📄 আল্লাহর পরিচয় লাভকারী আধ্যাত্মিক লোকদের সম্মানের ব্যাপারে নবীজীর হাসি
হযরত আনাস (রা.) বলেন, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা যখন সব মানুষকে একত্রিত করবেন, তখন আরশের নীচ থেকে আওয়াজ আসবে, আল্লাহর মারিফত লাভকারীরা কোথায়? কোথায় সৎকাজে অগ্রাগামী লোকেরা? কিছু লোক দাঁড়িয়ে যাবে। তারা আল্লাহর সামনে গিয়ে হাজির হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা সবকিছু জানা সত্ত্বেও জিজ্ঞাসা করবেন, তোমরা কারা? তারা বলবে, আমরা আপনার মারিফতলাভকারী। আর তুমিই এটা আমাদেরকে দান করেছো। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমরা সত্য বলছ। তারপর তাদেরকে বলা হবে, যাও, আমার রহমতে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর।
তাদের প্রতি এ সম্মান দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। তারপর বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে কিয়ামতের দিনের কঠিন অবস্থা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তোমাদের প্রতি মোবারকবাদ। [কুরতুবী ফীত্ তাযকিরাহ: ৪৩৫]
📄 মা আমেনার ঈমানের জন্য নবীজীর হাসি
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ করেছি। তিনি জুহুনের ঘাঁটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় কাঁদছিলেন। খুব চিন্তিত ছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন- তাঁর কান্না দেখে আমিও কাঁদতে লাগলাম। তিনি বাহন থেকে নামলেন। বললেন, আয়েশা! আমাকে ধর! আমি তাঁকে ধরে উটের সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিলাম। অনেকক্ষণ তিনি আমার থেকে দূরে বসে থাকলেন। তারপর ফিরে আসলেন। তখন তাঁকে আনন্দিত দেখাচ্ছিল। তিনি হাসছিলেন। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত হোন। আপনি যখন অবতরণ করলেন তখন কাঁদছিলেন। আর আমিও আপনার কারণে কাঁদতে থাকি। এখন আপনি হেসে হেসে আসছেন, ব্যাপার কী?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আমি আমার মা আমেনার কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁকে জীবিত করে দেয়ার জন্য দুআ করলাম। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জীবিত করে দেন। তিনি আমার প্রতি ঈমান আনেন। তারপর আবার তাঁকে মৃত করে দেন। [কুরতুবী ফীত্ তাযকিয়াহ: ১৬]
জ্ঞাতব্য: উলামায়ে কেরাম হাদীসটি জাল হাদীস বলে আখ্যা দিয়েছেন। মুসলিম শরীফে এর বিপরীত হাদীস এসেছে। তারপর আবার সনদে অপরিচিত রাবী রয়েছেন।
📄 হযরত উমর (রা.)কে দেখে নবীজীর হাসি
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, একবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উমর (রা.)-এর দিকে তাকান এবং মুচকি হাসেন। তারপর বলেন- হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি জান, তোমার দিকে তাকিয়ে আমি কেন হাসলাম?
হযরত উমর (রা.) বলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আরাফাতের রাতে আল্লাহ তাআলা তোমার দিকে দয়া ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং তোমাকে ইসলামের চাবি বানিয়ে দিয়েছেন। [রিয়াজুন্নাজিরা ফী মানাকিবিল আশারা: ১: ৩০৮]
📄 খাবারে বরকত দেখে নবীজীর হাসি
হযরত আবদুর রহমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, এক যুদ্ধে আমরা নবীজীর কাছে উট জবাই করার অনুমতি প্রার্থনা করি। তিনি অনুমতি দেয়ার ইচ্ছা করলেন। হযরত উমর আসলেন এবং বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! এমন করবেন না। না হলে বাহনের সংখ্যা কমে যাবে এবং ফিরে যাওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তাহলে কী করতে হবে?
হযরত উমর (রা.) বলেন, আপনি সবার খাবার একত্রে করে বরকতের দুআ করুন। আল্লাহ তাআলা আপনার বরকতে আমাদেরকে খাওয়াবেন। সে অনুযায়ী নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর বিছিয়ে দিলেন। ঘোষণা করতে বললেন। সবাই যার যার খাবারের আসবাব এনে একত্রিত করলেন। নবীজী দুআ করেন। তারপর সবাইকে বলেন, খাও এবং পাত্র ভরে নাও। সবাই যার যার পাত্র ভরে নিলেন। তারপর একটা পানির পাত্র আনা হলো। নবীজী তাতে নিজের হাত রাখলেন। আমি কসম করে বলছি, আমি নবীজীর আঙুল থেকে পানি বের হতে দেখেছি। তারপর সবাইকে পানি পান করতে নির্দেশ দিলেন। সবাই পান করলো এবং যার যার পানির পাত্র ভরে নিলেন। এ দৃশ্য দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর পবিত্র দাঁত দেখা গেল। তারপর ইরশাদ করেন-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
[রিয়াজুন্নাজিরা ফী মানাকিবিল আশারা: ১: ৩৩৩]