📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত উকবা (রা.)-এর প্রশ্নে নবীজীর হাসি

📄 হযরত উকবা (রা.)-এর প্রশ্নে নবীজীর হাসি


হযরত উকবা ইবনে হারিস (রা.) বলেন, একজন কালো বংশোদ্ভূত মহিলা এসে বললো, আমি তোমাকে এবং তোমার স্ত্রীকে দুধ পান করিয়েছি। হযরত উকবা (রা.) নবীজীর দরবারে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি বললেন। (উদ্দেশ্য ছিল মাসআলা জানা যে, এ বিবাহ বৈধ কি না?) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে বললেন- তাহলে এটা কীভাবে বৈধ হবে যে, আবু ইছাবের কন্যা তোমার বিবাহে থাকবে? (অর্থাৎ তুমি তাকে তালাক দিয়ে দাও) কেননা, সে তোমার দুধ বোন। [বুখারী: ১: ১৯/২৭৬]
জ্ঞাতব্য: এ মাসআলায় ইমামগণের মাঝে মতবিরোধ আছে যে, শুধু দুধ মা'র সাক্ষি গ্রহণযোগ্য কি না?

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত কা’ব (রা.)-এর তওবা এবং নবীজীর আনন্দ

📄 হযরত কা’ব (রা.)-এর তওবা এবং নবীজীর আনন্দ


হযরত কা'ব (রা.)-এর তওবা হাদীসে প্রসিদ্ধ একটি ঘটনা। তিনি তাঁর ঘটনা নিজেই সবিস্তার বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন- আমি তাবুক যুদ্ধের সময়ের তুলনায় আর কখনও এত সুস্থ-সবল এবং স্বচ্ছল ছিলাম না। তখন আমার মালিকানায় দুটো উটনী ছিল। এর আগে কখনও আমার কাছে দুটো উটনী ছিল না। নবীজীর একটা রীতি ছিল যে, যখনই কোন যুদ্ধের ইচ্ছা করতেন, সাথে সাথে তা ঘোষণা করতেন না। বরং আগে এ ব্যাপারে সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করতেন। কিন্তু তাবুকের যুদ্ধে যেহেতু ভীষণ গরম পড়ে, সফরও অনেক দূরের, তাছাড়া শত্রুপক্ষের বিশাল বাহিনী। সবদিক বিবেচনা করে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ঘোষণা দিলেন। যেন লোকেরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে। সুতরাং নবীজীর সাথে মুসলমানদের বিশাল এক জামাত তৈরি হয়ে গেল। জামাত এতই বিশাল ছিল যে, তা খাতা সবার নামধাম লেখা অসম্ভব। বড় জামাত হওয়ার কারণে এটাও সম্ভব ছিল যে, যদি কেউ শরীক না হয়ে লুকিয়ে থাকতে চাইলে তা পারবে। কারণ বিশাল জামাত। তারপর আবার সময়টা এমন যে, তখন গাছে গাছে ফল পাকছে। ইচ্ছা মতো সকালেই তৈরি হয়ে যাই। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যায় তৈরি হতে পারলাম না।। মনে মনে ভাবলাম, আমার তো কোন সমস্যা নেই। যখন ইচ্ছা তখনই তৈরি হয়ে রওনা দিতে পারবো। তখন নবীজী রওনা হয়ে গিয়েছেন। মুসলমানরাও নবীজীর সাথে চলে গিয়েছেন। অথচ আমার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি। তখন খেয়াল হলো, এক দু'দিনে তৈরি হয়ে তাদের সাথে গিয়ে মিলবো। এভাবে আজ কাল করে করে পেছনেই যেতে থাকলাম। এমনকি নবীজী তাবুকের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন। তখন আমি চেষ্টা করলাম তৈরি হতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পেলাম না। এখন আমি মদীনার এদিক ওদিক তাকাই, শুধু তাদেরকেই দেখি যারা মুনাফিকীর কলংক কপালে নিয়ে ঘুরে বা যারা মা'জুর। ওদিকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, কা'ব কোথায়? তাকে তো দেখছি না! কী হয়েছে তার? একজন জবাব দিলেন- হে আল্লাহর রাসূল! তাকে তার সম্পদ এবং সৌন্দর্যের বিলাসিতা আটকে রেখেছে।
