📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত সালামা (রা.)-এর শপথ এবং নবীজীর হাসি

📄 হযরত সালামা (রা.)-এর শপথ এবং নবীজীর হাসি


হযরত সালামা (রা.) বলেন- আমরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হুদাইবিয়াতে আসলাম। আমাদের জামাতে চৌদ্দশ' লোক ছিলেন। এক জায়গায় আমরা অবস্থান নিয়ে তাঁবু টানালাম। নবীজী শপথ গ্রহণের জন্য ডাকলেন। একটি গাছের নীচে আমি প্রথম জামাতের সাথে শপথ নিলাম। দ্বিতীয় জামাত যখন শপথ নিতে গেল, নবীজী বললেন- হে সালামা! আসো, শপথ নাও। আমি বললাম- হযরত! আমি শপথ নিয়ে নিয়েছি। তিনি বলেন- আবার নাও। আমি আবার শপথ নিলাম। তারপর সবাই দলে দলে শপথ নিতে থাকেন। যখন শেষ জামাত আসলো, তখন নবীজী বলেন- সালামা! আসো, শপথ নাও।
হযরত! আমি দু'বার শপথ নিয়েছি। কিন্তু নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবার নাও। আমি তৃতীয়বার শপথ নিলাম। তারপর নবীজী আমাকে তলোয়ারের একটা খাপ উপহার দিলেন। তারপর একদিন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন- সালামা! তোমার তলোয়ারের খাপটি কোথায়? আমি বললাম, হযরত! আমি তো সেটা আমিরকে দিয়ে দিয়েছি।
এটা শুনে নবীজী হেসে দেন এবং বলেন- তোমার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে এই দুআ করে, হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমার প্রিয় জিনিস কামনা করছি যা আমার কাছে আমার জীবন থেকে প্রিয় হবে। (যখন সে পেয়ে গেল তখন তা কাউকে দান করে দিল।) [ইবনে কাসীর ৪: ২২৮]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 সাহাবায়ে কেরামের ঝাড়ফুকের ঘটনায় নবীজীর হাসি

📄 সাহাবায়ে কেরামের ঝাড়ফুকের ঘটনায় নবীজীর হাসি


হযরত আবু সাঈদ (রা.) বলেন- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী এক সফরে গেলেন। একটি গোত্রে গিয়ে তারা অবস্থান নিলেন। সাহাবায়ে কেরাম তাদের কাছে খাবারের চাহিদা পেশ করেন। তারা অস্বীকৃতি জানাল। ঘটনাক্রমে গোত্রটির নেতাকে বিচ্ছু কামড় দিল। লোকেরা তার চিকিৎসার জন্য অনেক কিছু করলো। কিন্তু কাজে আসলো না। তাদের একজন বললো, তোমরা যদি ঐসব লোকদের কাছে যেতে যারা এখানে এসে তাঁবু ফেলেছে। হতে পারে তাদের কাছে এমন কিছু আছে যা তাকে সুস্থ করে তুলবে।
তখন তারা সাহাবায়ে কেরামের কাছে আসলেন এবং বললেন- হে লোকেরা! আমাদের নেতাকে বিচ্চু কামড়েছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোন উপকার হলো না। তোমাদের কাছে কি কিছু আছে? একজন বলেন- আমি ঝাড়ফুক জানি। কিন্তু তোমরা তো আমাদেরকে খাবার পরিবেশন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছো। আল্লাহর কসম! আমিও বিনিময় ছাড়া ঝাড়ফুক করবো না।
তারা এক পাল ছাগল বিনিময় দেয়ার কথা বললো। আমাদের একজন গিয়ে সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁক দিতে শুরু করেন। এমনকি লোকটি সুস্থ হয়ে গেল। তারা ওয়াদাকৃত একপাল ছাগল সাহাবায়ে কেরামের কাছে অর্পণ করলো। তারা ছাগলগুলো নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নি। কিন্তু ফুঁক দানকারী সাহাবা বললেন- এমন করো না, (হতে পারে এমন বিনিময় নেয়া জায়েয নেই)। বরং নবীজীর কাছে জিজ্ঞেস করে নাও। এ জামাত যখন নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলো, তখন তাঁরা পুরো ঘটনা খুলে বললেন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কীভাবে জানলে যে, সূরা ফাতেহা ফুঁক দেয়ার কাজ দেয়? আচ্ছা যাক, তোমরা যা করেছ তা ঠিক করেছো। যাও, এগুলো নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নাও এবং বণ্টন করতে আমাকেও শামিল করবে। এটা বলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে থাকেন। [বুখারী, তরজুমানুস্ সুন্নাহ]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আদী (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ

