📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 সুসংবাদ শুনে নবীজীর হাসি

📄 সুসংবাদ শুনে নবীজীর হাসি


হযরত বেলাল ইবনে হামামা (রা.) বলেন, একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে হাসতে আগমন করলেন। আবদুর রহমান ইবনে আওফ (ра.) বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন হাসছেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি সুসংবাদ শুনে হাসছি। সুসংবাদটি আলী ও ফাতেমার ব্যাপারে। আল্লাহ তাআলা যখন আলী ও ফাতেমার বিবাহ সম্পন্ন কতে চাইলেন তখন জান্নাতের পাহারাদারকে নির্দেশ দিলেন শাজারায়ে তুবাকে (তুবা বৃক্ষ) নাড়াতে। তিনি জান্নাতের এ বিশাল বৃক্ষকে নাড়া দিলেন। ফলে তা থেকে মুক্তির পরওয়ানা ঝরে পড়লো। এর সংখ্যা ছিল দুনিয়াতে যত মানুষ নবীজীর বংশের লোককে ভালোবাসবে তাদের সমপরিমাণ। তারপর ঐ গাছ থেকে ফেরেশতা সৃষ্টি হলো। সবাই একটা করে পরওয়ানা হাতে নিলেন। যখন কেয়ামত সংঘটিত হবে তখন নবীজীর বংশকে যারা ভালোবেসেছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঐ পরওয়ানা দেয়া হবে। [উসুদুল গাবাহ: ১: ২০৬]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 উম্মে হারাম (রা.)-এর ঘরে নবীজীর হাসি

📄 উম্মে হারাম (রা.)-এর ঘরে নবীজীর হাসি


হযরত উম্মে হারাম (রা.) হযরত আনাস (রা.)-এর খালা ছিলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই তাঁর ঘরে গমন করতেন। এমনকি কখনও দুপুরের বিশ্রাম সেখানেই নিতেন।
একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হাসতে হাসতে শোয়া থেকে উঠেন। হযরত উম্মে হারাম (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত হোন। কী ব্যাপারে আপনি হাসলেন?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের কিছু লোক আমাকে দেখানো হলো যারা সমুদ্রে যুদ্ধ করার জন্য এমনভাবে আরোহী হয়েছে, যেন বাদশাহ তার সিংহাসনে বসে আছেন। উম্মে হারাম বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! দুআ করুন, আল্লাহ তাআলা আমাকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমিও তাদের মধ্যে একজন। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বিশ্রামে যান। আবার হাসতে হাসতে ওঠেন। উম্মে হারাম কারণ জিজ্ঞেস করলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই জবাব দিলেন। আবার উম্মে হারাম দুআর দরখাস্ত করেন। নবীজী বলেন, তুমি প্রথম জামাতের মধ্যে একজন।
হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন হযরত মুয়াবিয়া (রা.)। তিনি সাইপ্রাস দ্বীপপুঞ্জে আক্রমণের অনুমতি প্রার্থনা করেন। হযরত উসমান (রা.) অনুমতি দিয়ে দেন। হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.) এক জামাত সাথে নিয়ে ঐ এলাকায় আক্রমণ চালান। তাঁদের মধ্যে উম্মে হারাম (রা.)ও ছিলেন। ফিরে আসার সময় এক খচ্চরে চড়ছিলেন। এমন সময় বাহন নড়াচড়া শুরু করলো। আর তিনি পড়ে গেলেন এবং ঘাড় ভেঙ্গে গেল। এতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সেখানেই তাঁকে দাফন করে দেয়া হয়। [বুখারী, হুল্যাতুল আওলিয়া: ২ : ৬১]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 গোয়েন্দা তৎপরতার খবর শুনে নবীজীর হাসি

