📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আবু বকর (রা.)-এর অত্যধিক আমল দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আবু বকর (রা.)-এর অত্যধিক আমল দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আবু উমামা (রা.) বলেন- একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের মধ্যে কে রোজা অবস্থায় সকাল বেলায় উঠেছে? সবাই চুপ। আবু বকর (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি। তারপর নবীজী বলেন, আজ কে মিসকীনকে দান করেছে? সবাই চুপ। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি। আবার নবীজী জিজ্ঞেস করেন, আজ কে জানাযার সাথে সাথে চলেছে? সবাই চুপ। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি। নবীজী হেসে দিলেন। বললেন, ঐ সত্তার কসম! যিনি আমাকে অধিকার দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এসব বৈশিষ্ট্য আজ যার মধ্যে একত্রিত হয়ে গিয়েছে সে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে। [বিয়াদুন্নাজিরা ফী মানাকিবিল আশারা: ১৭৪]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 সাহাবাদের বৃষ্টির কারণে লুকানো দেখে নবীজীর হাসি

📄 সাহাবাদের বৃষ্টির কারণে লুকানো দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আয়েশা (রা.) বলেন- লোকেরা নবীজীর কাছে এসে খরা এবং অনাবৃষ্টির কথা জানালো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে মিম্বর নিয়ে রাখার নির্দেশ দিলেন। মিম্বর সেখানে রাখা হলো। সবাই বের হলেন। তিনি মিম্বরে উঠে মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করেন। তারপর বলেন- তোমরা বলেছ, খরা দেখা দিয়েছে, বৃষ্টি হচ্ছে না। আর আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন- তোমরা দুআ কর, আমি কবুল করবো। তারপর বলেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ، اللَّهُمَّ أَنتَ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ
এরপর বলেন, আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণ করুন এবং বৃষ্টিকে উপকারী করে দিন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত উঁচু করতে থাকেন। এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেতে লাগলো। তারপর লোকদের দিকে ফিরলেন। নিজের চাদর উল্টিয়ে নিলেন। মিম্বর থেকে নেমে দুই রাকাত ইসতিস্কার নামায আদায় করেন। সাথে সাথে আকাশে মেঘ দেখা দিল। বিজলী চমকাতে লাগলো। বজ্রধ্বনি হতে থাকলো। তারপর আল্লাহর নির্দেশে বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকে। এত বৃষ্টি হলো যে, নবীজী মদীনার মসজিদে আসার আগেই নালাগুলো ভেসে গেল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে দেখলেন, তারা দ্রুত বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে লাগল। তাদের দৌড় দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন। এত হাসলেন যে তাঁর দাঁত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। [আবু দাউদ, আসারুস্ সুনান: ৩২৫]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক গ্রাম্য লোকের কথা শুনে নবীজীর হাসি

📄 এক গ্রাম্য লোকের কথা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন- একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেহেশতের আলোচনা করছিলেন। নবীজীর কাছে একজন গ্রাম্য লোক বসা ছিল। তিনি বলেন- এক ব্যক্তি বেহেশতে বলবে, হে আল্লাহ! আমি কৃষি কাজ করতে চাই। তাকে বলা হবে, এ জান্নাতে তোমার জন্য যাই চাইবে তা পাবে না। সে বলল, অবশ্য সবকিছু থাকবে। আমি কৃষি কাজ পছন্দ করি। বীজ বপন করা হলে মুহূর্তেই ফসল পেকে যাবে এবং তা পরিচ্ছন্ন হয়ে স্তূপাকারে জমা হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন- হে আদম সন্তান! তোমার কি তৃপ্তি মেটেনি? এটা শুনে এক গ্রাম্য লোক বললো, এ চাহিদা তো শুধু কুরাইশ ও আনসারদের থাকবে। কেননা, তারা কৃষিজীবী। আমরা তো কৃষিজীবী নই। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দেন। [বুখারী, আত্ তাযকিরা লিল কুরতুবী: ৫৩৩]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক ইহুদীর কথা শুনে নবীজীর হাসি

📄 এক ইহুদীর কথা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- কিয়ামতের দিন ভূমি একটা রুটির মত হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা সেটাকে এক হাতে তুলে নিবেন। তোমরা যেভাবে সফরে হাতে রুটি নাও। তা দিয়ে জান্নাতবাসীদেরকে মেহমানদারী করা হবে। একজন ইহুদী আসলো। সে বললো, হে আবুল কাসিম! আল্লাহ তাআলা তোমার প্রতি বরকত নাযিল করুন। আমি আপনাকে কি বলবো যে জান্নাতীদেরকে কিয়ামতের দিন কী দিয়ে মেহমানদারী করা হবে? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- বলো।
সে বললো, কিয়ামতের দিন পুরো ভূমি একটা রুটি হয়ে যাবে। যেমন আপনি একটু আগে বলেছেন। তার কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে নবীজী হেসে দেন। এমনকি তাঁর দাঁত মোবারক দেখা গেল। তারপর সে বললো, জান্নাতীদের তরকারী কী হবে বলবো?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বলো।
সে বললো, ষাড় এবং মাছের কলিজা দিয়ে কাবাব বানিয়ে পরিবেশন করা হবে। যা সত্তর হাজার মানুষ মিলে খাবে। [বুখারী, মুসলিম, আত্-তাযকিরাহ লিল কুরতুবী: ৪০১]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00