📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আদী (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ

📄 হযরত আদী (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ


হযরত আদী ইবনে হাতিম (রা.) বর্ণনা করেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হলাম। তিনি মসজিদে অবস্থান করছিলেন। লোকেরা আমাকে দেখে বলে যে, ইনি হচ্ছেন 'আদী'। আদী বলেন, আমি নবীজীর দরবারে হঠাৎই এসেছিলাম। আমার কাছে কোন ধরনের অনুমতিপত্র ছিল না। যখন আমি নবীজীর সামনে উপস্থিত হলাম, নবীজী আমার হাত ধরে ফেলেন। আমি আগেই খবর শুনেছি যে, তিনি বলেছেন- আমার আশা, আল্লাহ তাআলা তার হাত আমার হাতে দিয়ে দেবেন। আদী (রা.) বলেন- নবীজী আমাকে দেখে দাঁড়িয়ে যান। তখনই একজন মহিলা এক শিশু নিয়ে আসলেন। মহিলা নবীজীকে বললেন, আপনার সাথে আমার প্রয়োজন আছে। নবীজী এটা শুনে তার সাথে চললেন। তার প্রয়োজন মিটিয়ে তিনি ফিরে এসে আমার হাত চেপে ধরেন। আমাকে তাঁর ঘরে নিয়ে গেলেন। খাদেমা বসার জন্য গদি বিছিয়ে দিল। নবীজী তাতে বসলেন। আমি তাঁর সামনে বসে পড়লাম। প্রথমেই তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করেন। তারপর তিনি বলেন- হে আদী! কোন ব্যাপারটি তোমাকে ইসলাম থেকে বাধা দিচ্ছে? এ কথা বলতে তোমাকে কে বাধা দিচ্ছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি কি জান যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ আছে?
আমি বললাম, না।
এরপর অনেকক্ষণ তিনি আমার সাথে কথাবার্তা বলেন। পরে বলেন- তুমি কি 'আল্লাহ মহান' (الله اكبر) বলা থেকে ভাগতে চাও? তোমার জ্ঞানে আল্লাহ তাআলার চেয়ে বড় আর কেউ আছে?
আমি বললাম, না।
নবীজী বলেন- ইহুদীদের প্রতি আল্লাহর গযব পতিত হয়েছে। খৃষ্টানরা একদম নিম্নশ্রেণীর পথভ্রষ্ট।
আমি বললাম, আমি তো সঠিক ধর্মের অনুসারী হচ্ছি।
আদী বলেন- আমি দেখলাম, নবীজীর চেহারা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তারপর তিনি আমাকে এক আনসারী সাহাবীর মেহমান করে দিলেন। [তিরমিযী, তরজুমানুস্ সুন্নাহ: ৪: ৪৯০]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত উম্মে আয়মান (রা.)-এর কাজে নবীজীর হাসি

📄 হযরত উম্মে আয়মান (রা.)-এর কাজে নবীজীর হাসি


হযরত উম্মে আয়মান (রা.) বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে ঘুম থেকে ওঠেন। ঘরের কোণায় রাখা মাটির পাত্রে প্রশ্রাব করেন। ঐ রাতে আমি হঠাৎ উঠলাম। তখন আমার পিপাসা লাগছিল। ঐ পাত্রে যা ছিল তা পান করলাম। আমার জানা ছিল না যে, তাতে নবীজীর প্রস্রাব ছিল। সকাল হলে নবীজী বলেন- উম্মে আয়মান! যাও ঐ পাত্রে যা আছে তা ফেলে দাও।
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম, হায় আল্লাহ! আমি তো রাতে এর সবই পান করে নিয়েছি।
এটা শুনে নবীজীর চেহারায় মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। এমনকি তাঁর দাঁত মোবারক পর্যন্ত দেখা গেল। তারপর নবীজী বলেন- যাও, তোমার পেটে কখনও ব্যথা বেদনা বা কষ্টদায়ক কিছু হবে না। [হাকীম, দারাকুতনী, তাবারানী, আবু নাঈম, শরহচ্ছুন্নাহ: ৪: ১৩১]
জ্ঞাতব্য: দারাকুতনী বলেন- হাদীসটি হাসান সহীহ্। নববী (রহ.) বলেন- কাজী হুসাইন বলেন, নবীজীর শরীর থেকে নির্গত সবকিছু পবিত্র। আল্লামা আইনী বলেন- ইমাম আবু হানীফা (রহ.) একই মত ব্যক্ত করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন- নবীজীর শরীর থেকে নির্গত সবকিছুর পবিত্রতার পক্ষে অনেক দলিল প্রমাণ রয়েছে। সহীহ্ বুখারীর বিখ্যাত আরেক ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রহ.) বলেন- এ সম্পর্কে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আমার আকীদা হলো, এ ক্ষেত্রে নবীজীকে অন্যদের সাথে তুলনা করা যাবে না। অন্যদের শরীর থেকে নির্গত সব কিছু যেহেতু নাপাক, সে হিসেবে নবীজীর এগুলোকে নাপাক বলে দেয়া ভিত্তিহীন কথা হবে। যারা এর বিরোধী আমি তাদের কথা শুনতে নারাজ। [উমদাতুল কারী: ১: ৭৭৮]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত তামীমে দারী (রা.)-এর ইসলাম ও দাজ্জালের ঘটনার ব্যাপারে নবীজীর হাসি

