📄 মা আমেনার ঈমানের জন্য নবীজীর হাসি
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ করেছি। তিনি জুহুনের ঘাঁটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় কাঁদছিলেন। খুব চিন্তিত ছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন- তাঁর কান্না দেখে আমিও কাঁদতে লাগলাম। তিনি বাহন থেকে নামলেন। বললেন, আয়েশা! আমাকে ধর! আমি তাঁকে ধরে উটের সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিলাম। অনেকক্ষণ তিনি আমার থেকে দূরে বসে থাকলেন। তারপর ফিরে আসলেন। তখন তাঁকে আনন্দিত দেখাচ্ছিল। তিনি হাসছিলেন। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত হোন। আপনি যখন অবতরণ করলেন তখন কাঁদছিলেন। আর আমিও আপনার কারণে কাঁদতে থাকি। এখন আপনি হেসে হেসে আসছেন, ব্যাপার কী?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আমি আমার মা আমেনার কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁকে জীবিত করে দেয়ার জন্য দুআ করলাম। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জীবিত করে দেন। তিনি আমার প্রতি ঈমান আনেন। তারপর আবার তাঁকে মৃত করে দেন। [কুরতুবী ফীত্ তাযকিয়াহ: ১৬]
জ্ঞাতব্য: উলামায়ে কেরাম হাদীসটি জাল হাদীস বলে আখ্যা দিয়েছেন। মুসলিম শরীফে এর বিপরীত হাদীস এসেছে। তারপর আবার সনদে অপরিচিত রাবী রয়েছেন।
📄 হযরত উমর (রা.)কে দেখে নবীজীর হাসি
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, একবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উমর (রা.)-এর দিকে তাকান এবং মুচকি হাসেন। তারপর বলেন- হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি জান, তোমার দিকে তাকিয়ে আমি কেন হাসলাম?
হযরত উমর (রা.) বলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আরাফাতের রাতে আল্লাহ তাআলা তোমার দিকে দয়া ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং তোমাকে ইসলামের চাবি বানিয়ে দিয়েছেন। [রিয়াজুন্নাজিরা ফী মানাকিবিল আশারা: ১: ৩০৮]
📄 খাবারে বরকত দেখে নবীজীর হাসি
হযরত আবদুর রহমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, এক যুদ্ধে আমরা নবীজীর কাছে উট জবাই করার অনুমতি প্রার্থনা করি। তিনি অনুমতি দেয়ার ইচ্ছা করলেন। হযরত উমর আসলেন এবং বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! এমন করবেন না। না হলে বাহনের সংখ্যা কমে যাবে এবং ফিরে যাওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তাহলে কী করতে হবে?
হযরত উমর (রা.) বলেন, আপনি সবার খাবার একত্রে করে বরকতের দুআ করুন। আল্লাহ তাআলা আপনার বরকতে আমাদেরকে খাওয়াবেন। সে অনুযায়ী নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর বিছিয়ে দিলেন। ঘোষণা করতে বললেন। সবাই যার যার খাবারের আসবাব এনে একত্রিত করলেন। নবীজী দুআ করেন। তারপর সবাইকে বলেন, খাও এবং পাত্র ভরে নাও। সবাই যার যার পাত্র ভরে নিলেন। তারপর একটা পানির পাত্র আনা হলো। নবীজী তাতে নিজের হাত রাখলেন। আমি কসম করে বলছি, আমি নবীজীর আঙুল থেকে পানি বের হতে দেখেছি। তারপর সবাইকে পানি পান করতে নির্দেশ দিলেন। সবাই পান করলো এবং যার যার পানির পাত্র ভরে নিলেন। এ দৃশ্য দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর পবিত্র দাঁত দেখা গেল। তারপর ইরশাদ করেন-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
[রিয়াজুন্নাজিরা ফী মানাকিবিল আশারা: ১: ৩৩৩]
📄 কিয়ামতের দিন দু’ব্যক্তির কথোপকথনে নবীজীর হাসি
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আমরা নবীজীর সাথে একদিন বসা ছিলাম। দেখলাম, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছেন। কেউ বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসছেন কেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের দু'ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সামনে হিসাব-নিকাশের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে। একজন বলবে, হে আল্লাহ! সে আমার উপর জুলুম করেছে। আপনি তার থেকে বদলা নিয়ে দিন। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি তোমার ভাইয়ের অধিকার ফিরিয়ে দাও। সে বলবে, আমার সওয়াব তো শেষ হয়ে গিয়েছে। মজলুম বলবে, হে আমার রব! আমার গুনাহসমূহের বোঝা তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিন। এটা বলতে গিয়ে নবীজীর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে। তারপর বলেন- এটা অসহায়ত্বের দিন হবে। আল্লাহ তাআলা মজলুমকে বলবেন, উপরে তাকাও। জান্নাত দেখ। সে উপরে আশ্চর্যজনক নেয়ামতসমূহ দেখতে পাবে। জিজ্ঞাসা করবে, এসব কার জন্য?
আল্লাহ তাআলা বলবেন- যে এর মূল্য শোধ করবে তার জন্য। সে বলবে, এর মূল্য কার শোধ করার সাধ্য আছে! আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমিও শোধ করতে পারবে। সে বলবে, কী দিয়ে তা শোধ করা যাবে? আল্লাহ তাআলা বলবেন, নিজের ভাইকে ক্ষমা করে দিয়ে। তখন সে বলবে, হে আল্লাহ! আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহ তাআলা বলবেন- তোমার ভাইয়ের হাত ধর এবং তাকে জান্নাতে পৌঁছে দাও।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহকে ভয় কর। পরস্পর পরস্পরের কল্যাণ কামনা কর। অর্থাৎ সহানুভূতিশীল চিত্তে বসবাস কর। কেননা আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন مسلمانوں মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন। [আত্ তাযকিরাহ লিল কুরতুবী: ৩১৯]