📘 নবীজীর ﷺ হাসি 📄 গোয়েন্দা তৎপরতার খবর শুনে নবীজীর হাসি

📄 গোয়েন্দা তৎপরতার খবর শুনে নবীজীর হাসি


হযরত হুযাইফা (রা.) বলেন, খন্দকের যুদ্ধে আমাদের একদিকে মক্কার কাফের দল এবং তাদের সাথে আরও অন্যান্য কাফের গোষ্ঠী যোগ দিয়েছিল। তারা আমাদের উপর আক্রমণ চালানোর জন্য এসেছিল এবং তারা আক্রমণের জন্যে প্রস্তুত। অন্যদিকে আমাদের মদীনায় বনু কুরায়জার ইহুদীরা আমাদের শত্রুতায় মত্ত হয়ে থাকে। তাদের ব্যাপারে সন্দেহ ছিল যে, মদীনা খালি দেখে তারা আবার আমাদের রেখে আসা পরিবার- পরিজনদের উপর আক্রমণ চালিয়ে বসে কি না। জেহাদের জন্য তো আমরা মদীনার বাইরে। আর আমাদের সাথে আসা মুনাফিকরা 'ঘর 'খালি'- এই বাহানায় অনুমতি নিয়ে মদীনায় ফেরত যাচ্ছিল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতিপ্রার্থীদেরকে অনুমতি দিয়ে দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক রাত এত অন্ধকার হলো যে রাতের বেলা নিজের হাত নিজে দেখতে পাচ্ছিলাম না। এমন অন্ধকার না আগে এসেছে, না তার পরে। শোঁ শোঁ শব্দে ভীষণ বাতাস বইছিল। মুনাফিকরা যার যার বাড়ি ফেরত যাচ্ছিল। আমরা তিনশ' জনের এক জামাত সেখানে ছিলাম। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক এক করে সবার খবরা খবর নিচ্ছিলেন। তখন নবীজী আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। আমার কাছে শত্রু থেকে বাঁচার জন্য না কোন হাতিয়ার ছিল আর ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্য না কোন গরম কাপড়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, কে? আমি বললাম, হুযাইফা। তখন আমি ঠাণ্ডার কারণে উঠতে পারলাম না এবং লজ্জায় মাটির সাথে মিশে পড়েছিলাম।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- ওঠো, শত্রুদের অবস্থানস্থলে গিয়ে খবর নিয়ে আস। দেখ, সেখানে কী ঘটছে। আমি তখন অন্ধকারের ভয় এবং ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি কাতর ছিলাম। কিন্তু নির্দেশ পালনার্থে সাথে সাথে উঠে রওনা দিতে উদ্যত হলাম।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দুআ করলেন- হে আল্লাহ! তুমি তার হেফাজত কর, তার সামনে পেছনে ডানে বামে উপরে এবং নিচে।
হযরত হুযাইফা (রা.) বলেন- তিনি দুআ শেষ করতেই আমার ভয় এবং ঠাণ্ডা কোথায় যে হারিয়ে গেল! কদম ফেলছি আর গরম অনুভব করছি। যাওয়ার সময় নবীজী এও বলেন- কোন সাড়া শব্দ করবে না। চুপচাপ দেখে চলে আসবে। শুধু দেখবে যে, কী হচ্ছে?
আমি সেখানে গিয়ে দেখি, আগুন জ্বলছে আর সবাই তাপ নিচ্ছে। এক ব্যক্তি আগুনে তার হাত গরম করছে। চারদিক থেকে 'চলো ফিরে যাই' এ আওয়াজ আসছে। সবাই তার গোত্রের লোকদেরকে চিৎকার দিয়ে দিয়ে বলছে- ফিরে চলো।
বাতাসের প্রচণ্ডতা চারদিক থেকে তাদের তাঁবুতে পাথর বর্ষণ করছিল। তাঁবুর রশিগুলো ছিঁড়ে যাচ্ছিল। ঘোড়া এবং অন্যান্য পশু মারা যাচ্ছিল। আবু সুফিয়ান যে তাদের বাহিনীর নেতা ছিল সেও আগুন পোহাচ্ছিল। আমার মনে হঠাৎ উদয় হলো, সুযোগটা খুবই অনুকূলে। তাকে শেষ করে দেই। এমনকি তীর ধনুকও তাক করে ফেললাম। তখন মনে হলো, নবীজীর অসিয়ত। তিনি বলেছেন যে, কোন সাড়া-শব্দ না করি। সাথে সাথে তীর ধনুক গুটিয়ে ফেললাম। তারও সন্দেহ হলো। সে জিজ্ঞেস করলো- তোমাদের মধ্যে কি কোন গোয়েন্দা আছে? প্রত্যেকে যার যার পাশের লোকের হাত ধরলো। তড়িৎগতিতে আমিও একজনের হাত ধরে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কে? সে বললো- সুবহানাল্লাহ, তুমি আমাকে চেনো না! আমি অমুক।
আমি ফিরে আসলাম। এসে দেখি, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা চাদর গায়ে দিয়ে নামায পড়ছেন। তাঁর নামায শেষ হলে আমি সেখানকার অবস্থা বিস্তারিত বললাম। আমার এ গোয়েন্দা তৎপরতার ঘটনা শুনে নবীজীর দাঁত মোবারক চমকে উঠলো। তিনি আমাকে তাঁর পায়ের কাছে শুইয়ে দিলেন। তাঁর চাদরের অংশ আমার গায়ে জড়িয়ে দিলেন। আমি আমার বুকের সাথে নবীজীর পায়ের তালু জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লাম। [তাফসীরে দুররে মানসুর।

