📄 খাবারে বরকত দেখে নবীজীর হাসি
হযরত আবদুর রহমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, এক যুদ্ধে আমরা নবীজীর কাছে উট জবাই করার অনুমতি প্রার্থনা করি। তিনি অনুমতি দেয়ার ইচ্ছা করলেন। হযরত উমর আসলেন এবং বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! এমন করবেন না। না হলে বাহনের সংখ্যা কমে যাবে এবং ফিরে যাওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তাহলে কী করতে হবে?
হযরত উমর (রা.) বলেন, আপনি সবার খাবার একত্রে করে বরকতের দুআ করুন। আল্লাহ তাআলা আপনার বরকতে আমাদেরকে খাওয়াবেন। সে অনুযায়ী নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর বিছিয়ে দিলেন। ঘোষণা করতে বললেন। সবাই যার যার খাবারের আসবাব এনে একত্রিত করলেন। নবীজী দুআ করেন। তারপর সবাইকে বলেন, খাও এবং পাত্র ভরে নাও। সবাই যার যার পাত্র ভরে নিলেন। তারপর একটা পানির পাত্র আনা হলো। নবীজী তাতে নিজের হাত রাখলেন। আমি কসম করে বলছি, আমি নবীজীর আঙুল থেকে পানি বের হতে দেখেছি। তারপর সবাইকে পানি পান করতে নির্দেশ দিলেন। সবাই পান করলো এবং যার যার পানির পাত্র ভরে নিলেন। এ দৃশ্য দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর পবিত্র দাঁত দেখা গেল। তারপর ইরশাদ করেন-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
[রিয়াজুন্নাজিরা ফী মানাকিবিল আশারা: ১: ৩৩৩]
📄 কিয়ামতের দিন দু’ব্যক্তির কথোপকথনে নবীজীর হাসি
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আমরা নবীজীর সাথে একদিন বসা ছিলাম। দেখলাম, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছেন। কেউ বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসছেন কেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের দু'ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সামনে হিসাব-নিকাশের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে। একজন বলবে, হে আল্লাহ! সে আমার উপর জুলুম করেছে। আপনি তার থেকে বদলা নিয়ে দিন। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি তোমার ভাইয়ের অধিকার ফিরিয়ে দাও। সে বলবে, আমার সওয়াব তো শেষ হয়ে গিয়েছে। মজলুম বলবে, হে আমার রব! আমার গুনাহসমূহের বোঝা তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিন। এটা বলতে গিয়ে নবীজীর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে। তারপর বলেন- এটা অসহায়ত্বের দিন হবে। আল্লাহ তাআলা মজলুমকে বলবেন, উপরে তাকাও। জান্নাত দেখ। সে উপরে আশ্চর্যজনক নেয়ামতসমূহ দেখতে পাবে। জিজ্ঞাসা করবে, এসব কার জন্য?
আল্লাহ তাআলা বলবেন- যে এর মূল্য শোধ করবে তার জন্য। সে বলবে, এর মূল্য কার শোধ করার সাধ্য আছে! আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমিও শোধ করতে পারবে। সে বলবে, কী দিয়ে তা শোধ করা যাবে? আল্লাহ তাআলা বলবেন, নিজের ভাইকে ক্ষমা করে দিয়ে। তখন সে বলবে, হে আল্লাহ! আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহ তাআলা বলবেন- তোমার ভাইয়ের হাত ধর এবং তাকে জান্নাতে পৌঁছে দাও।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহকে ভয় কর। পরস্পর পরস্পরের কল্যাণ কামনা কর। অর্থাৎ সহানুভূতিশীল চিত্তে বসবাস কর। কেননা আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন مسلمانوں মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন। [আত্ তাযকিরাহ লিল কুরতুবী: ৩১৯]
📄 যাকাতের মাল আসাতে নবীজীর হাসি
ইকরাশ ইবনে যুরাইত (রা.) বলেন, আমার গোত্র বনী মুররা আমাকে যাকাতের সম্পদ দিয়ে নবীজীর দরবারে পাঠাল। আমি মদীনায় হাজির হলাম। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার ও মুহাজির সাহাবাদের সাথে বসে আছেন। আমি উট নিয়ে হাজির হলাম। নবীজী বলেন, কে নিয়ে আসলো?
আমি বললাম, ইকরাশ ইবনে যুরাইত।
নবীজী বললেন, তোমার বংশ পরিচিতি বল।
আমি মুররা ইবনে উবাইদ পর্যন্ত বংশধারা বললাম।
এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। বললেন, এটা আমার গোত্রের উট। এটা আমার জাতির যাকাত। তারপর বলেন, এগুলোতে বাইতুল মালের সিল মেরে বাইতুল মালে রেখে দাও। তারপর আমার হাত ধরে উম্মে সালামা (রা.)-এর ঘরে গমন করেন। জিজ্ঞেস করেন- কী খাবে বল? তখন একটি পাত্র আনা হলো। তাতে 'সরীদ' ছিল। গোশতের টুকরো তাতে ছিল। আমি খাওয়া শুরু করলাম। পাত্রে বিভিন্ন দিক থেকে খাচ্ছিলাম। নবীজী আমার হাত ধরে বলেন, হে ইকরাশ! এক জায়গা থেকে খাও। কেননা, সব খাবারই এক ধরনের। তারপর এক পাত্রে কাচা-পাকা খেজুর, শুকনো এবং রসালো খেজুর আনা হলো। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের বিভিন্ন দিক থেকে খেতে থাকেন। নবীজী বলেন- হে ইকরাশ! যেখান থেকে খুশি খাও। কেননা খাবার বিভিন্ন রকমের। [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৪: ৩৪৬]
📄 সূরা ‘আলাম নাশরাহ’ নাযিল হওয়ায় নবীজীর খুশি
হযরত হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব আনন্দিচিত্তে বের হলেন। তখন তিনি হাসছিলেন। বলেন- কখনও একটি দুঃখ-কষ্ট দুটো সুখকে ভুলিয়ে দিতে পারবে না। কেননা কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا - إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
[তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৪: ৬৪২]