📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত ইকরামার মুসলমানকে শহীদ করা এবং নবীজীর হাসি

📄 হযরত ইকরামার মুসলমানকে শহীদ করা এবং নবীজীর হাসি


এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে মক্কা বিজয়ের দিন একজন মুসলমানকে শহীদ করেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেরে মুচকি হাসি দেন। বলেন, হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জান্নাতী। অর্থাৎ তিনি ইংগিত করলেন যে, শীঘ্রই ইকরামা মুসলমান হয়ে যাবেন। [মাদারিজুন্নাবুওয়ত: ২: ৩৯৩, সীরাতুল মুস্তফা ৩: ৪৫]
হযরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, নীবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেন- আমি স্বপ্নে আবু জেহেলের জন্য জান্নাতে একটা খোসা দেখেছি। যখন ইকরামা (রা.) মুসলমান হন, তখন তিনি উম্মে সালামাকে বলেন- আমার ঐ স্বপ্নের ব্যাখ্যা হলো এই। [আল-ইসাবা, সীরাতুল মুস্তফা: ৩: ৪৫]
হযরত ইকরামা মুসলমান হওয়ার পর যখন কুরআন তিলাওয়াতের জন্য বসতেন তখন কুরআন খুলে কাঁদতেন। এমন কাঁদতেন যে, বেহুশ হওয়ার অবস্থা হতো। আর বার বার বলতেন- هُذَا كَلَامُ رَبِّي هُذَا كَلَامُ رَبِّي এটা আমার প্রতিপালকের বাণী। [সীরাতুল মুস্তফা: ৩: ৪৫]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 কা’ব ইবনে যুবায়েরের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ

📄 কা’ব ইবনে যুবায়েরের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ


কা'ব ইবনে যুবায়ের প্রসিদ্ধ কবি ছিলেন। নবীজীর প্রশংসায় তিনি কবিতা পাঠ করতেন। তিনি ঐ ব্যক্তি, মক্কা বিজয়ের দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যেখানে পাওয়া যাবে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি মক্কা থেকে পলায়ন করেন। পরে মদীনায় গিয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। নবীজীর উদ্দেশ্যে তিনি যে সব কবিতা বলেছেন, তা 'বানাত সুয়াদ' নামে এক গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে। এটা বিশ্বখ্যাত প্রসিদ্ধ একটি সাহিত্য। তার ইসলাম গ্রহণে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব খুশি হন। তাঁকে তিনি একটি চাদর উপহার দেন। [সীরাতুল মুস্তফা: ৩: ৪৭]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 উতবা এবং মা’তাবের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ

📄 উতবা এবং মা’তাবের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ


হযরত আব্বাস (রা.) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন- তোমার দুই ভাতিজা এবং আবু লাহাবের সন্তান উতবা ও মা'তাব কোথায়? আমি বললাম, তারা লুকিয়ে আছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তাদেরকে আমার কাছে নিয়ে আস।
আমি বাহনে চড়ে আরাফায় গেলাম। সেখান থেকে উভয়কে নিয়ে এসে নবীজীর সামনে পেশ করলাম। তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করে নিল। নবীজীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করল।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। উভয়ের হাত ধরলেন। কা'বার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ দুআ করলেন। তারপর যখন ফিরে আসেন তখন নবীজীর চেহারায় আনন্দের আলামত দেখা যাচ্ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাআলা আপনাকে সব সময় আনন্দিত রাখুন। কী ব্যাপার? আপনি হাসলেন কেন?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আমার দুই চাচাত ভাইকে চেয়েছিলাম, আল্লাহ তাআলা আমাকে দান করেছেন। [খাসাইসুল কুবরা ১: ২৬৪]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত উমায়ের ইবনে আদী এক ইহুদী মহিলাকে হত্যা করায় নবীজীর আনন্দ

📄 হযরত উমায়ের ইবনে আদী এক ইহুদী মহিলাকে হত্যা করায় নবীজীর আনন্দ


আসমা নামে এক ইহুদী মহিলা ছিল। সে নবীজীর কুৎসা সম্বলিত কবিতা পাঠ করে শোনাতো। বিভিন্নভাবে নবীজীকে কষ্ট দিত। লোকদের কাছে ইসলাম সম্পর্কে ঘৃণা ছড়াত। স্রাবের রক্তে রঞ্জিত কাপড় এনে মসজিদে ফেলে রাখত। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর ময়দানে ছিলেন। তখন সে নবীজীর উদ্দেশে অপমানজনক কবিতা আবৃতি করে শোনায়। হযরত উমায়ের ইবনে আদী (রা.) এসব শুনে ভীষণ রেগে যান। উন্মত্ত হয়ে মানত করেন, আল্লাহর ফযলে নবীজী মদীনায় ফিরে আসার পর আমি তাকে অবশ্যই হত্যা করব।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বদর ময়দান থেকে নিরাপদে বিজয়ের ঝাণ্ডা উড়িয়ে ফিরে আসেন তখন উমায়ের রাতে তলোয়ার নিয়ে রওনা করেন। তার ঘরে প্রবেশ করেন। সে অন্ধ ছিল, তাই আসমাকে হাত দিয়ে ধরে তার থেকে তার সন্তান আলাদা করে তার বুকের উপর তলোয়ার চেপে ধরেন। এত জোরে চাপ দেন যে, তা পিঠ পর্যন্ত কেটে দু'টুকরো হয়ে যায়। মানত পুরো করে ফিরে আসেন। ফজরের নামাযের পর নবীজীকে খবর দিলেন। আর বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যাপারে আমার কোন শাস্তি হবে না তো? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, না। বরং নবীজী উমায়ের ইবনে আদী (রা.)-এর এ কাজে অত্যন্ত খুশি হন। সাহাবায়ে কিরামকে বলেন- তোমরা যদি এমন ব্যক্তি দেখতে চাও যে আমার অজান্তে আমার সাহায্য করেছে, তাহলে উমায়ের ইবনে আদীকে দেখে নাও। [সীরতুল মুস্তফা লিল কান্দালবী : ২: ১৬৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00