📘 নবীজীর ﷺ হাসি 📄 হযরত নায়ীমান (রা.)-এর উট জবাই করা দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত নায়ীমান (রা.)-এর উট জবাই করা দেখে নবীজীর হাসি


হযরত রবীআ ইবনে উসমান (রা.) বলেন, এক গ্রাম্য লোক নবীজীর দরবারে আসেন। তিনি তার উট মসজিদের বাইরে বেঁধে রাখেন। সাহাবায়ে কেরামের কেউ কেউ হযরত নায়ীমান (রা.)-কে বলেন, যদি তুমি উটটিকে জবাই করে দাও তাহলে আমরা এর গোশত খাব। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল্য পরিশোধ করে দেবেন।
হযরত নায়ীমান (রা.) উটটি জবাই করে ফেলেন। গ্রাম্য লোকটি ফিরে যাওয়ার জন্য বের হয়ে দেখেন তাঁর উটটি জবাই করা। তিনি বাইরে গোলমাল শুরু করে দেন এবং নবীজীকে ডাকতে থাকেন। তিনি বাইরে আসেন এবং জিজ্ঞেস করেন- এটা কে করেছে? সবাই বললো, নায়ীমান (রা.)। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে দিবাআ বিনতে যুবায়ের ইবনে আবদুল মুত্তালিবের ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি ওখানে লুকিয়ে ছিলেন। এক ব্যক্তি নায়ীমান (রা.)-এর দিকে ইশারা করে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাঁকে এখানেই দেখেছিলাম। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সেখান থেকে বের করলেন। জিজ্ঞেস করলেন, কোন ব্যাপারটি তোমাকে এ কাজে উৎসাহ যুগিয়েছে?
হযরত নায়ীমান (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা সবাই আমাকে বললো, তুমি জবাই করলে আমরা গোশত খাব এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল্য পরিশোধ করে দেবেন।
এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারায় লেগে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার করছিলেন আর হাসছিলেন। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ লোকের উটের মূল্য পরিশোধ করে দেন। [উসদুল গাবাহ: ৫: ৩৬]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি 📄 হযরত নায়ীমান (রা.)-এর ক্রীতদাস বিক্রি করা দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত নায়ীমান (রা.)-এর ক্রীতদাস বিক্রি করা দেখে নবীজীর হাসি


হযরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, হযরত আবু বকর (রা.) সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। সাথে ছিলেন নায়ীমান ও সুয়াইবিত (রা.)। যে উটে পথের প্রয়োজনীয় খাবার-দাবার ও জিনিসপত্র ছিল সে উটে সুয়াইবিত (রা.) আরোহিত ছিলেন। হযরত نায়ীমান (রা.) খুব রসিক সাহাবী ছিলেন। নায়ীমান (রা.) এসে বলেন- আমাকে খাবার দাও। সুয়াইবিত (রা.) বলেন- হযরত আবু বকর (রা.) না আসা পর্যন্ত আমরা খেতে বসবো না। হযরত নায়ীমান (রা.) বলেন- আমি এখনই তোমাকে খবর দেখাচ্ছি। এটা বলে তিনি একটি ব্যবসায়ী কাফেলার কাছে গেলেন। বললেন, আমার কাছে একটা আরবী গোলাম আছে। তোমরা এটা কিনে নাও। কিন্তু সাবধান! সে বলবে, আমি স্বাধীন পুরুষ। তোমরা যদি তার কথা বিশ্বাস কর, তাহলে আমি তোমাদের মূল্য ফেরত দেয়ার দায়িত্ব নিতে পারবো না।
তারা বললো- আচ্ছা, আমরা তোমার থেকে দশটি উটের বিনিময়ে ক্রয় করছি। হযরত নায়ীমান (রা.) সুয়াইবিত (রা.) কে ধরে টেনে টেনে নিয়ে কাফেলার কাছে এসে বলেন- এই হলো সে। লোকেরা বললো, আমরা তোমাকে দশটি উটের বিনিময়ে কিনে নিয়েছি। হযরত সুয়াইবিত (রা.) বলেন, এই নায়ীমান মিথ্যা বলেছে। আমি তো স্বাধীন মানুষ। লোকেরা বললো, আমরা আগেই জেনেছি যে, তুমি এমন বলবে। হযরত নায়ীমান (রা.) সুয়াইবিত (রা.) কে তাদের হাতে তুলে দিয়ে দশটি উট নিয়ে ফিরে আসেন।
হযরত আবু বকর (রা.) কোন কাজে দূরের কোথাও গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে আসলে তাঁকে এটা জানানো হলো। তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে সেখানে গেলেন এবং উটগুলো ফেরত দিয়ে সুয়াইবিত (রা.) কে ফেরত নিয়ে আসেন। এ কাফেলা মদীনায় ফিরে গেল এবং ঘটনাটি যখন নবীজীকে জানানো হলো তখন নজীবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও হাসলেন এবং উপস্থিত সবাই হাসতে থাকেন। [উসদুল গাবাহ: ৫: ৩৬]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি 📄 নবীজীর হাসির ধুম

📄 নবীজীর হাসির ধুম


হযরত আমর ইবনে ওয়াসিলা (রা.) বলেন- একদিন নবীজীর হাসির ধুম পড়ে যায়। এমনকি তিনি হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছিলেন। আবার বলেন, তোমরা কেন জানতে চাচ্ছ না যে, আমি কেন হাসছি?
সাহাবায়ে কেরাম বলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই জানেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এক জাতির ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করছি, যাদেরকে জান্নাতের দিকে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, অথচ তারা অলসতা করছিল। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কীভাবে হয়?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক অনারব জাতি যাদেরকে মুহাজিরগণ বন্দী করেন। তারপর তারা ইসলাম গ্রহণ করে। অথচ তারা ইসলামকে অপছন্দ করছিল। [উসদুল গাবাহ: ৪: ১৩৫]

ফন্ট সাইজ
15px
17px