হযরত মুয়াজ (রা.) বলেন- এটা ঠিক নয়। আমরা যেটুকু জানি, তিনি ভালো মানুষ। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। কিছু বললেন না। কিছু দিন পর জানলাম যে, জেহাদী কাফেলা ফিরে আসছে। তখন ভীষণ দুশ্চিন্তা আমাকে পেয়ে বসলো। মনে বিভিন্ন রকমের বানানো ওজর আপত্তি উদয় হচ্ছিল যেন নবীজী আসলে তা পেশ করতে পারি এবং পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়ে নেব। এ ব্যাপারে আমার ঘরের লোকদের সাথে পরামর্শ করতে থাকলাম। কিন্তু যখন জানলাম নবীজী এসেই গিয়েছেন, তখন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিলাম যে, সত্য ছাড়া কিছুই আমাকে মুক্তি দেবে না। তাই সত্য সত্য বলবো।
নবীজীর অভ্যাস ছিল, সফর থেকে ফিরে প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং দু'রাকাত 'তাহিয়‍্যাতুল মসজিদ' নামায পড়তেন। তারপর কিছুক্ষণ মসজিদে অবস্থান করতেন। লোকদের সাথে সাক্ষাত করতেন।
সুতরাং অভ্যাস অনুযায়ী নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসে আছেন। মুনফিকরা এসে মিথ্যা সব ওজর আপত্তি পেশ করছে। কসম খেয়ে খেয়ে বলছে। নবীজী তাদের বাহ্যিক বক্তব্য মেনে নিচ্ছেন। আসল ব্যাপার আল্লাহর হাতে সোপর্দ করছেন। এমন সময় আমিও গিয়ে হাজির হই। সালাম করলাম। নবীজী অসন্তুষ্ট চেহারায় মুচকি হাসলেন এবং এড়িয়ে গেলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! নবীজী এড়িয়ে গেলেন। আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আমি না মুনাফিক আর না আমার ঈমানে কোন সংশয় আছে।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এখানে আসো। আমি কাছে গিয়ে বসে পড়লাম। নবীজী বলেন, তোমাকে কোন জিনিস আমাদের সাথে যেতে বাধা দিয়েছে? তুমি না দুটো উটনী কিনে রেখেছিলে?
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এখন যদি আমি কোন দুনিয়াদারের কাছে বসা থাকতাম তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমি যৌক্তিক ওজর পেশ করে তার রাগ থেকে বেঁচে যেতে পারতাম। আল্লাহ তাআলা আমাকে কথা বলার যোগ্যতা দান করেছেন। কিন্তু আমি এটা ভালো করেই জানি যে, আমি আপনার কাছে বসা আছি। এখন যদি আমি সত্য বলি তাহলে আপনি রাগ করবেন। কিন্তু এও জানি, আল্লাহ তাআলা আপনার এ রাগ আবার তাড়াতাড়ি মিটিয়ে দেবেন। এজন্য সত্যই বলছি। আল্লাহর কসম! আমার কোন ওজর আপত্তি ছিল না। এ সময়টাতে আমি যত অবসর এবং স্বচ্ছল ছিলাম, এর আগে আর কখনও এমন ছিলাম না।
নবীজী ইরশাদ করেন- আচ্ছা, উঠে যাও। তোমার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সিদ্ধান নেবেন।
আমি সেখান থেকে ওঠার পর আমার অনেক লোক আমাকে বকাঝকা করলো। বললো, তুমি কি এর আগে কোন গুনাহ করোনি? তুমি যদি কোন ওজর পেশ করে নবীজীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দরখাস্ত করতে তাহলে নবীজীর ক্ষমা প্রার্থনাই তোমার জন্য যথেষ্ট হতো। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, আমি ছাড়া আর কোন লোক কি এমন আছে, যার সাথে এমন আচরণ করা হয়েছে? তারা বললো, আরও দু'জনের সাথে এমন আচরণ করা হয়েছে। তারাও তোমার মতো কথা বলেছে এবং তাদেরকে এমন জবাবই দেয়া হয়েছে। তাদের একজন হলেন হিলাল ইবনে রবী'। আমি দেখলাম, দু'জন ভালো লোক এবং দু'জনই বদরী সাহাবী। তারাও আমার অবস্থার শিকার। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিন জনের উপর অবরোধ আরোপ করেন। কেউ আমাদের সাথে কথাবার্তা বলতে পারবে না। নিয়ম এটাই, রাগ তার উপরই আসে, যার সাথে সম্পর্ক থাকে। সাবধান তাকেই করা হয়, যার মধ্যে এ যোগ্যতা থাকে। যার ভেতর আত্মশুদ্ধি এবং কল্যাণের যোগ্যতাই নেই তাকে আবার কে শাসন করে?