📄 হযরত তামীমে দারী (রা.)-এর ইসলাম ও দাজ্জালের ঘটনার ব্যাপারে নবীজীর হাসি


ফাতেমা ইবনে কায়েস (রা.) বর্ণনা করেন, আমি নবীজীর ঘোষণাকারীদের থেকে শুনেছি, তারা ঘোষণা করছে যে, এসো নামায শুরু হয়ে যাচ্ছে। আমি নামাযের জন্য বের হলাম। নবীজীর সাথে নামায আদায় করলাম। তিনি নামায শেষ করে মিম্বরে বসে গেলেন। তখন তাঁর চেহারায় মুচকি হাসির ঝলক ছিল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- সবাই যার যার জায়গায় বসে থাক। তারপর বলেন- তোমরা কি জান, তোমাদেরকে কেন একত্রিত করেছি?
সবাই বললেন, আল্লাহ আর আল্লাহর রাসূলই ভালো জানেন। নবীজী ইরশাদ করেন- আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে সম্পদ বণ্টনের জন্য একত্রিত করিনি, জেহাদে অংশ নেয়ার জন্যও নয়।
তোমাদেরকে শুধু এজন্য একত্রিত করেছি যে, তামীমে দারী আগে খৃষ্টান ছিলেন। তিনি এসে মুসলমান হয়ে গিয়েছেন এবং আমাকে একটি ঘটনা বলেছেন। যদ্বারা দাজ্জালের ব্যাপারে তোমাদেরকে বলা আমার বর্ণনার সত্যায়ন হয়ে যাবে। তিনি বলছেন- তিনি একটি সমুদ্রযানে আরোহণ করেন। তাঁর সাথে 'লাম' এবং জুবাম গোত্রের আরও বিশজন লোক ছিলেন।
সামুদ্রিক ঝড় এক মাস পর্যন্ত তাদের সাথে তামাশা করতে থাকে। পরিশেষে তারা পশ্চিম দিকে একটা দ্বীপ দেখতে পান। যা দেখে তারা খুব আনন্দিত হন। ছোট বাহনে চড়ে তারা ঐ দ্বীপে অবতরণ করেন। সামনে তাদের দৃষ্টি পড়ল জানোয়ার আকৃতির এক প্রাণীর দিকে। যার পুরো শরীর জুড়ে লোম আর লোম। লোমের কারণে তার গোপনাঙ্গ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল না। লোকেরা তাকে বললো- হে হতভাগা! তুই আবার কেমন বালা?
সে বললো, আমি দাজ্জালের গোয়েন্দা। চলো ঐ গীর্জায় তাকে দেখতে পাবে, যার অপেক্ষা তোমরা করছো। তামীমেদারী বলেন- যখন সে এক লোকের কথা বললো, তখন আমাদের ভয় হলো, সে আবার কে? কোন জিন না তো? আমরা লাফ দিয়ে গীর্জায় গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে আমরা বিশালকায় এক লোককে দেখতে পেলাম। এর আগে আমরা কখনও এমন লোক দেখিনি। তার হাত ঘাড়ের সাথে মিলিয়ে এবং তার পা হাঁটু থেকে গোড়ালী পর্যন্ত লোহার শিকল দিয়ে খুব মজবুতভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমরা তাকে বললাম, তুই ধ্বংস হয়ে যা। তুই কে?
সে বললো- তোমরা তো আমার ব্যাপারে কিছু না কিছু জান। এখন বলো, তোমরা কারা?
তাঁরা বললেন, আমরা আরবের বাসিন্দা। আমরা একটা বড় জাহাজে সফর করছিলাম। সামুদ্রিক ঝড় এলো এবং তা এক মাস স্থায়ী হলো। তারপর আমরা এ দ্বীপে এসে উঠি। এখানে এসে আমরা একটা জানোয়ার দেখতে পাই। যার পুরো শরীরে লোম আর লোম।
সে বললো, আমি গোয়েন্দা। সে আমাদেরকে বললো, চলো ঐ গীর্জার দিকে যাই। সেখানে তোমরা একজনকে দেখতে পাবে। তাই আমরা যথশীঘ্র তোমার কাছে আসি।
সে বললো, আচ্ছা, তোমরা বল তো (শামের এক বস্তি) 'বিসান' এলাকায় খেজুর গাছে ফল আসে কি না?
আমরা বললাম, হ্যাঁ, আসে।
সে বললো, ঐ সময় নিকটবর্তী যখন সেসব গাছে ফল আসবে না। তারপর সে বললো, আচ্ছা, তাবরিয়া উপসাগরের ব্যাপারে বলো, তাতে কি পানি আছে?
আমরা বললাম, তাতে অনেক পানি আছে।
সে বললো, ঐ সময় নিকটবর্তী যখন তাতে পানি থাকবে না। সে বললো, সিরিয়ার এক গ্রাম 'যাবার'-এর ঝরনার ব্যাপারে বলো। তাতে পানি আছে কি না? ঐ গ্রামের লোকেরা তাদের ক্ষেতে ঐ ঝরনার পানি ব্যবহার করে কি না?
আমরা বললাম, তাতে অনেক পানি আছে। গ্রামবাসীরা ঐ ঝরনার পানি থেকে তাদের ক্ষেতে পানি প্রয়োগ করে।
সে বললো, আচ্ছা, 'নাবিয়্যুল আমীন'-এর কিছু হাল অবস্থা শোনাও।
আমরা বললাম, তিনি মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় চলে এসেছেন।
সে জিজ্ঞেস করলো, আরবের লোকেরা তার সাথে যুদ্ধ করেছে?
আমরা বললাম, হ্যাঁ।
সে বললো, আচ্ছা তাহলে ফলাফল কী হলো?
আমরা বললাম, তিনি তো তাঁর আশপাশের এলাকা জয় করে ফেলেছেন। লোকেরা তাঁর অনুসারী হয়ে গিয়েছে।
সে বললো, শোন! তাঁর ব্যাপারে এটাই ভালো যে, তাঁর অনুসারী হয়ে যাওয়া।
এখন আমি তোমাদেরকে আমার ব্যাপারে বলছি। আমি মসীহে দাজ্জাল। সে সময় নিকটবর্তী যখন আমাকে এখান থেকে বের হয়ে পড়ার অনুমতি দেয়া হবে। আমি বের হয়ে পুরো পৃথিবী ঘুরবো। চল্লিশ দিনের মধ্যে কোন অঞ্চলে আমার প্রবেশ হয়নি এমন জায়গা থাকবে না মক্কা মদীনা ছাড়া। কেননা, এ দু'জায়গায় আমার প্রবেশ নিষেধ। আমি যখন এ দুটো এলাকার কোন অঞ্চলে প্রবেশ করতে চাইবো তখন একজন ফেরেশতা খোলা তলোয়ার নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং প্রবেশে বাধা দেবেন। এ দুটো এলাকার অলিতে গলিতে ফেরেশতারা লোকদের হেফাজতের কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লাঠি দিয়ে মিম্বরে আওয়াজ করে বলেন- ঐ তাইয়িবাহ হলো এ মদীনা। এটা নবীজী তিনবার বলেন। শোন! আমি কি তোমাদেরকে এ ঘটনা বর্ণনা করিনি? সবাই বললেন, হ্যাঁ। আপনি বলেছিলেন। তারপর বলেন, ঐ সিরিয়ার সাগর অথবা ইয়ামান সাবার পশ্চিম দিকে অবস্থিত। নবীজী ঐদিকে হাত দিয়ে ইশারা করেন। [মুসলিম, আবু দাউদ, তরজুমানুস্ সুন্নাহ: ৪:৪১১]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক গ্রাম্য লোকের কথায় নবীজীর হাসি

