📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 নবীজীর হাসির ধুম

📄 নবীজীর হাসির ধুম


হযরত আমর ইবনে ওয়াসিলা (রা.) বলেন- একদিন নবীজীর হাসির ধুম পড়ে যায়। এমনকি তিনি হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছিলেন। আবার বলেন, তোমরা কেন জানতে চাচ্ছ না যে, আমি কেন হাসছি?
সাহাবায়ে কেরাম বলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই জানেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এক জাতির ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করছি, যাদেরকে জান্নাতের দিকে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, অথচ তারা অলসতা করছিল। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কীভাবে হয়?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক অনারব জাতি যাদেরকে মুহাজিরগণ বন্দী করেন। তারপর তারা ইসলাম গ্রহণ করে। অথচ তারা ইসলামকে অপছন্দ করছিল। [উসদুল গাবাহ: ৪: ১৩৫]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত উমর (রা.)-এর ভয়ে মহিলাদের দৌড় এবং নবীজীর হাসি

📄 হযরত উমর (রা.)-এর ভয়ে মহিলাদের দৌড় এবং নবীজীর হাসি


হযরত সাঈদ (রা.) বলেন- হযরত উমর (রা.) নবীজীর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তখন নবীজীর কাছে তাঁর স্ত্রীরা বসাছিলেন। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ বৃদ্ধির জন্য তাঁরা নবীজীর কাছে আবেদন নিয়ে আসেন। স্ত্রীদের গলার স্বর নবীজীর স্বরের চাইতে উঁচু হচ্ছিল।
হযরত উমর (রা.) ঘরে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে গেলেন। সাথে সাথে মহিলারা পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। এ দৃশ্য দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন।
হযরত উমর (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে সদা হাস্যোজ্জ্বল করুন। আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত হোন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ঐসব মহিলার ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করছি, এরা আমার কাছে ছিল। যখন তোমার সাড়া পেল তখন সবাই দৌড়ে ভাগলো।
উমর (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এঁদের তো আপনাকেই বেশি ভয় পাওয়া উচিত। তারপর উমর (রা.) ঐ মহিলাদের উদ্দেশ করে বলেন, হে নিজেদের জানের দুশমন! আমাকে ভয় পাও আর দু'জাহানের সরদার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভয় পাও না?
মহিলারা বললেন- তুমি বেশ কঠিন প্রিয় নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তুলনায়। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- হে উমর! ঐ সত্তার কসম! যার আয়ত্তাধীন আমার জান, শয়তান পর্যন্ত ঐ রাস্তায় চলে না, যে রাস্তায় তুমি চল। [বুখারী: ২: ২৯৯]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 জুমার খুতবায় নবীজীর হাসি

📄 জুমার খুতবায় নবীজীর হাসি


হযরত আনাস (রা.) বলেন- নবীজী জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে হাজির হয়। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তীব্র তাবদাহ হচ্ছে, আপনি আপনার রবের কাছে বৃষ্টির জন্য দুআ করুন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিকে তাকালেন। দেখেন যে, মেঘের কোন পাত্তা নেই। তারপর তিনি বৃষ্টির জন্য দুআ করেন। আকাশে মেঘ দেখা দিল। তারপরই বৃষ্টি শুরু হলো। এত বৃষ্টি হলো যে, মদীনার অলিগলিতে, গ্রামে গঞ্জে পানি ভেসে ছুটলো। পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বৃষ্টি হতেই থাকলো মুষলধারে।
পরের জুমায় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতে মিম্বারে উঠলেন তখন ঐ ব্যক্তিই নবীজীকে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ডুবে গিয়েছি। আপনি আপনার রবের কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার জন্য দুআ করুন। নবীজী তাঁর দুই দিনের দুই বিপরীত দরখাস্তের জন্য মুচকি হাসলেন। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করেন- হে আল্লাহ! তোমার এ বৃষ্টি আমাদের আশপাশে নিয়ে বর্ষণ কর। আমাদের এখানে আর না। তিনবার তিনি এ দুআ করেন। পরে দেখা গেল মদীনার ডানে বামে বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু মদীনায় হচ্ছে না। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর মুজিযা প্রকাশ করেন এবং তাঁর দুআ কবুল করেন। [বুখারী: ২: ৯০০, বিদায়া: ৬: ৭৮]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 তায়েফ সফরে নবীজীর হাসি

📄 তায়েফ সফরে নবীজীর হাসি


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তায়েফে ছিলেন একদিন তিনি বললেন, আমরা আগামীকাল ফিরে যাব। সাহাবায়ে কেরামদের অনেকে বলেন, আমরা ফিরে যাব না, যতক্ষণ না আমাদের বিজয় নিশ্চিত হয়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- তোমরা সকলেই লড়াই শুরু করবে। সুতরাং সকাল হতেই সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধ শুরু করে দেন। তুমুল যুদ্ধ হলো। অনেক মুসলমান আহত হন। নবীজী আবার বলেন- আমরা ইনশাআল্লাহ আগামীকাল ফিরে যাব। সাহাবায়ে কেরাম চুপচাপ। (কেননা, নবীজীর কথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।) তাদের চুপ থাকা দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসেন। [বুখারী: ২: ৮৯৯]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00