📄 হযরত আয়েশা (রা.)-এর পবিত্রতা ঘোষণাকারী আয়াত নাযিল হলে নবীজীর হাসি
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন- লোকেরা যখন আমার প্রতি অপবাদ আরোপ করলো। অনেকদিন পর্যন্ত এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানতে পারিনি। উম্মে মিসতাহ (রা.)-এর কাছে প্রথম শুনতে পাই। ওদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সাথে পরামর্শ করছিলেন। লোকেরা বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছিল। একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে আমার কাছে আগমন করেন। বলেন, তুমি যদি পবিত্র হও তবে আল্লাহ তাআলা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করে দেবেন। আর যদি তোমার ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আল্লাহ তাআলা তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন।
আয়েশা (রা.) বলেন- এর আগে কয়েক দিন কয়েক রাত এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে যে, আমার ঘুম নেই। শুধু কান্না আর কান্না। নবীজীর এ কথায় আমার পিতাও কোন জবাব দেননি, মাতাও না।
আয়েশা (রা.)-এর মাতা বলেন- নবীজী মজলিসে বসা ছিলেন। উঠার আগেই ওহী নাযিল শুরু হয়। শেষ হওয়ার পর নবীজী হাসতে থাকেন। সর্বপ্রথম যে কথাটি বলেন তা হলো- হে আয়েশা! আল্লাহ তাআলা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। [বুখারী: ২: ৫৯৫]
📄 সূরা ফাতহ নাযিল হওয়ার পর নবীজীর আনন্দ
হযরত যায়েদ ইবনে আসলাম (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, এক রাতে নবীজী সফরে ছিলেন। হযরত উমর (রা.) তাঁর সাথে ছিলেন। উমর (রা.) একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলে নবীজী কোন উত্তর দিলেন না। উমর (রা.) তিনবার প্রশ্ন করেন। তারপর নবীজী চুপ থাকেন। কোন উত্তর দেননি। উমর (রা.) বলেন- আমি আমাকে পক্ষ করে বললাম, হে উমর! তোমার জন্য এটা খারাপ। কারণ, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কথার জবাব দেননি। আমি আমার উট খুব দ্রুত চালালাম। সব মুসলমানের আগে চলে গেলাম এই ভয়ে যে, হায়! যদি আমার ব্যাপারে কোন আয়াত নাযিল হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর এক ঘোষণাকারী আমাকে ডাকলো। মনে করলাম, বোধ হয় আমার ব্যাপারে কোন আয়াত নাযিল হয়ে গিয়েছে। আমি নবীজীর দরবারে হাজির হলাম। সালাম করলাম। তিনি বলেন- আজ আমার প্রতি একটি সূরা নাযিল হয়েছে। আর এটা পুরো দুনিয়ার চেয়ে আমার কাছে প্রিয়, যে দুনিয়ায় সূর্য উদিত হয়। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করেন- إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا
📄 মুমিনের কাজ-কারবারে নবীজীর আনন্দ
হযরত সুহাইব ইবনে সিনান (রা.) বলেন- হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আমি মুমিনদের কাজ-কারবারে খুব খুশি। তাদের সব কাজে কল্যাণ আর কল্যাণ। খুশির স্থলে যদি শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, তবে তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর যদি তার কোন দুঃখ-কষ্ট দেখা দেয় এবং ধৈর্যধারণ করে, তবে এটাও তার জন্য কল্যাণ। [মুসলিম, রিয়াদুস্ সালিহীন: ২৬]
📄 হযরত আবু তালহা (রা.)-এর বাগান দান করে দেয়াতে নবীজীর খুশি
হযরত আনাস (রা.) বলেন- আবু তালহা আনসারী (রা.) মদীনার সর্বাধিক এবং বৃহত্তম বাগানের মালিক ছিলেন। তাঁর 'বিরহা' নামক একটা বাগান ছিল। বাগানটি তাঁর খুব প্রিয় ছিল। বাগানের ভেতর মিষ্ট পানির অনেক ঝরনা ছিল এবং মসজিদে নববীর পাশেই তাঁর অবস্থান। নবীজী প্রায়ই তাঁর বাগানে গমন করতেন এবং পানি পান করতেন। যখন কুরআন মজীদের আয়াত-
مَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
'তোমরা তখন পর্যন্ত কল্যাণের অবস্থানে পৌঁছতে পারবে না, যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় জিনিস (আল্লাহর পথে) ব্যয় না করবে।'- নাযিল হলো তখন আবু তালহা (রা.) নবীজীর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলেন- আমার 'বিরহা' বাগান আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- প্রিয় সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় কর। তাই আমার এর 'বিরহা' বাগান আল্লাহর পথে দান করে দিলাম। আপনি যেভাবে খুশি সেভাবে তা ব্যয় করুন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে খুব আনন্দ প্রকাশ করেন এবং বলেন- খুব দামী সম্পদ। আমি এটা আমার আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বণ্টন করে দেয়াটা উপযুক্ত মনে করছি। আবু তালহা (রা.) আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। [তাফসীরে ইবনে কাসীর]