📄 হযরত উমায়ের ইবনে আদী এক ইহুদী মহিলাকে হত্যা করায় নবীজীর আনন্দ
আসমা নামে এক ইহুদী মহিলা ছিল। সে নবীজীর কুৎসা সম্বলিত কবিতা পাঠ করে শোনাতো। বিভিন্নভাবে নবীজীকে কষ্ট দিত। লোকদের কাছে ইসলাম সম্পর্কে ঘৃণা ছড়াত। স্রাবের রক্তে রঞ্জিত কাপড় এনে মসজিদে ফেলে রাখত। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর ময়দানে ছিলেন। তখন সে নবীজীর উদ্দেশে অপমানজনক কবিতা আবৃতি করে শোনায়। হযরত উমায়ের ইবনে আদী (রা.) এসব শুনে ভীষণ রেগে যান। উন্মত্ত হয়ে মানত করেন, আল্লাহর ফযলে নবীজী মদীনায় ফিরে আসার পর আমি তাকে অবশ্যই হত্যা করব।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বদর ময়দান থেকে নিরাপদে বিজয়ের ঝাণ্ডা উড়িয়ে ফিরে আসেন তখন উমায়ের রাতে তলোয়ার নিয়ে রওনা করেন। তার ঘরে প্রবেশ করেন। সে অন্ধ ছিল, তাই আসমাকে হাত দিয়ে ধরে তার থেকে তার সন্তান আলাদা করে তার বুকের উপর তলোয়ার চেপে ধরেন। এত জোরে চাপ দেন যে, তা পিঠ পর্যন্ত কেটে দু'টুকরো হয়ে যায়। মানত পুরো করে ফিরে আসেন। ফজরের নামাযের পর নবীজীকে খবর দিলেন। আর বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যাপারে আমার কোন শাস্তি হবে না তো? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, না। বরং নবীজী উমায়ের ইবনে আদী (রা.)-এর এ কাজে অত্যন্ত খুশি হন। সাহাবায়ে কিরামকে বলেন- তোমরা যদি এমন ব্যক্তি দেখতে চাও যে আমার অজান্তে আমার সাহায্য করেছে, তাহলে উমায়ের ইবনে আদীকে দেখে নাও। [সীরতুল মুস্তফা লিল কান্দালবী : ২: ১৬৬]
📄 হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ (রা.)কে দেখে নবীজীর হাসি
হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ (রা.) বলেন- নবীজী যখন ওমরা করে ফিরে আসেন, তখন আমার ভাইয়ের একটা চিঠি আমার কাছে আসে। তিনি ইসলামের প্রতি আমার আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দেন। এর মাধ্যমে আমার একটি স্বপ্নের সত্যায়ন হয়েছে। একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম, উজাড় এক সংকীর্ণ ভূমি থেকে বের হয়ে আমি সবুজ শ্যামল বিস্তৃত শহরের দিকে চলে গিয়েছি।
আমি সফরের প্রস্তুতি নিলাম। কামনা করলাম, কেউ যদি আমার সফরের সাথী হতো! আমি সফওয়ান ইবনে উমাইয়ার কাছে গেলাম। বললাম, তুমি দেখছ না? মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো আরব আজমে তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন। আমরা যদি তাঁর কাছে যাই এবং তাঁর আনুগত্য মেনে নিই, তাহলে এটা আমাদের জন্য ভাল হবে। আর মুহাম্মদের মর্যাদা আমাদের মর্যাদা হবে।
কিন্তু সফওয়ান খুব কঠিন জবাব দিল। যদি আমি ছাড়া দুনিয়ার সব মানুষও মুহাম্মদের আনুগত্য করে তারপরও আমি তাঁর অনুগত হব না। তারপর আমি ইকরামা ইবনে আবু জেহেলের কাছে গেলাম। সফওয়ানকে যা বলেছি, ইকরামাকেও তাই বললাম। সেও একই জবাব দিল। আমি ভাবলাম, এদের তো বাপ ভাই বদরে নিহত হয়েছে। তাই তারা রাগান্বিত হয়ে আছে। তারপর আমি উসমান ইবনে তালহার সাথে সাক্ষাত করলাম। তাকেও একই কথা বললাম। যা আমি এ দু'জনকে বলেছি। সে আমার কথা মেনে নিল।
আমরা সফর শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা আলাদা আলাদা রওনা করব এবং ইয়াহাজ নামক স্থানে গিয়ে উভয়ে মিলিত হব। যে আগে পৌঁছেবে সে অন্যের অপেক্ষা করবে। আমরা চললাম। ইয়াহাজ নামক স্থানে আমরা মিলিত হলাম। সেখান থেকে রওনা করে আমরা 'হাদ্দায়' গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর সাথে সাক্ষাত হলো। আমরা একে অপরকে মোবারকবাদ জানালাম। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম- কোথায় চলেছ। সে বলল- ইসলাম গ্রহণ করার জন্য, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করার জন্য। আমরা বললাম, আমরাও তো একই উদ্দেশে বের হয়েছি।
