📄 যাকাতের মাল আসাতে নবীজীর হাসি
ইকরাশ ইবনে যুরাইত (রা.) বলেন, আমার গোত্র বনী মুররা আমাকে যাকাতের সম্পদ দিয়ে নবীজীর দরবারে পাঠাল। আমি মদীনায় হাজির হলাম। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার ও মুহাজির সাহাবাদের সাথে বসে আছেন। আমি উট নিয়ে হাজির হলাম। নবীজী বলেন, কে নিয়ে আসলো?
আমি বললাম, ইকরাশ ইবনে যুরাইত।
নবীজী বললেন, তোমার বংশ পরিচিতি বল।
আমি মুররা ইবনে উবাইদ পর্যন্ত বংশধারা বললাম।
এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। বললেন, এটা আমার গোত্রের উট। এটা আমার জাতির যাকাত। তারপর বলেন, এগুলোতে বাইতুল মালের সিল মেরে বাইতুল মালে রেখে দাও। তারপর আমার হাত ধরে উম্মে সালামা (রা.)-এর ঘরে গমন করেন। জিজ্ঞেস করেন- কী খাবে বল? তখন একটি পাত্র আনা হলো। তাতে 'সরীদ' ছিল। গোশতের টুকরো তাতে ছিল। আমি খাওয়া শুরু করলাম। পাত্রে বিভিন্ন দিক থেকে খাচ্ছিলাম। নবীজী আমার হাত ধরে বলেন, হে ইকরাশ! এক জায়গা থেকে খাও। কেননা, সব খাবারই এক ধরনের। তারপর এক পাত্রে কাচা-পাকা খেজুর, শুকনো এবং রসালো খেজুর আনা হলো। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের বিভিন্ন দিক থেকে খেতে থাকেন। নবীজী বলেন- হে ইকরাশ! যেখান থেকে খুশি খাও। কেননা খাবার বিভিন্ন রকমের। [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৪: ৩৪৬]
📄 সূরা ‘আলাম নাশরাহ’ নাযিল হওয়ায় নবীজীর খুশি
হযরত হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব আনন্দিচিত্তে বের হলেন। তখন তিনি হাসছিলেন। বলেন- কখনও একটি দুঃখ-কষ্ট দুটো সুখকে ভুলিয়ে দিতে পারবে না। কেননা কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا - إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
[তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৪: ৬৪২]
📄 এক লোক আল্লাহর কাছে সাক্ষী তলব করায় নবীজীর হাসি
হযরত আনাস (রা.) বলেন, আমরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাসছিলাম এবং তিনি নিজেও হাসছিলেন। নবীজী জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি জান, আমি কেন হাসছি? সাহাবায়ে কেরাম জবাব দিলেন- আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। নবীজী বলেন- এক বান্দা আল্লাহর সামনে হাজির হতে পেরে বললো, হে আমার রব! তুমি কি আমাকে জুলুম করার ক্ষমতা দাওনি? আল্লাহ তাআলা বলবেন- নিশ্চয়ই দিয়েছি। সে তখন বলবে- তাহলে আমি আমার বিরুদ্ধে আমি ছাড়া আর কারও সাক্ষ্য গ্রহণ করবো না। আল্লাহ তাআলা বলবেন- আজ তো তুমি নিজেই নিজের হিসাব করার জন্য যথেষ্ট। আর 'কিরমান কাতিবীন' তোমার সাক্ষী। তারপর তার মুখ বন্ধ করে দেয়া হবে। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বলা হবে যে, বলো। তখন তারা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। [মুসলিম, আত্তাযকিরাহ: ৩২৭]
📄 সূরা কাউসার নাযিল হওয়ায় নবীজীর হাসি
হযরত আনাস (রা.) বলেন, একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে বসা ছিলেন। হঠাৎ নবীজী তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। তারপর তিনি হাসতে হাসতে মাথা ওঠালেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন হাসলেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- এখনই আমার প্রতি সূরা কাওসার নাযিল হয়েছে। তারপর তিনি সূরাটি তিলাওয়াত করেন-
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَه فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرُه إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُه
তারপর বলেন- তোমরা কি জান কাওসার কী? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। নবীজী বলেন- এটা একটা ঝরনা, যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আমার সাথে ওয়াদা করেছেন। এটা হাউজের মতো। কিয়ামতের দিন আমার উম্মত এর কাছে আসবে। এ থেকে পান করার পানি পাত্র তারকারাজির সংখ্যার সমপরিমাণ হবে। [মুসলিম, আত্-তাযকিরাহ লিল কুরতুবী: ৩৪৯]