📄 উপহার পেয়ে নবীজীর হাসি
হযরত তামীমে দারী (রা.) সব সময় নবীজীর জন্য এক পাত্র ভর্তি করে মদ নিয়ে এসে হাদিয়া পেশ করতেন। (যদিও নবীজী কোন দিন মদ পান করেননি। এবং তখনও মদের অবৈধতা নাযিল হয়নি; তাই তিনি তা গ্রহণ করতেন এবং পরে অন্য কাউকে দিয়ে দিতেন) যখন মদের অবৈধতা নাযিল হলো, তখনও তিনি হয়তো না জেনে মদের হাদিয়া পেশ করেন। নবীজী তাকে দেখে হাসতে থাকেন এবং বলেন- এ মদ তো হারাম হয়ে গিয়েছে। হযরত তামীমে দারী (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! এটা বিক্রি করে তার মূল্য নিয়ে নিন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আল্লাহ তাআলা ইহুদীদের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন। যখন তাদের জন্য গরু এবং ছাগলের চর্বি হারাম করে দেয়া হলো তখন তারা এটাকে গলিয়ে বিক্রি করলো। আল্লাহর কসম! মদ যেমন হারাম তেমনি তা বিক্রি করে তার মূল্য থেকে উপকৃত হওয়াও হারাম। [আহমদ, আবু ইয়ায়লা, তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২: ১১৬]
📄 আনসার সাহাবীগণের আত্মোৎসর্গের ব্যাপারে নবীজীর আনন্দ
হযরত মূসা (আ.) যখন তার জাতিকে বললেন, চলো, লড়াই করতে যাব। তারা বললো, আমরা এখানে আছি, তুমি আর তোমার আল্লাহ গিয়ে লড়াই কর। যখন দেশ জয় করবে তখন আমরা গিয়ে সেখানে প্রবেশ করবো। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধের জন্য পরামর্শে বসলেন। আবু বকর (রা.) সুন্দর পরামর্শ দেন এবং অন্যান্য সাহাবাও পরামর্শ দেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার বলছিলেন- হে মুসলমানেরা! তোমরা পরামর্শ দাও। উদ্দেশ্য ছিল, এখানে যেহেতু আনসারদের সংখ্যা বেশি, তাই তারা কথা বলুক। তখন সা'দ ইবনে মুয়াজ (রা.) বলেন, আপনি আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছেন? ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্যসহকারে প্রেরণ করেছেন। আপনি যদি সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বলেন, আমরা নির্দ্বিধায় সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়বো। যদি আপনি পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে পড়তে নির্দেশ দেন তাহলে আমরা তাই করবো। আমরা মূসা (আ.)-এর জাতির মতো বলবো না যে, আমরা এখানে বসে আছি আর আপনি এবং আপনার আল্লাহ গিয়ে তাদের সাথে লড়াই করুন। বরং আমরা তো আপনার ডানে লড়াই করবো, বামে লড়াই করবো, আগে লড়াই চালাবো এবং পেছনেও লড়াই চালাবো। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে গেলেন। তাঁর পবিত্র চেহারা আনন্দে চমকাতে থাকে। [তাফসীরে ইবনে কাসীর : ২: ৫০]
📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফল (রা.)-এর কথা শুনে নবীজীর হাসি
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফল (রা.) বলেন, খায়বার যুদ্ধে আমি একটি চর্বিভর্তি থলে পাই। আমি সেটা বগলে নিয়ে বললাম, আজকে এর মত কোন জিনিস আমি ছাড়া আর কেউ পায়নি। আমার এ কথা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনেছিলেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি। আমি যখন তাঁর দিকে তাকালাম তখন তিনি মুচকি হাসলেন। [তাফসীরে ইবনে কাসীর : ২: ২৬]
📄 হামদান গোত্রের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ
ইয়ামনের এক বড় গোত্রের নাম হামদান। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে খালিদ ইবনুল ওলীদ (রা.) কে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য পাঠান। তিনি সেখানে ছয়মাস অবস্থান করেন। কিন্তু কেউ ইসলাম গ্রহণ করল না। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (রা.)কে চিঠি দিয়ে পাঠান এবং বলেন, খালিদকে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। হযরত আলী (রা.) গিয়ে সবাইকে একত্রিত করেন এবং নবীজীর চিঠি পড়ে শোনান। ইসলামের দাওয়াত দেন। পুরো গোত্র একদিন মুসলমান হয়ে গেল। হযরত আলী (রা.) চিঠি পাঠিয়ে নবীজীকে খবর দেন। খবর শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকরিয়ার সিজদা আদায় করেন। আর আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে কয়েকবার এ বাক্যটি বলেন-
السَّلَامُ عَلَى حَمْدَانَ হামদান গোত্রের প্রতি শান্তি ও নিরাপত্তা হোক। [বাইহাকী, সীরাতুল মুস্তফা : ৩ ১১৩]