📄 এক গ্রাম্য লোকের কথায় নবীজীর হাসি


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আনাবিহী থেকে বর্ণনা করেন, আমরা মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.)-এর কাছে ছিলাম। ঐ মজলিসে লোকেরা হযরত ইসমাঈল (আ.) কে জবাই করার ঘটনা আলোচনা করছিল। তখন হযরত মুয়াবিয়া (রা.) বলেন, তোমরা সবাই চুপ হয়ে যাও। আমি বলছি শোন! আমরা একবার নবীজীর দরবারে উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি আসলো। সে বললো, হে দুই জবাইকৃতের সন্তান! আল্লাহ তাআলা আপনাকে যা কিছু দান করেছেন তা থেকে গুনে আমাকেও দান করুন।
এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দেন। লোকেরা বললো, 'দুই জবাইকৃত'-এর ব্যাখ্যা কী?
হযরত মুয়াবিয়া (রা.) বলেন- যখন আবদুল মুত্তালিব যমযম কূপের সন্ধান করছিল, তখন সে কসম করেছিল যে, যদি কূপটি পেয়ে যাই তাহলে আমি আমার এক ছেলে আল্লাহর নামে কুরবানী করবো। কূপের সন্ধান পেয়ে যাওয়ার পর লটারী করা হলো। এতে নবীজীর পিতা আবদুল্লাহর নাম এলো। পরিশেষে তাঁর বদলে একশ' উট কুরবানী করা হলো। দ্বিতীয় জবাইকৃত ব্যক্তি হলেন ইসমাঈল (আ.)। [ইবনে জরির, ইবনে কাসীর: ৪: ২৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00