📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 জুমার খুতবায় নবীজীর হাসি

📄 জুমার খুতবায় নবীজীর হাসি


হযরত আনাস (রা.) বলেন- নবীজী জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে হাজির হয়। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তীব্র তাবদাহ হচ্ছে, আপনি আপনার রবের কাছে বৃষ্টির জন্য দুআ করুন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিকে তাকালেন। দেখেন যে, মেঘের কোন পাত্তা নেই। তারপর তিনি বৃষ্টির জন্য দুআ করেন। আকাশে মেঘ দেখা দিল। তারপরই বৃষ্টি শুরু হলো। এত বৃষ্টি হলো যে, মদীনার অলিগলিতে, গ্রামে গঞ্জে পানি ভেসে ছুটলো। পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বৃষ্টি হতেই থাকলো মুষলধারে।
পরের জুমায় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতে মিম্বারে উঠলেন তখন ঐ ব্যক্তিই নবীজীকে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ডুবে গিয়েছি। আপনি আপনার রবের কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার জন্য দুআ করুন। নবীজী তাঁর দুই দিনের দুই বিপরীত দরখাস্তের জন্য মুচকি হাসলেন। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করেন- হে আল্লাহ! তোমার এ বৃষ্টি আমাদের আশপাশে নিয়ে বর্ষণ কর। আমাদের এখানে আর না। তিনবার তিনি এ দুআ করেন। পরে দেখা গেল মদীনার ডানে বামে বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু মদীনায় হচ্ছে না। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর মুজিযা প্রকাশ করেন এবং তাঁর দুআ কবুল করেন। [বুখারী: ২: ৯০০, বিদায়া: ৬: ৭৮]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 তায়েফ সফরে নবীজীর হাসি

📄 তায়েফ সফরে নবীজীর হাসি


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তায়েফে ছিলেন একদিন তিনি বললেন, আমরা আগামীকাল ফিরে যাব। সাহাবায়ে কেরামদের অনেকে বলেন, আমরা ফিরে যাব না, যতক্ষণ না আমাদের বিজয় নিশ্চিত হয়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- তোমরা সকলেই লড়াই শুরু করবে। সুতরাং সকাল হতেই সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধ শুরু করে দেন। তুমুল যুদ্ধ হলো। অনেক মুসলমান আহত হন। নবীজী আবার বলেন- আমরা ইনশাআল্লাহ আগামীকাল ফিরে যাব। সাহাবায়ে কেরাম চুপচাপ। (কেননা, নবীজীর কথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।) তাদের চুপ থাকা দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসেন। [বুখারী: ২: ৮৯৯]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 সাহাবায়ে কেরামের প্রেরণা দেখে নবীজীর হাসি

📄 সাহাবায়ে কেরামের প্রেরণা দেখে নবীজীর হাসি


এক যুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে সাহাবায়ে কেরامকে যুদ্ধের উৎসাহ দেন। সাহাবায়ে কেরام বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমরা মুসা (আ.)-এর উম্মতের মত এ কথা বলবো না যে, আপনি এবং আপনার রব গিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করুন, আমরা ঐখানে বসে আছি। এমনকি আমরা আপনার ডানেও লড়াই করবো, বামেও লড়াই করবো, আপনার সামনেও লড়বো পেছনেও লড়বো। বর্ণনাকারী বলেন, এটা শুনে নবীজীর চেহারা মোবারক চমকাতে থাকে, যা তার আনন্দের খবরই প্রকাশ করছিল। [বুখারী : ২: ৫৬৪]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আয়েশা (রা.)-এর পবিত্রতা ঘোষণাকারী আয়াত নাযিল হলে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আয়েশা (রা.)-এর পবিত্রতা ঘোষণাকারী আয়াত নাযিল হলে নবীজীর হাসি


হযরত আয়েশা (রা.) বলেন- লোকেরা যখন আমার প্রতি অপবাদ আরোপ করলো। অনেকদিন পর্যন্ত এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানতে পারিনি। উম্মে মিসতাহ (রা.)-এর কাছে প্রথম শুনতে পাই। ওদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সাথে পরামর্শ করছিলেন। লোকেরা বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছিল। একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে আমার কাছে আগমন করেন। বলেন, তুমি যদি পবিত্র হও তবে আল্লাহ তাআলা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করে দেবেন। আর যদি তোমার ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আল্লাহ তাআলা তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন।
আয়েশা (রা.) বলেন- এর আগে কয়েক দিন কয়েক রাত এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে যে, আমার ঘুম নেই। শুধু কান্না আর কান্না। নবীজীর এ কথায় আমার পিতাও কোন জবাব দেননি, মাতাও না।
আয়েশা (রা.)-এর মাতা বলেন- নবীজী মজলিসে বসা ছিলেন। উঠার আগেই ওহী নাযিল শুরু হয়। শেষ হওয়ার পর নবীজী হাসতে থাকেন। সর্বপ্রথম যে কথাটি বলেন তা হলো- হে আয়েশা! আল্লাহ তাআলা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। [বুখারী: ২: ৫৯৫]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00