📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত মুগীরা (রা.)-এর আত্মমর্যাদাবোধ দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত মুগীরা (রা.)-এর আত্মমর্যাদাবোধ দেখে নবীজীর হাসি


হুদাইবিয়ার প্রান্তরে মক্কাবাসী উরওয়া ইবনে মাসউদ আস্সাকাফীকে অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠালো। সে নবীজীর কাছে আসলো এবং বললো, কুরাইশরা কসম করে ফেলেছে, আপনাকে বিজয়ী বেশে মক্কায় ঢুকতে দেবে না। তারা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কাল যখন সংঘর্ষ হবে, তখন আপনার সাথে যে বিভিন্ন গোত্রের লোকজন এসেছে তারা সবাই ভাগবে। আপনি একাই থাকবেন। এটা শুনে হযরত আবু বকর (রা.) বলেন- তোরা লাত্ (ভূতের) লজ্জাস্থান চেটে খা! আমরা ভাগবো!? সে বললো, হে মুহাম্মদ! সে কে? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- সে হলো আবু কুহাফার ছেলে। সে বললো, আমার প্রতি যদি তোমার অবদান না থাকতো, তাহলে আমি অবশ্যই এর জবাব দিতাম। সে কথা বলতে বলতে তার হাত নবীজীর দাড়ি মোবারকের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা যিনি অস্ত্রেসজ্জিত ছিলেন তিনি বলেন- তোর নাপাক হাত নবীজীর দাড়ি মোবারকে লাগাবে না। এতদূর আগাবে না যে, আমরা তোমার হাত ভেঙ্গে দিতে বাধ্য হই। হযরত মুগীরার এ মর্যাদাবোধ দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসেন।
উরওয়া বললো, সে কে?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- সে তোমার ভাতিজা মুগীরা ইবনে শু'বা। [সীরাতুন্নবী লি ইবনে হিশাম: ৩: ৩৬২]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আশআাস ইবনে কায়েসের কথা শুনে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আশআাস ইবনে কায়েসের কথা শুনে নবীজীর হাসি


ইবনে শিহাব বলেন- আশআস ইবনে কায়েস (রা.) বনু কিন্দ্দার প্রতিনিধি দলের সাথে নীবীজীর খেদমতে হাজির হন। দলে আশিজন লোক ছিল। তিনি যখন নবীজীর কাছে আসার প্রস্তুতি নিতে চুলে তেল মাখলেন, চুল আচড়ালেন, সুরমা লাগিয়ে পরিষ্কার জুতা পরিধান করলেন। সে জুব্বার কিনারায় রেশম মিলানো ছিল। যখন তিনি নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলেন, তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করোনি? তিনি বললেন- কেন না? আমি তো ইসলাম গ্রহণ করেছি। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশম খুলে ফেলে দেন। তারপর আশআস ইবনে কায়েস (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমরা 'বনু আকিলুল মিরার” (বারবার খাবার গ্রহণকারী গোত্র)। আর আপনি 'ইবনু আকিলুল মিরার' (বারবার খাবার গ্রহণকারীর সন্তান)। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। তারপর বলেন- এ বিশেষণ তোমরা আব্বাস (রা.) এবং রবীয়া (রা.) কে বল। কেননা, এরা উভয়ে ব্যবসায়ী ছিল। যখন দূরে কোথাও যেত তখন কেউ জিজ্ঞেস করলে তারা বলতো- আমরা 'বনু আকিলুল মিরার'। [সীরাতে ইবনে হিশাম ২৫৪]

টিকাঃ
১ এটা একটা আঞ্চলিক বিশেষণ।

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আয়েশা (রা.)-এর কথায় নবীজীর হাসি

📄 হযরত আয়েশা (রা.)-এর কথায় নবীজীর হাসি


হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী কবরস্থান থেকে ফিরলেন। তখন আমার মাথা ব্যথা ছিল। আমি বলছিলাম- হায় আমার মাথা! হায় আমার মাথা! নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- হে আয়েশা! হায় আমার মাথা! (ঠাট্টাচ্ছলে বলেন) তারপর বলেন- কোন অসুবিধা নেই। তুমি যদি এই মাথা ব্যথায় মারা যাও, তাহলে আমি তোমাকে কাফন পরাব, তোমার জানাযা পড়ে তোমাকে দাফন দেব।
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন- আমি বললাম, আপনি কি চান, আমার পরে আপনি আমার ঘরে আরেকজন স্ত্রী আনবেন? এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। [সীরাতে ইবনে হিশাম: ৪: ৩২১]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত জাফর আসাতে নবীজীর আনন্দ

📄 হযরত জাফর আসাতে নবীজীর আনন্দ


হযরত জাফর ইবনে আবু তালিব (রা.) হাবশা থেকে ঐ দিন ফেরত আসেন যেদিন খায়বার বিজয় হয়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কপালে চুমু খেলেন এবং কোলাকুলি করেন। নবীজী বলেন- আমি জানি না যে, আজ জাফর আসার কারণে আমার আনন্দ লাগছে? নাকি খায়বার বিজয় হওয়াতে আনন্দ লাগছে। [সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩: ৪১৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00