📄 ফুজারা ইবনে উমায়েরের কথা শুনে নবীজীর হাসি
মক্কা বিজয়ের দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাওয়াফ করছিলেন তখন ফুজালা নবীজীকে শহীদ করার ইচ্ছা করল। (নাউযুবিল্লাহ)
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার কাছে গেলেন তখন জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কি ফুজালা? সে বললো- হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তুমি মনে মনে কী ফন্দি আঁটছিলে? সে বললো, কিছু না। আমি তো আল্লাহর যিকির করছিলাম। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ওঠেন। তাকে বললেন- ক্ষমা প্রার্থনা কর। তারপর আমার বুকে হাত রাখেন। এতে আমার অন্তরটা শান্ত হয়ে গেল।
ফুজালা বলেন- হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও আমার বুক থেকে হাত উঠাননি, এরই ভেতর তিনি দুনিয়ার সব সৃষ্টি থেকে আমার কাছে প্রিয় হয়ে গেলেন। [সীরাতুন্নবী লি ইবনে হিশাম: ৪: ৩৭]
📄 আবুল হায়সামের কথায় নবীজীর হাসি
মদীনার আনসার সাহাবীরা যখন দ্বিতীয় শপথের জন্য আসেন, তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন। কুরআন মজীদ পাঠ করে শোনান। ইসলামের প্রতি আকর্ষিত করেন। তিনি বলেন- তোমরা কি এ ব্যাপারে শপথ করছো যে, তোমরা যেভাবে তোমাদের স্ত্রী-পুত্রের হেফাজত কর ঠিক সেভাবে আমার হেফাজত করবে?
হযরত বারা ইবনে মারুর বলেন- হ্যাঁ, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন। আমরা যেভাবে নিজেদের স্ত্রী-পুত্রের হেফাজত করি ঠিক সেভাবেই আপনার হেফাজত করবো। আমরা আরবের লোক। আমাদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র আছে। এটা আমরা আমাদের পূর্বসুরিদের থেকে পেয়েছি। আবুল হাসসাম ইবনে তাইহান বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! নিঃসন্দেহে আমাদের ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব আছে। তাদের সাথে বন্ধুত্ব আমরা ছিন্ন করে দেব। এটা কি আপনি পছন্দ করেন যে, যদি আমরা তা করি তাহলে আল্লাহ তাআলা আপনাকে বিজয় দান করবেন এবং আপনি আপনার জাতির কাছে আবার ফিরে আসবেন। আমাদেরকে সেখানে ছেড়ে আসবেন? এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসেন। বলেন- আমার ক্ত এটা তোমাদেরই রক্ত। আমার সম্মান এবং মর্যাদা তোমাদেরই সম্মান এবং মর্যাদা। আমি তোমাদের এবং তোমরা আমার। আমি তার সাথে লড়াই করবো, যারা তোমাদের সাথে লড়বে। আমি তাকে নিরাপত্তা দেব, তোমরা যাকে নিরাপত্তা দেবে। [সীরাতুন্নবী লি ইবনে হিশাম: ২: ৫০]
📄 হযরত মুগীরা (রা.)-এর আত্মমর্যাদাবোধ দেখে নবীজীর হাসি
হুদাইবিয়ার প্রান্তরে মক্কাবাসী উরওয়া ইবনে মাসউদ আস্সাকাফীকে অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠালো। সে নবীজীর কাছে আসলো এবং বললো, কুরাইশরা কসম করে ফেলেছে, আপনাকে বিজয়ী বেশে মক্কায় ঢুকতে দেবে না। তারা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কাল যখন সংঘর্ষ হবে, তখন আপনার সাথে যে বিভিন্ন গোত্রের লোকজন এসেছে তারা সবাই ভাগবে। আপনি একাই থাকবেন। এটা শুনে হযরত আবু বকর (রা.) বলেন- তোরা লাত্ (ভূতের) লজ্জাস্থান চেটে খা! আমরা ভাগবো!? সে বললো, হে মুহাম্মদ! সে কে? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- সে হলো আবু কুহাফার ছেলে। সে বললো, আমার প্রতি যদি তোমার অবদান না থাকতো, তাহলে আমি অবশ্যই এর জবাব দিতাম। সে কথা বলতে বলতে তার হাত নবীজীর দাড়ি মোবারকের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা যিনি অস্ত্রেসজ্জিত ছিলেন তিনি বলেন- তোর নাপাক হাত নবীজীর দাড়ি মোবারকে লাগাবে না। এতদূর আগাবে না যে, আমরা তোমার হাত ভেঙ্গে দিতে বাধ্য হই। হযরত মুগীরার এ মর্যাদাবোধ দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসেন।
উরওয়া বললো, সে কে?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- সে তোমার ভাতিজা মুগীরা ইবনে শু'বা। [সীরাতুন্নবী লি ইবনে হিশাম: ৩: ৩৬২]
📄 হযরত আশআাস ইবনে কায়েসের কথা শুনে নবীজীর হাসি
ইবনে শিহাব বলেন- আশআস ইবনে কায়েস (রা.) বনু কিন্দ্দার প্রতিনিধি দলের সাথে নীবীজীর খেদমতে হাজির হন। দলে আশিজন লোক ছিল। তিনি যখন নবীজীর কাছে আসার প্রস্তুতি নিতে চুলে তেল মাখলেন, চুল আচড়ালেন, সুরমা লাগিয়ে পরিষ্কার জুতা পরিধান করলেন। সে জুব্বার কিনারায় রেশম মিলানো ছিল। যখন তিনি নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলেন, তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করোনি? তিনি বললেন- কেন না? আমি তো ইসলাম গ্রহণ করেছি। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশম খুলে ফেলে দেন। তারপর আশআস ইবনে কায়েস (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমরা 'বনু আকিলুল মিরার” (বারবার খাবার গ্রহণকারী গোত্র)। আর আপনি 'ইবনু আকিলুল মিরার' (বারবার খাবার গ্রহণকারীর সন্তান)। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। তারপর বলেন- এ বিশেষণ তোমরা আব্বাস (রা.) এবং রবীয়া (রা.) কে বল। কেননা, এরা উভয়ে ব্যবসায়ী ছিল। যখন দূরে কোথাও যেত তখন কেউ জিজ্ঞেস করলে তারা বলতো- আমরা 'বনু আকিলুল মিরার'। [সীরাতে ইবনে হিশাম ২৫৪]
টিকাঃ
১ এটা একটা আঞ্চলিক বিশেষণ।