হযরত কা'ব (রা.) বলেন- নবীজীর নির্দেশ শুনে সবাই আমাদের সাথে কথা বলা ছেড়ে দেয়। আমাদের থেকে দূরে দূরে চলতে থাকে। যেন দুনিয়াটাই বদলে গিয়েছে। দুনিয়া সুবিশাল এবং বিস্তৃত হলেও আমার অত্যন্ত সংকীর্ণ মনে হতে লাগল। মানুষ সব অপরিচিত লাগছিল। ঘরবাড়ি সব কেমন যেন ঠেকছিল। আমার এ ব্যাপারে ভীষণ ভয় হচ্ছিল, এখন যদি আমি মারা যাই তাহলে তো নবীজী আমার জানাযায়ও শরীক হবেন না। অথবা যদি আল্লাহ না করুন নবীজী দুনিয়া ছেড়ে চলে যান তাহলে আমরা তো চিরদিন এমনই থেকে যাব। না কেউ আমাদের সাথে কথা বলবে, আর না কেউ আমার জানাযা পড়বে। নবীজীর নির্দেশের বিরোধিতা কেউ করতে পারে না। আমরা পঞ্চাশটি দিন এভাবে কাটালাম। আমার অন্য দু'জন সাথী তো আগে থেকেই ঘরে লুকিয়ে বসে থাকে। আমি সবার মধ্যে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলাম। চলাফেরা করতাম। বাজারে যেতাম। নামাযে শরীক হতাম। কিন্তু কেউ আমার সাথে কথা বলতো না। নবীজীর মজলিসে বসতাম। সালাম দিয়ে ভালো করে দেখতাম যে তিনি জবাব দিচ্ছেন কি না? নামাযের পর সুন্নত নামায নবীজীর পাশে দাঁড়িয়ে সম্পন্ন করতাম। আড় চোখে দেখতাম, নবীজী আমাকে দেখছেন কি না?
যখন আমি নামাযে মগ্ন তখন নবীজী আমার দিকে তাকাতেন। যখন নবীজীর দিকে আমি ফিরতাম তখন তিনি অন্য দিকে ফিরে যেতেন। মোট কথা, এমন অবস্থা চলতে থাকলো। মুসলমানদের কথাবার্তা বন্ধ করে দেয়া আমার জন্য ভীষণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়লো। আমি আবু কাতাদার বাড়ির ওয়ালের উপর চড়ে আমার প্রিয় চাচাত ভাইকে সালাম করলাম। সে আমার সালামের জবাব দিল না। আমি তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি জান না, আমার আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা আছে? সে কোন উত্তর দিল না। আমি দ্বিতীয়বার কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এবারও সে চুপ থাকলো। তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলে সে বললো, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই জানেন। এ কথা শুনে আমার চোখে পানি এসে গেল। আমি সেখান থেকে ফিরে এলাম। ঠিক এ সময় একদিন আমি মদীনার বাজারে যাচ্ছিলাম। এক কিবতী যে খৃষ্টান ছিল। সিরিয়া থেকে মদীনায় পণ্য বিক্রয় করতে এসেছে। সে লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করছে, কা'ব ইবনে মালিক কে? তার সাথে আমার দেখা করা দরকার।
লোকেরা আমার দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিল যে, সে। সে আমার কাছে আসলো। ভাস্যাগণের কাফির বাদশাহর একটা চিঠি আমাকে দিল। তাতে লেখা ছিল-
'আমরা জানতে পেরেছি, তোমাদের নেতা তোমাদের প্রতি জুলুম করছে। আল্লাহ তোমাকে অপমানের জায়গায় রাখবেন না। তোমাকে বরবাদ করবেন না। তুমি আমাদের কাছে এসে যাও। আমরা তোমার সাহায্য করবো।'
দুনিয়ার রীতি এটাই, বড় কারো পক্ষ থেকে ছোটদের প্রতি যখন কোন ধরনের শাসন করা হয় তখন অন্যরা তাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্রয় দেয়ার চেষ্টা করে। হিতাকাঙ্ক্ষী সেজে মিষ্টি মিষ্টি কথায় তাদেরকে বিদ্রোহী করে তোলে।
