📄 হযরত আয়েশা (রা.)-এর পছন্দ দেখে নবীজীর হাসি
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন নবীজীকে তাঁর স্ত্রীদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন যে, তাদেরকে বলো, যারা পার্থিব আসবাবপত্র চাচ্ছে তারা আপনার থেকে আলাদা হয়ে যাক। অর্থাৎ তাদেরকে তালাক দিয়ে দাও। আর যে অল্পতুষ্টি নিয়ে থাকতে চাইবে তারা থাকবে। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আগমন করেন। আমাকে বললেন যে, এক ব্যাপারে তোমাকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তুমি এর সিদ্ধান্ত নিতে তাড়াহুড়ো করো না। আগে তোমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ কর। আমি বললাম, তা কী? তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পড়ে শোনান-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لَّا زُوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ يُرِدْ نَ الْحَيواةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَاسْتَدٍ حُكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًاه وَإِنْ كُنْتُنَّ يُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْأَخِيرَةَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنِينَ مِنْكُنَّ أَحْبِرًا عَظِيمًا
আমি সাথে সাথে বললাম- আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে পছন্দ করি। এ ব্যাপারে আবু বকর ও উম্মে রুমানের সাথে পরামর্শ করার প্রয়োজন কী? এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন এবং আমাকে তাঁর কোলে নিয়ে নিলেন। [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৩: ৫৮১]
📄 এক লোকের সাথে নবীজীর কৌতুক
হযরত আনাস (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলো। বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাহনের প্রয়োজন। আমাকে উটে চড়িয়ে দিন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কৌতুকচ্ছলে) বললেন- তোমাকে উটের বাচ্চার উপর চড়িয়ে দেব। লোকটি অসহায়চিত্তে বললো, হে আল্লাহর নবী! আমি উটের বাচ্চা দিয়ে কী করবো? নবীজী বলেন- বড় যত উট আছে সবই তো উটনির বাচ্চা। [শামায়েলে তিরমিযী: ১৭]
📄 এক মহিলার সাথে নবীজীর কৌতুক
হযরত হাসান (রা.) বলেন, নবীজীর দরবারে এক বৃদ্ধা মহিলা আসলেন। যাঁর নাম হযরত সফিয়্যা বিনতে আবদুল মুত্তালিব (রা.)। তিনি সম্পর্কে নবীজীর ফুফু। তিনি বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন আল্লাহ তাআলা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- হে অমুকের মা! কোন বুড়ো মানুষ জান্নাতে যাবে না।
এটা শুনে তিনি কাঁদতে কাঁদতে চলে যান। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে বলেন- যাও, তাকে বলো, তুমি বৃদ্ধা অবস্থায় জান্নাতে যাবে না; (বরং আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদেরকে জোয়ান অবস্থায় জান্নাতে নিয়ে যাবেন।) কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন- আমরা তাদেরকে নবযৌবনা বানিয়েছি। [শামায়েলে তিরমিযী: ১৭]
📄 হযরত উমর (রা.)-এর কথা শুনে নবীজীর আনন্দ
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, একদিন উমর (রা.) নবীজীর দরবারে হাজির হন। এসে বলেন, আমি বনু কুরায়যার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। তাদের মাঝে আমার দোস্ত আছে। সে আমাকে তাওরাতের একটি সংস্করণ দিয়েছে। সেটা কি আপনার কাছে পেশ করবো? (অর্থাৎ পড়ে শোনাব)।
এ কথা শোনে নবীজীর চেহারা রাগে লাল হয়ে গেল। এটা দেখে আবদুল্লাহ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, হে উমর! আপনি কি নবীজীর চেহারা দেখছেন না? (উমর রা. যখন নবীজীর চেহারা পরিবর্তিত দেখতে পেলেন) সাথে সাথে বললেন- আমরা আল্লাহর প্রতি রব হিসেবে সন্তুষ্ট। ইসলামকে ধর্ম হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
এটা শুনে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে গেলেন। তাঁর রাগ দূর হয়ে গেল। তারপর নবীজী বলেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর কজায় আমার জীবন! যদি তোমাদের মাঝে মূসা (আ.) জীবিত থাকতেন এবং তোমরা তাঁর অনুসরণ করতে, তবুও তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে।
এক বর্ণনায় এসেছে, যদি মূসা (আ.) জীবিত থাকতেন তাহলে তিনিও আমার অনুসরণ করা ছাড়া মুক্তি পেতেন না। [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২: ৫৬৯]