📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 কিয়ামতের দিন দু’ব্যক্তির কথোপকথনে নবীজীর হাসি

📄 কিয়ামতের দিন দু’ব্যক্তির কথোপকথনে নবীজীর হাসি


হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আমরা নবীজীর সাথে একদিন বসা ছিলাম। দেখলাম, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছেন। কেউ বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসছেন কেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের দু'ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সামনে হিসাব-নিকাশের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে। একজন বলবে, হে আল্লাহ! সে আমার উপর জুলুম করেছে। আপনি তার থেকে বদলা নিয়ে দিন। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি তোমার ভাইয়ের অধিকার ফিরিয়ে দাও। সে বলবে, আমার সওয়াব তো শেষ হয়ে গিয়েছে। মজলুম বলবে, হে আমার রব! আমার গুনাহসমূহের বোঝা তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিন। এটা বলতে গিয়ে নবীজীর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে। তারপর বলেন- এটা অসহায়ত্বের দিন হবে। আল্লাহ তাআলা মজলুমকে বলবেন, উপরে তাকাও। জান্নাত দেখ। সে উপরে আশ্চর্যজনক নেয়ামতসমূহ দেখতে পাবে। জিজ্ঞাসা করবে, এসব কার জন্য?
আল্লাহ তাআলা বলবেন- যে এর মূল্য শোধ করবে তার জন্য। সে বলবে, এর মূল্য কার শোধ করার সাধ্য আছে! আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমিও শোধ করতে পারবে। সে বলবে, কী দিয়ে তা শোধ করা যাবে? আল্লাহ তাআলা বলবেন, নিজের ভাইকে ক্ষমা করে দিয়ে। তখন সে বলবে, হে আল্লাহ! আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহ তাআলা বলবেন- তোমার ভাইয়ের হাত ধর এবং তাকে জান্নাতে পৌঁছে দাও।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহকে ভয় কর। পরস্পর পরস্পরের কল্যাণ কামনা কর। অর্থাৎ সহানুভূতিশীল চিত্তে বসবাস কর। কেননা আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন مسلمانوں মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন। [আত্ তাযকিরাহ লিল কুরতুবী: ৩১৯]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 যাকাতের মাল আসাতে নবীজীর হাসি

📄 যাকাতের মাল আসাতে নবীজীর হাসি


ইকরাশ ইবনে যুরাইত (রা.) বলেন, আমার গোত্র বনী মুররা আমাকে যাকাতের সম্পদ দিয়ে নবীজীর দরবারে পাঠাল। আমি মদীনায় হাজির হলাম। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার ও মুহাজির সাহাবাদের সাথে বসে আছেন। আমি উট নিয়ে হাজির হলাম। নবীজী বলেন, কে নিয়ে আসলো?
আমি বললাম, ইকরাশ ইবনে যুরাইত।
নবীজী বললেন, তোমার বংশ পরিচিতি বল।
আমি মুররা ইবনে উবাইদ পর্যন্ত বংশধারা বললাম।
এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। বললেন, এটা আমার গোত্রের উট। এটা আমার জাতির যাকাত। তারপর বলেন, এগুলোতে বাইতুল মালের সিল মেরে বাইতুল মালে রেখে দাও। তারপর আমার হাত ধরে উম্মে সালামা (রা.)-এর ঘরে গমন করেন। জিজ্ঞেস করেন- কী খাবে বল? তখন একটি পাত্র আনা হলো। তাতে 'সরীদ' ছিল। গোশতের টুকরো তাতে ছিল। আমি খাওয়া শুরু করলাম। পাত্রে বিভিন্ন দিক থেকে খাচ্ছিলাম। নবীজী আমার হাত ধরে বলেন, হে ইকরাশ! এক জায়গা থেকে খাও। কেননা, সব খাবারই এক ধরনের। তারপর এক পাত্রে কাচা-পাকা খেজুর, শুকনো এবং রসালো খেজুর আনা হলো। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের বিভিন্ন দিক থেকে খেতে থাকেন। নবীজী বলেন- হে ইকরাশ! যেখান থেকে খুশি খাও। কেননা খাবার বিভিন্ন রকমের। [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৪: ৩৪৬]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 সূরা ‘আলাম নাশরাহ’ নাযিল হওয়ায় নবীজীর খুশি

📄 সূরা ‘আলাম নাশরাহ’ নাযিল হওয়ায় নবীজীর খুশি


হযরত হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব আনন্দিচিত্তে বের হলেন। তখন তিনি হাসছিলেন। বলেন- কখনও একটি দুঃখ-কষ্ট দুটো সুখকে ভুলিয়ে দিতে পারবে না। কেননা কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا - إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
[তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৪: ৬৪২]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক লোক আল্লাহর কাছে সাক্ষী তলব করায় নবীজীর হাসি

📄 এক লোক আল্লাহর কাছে সাক্ষী তলব করায় নবীজীর হাসি


হযরত আনাস (রা.) বলেন, আমরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাসছিলাম এবং তিনি নিজেও হাসছিলেন। নবীজী জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি জান, আমি কেন হাসছি? সাহাবায়ে কেরাম জবাব দিলেন- আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। নবীজী বলেন- এক বান্দা আল্লাহর সামনে হাজির হতে পেরে বললো, হে আমার রব! তুমি কি আমাকে জুলুম করার ক্ষমতা দাওনি? আল্লাহ তাআলা বলবেন- নিশ্চয়ই দিয়েছি। সে তখন বলবে- তাহলে আমি আমার বিরুদ্ধে আমি ছাড়া আর কারও সাক্ষ্য গ্রহণ করবো না। আল্লাহ তাআলা বলবেন- আজ তো তুমি নিজেই নিজের হিসাব করার জন্য যথেষ্ট। আর 'কিরমান কাতিবীন' তোমার সাক্ষী। তারপর তার মুখ বন্ধ করে দেয়া হবে। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বলা হবে যে, বলো। তখন তারা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। [মুসলিম, আত্তাযকিরাহ: ৩২৭]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00