📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 উম্মতকে দেখে নবীজীর হাসি

📄 উম্মতকে দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আনাস (রা.) বলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুশয্যায় শায়িত। সোমবার দিন তিনি হুজরার পর্দা ওঠালেন। আবু বকর (রা.) কে দেখলেন। তিনি নামাযে ইমামতি করছেন। হযরত আনাস (রা.) বলেন- আমি নবীজীর চেহারার দিকে তাকালাম। মনে হলো যেন রূপার পত্র। তিনি তখন হাসছিলেন। আমরা নামায ছেড়ে দিতে চাচ্ছিলাম। তাঁর সুস্থতার খুশিতে মন ভরে গিয়েছিল। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা ফেলে দেন। ঐ দিনই তিনি এ নশ্বর দুনিয়া ছেড়ে তাঁর মহান রবের সান্নিধ্য লাভ করেন। [বিয়াদুন্নাজরা ফী মানকি বিল্ আশারা: ১: ২৩৮]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত সাওয়াদ ইবনে কারিব (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ

📄 হযরত সাওয়াদ ইবনে কারিব (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ


একটি বর্ণনায় এসেছে, হযরত উমর (রা.) একদিন মসজিদে লোকদের সাথে বসে ছিলেন। এক ব্যক্তি উমর (রা.)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলো। উমর (রা.) কে বলা হলো, আপনি কি লোকটিকে চেনেন? তিনি বলেন- আমি জানতে পেরেছি এক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা অদৃশ্য খবরের মাধ্যমে নবীজীর পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর নাম সাওয়াদ ইবনে কারিব। তিনি তাঁর গোত্রের সরদার। আমি তাকে দেখিনি। যদি সে জীবিত থাকে, তবে এই সেই ব্যক্তি হবে। তারপর হযরত উমর তাঁকে ডেকে বললেন- তুমি কি সাওয়াদ ইবনে কারিব? সে বললো, হ্যাঁ।
হযরত উমর তাকে বলেন- তুমি তোমার ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি একটু শোনাও। সে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি এক রাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে শুয়ে আছি। আমার কাছে আমার এক নারী জিন আসলো। সে পা দিয়ে নাড়িয়ে আমাকে জাগালো। বললো, হে সাওয়াদ ইবনে কারিব! ওঠো, চিন্তা কর! গবেষণা কর। তোমার বুদ্ধি আছে। লুয়াই ইবনে গালিব বংশে একজন নবী প্রেরিত হয়েছেন যিনি লোকদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। তাঁর ইবাদতের প্রতি দাওয়াত দেন। তারপর সে এ কবিতা আবৃতি করে-
عَجِبْتُ لِلْجِنِّ وَلِجَسَا سِهَا ، وَشَاهَدَ هَا الْعَيْسُ بِأَحْلَا سِهَا تَهْوِى إِلَى مِلَّةٍ تَبْقِي الْهُدَى هِ مَا خَيْرُ الْجِنِّ كَأَنْجَا سِهَا فَأَرْحَلَ إِلَى الصَّفْوَةِ مِنْ هَاشِمٍ ه وَاسْمُ بَغْيَتِكَ إِلَى رَأْسِهَا
সে আবার দ্বিতীয় রাতে এলো। একই কথা বললো। তৃতীয় রাতেও এসে এসব কথা বললো। সাথে সাথে এ কবিতাও আবৃতি করে। এতে ইসলামের প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মে যায়। সকালেই আমি সফরের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে মক্কার উদ্দেশে রওনা দিলাম। রাস্তায় খবর পেলাম যে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো মদীনায় হিজরত করে গিয়েছেন। তখন সেখান থেকেই মদীনার উদ্দেশে চললাম।
সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, নবীজী কোথায়? লোকেরা বললো, মসজিদে। আমি মসজিদে গেলাম। নবীজী আমাকে দেখে বললেন, কাছে আসো। বারবার তিনি এ কথা বলেন। আমি তাঁর সামনে গিয়ে বসলাম। তিনি বলেন- তোমার ঘটনাটি বর্ণনা কর। আমি ঘটনা বলে মুসলমান হয়ে গেলাম। নবীজী এবং মুসলমানরা ঘটনা শুনে খুশি হলেন। নবীজীর চেহারায় তাঁর খুশির বার্তা প্রকাশ করছিল। এটা শুনে হযরত উমর (रा.) উঠলেন। তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন- আমার ইচ্ছা, আমি ঘটনাটি তোমার মুখ থেকে শুনবো। এখনও কি এ ধরনের স্বপ্ন দেখ। তিনি বলেন- যেদিন থেকে কুরআন পড়া শুরু করেছি, সেদিন থেকে আর দেখি না। [রিয়াদুন্নাজিরা ফী মানাকিবিল আশারা: ১: ৩২৬]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আবু বকর (রা.)-এর অত্যধিক আমল দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আবু বকর (রা.)-এর অত্যধিক আমল দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আবু উমামা (রা.) বলেন- একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের মধ্যে কে রোজা অবস্থায় সকাল বেলায় উঠেছে? সবাই চুপ। আবু বকর (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি। তারপর নবীজী বলেন, আজ কে মিসকীনকে দান করেছে? সবাই চুপ। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি। আবার নবীজী জিজ্ঞেস করেন, আজ কে জানাযার সাথে সাথে চলেছে? সবাই চুপ। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি। নবীজী হেসে দিলেন। বললেন, ঐ সত্তার কসম! যিনি আমাকে অধিকার দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এসব বৈশিষ্ট্য আজ যার মধ্যে একত্রিত হয়ে গিয়েছে সে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে। [বিয়াদুন্নাজিরা ফী মানাকিবিল আশারা: ১৭৪]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 সাহাবাদের বৃষ্টির কারণে লুকানো দেখে নবীজীর হাসি

📄 সাহাবাদের বৃষ্টির কারণে লুকানো দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আয়েশা (রা.) বলেন- লোকেরা নবীজীর কাছে এসে খরা এবং অনাবৃষ্টির কথা জানালো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে মিম্বর নিয়ে রাখার নির্দেশ দিলেন। মিম্বর সেখানে রাখা হলো। সবাই বের হলেন। তিনি মিম্বরে উঠে মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করেন। তারপর বলেন- তোমরা বলেছ, খরা দেখা দিয়েছে, বৃষ্টি হচ্ছে না। আর আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন- তোমরা দুআ কর, আমি কবুল করবো। তারপর বলেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ، اللَّهُمَّ أَنتَ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ
এরপর বলেন, আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণ করুন এবং বৃষ্টিকে উপকারী করে দিন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত উঁচু করতে থাকেন। এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেতে লাগলো। তারপর লোকদের দিকে ফিরলেন। নিজের চাদর উল্টিয়ে নিলেন। মিম্বর থেকে নেমে দুই রাকাত ইসতিস্কার নামায আদায় করেন। সাথে সাথে আকাশে মেঘ দেখা দিল। বিজলী চমকাতে লাগলো। বজ্রধ্বনি হতে থাকলো। তারপর আল্লাহর নির্দেশে বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকে। এত বৃষ্টি হলো যে, নবীজী মদীনার মসজিদে আসার আগেই নালাগুলো ভেসে গেল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে দেখলেন, তারা দ্রুত বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে লাগল। তাদের দৌড় দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন। এত হাসলেন যে তাঁর দাঁত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। [আবু দাউদ, আসারুস্ সুনান: ৩২৫]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00