হযরত কা'ব (রা.) বলেন- আমি এ চিঠি পড়ে ইন্নালিল্লাহ পড়লাম। হায়! আমি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি যে, কাফের পর্যন্ত আমাকে কামনা করতে শুরু করেছে! আর আমাকে ইসলাম থেকে বের করে নেয়ার চেষ্টা চলছে। এটা আরেকটি মুসিবত। চিঠি নিয়ে গিয়ে চুলোয় ছুঁড়ে মারলাম। নবীজীর কাছে গিয়ে জানালাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি মুখ ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আমার আজ এ অবস্থা। কাফেররা আমাকে জয় করার ফিকির করছে। এভাবে চল্লিশ দিন যাওয়ার পর নবীজীর একজন দূত আমার কাছে এসে বললো- নবীজী বলেছেন, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে দাও। আমি জিজ্ঞেস করলাম- কি তালাক দিয়ে দেব? তিনি বললেন- না, আলাদা থাক। অন্য দু'জনকে একই নির্দেশ দেয়া হলো। আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, তুমি তোমার পিত্রালয়ে চলে যাও। যতক্ষণ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত না আসে ততক্ষণ সেখানেই থাকবে।
হিলাল ইবনে উমাইয়া (রা.)-এর স্ত্রী নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলেন। বললেন- হিলাল একদম বৃদ্ধ লোক। তার দেখাশুনার আর কেউ থাকবে না। ফলে শরীর খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আপনি যদি অনুমতি দেন এবং মর্জি হয় তবে আমি তার খেদমত করবো।
নবীজী বলেন, কোন অসুবিধা নেই। তবে সহবাস করবে না।
তিনি বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! এদিকে তারও তেমন কোন আকর্ষণ নেই। যেদিন থেকে এ অবস্থা শুরু হয়েছে, আজ পর্যন্ত তিনি শুধু কান্নাকাটি করেই কাটিয়েছেন।
হযরত কা'ব (রা.) বলেন- আমাকেও বলা হলো, তুমিও যদি হিলাল (রা.)-এর মত নবীজী কাছে অনুমতি চাও তবে হয়তো অনুমতি পেয়ে যেতে পার।
আমি বললাম, সে তো বৃদ্ধ। আর আমি তো জোয়ান। না জানি কী জবাব আসবে। তাই আমি আর সাহস করিনি। এরপর এভাবে আরো দশ দিন অতিবাহিত হলো। অবরোধ অবস্থায় মোট পঞ্চাশ দিন চলে গেল। পঞ্চাশতম দিন ফজরের নামায পড়ে আমি খুব চিন্তিত অবস্থায় আমার বাড়ির ছাদে বসে আছি। পৃথিবী আমার জন্য খুব সংকীর্ণ ছিল। জীবন অতীষ্ট হয়ে ওঠেছিল। ঐ সময় সিলা' পাহাড়ের চূড়া থেকে এক লোক উচ্চ আওয়াজে ঘোষণা করলো, হে কা'ব! তোমার সুসংবাদ।
এটা শুনেই আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম। আর আনন্দের আতিশয্যে কাঁদতে লাগলাম। অনুভব করলাম, সংকীর্ণতা দূর হয়ে গিয়েছে। নবীজী ফজরের নামাযের পর ক্ষমার কথা ঘোষণা করেন। ফলে এক ব্যক্তি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে তা জানিয়ে দেয়। তিনিই প্রথম ঘোষণাকারী। এরপর একজন ঘোড়ায় চড়ে দ্রুতগতিতে আমার কাছে আসেন। আমি যে কাপড় পরিধান করেছিলাম, তা খুলে সুসংবাদ দানকারীকে উপহার প্রদান করলাম। আল্লাহর কসম! আমার এ দুটো কাপড় ছাড়া আর কোন কাপড় ছিল না। তারপর আমি অন্যের কাপড় চেয়ে পরিধান করলাম এবং নবীজীর দরবারে হাজির হলাম। তেমনি অন্য দু'জনের কাছেও সংবাদ বাহক গেলেন। আমি যখন মসজিদে নববীতে হাজির হলাম, তখন নবীজীর কাছে থাকা সবাই আমাকে মোবারকবাদ দেয়ার জন্য আসলেন।
সবার আগে আবু তাহলা (রা.) মোবারকবাদ জানান। মুসাফাহা করেন, যা সব সময় আমার মনে থাকবে। আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে গিয়ে সালাম জানালাম। নবীজীর চেহারা মোবারক উজ্জ্বল হয়ে গেল। আনন্দের আলামত চেহারায় ফুটে উঠছিল। আনন্দের সময় তাঁর চেহারা চাঁদের মতো চমকাতে থাকে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তওবার পূর্ণতা আমি আমার সব সম্পত্তি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে চাই। সব আল্লাহর রাস্তায় দান করলাম।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাতে তোমার চরম সংকীর্ণতা দেখা দেবে। কিছু অংশ নিজের কাছে রেখে দাও।
আমি বললাম, আচ্ছা। খায়বারের অংশ রেখে দিলাম। সত্যই আমাকে মুক্তি দিয়েছে। তাই আমি অঙ্গীকার করেছি, সর্বদা সত্য কথা বলবো।