খালিদ ইবনুল ওলীদ (রা.) বলেন- তারা তিনজন মদীনায় প্রবেশ করলাম। 'হাদ্দা' নামক স্থানে আমাদের বাহন রাখলাম। কেউ একজন আমাদের আসার খবর নবীজীর কাছে পৌঁছে দিল। তিনি আমাদের আসার কথা শুনে খুব খুশি হন। আর বলেন, মক্কা তার কলিজার টুকরোগুলোকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।
খালিদ (রা.) বলেন- আমি ভাল কাপড় চোপড় পরে নবীজীর উদ্দেশ্যে চললাম। রাস্তায় আমার ভাই ওলীদের সাথে দেখা হলো। সে বলল- তাড়াতাড়ি চলো, নবীজী তোমাদের আসার খবর শুনেছেন। তিনি তোমাদের অপেক্ষায় আছেন। আমরা খুব তাড়াতাড়ি চললাম এবং নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে দেখে মুচকি হাসেন।
আমি বললাম- আস্সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় আমার সালামের জাবাব দেন। আমি বললাম- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- কাছে আস। তারপর বলেন- সব প্রশংসা ঐ পবিত্র সত্তার যিনি তোমাকে ইসলাম গ্রহণের তৌফিক দিয়েছেন। আমি দেখছিলাম তোমার মাথায় বুদ্ধি আছে। আর আশা ছিল যে, তোমার বুদ্ধি নিশ্চয়ই তোমাকে পথ প্রদর্শন করবে। [সীরাতুল মুস্তফা: ২:৪৫৩]
📄 ফুজারা ইবনে উমায়েরের কথা শুনে নবীজীর হাসি
মক্কা বিজয়ের দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাওয়াফ করছিলেন তখন ফুজালা নবীজীকে শহীদ করার ইচ্ছা করল। (নাউযুবিল্লাহ)
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার কাছে গেলেন তখন জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কি ফুজালা? সে বললো- হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তুমি মনে মনে কী ফন্দি আঁটছিলে? সে বললো, কিছু না। আমি তো আল্লাহর যিকির করছিলাম। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ওঠেন। তাকে বললেন- ক্ষমা প্রার্থনা কর। তারপর আমার বুকে হাত রাখেন। এতে আমার অন্তরটা শান্ত হয়ে গেল।
ফুজালা বলেন- হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও আমার বুক থেকে হাত উঠাননি, এরই ভেতর তিনি দুনিয়ার সব সৃষ্টি থেকে আমার কাছে প্রিয় হয়ে গেলেন। [সীরাতুন্নবী লি ইবনে হিশাম: ৪: ৩৭]
📄 আবুল হায়সামের কথায় নবীজীর হাসি
মদীনার আনসার সাহাবীরা যখন দ্বিতীয় শপথের জন্য আসেন, তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন। কুরআন মজীদ পাঠ করে শোনান। ইসলামের প্রতি আকর্ষিত করেন। তিনি বলেন- তোমরা কি এ ব্যাপারে শপথ করছো যে, তোমরা যেভাবে তোমাদের স্ত্রী-পুত্রের হেফাজত কর ঠিক সেভাবে আমার হেফাজত করবে?
হযরত বারা ইবনে মারুর বলেন- হ্যাঁ, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন। আমরা যেভাবে নিজেদের স্ত্রী-পুত্রের হেফাজত করি ঠিক সেভাবেই আপনার হেফাজত করবো। আমরা আরবের লোক। আমাদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র আছে। এটা আমরা আমাদের পূর্বসুরিদের থেকে পেয়েছি। আবুল হাসসাম ইবনে তাইহান বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! নিঃসন্দেহে আমাদের ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব আছে। তাদের সাথে বন্ধুত্ব আমরা ছিন্ন করে দেব। এটা কি আপনি পছন্দ করেন যে, যদি আমরা তা করি তাহলে আল্লাহ তাআলা আপনাকে বিজয় দান করবেন এবং আপনি আপনার জাতির কাছে আবার ফিরে আসবেন। আমাদেরকে সেখানে ছেড়ে আসবেন? এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসেন। বলেন- আমার ক্ত এটা তোমাদেরই রক্ত। আমার সম্মান এবং মর্যাদা তোমাদেরই সম্মান এবং মর্যাদা। আমি তোমাদের এবং তোমরা আমার। আমি তার সাথে লড়াই করবো, যারা তোমাদের সাথে লড়বে। আমি তাকে নিরাপত্তা দেব, তোমরা যাকে নিরাপত্তা দেবে। [সীরাতুন্নবী লি ইবনে হিশাম: ২: ৫০]