📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 আনসার সাহাবীগণের আত্মোৎসর্গের ব্যাপারে নবীজীর আনন্দ

📄 আনসার সাহাবীগণের আত্মোৎসর্গের ব্যাপারে নবীজীর আনন্দ


হযরত মূসা (আ.) যখন তার জাতিকে বললেন, চলো, লড়াই করতে যাব। তারা বললো, আমরা এখানে আছি, তুমি আর তোমার আল্লাহ গিয়ে লড়াই কর। যখন দেশ জয় করবে তখন আমরা গিয়ে সেখানে প্রবেশ করবো। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধের জন্য পরামর্শে বসলেন। আবু বকর (রা.) সুন্দর পরামর্শ দেন এবং অন্যান্য সাহাবাও পরামর্শ দেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার বলছিলেন- হে মুসলমানেরা! তোমরা পরামর্শ দাও। উদ্দেশ্য ছিল, এখানে যেহেতু আনসারদের সংখ্যা বেশি, তাই তারা কথা বলুক। তখন সা'দ ইবনে মুয়াজ (রা.) বলেন, আপনি আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছেন? ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্যসহকারে প্রেরণ করেছেন। আপনি যদি সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বলেন, আমরা নির্দ্বিধায় সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়বো। যদি আপনি পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে পড়তে নির্দেশ দেন তাহলে আমরা তাই করবো। আমরা মূসা (আ.)-এর জাতির মতো বলবো না যে, আমরা এখানে বসে আছি আর আপনি এবং আপনার আল্লাহ গিয়ে তাদের সাথে লড়াই করুন। বরং আমরা তো আপনার ডানে লড়াই করবো, বামে লড়াই করবো, আগে লড়াই চালাবো এবং পেছনেও লড়াই চালাবো। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে গেলেন। তাঁর পবিত্র চেহারা আনন্দে চমকাতে থাকে। [তাফসীরে ইবনে কাসীর : ২: ৫০]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফল (রা.)-এর কথা শুনে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফল (রা.)-এর কথা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফল (রা.) বলেন, খায়বার যুদ্ধে আমি একটি চর্বিভর্তি থলে পাই। আমি সেটা বগলে নিয়ে বললাম, আজকে এর মত কোন জিনিস আমি ছাড়া আর কেউ পায়নি। আমার এ কথা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনেছিলেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি। আমি যখন তাঁর দিকে তাকালাম তখন তিনি মুচকি হাসলেন। [তাফসীরে ইবনে কাসীর : ২: ২৬]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হামদান গোত্রের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ

📄 হামদান গোত্রের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ


ইয়ামনের এক বড় গোত্রের নাম হামদান। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে খালিদ ইবনুল ওলীদ (রা.) কে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য পাঠান। তিনি সেখানে ছয়মাস অবস্থান করেন। কিন্তু কেউ ইসলাম গ্রহণ করল না। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (রা.)কে চিঠি দিয়ে পাঠান এবং বলেন, খালিদকে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। হযরত আলী (রা.) গিয়ে সবাইকে একত্রিত করেন এবং নবীজীর চিঠি পড়ে শোনান। ইসলামের দাওয়াত দেন। পুরো গোত্র একদিন মুসলমান হয়ে গেল। হযরত আলী (রা.) চিঠি পাঠিয়ে নবীজীকে খবর দেন। খবর শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকরিয়ার সিজদা আদায় করেন। আর আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে কয়েকবার এ বাক্যটি বলেন-
السَّلَامُ عَلَى حَمْدَانَ হামদান গোত্রের প্রতি শান্তি ও নিরাপত্তা হোক। [বাইহাকী, সীরাতুল মুস্তফা : ৩ ১১৩]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত ইকরামার মুসলমানকে শহীদ করা এবং নবীজীর হাসি

📄 হযরত ইকরামার মুসলমানকে শহীদ করা এবং নবীজীর হাসি


এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে মক্কা বিজয়ের দিন একজন মুসলমানকে শহীদ করেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেরে মুচকি হাসি দেন। বলেন, হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জান্নাতী। অর্থাৎ তিনি ইংগিত করলেন যে, শীঘ্রই ইকরামা মুসলমান হয়ে যাবেন। [মাদারিজুন্নাবুওয়ত: ২: ৩৯৩, সীরাতুল মুস্তফা ৩: ৪৫]
হযরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, নীবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেন- আমি স্বপ্নে আবু জেহেলের জন্য জান্নাতে একটা খোসা দেখেছি। যখন ইকরামা (রা.) মুসলমান হন, তখন তিনি উম্মে সালামাকে বলেন- আমার ঐ স্বপ্নের ব্যাখ্যা হলো এই। [আল-ইসাবা, সীরাতুল মুস্তফা: ৩: ৪৫]
হযরত ইকরামা মুসলমান হওয়ার পর যখন কুরআন তিলাওয়াতের জন্য বসতেন তখন কুরআন খুলে কাঁদতেন। এমন কাঁদতেন যে, বেহুশ হওয়ার অবস্থা হতো। আর বার বার বলতেন- هُذَا كَلَامُ رَبِّي هُذَا كَلَامُ رَبِّي এটা আমার প্রতিপালকের বাণী। [সীরাতুল মুস্তফা: ৩: ৪৫]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00