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত সালামা (রা.)-এর শপথ এবং নবীজীর হাসি

📄 হযরত সালামা (রা.)-এর শপথ এবং নবীজীর হাসি


হযরত সালামা (রা.) বলেন- আমরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হুদাইবিয়াতে আসলাম। আমাদের জামাতে চৌদ্দশ' লোক ছিলেন। এক জায়গায় আমরা অবস্থান নিয়ে তাঁবু টানালাম। নবীজী শপথ গ্রহণের জন্য ডাকলেন। একটি গাছের নীচে আমি প্রথম জামাতের সাথে শপথ নিলাম। দ্বিতীয় জামাত যখন শপথ নিতে গেল, নবীজী বললেন- হে সালামা! আসো, শপথ নাও। আমি বললাম- হযরত! আমি শপথ নিয়ে নিয়েছি। তিনি বলেন- আবার নাও। আমি আবার শপথ নিলাম। তারপর সবাই দলে দলে শপথ নিতে থাকেন। যখন শেষ জামাত আসলো, তখন নবীজী বলেন- সালামা! আসো, শপথ নাও।
হযরত! আমি দু'বার শপথ নিয়েছি। কিন্তু নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবার নাও। আমি তৃতীয়বার শপথ নিলাম। তারপর নবীজী আমাকে তলোয়ারের একটা খাপ উপহার দিলেন। তারপর একদিন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন- সালামা! তোমার তলোয়ারের খাপটি কোথায়? আমি বললাম, হযরত! আমি তো সেটা আমিরকে দিয়ে দিয়েছি।
এটা শুনে নবীজী হেসে দেন এবং বলেন- তোমার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে এই দুআ করে, হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমার প্রিয় জিনিস কামনা করছি যা আমার কাছে আমার জীবন থেকে প্রিয় হবে। (যখন সে পেয়ে গেল তখন তা কাউকে দান করে দিল।) [ইবনে কাসীর ৪: ২২৮]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 সাহাবায়ে কেরামের ঝাড়ফুকের ঘটনায় নবীজীর হাসি

📄 সাহাবায়ে কেরামের ঝাড়ফুকের ঘটনায় নবীজীর হাসি


হযরত আবু সাঈদ (রা.) বলেন- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী এক সফরে গেলেন। একটি গোত্রে গিয়ে তারা অবস্থান নিলেন। সাহাবায়ে কেরাম তাদের কাছে খাবারের চাহিদা পেশ করেন। তারা অস্বীকৃতি জানাল। ঘটনাক্রমে গোত্রটির নেতাকে বিচ্ছু কামড় দিল। লোকেরা তার চিকিৎসার জন্য অনেক কিছু করলো। কিন্তু কাজে আসলো না। তাদের একজন বললো, তোমরা যদি ঐসব লোকদের কাছে যেতে যারা এখানে এসে তাঁবু ফেলেছে। হতে পারে তাদের কাছে এমন কিছু আছে যা তাকে সুস্থ করে তুলবে।
তখন তারা সাহাবায়ে কেরামের কাছে আসলেন এবং বললেন- হে লোকেরা! আমাদের নেতাকে বিচ্চু কামড়েছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোন উপকার হলো না। তোমাদের কাছে কি কিছু আছে? একজন বলেন- আমি ঝাড়ফুক জানি। কিন্তু তোমরা তো আমাদেরকে খাবার পরিবেশন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছো। আল্লাহর কসম! আমিও বিনিময় ছাড়া ঝাড়ফুক করবো না।
তারা এক পাল ছাগল বিনিময় দেয়ার কথা বললো। আমাদের একজন গিয়ে সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁক দিতে শুরু করেন। এমনকি লোকটি সুস্থ হয়ে গেল। তারা ওয়াদাকৃত একপাল ছাগল সাহাবায়ে কেরামের কাছে অর্পণ করলো। তারা ছাগলগুলো নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নি। কিন্তু ফুঁক দানকারী সাহাবা বললেন- এমন করো না, (হতে পারে এমন বিনিময় নেয়া জায়েয নেই)। বরং নবীজীর কাছে জিজ্ঞেস করে নাও। এ জামাত যখন নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলো, তখন তাঁরা পুরো ঘটনা খুলে বললেন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কীভাবে জানলে যে, সূরা ফাতেহা ফুঁক দেয়ার কাজ দেয়? আচ্ছা যাক, তোমরা যা করেছ তা ঠিক করেছো। যাও, এগুলো নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নাও এবং বণ্টন করতে আমাকেও শামিল করবে। এটা বলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে থাকেন। [বুখারী, তরজুমানুস্ সুন্নাহ]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00