📄 হযরত নায়ীমান (রা.)-এর ক্রীতদাস বিক্রি করা দেখে নবীজীর হাসি
হযরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, হযরত আবু বকর (রা.) সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। সাথে ছিলেন নায়ীমান ও সুয়াইবিত (রা.)। যে উটে পথের প্রয়োজনীয় খাবার-দাবার ও জিনিসপত্র ছিল সে উটে সুয়াইবিত (রা.) আরোহিত ছিলেন। হযরত نায়ীমান (রা.) খুব রসিক সাহাবী ছিলেন। নায়ীমান (রা.) এসে বলেন- আমাকে খাবার দাও। সুয়াইবিত (রা.) বলেন- হযরত আবু বকর (রা.) না আসা পর্যন্ত আমরা খেতে বসবো না। হযরত নায়ীমান (রা.) বলেন- আমি এখনই তোমাকে খবর দেখাচ্ছি। এটা বলে তিনি একটি ব্যবসায়ী কাফেলার কাছে গেলেন। বললেন, আমার কাছে একটা আরবী গোলাম আছে। তোমরা এটা কিনে নাও। কিন্তু সাবধান! সে বলবে, আমি স্বাধীন পুরুষ। তোমরা যদি তার কথা বিশ্বাস কর, তাহলে আমি তোমাদের মূল্য ফেরত দেয়ার দায়িত্ব নিতে পারবো না।
তারা বললো- আচ্ছা, আমরা তোমার থেকে দশটি উটের বিনিময়ে ক্রয় করছি। হযরত নায়ীমান (রা.) সুয়াইবিত (রা.) কে ধরে টেনে টেনে নিয়ে কাফেলার কাছে এসে বলেন- এই হলো সে। লোকেরা বললো, আমরা তোমাকে দশটি উটের বিনিময়ে কিনে নিয়েছি। হযরত সুয়াইবিত (রা.) বলেন, এই নায়ীমান মিথ্যা বলেছে। আমি তো স্বাধীন মানুষ। লোকেরা বললো, আমরা আগেই জেনেছি যে, তুমি এমন বলবে। হযরত নায়ীমান (রা.) সুয়াইবিত (রা.) কে তাদের হাতে তুলে দিয়ে দশটি উট নিয়ে ফিরে আসেন।
হযরত আবু বকর (রা.) কোন কাজে দূরের কোথাও গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে আসলে তাঁকে এটা জানানো হলো। তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে সেখানে গেলেন এবং উটগুলো ফেরত দিয়ে সুয়াইবিত (রা.) কে ফেরত নিয়ে আসেন। এ কাফেলা মদীনায় ফিরে গেল এবং ঘটনাটি যখন নবীজীকে জানানো হলো তখন নজীবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও হাসলেন এবং উপস্থিত সবাই হাসতে থাকেন। [উসদুল গাবাহ: ৫: ৩৬]
📄 নবীজীর হাসির ধুম
হযরত আমর ইবনে ওয়াসিলা (রা.) বলেন- একদিন নবীজীর হাসির ধুম পড়ে যায়। এমনকি তিনি হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছিলেন। আবার বলেন, তোমরা কেন জানতে চাচ্ছ না যে, আমি কেন হাসছি?
সাহাবায়ে কেরাম বলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই জানেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এক জাতির ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করছি, যাদেরকে জান্নাতের দিকে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, অথচ তারা অলসতা করছিল। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কীভাবে হয়?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক অনারব জাতি যাদেরকে মুহাজিরগণ বন্দী করেন। তারপর তারা ইসলাম গ্রহণ করে। অথচ তারা ইসলামকে অপছন্দ করছিল। [উসদুল গাবাহ: ৪: ১৩৫]
📄 হযরত উমর (রা.)-এর ভয়ে মহিলাদের দৌড় এবং নবীজীর হাসি
হযরত সাঈদ (রা.) বলেন- হযরত উমর (রা.) নবীজীর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তখন নবীজীর কাছে তাঁর স্ত্রীরা বসাছিলেন। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ বৃদ্ধির জন্য তাঁরা নবীজীর কাছে আবেদন নিয়ে আসেন। স্ত্রীদের গলার স্বর নবীজীর স্বরের চাইতে উঁচু হচ্ছিল।
হযরত উমর (রা.) ঘরে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে গেলেন। সাথে সাথে মহিলারা পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। এ দৃশ্য দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন।
হযরত উমর (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে সদা হাস্যোজ্জ্বল করুন। আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত হোন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ঐসব মহিলার ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করছি, এরা আমার কাছে ছিল। যখন তোমার সাড়া পেল তখন সবাই দৌড়ে ভাগলো।
উমর (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এঁদের তো আপনাকেই বেশি ভয় পাওয়া উচিত। তারপর উমর (রা.) ঐ মহিলাদের উদ্দেশ করে বলেন, হে নিজেদের জানের দুশমন! আমাকে ভয় পাও আর দু'জাহানের সরদার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভয় পাও না?
মহিলারা বললেন- তুমি বেশ কঠিন প্রিয় নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তুলনায়। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- হে উমর! ঐ সত্তার কসম! যার আয়ত্তাধীন আমার জান, শয়তান পর্যন্ত ঐ রাস্তায় চলে না, যে রাস্তায় তুমি চল। [বুখারী: ২: ২৯৯]
📄 জুমার খুতবায় নবীজীর হাসি
হযরত আনাস (রা.) বলেন- নবীজী জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে হাজির হয়। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তীব্র তাবদাহ হচ্ছে, আপনি আপনার রবের কাছে বৃষ্টির জন্য দুআ করুন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিকে তাকালেন। দেখেন যে, মেঘের কোন পাত্তা নেই। তারপর তিনি বৃষ্টির জন্য দুআ করেন। আকাশে মেঘ দেখা দিল। তারপরই বৃষ্টি শুরু হলো। এত বৃষ্টি হলো যে, মদীনার অলিগলিতে, গ্রামে গঞ্জে পানি ভেসে ছুটলো। পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বৃষ্টি হতেই থাকলো মুষলধারে।
পরের জুমায় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতে মিম্বারে উঠলেন তখন ঐ ব্যক্তিই নবীজীকে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ডুবে গিয়েছি। আপনি আপনার রবের কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার জন্য দুআ করুন। নবীজী তাঁর দুই দিনের দুই বিপরীত দরখাস্তের জন্য মুচকি হাসলেন। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করেন- হে আল্লাহ! তোমার এ বৃষ্টি আমাদের আশপাশে নিয়ে বর্ষণ কর। আমাদের এখানে আর না। তিনবার তিনি এ দুআ করেন। পরে দেখা গেল মদীনার ডানে বামে বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু মদীনায় হচ্ছে না। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর মুজিযা প্রকাশ করেন এবং তাঁর দুআ কবুল করেন। [বুখারী: ২: ৯০০, বিদায়া: ৬: ৭৮]