📄 হযরত আদী (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ


হযরত আদী ইবনে হাতিম (রা.) বর্ণনা করেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হলাম। তিনি মসজিদে অবস্থান করছিলেন। লোকেরা আমাকে দেখে বলে যে, ইনি হচ্ছেন 'আদী'। আদী বলেন, আমি নবীজীর দরবারে হঠাৎই এসেছিলাম। আমার কাছে কোন ধরনের অনুমতিপত্র ছিল না। যখন আমি নবীজীর সামনে উপস্থিত হলাম, নবীজী আমার হাত ধরে ফেলেন। আমি আগেই খবর শুনেছি যে, তিনি বলেছেন- আমার আশা, আল্লাহ তাআলা তার হাত আমার হাতে দিয়ে দেবেন। আদী (রা.) বলেন- নবীজী আমাকে দেখে দাঁড়িয়ে যান। তখনই একজন মহিলা এক শিশু নিয়ে আসলেন। মহিলা নবীজীকে বললেন, আপনার সাথে আমার প্রয়োজন আছে। নবীজী এটা শুনে তার সাথে চললেন। তার প্রয়োজন মিটিয়ে তিনি ফিরে এসে আমার হাত চেপে ধরেন। আমাকে তাঁর ঘরে নিয়ে গেলেন। খাদেমা বসার জন্য গদি বিছিয়ে দিল। নবীজী তাতে বসলেন। আমি তাঁর সামনে বসে পড়লাম। প্রথমেই তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করেন। তারপর তিনি বলেন- হে আদী! কোন ব্যাপারটি তোমাকে ইসলাম থেকে বাধা দিচ্ছে? এ কথা বলতে তোমাকে কে বাধা দিচ্ছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি কি জান যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ আছে?
আমি বললাম, না।
এরপর অনেকক্ষণ তিনি আমার সাথে কথাবার্তা বলেন। পরে বলেন- তুমি কি 'আল্লাহ মহান' (الله اكبر) বলা থেকে ভাগতে চাও? তোমার জ্ঞানে আল্লাহ তাআলার চেয়ে বড় আর কেউ আছে?
আমি বললাম, না।
নবীজী বলেন- ইহুদীদের প্রতি আল্লাহর গযব পতিত হয়েছে। খৃষ্টানরা একদম নিম্নশ্রেণীর পথভ্রষ্ট।
আমি বললাম, আমি তো সঠিক ধর্মের অনুসারী হচ্ছি।
আদী বলেন- আমি দেখলাম, নবীজীর চেহারা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তারপর তিনি আমাকে এক আনসারী সাহাবীর মেহমান করে দিলেন। [তিরমিযী, তরজুমানুস্ সুন্নাহ: ৪: ৪৯০]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত উম্মে আয়মান (রা.)-এর কাজে নবীজীর হাসি

📄 হযরত উম্মে আয়মান (রা.)-এর কাজে নবীজীর হাসি


হযরত উম্মে আয়মান (রা.) বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে ঘুম থেকে ওঠেন। ঘরের কোণায় রাখা মাটির পাত্রে প্রশ্রাব করেন। ঐ রাতে আমি হঠাৎ উঠলাম। তখন আমার পিপাসা লাগছিল। ঐ পাত্রে যা ছিল তা পান করলাম। আমার জানা ছিল না যে, তাতে নবীজীর প্রস্রাব ছিল। সকাল হলে নবীজী বলেন- উম্মে আয়মান! যাও ঐ পাত্রে যা আছে তা ফেলে দাও।
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম, হায় আল্লাহ! আমি তো রাতে এর সবই পান করে নিয়েছি।
এটা শুনে নবীজীর চেহারায় মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। এমনকি তাঁর দাঁত মোবারক পর্যন্ত দেখা গেল। তারপর নবীজী বলেন- যাও, তোমার পেটে কখনও ব্যথা বেদনা বা কষ্টদায়ক কিছু হবে না। [হাকীম, দারাকুতনী, তাবারানী, আবু নাঈম, শরহচ্ছুন্নাহ: ৪: ১৩১]
জ্ঞাতব্য: দারাকুতনী বলেন- হাদীসটি হাসান সহীহ্। নববী (রহ.) বলেন- কাজী হুসাইন বলেন, নবীজীর শরীর থেকে নির্গত সবকিছু পবিত্র। আল্লামা আইনী বলেন- ইমাম আবু হানীফা (রহ.) একই মত ব্যক্ত করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন- নবীজীর শরীর থেকে নির্গত সবকিছুর পবিত্রতার পক্ষে অনেক দলিল প্রমাণ রয়েছে। সহীহ্ বুখারীর বিখ্যাত আরেক ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রহ.) বলেন- এ সম্পর্কে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আমার আকীদা হলো, এ ক্ষেত্রে নবীজীকে অন্যদের সাথে তুলনা করা যাবে না। অন্যদের শরীর থেকে নির্গত সব কিছু যেহেতু নাপাক, সে হিসেবে নবীজীর এগুলোকে নাপাক বলে দেয়া ভিত্তিহীন কথা হবে। যারা এর বিরোধী আমি তাদের কথা শুনতে নারাজ। [উমদাতুল কারী: ১: ৭৭৮]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00