শুনে রাখো আজ ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অর্থাৎ আমার আদরের কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করতো তবে আমি তাকেও শাস্তি দিতে সামান্যতমও কুণ্ঠাবোধ করতাম না।
অন্য এক সময়ের কথা— হযরত আব্বাস (রাযি.) মুসলমানদের হাতে বন্দী। কারণ তিনি তখনো ছিলেন অমুসলিম। বদর যুদ্ধে কাফিরদের দলভূক্ত হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসে তিনি ধরা পড়েছিলেন। বন্দীরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য তাদের সকলকে বেঁধে রাখা হলো। শক্ত করে বাঁধা হয়েছিল বিধায় তার ব্যথায় হযরত আব্বাস (রাযি.) কোঁকাতে ছিলেন। এ অবস্থা লক্ষ্য করে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানসিকভাবে অস্থিরতা অনুভব করতে থাকলেন। নিজের চাচা আজ ভাতিজার হাতে বন্দী। হৃদ্যতা, আন্তরিকতা সব আছে তার পরেও এক্ষেত্রে কিছু করার নেই কারণ ইসলামের নিরাপোষ নীতির বাগডোরেই তিনি আটকে পড়েছেন।
সাহাবায়ে কিরাম (রাযি.) প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অস্থিরতা অনুভব করতে পেরে হযরত আব্বাস (রাযি.)-এর বন্ধন ঢিলা করে দিলেন। একথা জানতে পেরে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এধরণের বৈষম্য মোটেও ঠিক নয় বরং সকল বন্দীদের সাথে সম পর্যায়ের আচরণ করতে হবে। সুতরাং তোমরা হয়তো আমার চাচার ন্যায় সকল বন্দীদের বন্ধন ঢিলা করে দাও আর না হয় অন্যদের ন্যায় আমার চাচা হযরত আব্বাস (রাযি.)-এর বন্ধন পূর্বের ন্যায় শক্ত করে দাও। বর্তমান সমাজে এ জাতীয় ইনসাফপূর্ণ, স্বজন প্রীতিহীন আচরণ অনেকটা রূপ কথার মতো মনে হলেও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছেন। যে শিক্ষা ও আদর্শের কোন বিকল্প নেই।
📄 দয়া ও অনুগ্রহ
মক্কার কুরাইশ কাফিরগোষ্ঠী প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্র। চলছে ইসলাম ও কুফরের এক অঘোষিত যুদ্ধ। সুযোগ পেলেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিংবা তাঁর অনুসারীদের প্রাণে মেরে ফেলতেও যাদের সামান্যতম কুণ্ঠা নেই বরং সে চেষ্টাতেই যারা অহর্নিশ ব্যাপৃত, এমনি অবস্থার কথা।
মক্কায় ভয়ানক দুর্ভিক্ষ চলছে। ক্ষুধার তাড়নায় লোকেরা হাড্ডি, মুর্দারসহ ইত্যাকার নিন্দনীয় ও হারাম বস্তুসমূহ খেতে শুরু করেছে। এ খবর শুনেই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয়মন দারুণভাবে মর্মাহত হয়ে উঠলো। সাথে সাথে দু'হাত উঁচিয়ে তিনি মহান আল্লাহর শাহী দরবারে ফরিয়াদ করতে লাগলেন অথচ তিনি যাদের জন্য দু'আ করছেন তারাই তাঁর প্রাণের দুশমন।
উহুদ প্রান্তরে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জীবনে শেষ করে দেয়ার জন্য কাফির গোষ্ঠী আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত করা হয়েছে, দন্দান মুবারক শহীদ করা হয়েছে। এত অত্যাচারের পরেও সাহাবায়ে কিরাম (রাযি.) যখন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি এ পাষণ্ড দুরাচারদের বিরুদ্ধে আল্লাহপাকের দরবারে বদ দু'আ করুন। করুণার আধার প্রিয় নবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন, কস্মিন কালেও নয়। কারণ আমি কারো প্রতি বদ দু'আ বা অভিসম্পাত করার জন্য প্রেরিত হইনি, বরং আমি করুণা বা রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর বদ দু'আর পরিবর্তে এই বলে তিনি দু'আ করলেন, ইয়া আল্লাহ! আমার সম্প্রদায়ের লোকদেরকে আপনি ক্ষমা করে দিন, তাদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দিন, তারা আমাকে চিনতে পারেনি যে, আমি সত্যিই আপনার নবী।
দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ প্রদর্শনের এর চাইতে বড় দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে? আজো আমাদের সমাজে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ শিক্ষার যথার্থ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে, হিংসা ও জিঘাংসাপূর্ণ এ দুনিয়ায় পুনরায় শান্তি ও সুখের পুণ্য প্রিয়ুষ ধারা প্রবাহিত হতে পারে।
📄 ক্ষমা প্রদর্শন
ইসলামের একজন বড় দুশমন। কাফির কুরাইশ নেতা। যার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে শত শত মুসলমানের প্রাণ বিপন্ন হয়েছে। তারই হাতে নির্যাতিত নিপীড়িত হয়েছে অগণিত মুসলমান।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু সুফিয়ান (রাযি.)-এর কথাই বলছিলাম। তিনি তখনো ছিলেন অমুসলিম। ইসলাম গ্রহণের পরে যিনি মুসলিম শক্তি বর্ধনে উল্লেখযোগ্য ভাবে সহযোগিতা করেন। যিনি অংশগ্রহণ করেন ইতিহাস খ্যাত হুনাইন, তাইফ, ইয়ারমুকসহ অসংখ্য রক্তক্ষয়ী মুসলিম অভিযানে।
ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে তিনি পরাজিত শত্রুর ন্যায় এসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে হাযির হলেন। দয়া ও ক্ষমার মূর্তপ্রতীক প্রিয় নবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্তরে তখন যেন করুণার সাগরে বান ডাকলো। দয়া অনুগ্রহের ঢেউ উথলে উঠলো নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয়মনে। সে দয়ার বারি ধারায় হযরত আবু সুফিয়ান (রাযি.) এমন ভাবে শিক্ত হলেন যেন তিনিই ইসলামের সবচাইতে বড় খাদেম। ক্ষমার নিদর্শন স্বরূপ নবীকণ্ঠে উচ্চারিত হলো "আজ হতে আবু সুফিয়ানের (রাযি.) বাড়ীর চতুষ্পার্শের সীমানা মধ্যস্থ এলাকা হবে “নিরাপদ এলাকা"। আবু সুফিয়ান নিজেই শুধু নয় বরং তার বাড়ীতে সে যতজনকে আশ্রয় দিবে তারা সকলেই আজ নিরাপদ থাকবে।"
মক্কা বিজিত হলো। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজয়ী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মক্কা নগরীতে প্রবেশ করলেন। পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফের কাছে গেলেন। নেতা-অনুসারী নির্বিশেষে মক্কার ছোট বড় সকলেই আজ ভীত সন্ত্রস্ত। পুরোনো দিনে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি কৃত দুর্ব্যবহার, হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়ন সবই তাদের স্মরণে ছিলো। তারাই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র বদনে পাথর নিক্ষেপ করেছিলো, উটের পচা নাড়ী-ভূড়ী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গায়ে চাপিয়ে দিয়েছিলো, গলায় কাপড় পেঁচিয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম করেছিলো। এ জাতীয় হাজারো নির্যাতন যারা করেছিলো তারাইতো আজ এখানে উপস্থিত। অত্যাচার আর নির্যাতনে জর্জরিত করে এ মক্কা ও বাইতুল্লাহ শরীফ থেকে একদিন যাকে বের করে দেয়া হয়েছিলো, আজ তিনিই এ মক্কার রাষ্ট্র প্রধান, তাঁর হাতেই আজ মক্কা নগরীর সমুদয় ক্ষমতা।
ইতিমধ্যেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ থেকে মূর্তি নিধন কার্য সমাধা করে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলেন কা'বা চত্বরে। সমবেত অত্যাচারী কুরাইশ সম্প্রদায় ভয়ে থর থর করে কাঁপতে লাগলো, তাদের নিশ্চিত ধারণা "শাস্তি তো আমাদেরকে আজ পেতেই হবে কিন্তু কি হবে সে শাস্তি! না জানি কত কঠোরই হবে আমাদের মাত্রারিরিক্ত অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত আজ আমাদের ভোগ করতে হবে। তবে তারা শুধু ভাবছিলো, সে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয় কিনা। আজ শুধু মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে বেঁচে যেতে পারলেই তাদের যেন সোনায় সোহাগা। আর কিছুই যেন তারা চায় না।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তুলনাহীন করুণার আধার। মহান আল্লাহ তাকে ঘোষণা করেছেন "রাহমাতুল্লিল আলামীন" বা গোটা বিশ্ব জগতের জন্য রহমত বা মূর্ত করুণা হিসেবে। উদারতা ও ক্ষমার শ্রেষ্ঠতম আদর্শ মহানবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর পবিত্র যবান থেকে এহেন মুহূর্তে যে বাণী বেরিয়ে এলো, তাই এখানে লক্ষ্যণীয়। তিনি বললেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে, তোমাদের ব্যাপারে আজ আমার কোন অভিযোগ নেই, তোমাদের সকলের প্রতি আমি আজ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করছি।
বিশ্ব ইতিহাসের পাতা তন্য তন্য করে খুঁজলেও ক্ষমা ও অনুগ্রহের এহেন নযীর দ্বিতীয় আরেকটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। বর্তমান হত্যা-সন্ত্রাস, হিংসা জিঘাংসা, প্রতিশোধ স্পৃহায় উন্মত্ত, আদর্শ ও নৈতিক দিক থেকে বিধ্বস্ত এ সমাজ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্ষমার এহেন আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সার্বিক অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে, প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও সৌহার্দ্যের এক মোহনীয় পরিবেশ।