📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত উমর (রা.)-এর কথা শুনে নবীজীর আনন্দ

📄 হযরত উমর (রা.)-এর কথা শুনে নবীজীর আনন্দ


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, একদিন উমর (রা.) নবীজীর দরবারে হাজির হন। এসে বলেন, আমি বনু কুরায়যার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। তাদের মাঝে আমার দোস্ত আছে। সে আমাকে তাওরাতের একটি সংস্করণ দিয়েছে। সেটা কি আপনার কাছে পেশ করবো? (অর্থাৎ পড়ে শোনাব)।
এ কথা শোনে নবীজীর চেহারা রাগে লাল হয়ে গেল। এটা দেখে আবদুল্লাহ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, হে উমর! আপনি কি নবীজীর চেহারা দেখছেন না? (উমর রা. যখন নবীজীর চেহারা পরিবর্তিত দেখতে পেলেন) সাথে সাথে বললেন- আমরা আল্লাহর প্রতি রব হিসেবে সন্তুষ্ট। ইসলামকে ধর্ম হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
এটা শুনে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে গেলেন। তাঁর রাগ দূর হয়ে গেল। তারপর নবীজী বলেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর কজায় আমার জীবন! যদি তোমাদের মাঝে মূসা (আ.) জীবিত থাকতেন এবং তোমরা তাঁর অনুসরণ করতে, তবুও তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে।
এক বর্ণনায় এসেছে, যদি মূসা (আ.) জীবিত থাকতেন তাহলে তিনিও আমার অনুসরণ করা ছাড়া মুক্তি পেতেন না। [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২: ৫৬৯]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আব্বাস (রা.)-এর লোভ দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আব্বাস (রা.)-এর লোভ দেখে নবীজীর হাসি


হযরত হুমাইদ ইবনে হিলাল (রা.) বলেন, আলা ইবনে হাদরামী (রা.) বাহরাইনবাসীর জিযিয়া উসুল করে নবীজীর দরবারে পাঠিয়ে দেন। এত বেশি পরিমাণে সম্পদ না এর আগে এসেছে, না নবীজীর ইন্তেকাল পর্যন্ত সময়ে এসেছে। তা আশি হাজার ছিল। সব লাইন ধরে রাখা হলো। ঘোষণা করা হলো, যার সম্পদ দরকার নিয়ে যাও। গোনে গোনে দেয়ার প্রচলন ছিল না। হযরত আব্বাস (রা.) আসলেন। নিজের চাদর বিছিয়ে অনেক মালপত্র জমা করলেন। যখন ওঠাতে গেলেন তখন ওঠাতে পারছিলেন না। নবীজী কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। নবীজীর দিকে তাকিয়ে বললেন, এটা আমার মাথায় উঠিয়ে দিন।
এটা দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। এখান থেকে কমাও। যা একা নিতে পার ততটুকু নাও। [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২: ৩৯৯]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 বদরের ময়দানে জিরবাঈলের অবতরণে নবীজীর হাসি

📄 বদরের ময়দানে জিরবাঈলের অবতরণে নবীজীর হাসি


সহীহ হাদীসে এসেছে, বদর যুদ্ধের দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বেলকনির মত একটা কক্ষ তৈরি করা হলো। নবীজী এবং হযরত আবু বকর (রা.) উভয়ে সেখানে দুআ করছিলেন। হযরত আবু বকর বলেন- নবীজীর তন্দ্রা চলে আসলো। তিনি হাসতে হাসতে উঠলেন। তারপর এ আয়াত পড়তে পড়তে কক্ষ থেকে বের হন।
سَيَهْدَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُونَ الدُّبُرَ -
তোমাদের বাহিনী পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে ভাগবে। [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২: ৩৫৬]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 উপহার পেয়ে নবীজীর হাসি

📄 উপহার পেয়ে নবীজীর হাসি


হযরত তামীমে দারী (রা.) সব সময় নবীজীর জন্য এক পাত্র ভর্তি করে মদ নিয়ে এসে হাদিয়া পেশ করতেন। (যদিও নবীজী কোন দিন মদ পান করেননি। এবং তখনও মদের অবৈধতা নাযিল হয়নি; তাই তিনি তা গ্রহণ করতেন এবং পরে অন্য কাউকে দিয়ে দিতেন) যখন মদের অবৈধতা নাযিল হলো, তখনও তিনি হয়তো না জেনে মদের হাদিয়া পেশ করেন। নবীজী তাকে দেখে হাসতে থাকেন এবং বলেন- এ মদ তো হারাম হয়ে গিয়েছে। হযরত তামীমে দারী (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! এটা বিক্রি করে তার মূল্য নিয়ে নিন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আল্লাহ তাআলা ইহুদীদের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন। যখন তাদের জন্য গরু এবং ছাগলের চর্বি হারাম করে দেয়া হলো তখন তারা এটাকে গলিয়ে বিক্রি করলো। আল্লাহর কসম! মদ যেমন হারাম তেমনি তা বিক্রি করে তার মূল্য থেকে উপকৃত হওয়াও হারাম। [আহমদ, আবু ইয়ায়লা, তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২: ১১৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00