📄 এক লোক আল্লাহর কাছে সাক্ষী তলব করায় নবীজীর হাসি
হযরত আনাস (রা.) বলেন, আমরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাসছিলাম এবং তিনি নিজেও হাসছিলেন। নবীজী জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি জান, আমি কেন হাসছি? সাহাবায়ে কেরাম জবাব দিলেন- আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। নবীজী বলেন- এক বান্দা আল্লাহর সামনে হাজির হতে পেরে বললো, হে আমার রব! তুমি কি আমাকে জুলুম করার ক্ষমতা দাওনি? আল্লাহ তাআলা বলবেন- নিশ্চয়ই দিয়েছি। সে তখন বলবে- তাহলে আমি আমার বিরুদ্ধে আমি ছাড়া আর কারও সাক্ষ্য গ্রহণ করবো না। আল্লাহ তাআলা বলবেন- আজ তো তুমি নিজেই নিজের হিসাব করার জন্য যথেষ্ট। আর 'কিরমান কাতিবীন' তোমার সাক্ষী। তারপর তার মুখ বন্ধ করে দেয়া হবে। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বলা হবে যে, বলো। তখন তারা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। [মুসলিম, আত্তাযকিরাহ: ৩২৭]
📄 সূরা কাউসার নাযিল হওয়ায় নবীজীর হাসি
হযরত আনাস (রা.) বলেন, একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে বসা ছিলেন। হঠাৎ নবীজী তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। তারপর তিনি হাসতে হাসতে মাথা ওঠালেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন হাসলেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- এখনই আমার প্রতি সূরা কাওসার নাযিল হয়েছে। তারপর তিনি সূরাটি তিলাওয়াত করেন-
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَه فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرُه إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُه
তারপর বলেন- তোমরা কি জান কাওসার কী? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। নবীজী বলেন- এটা একটা ঝরনা, যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আমার সাথে ওয়াদা করেছেন। এটা হাউজের মতো। কিয়ামতের দিন আমার উম্মত এর কাছে আসবে। এ থেকে পান করার পানি পাত্র তারকারাজির সংখ্যার সমপরিমাণ হবে। [মুসলিম, আত্-তাযকিরাহ লিল কুরতুবী: ৩৪৯]
📄 সুসংবাদ শুনে নবীজীর আনন্দ
হযরত আবু তালহা আনসারী (রা.) বলেন- একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন। তখন তাঁকে আনন্দিত মনে হচ্ছিল। আনন্দের আলামত তাঁর চেহারায় পরিস্ফুট ছিল। আমি বললাম, হযরত! আজ তো আপনাকে খুব আনন্দিত মনে হচ্ছে। তিনি বলেন- আমার রবের পক্ষ থেকে এখনই ওহী এসেছে, যে ব্যক্তি তোমার উম্মতের মাঝে তোমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার আমলনামায় দশটি নেকী লিখে দেবেন। দশটি গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। মর্যাদার দশটি ধাপ উন্নীত করবেন। [আহমদ, তাবারানী, তাফসীর ইবনে কাসীর ৩ : ৬১৬]
📄 হযরত আয়েশা (রা.)-এর পছন্দ দেখে নবীজীর হাসি
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন নবীজীকে তাঁর স্ত্রীদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন যে, তাদেরকে বলো, যারা পার্থিব আসবাবপত্র চাচ্ছে তারা আপনার থেকে আলাদা হয়ে যাক। অর্থাৎ তাদেরকে তালাক দিয়ে দাও। আর যে অল্পতুষ্টি নিয়ে থাকতে চাইবে তারা থাকবে। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আগমন করেন। আমাকে বললেন যে, এক ব্যাপারে তোমাকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তুমি এর সিদ্ধান্ত নিতে তাড়াহুড়ো করো না। আগে তোমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ কর। আমি বললাম, তা কী? তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পড়ে শোনান-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لَّا زُوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ يُرِدْ نَ الْحَيواةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَاسْتَدٍ حُكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًاه وَإِنْ كُنْتُنَّ يُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْأَخِيرَةَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنِينَ مِنْكُنَّ أَحْبِرًا عَظِيمًا
আমি সাথে সাথে বললাম- আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে পছন্দ করি। এ ব্যাপারে আবু বকর ও উম্মে রুমানের সাথে পরামর্শ করার প্রয়োজন কী? এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন এবং আমাকে তাঁর কোলে নিয়ে নিলেন। [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৩: ৫৮১]