📄 গোয়েন্দা তৎপরতার খবর শুনে নবীজীর হাসি


হযরত হুযাইফা (রা.) বলেন, খন্দকের যুদ্ধে আমাদের একদিকে মক্কার কাফের দল এবং তাদের সাথে আরও অন্যান্য কাফের গোষ্ঠী যোগ দিয়েছিল। তারা আমাদের উপর আক্রমণ চালানোর জন্য এসেছিল এবং তারা আক্রমণের জন্যে প্রস্তুত। অন্যদিকে আমাদের মদীনায় বনু কুরায়জার ইহুদীরা আমাদের শত্রুতায় মত্ত হয়ে থাকে। তাদের ব্যাপারে সন্দেহ ছিল যে, মদীনা খালি দেখে তারা আবার আমাদের রেখে আসা পরিবার- পরিজনদের উপর আক্রমণ চালিয়ে বসে কি না। জেহাদের জন্য তো আমরা মদীনার বাইরে। আর আমাদের সাথে আসা মুনাফিকরা 'ঘর 'খালি'- এই বাহানায় অনুমতি নিয়ে মদীনায় ফেরত যাচ্ছিল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতিপ্রার্থীদেরকে অনুমতি দিয়ে দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক রাত এত অন্ধকার হলো যে রাতের বেলা নিজের হাত নিজে দেখতে পাচ্ছিলাম না। এমন অন্ধকার না আগে এসেছে, না তার পরে। শোঁ শোঁ শব্দে ভীষণ বাতাস বইছিল। মুনাফিকরা যার যার বাড়ি ফেরত যাচ্ছিল। আমরা তিনশ' জনের এক জামাত সেখানে ছিলাম। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক এক করে সবার খবরা খবর নিচ্ছিলেন। তখন নবীজী আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। আমার কাছে শত্রু থেকে বাঁচার জন্য না কোন হাতিয়ার ছিল আর ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্য না কোন গরম কাপড়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, কে? আমি বললাম, হুযাইফা। তখন আমি ঠাণ্ডার কারণে উঠতে পারলাম না এবং লজ্জায় মাটির সাথে মিশে পড়েছিলাম।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- ওঠো, শত্রুদের অবস্থানস্থলে গিয়ে খবর নিয়ে আস। দেখ, সেখানে কী ঘটছে। আমি তখন অন্ধকারের ভয় এবং ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি কাতর ছিলাম। কিন্তু নির্দেশ পালনার্থে সাথে সাথে উঠে রওনা দিতে উদ্যত হলাম।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দুআ করলেন- হে আল্লাহ! তুমি তার হেফাজত কর, তার সামনে পেছনে ডানে বামে উপরে এবং নিচে।
হযরত হুযাইফা (রা.) বলেন- তিনি দুআ শেষ করতেই আমার ভয় এবং ঠাণ্ডা কোথায় যে হারিয়ে গেল! কদম ফেলছি আর গরম অনুভব করছি। যাওয়ার সময় নবীজী এও বলেন- কোন সাড়া শব্দ করবে না। চুপচাপ দেখে চলে আসবে। শুধু দেখবে যে, কী হচ্ছে?
আমি সেখানে গিয়ে দেখি, আগুন জ্বলছে আর সবাই তাপ নিচ্ছে। এক ব্যক্তি আগুনে তার হাত গরম করছে। চারদিক থেকে 'চলো ফিরে যাই' এ আওয়াজ আসছে। সবাই তার গোত্রের লোকদেরকে চিৎকার দিয়ে দিয়ে বলছে- ফিরে চলো।
বাতাসের প্রচণ্ডতা চারদিক থেকে তাদের তাঁবুতে পাথর বর্ষণ করছিল। তাঁবুর রশিগুলো ছিঁড়ে যাচ্ছিল। ঘোড়া এবং অন্যান্য পশু মারা যাচ্ছিল। আবু সুফিয়ান যে তাদের বাহিনীর নেতা ছিল সেও আগুন পোহাচ্ছিল। আমার মনে হঠাৎ উদয় হলো, সুযোগটা খুবই অনুকূলে। তাকে শেষ করে দেই। এমনকি তীর ধনুকও তাক করে ফেললাম। তখন মনে হলো, নবীজীর অসিয়ত। তিনি বলেছেন যে, কোন সাড়া-শব্দ না করি। সাথে সাথে তীর ধনুক গুটিয়ে ফেললাম। তারও সন্দেহ হলো। সে জিজ্ঞেস করলো- তোমাদের মধ্যে কি কোন গোয়েন্দা আছে? প্রত্যেকে যার যার পাশের লোকের হাত ধরলো। তড়িৎগতিতে আমিও একজনের হাত ধরে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কে? সে বললো- সুবহানাল্লাহ, তুমি আমাকে চেনো না! আমি অমুক।
আমি ফিরে আসলাম। এসে দেখি, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা চাদর গায়ে দিয়ে নামায পড়ছেন। তাঁর নামায শেষ হলে আমি সেখানকার অবস্থা বিস্তারিত বললাম। আমার এ গোয়েন্দা তৎপরতার ঘটনা শুনে নবীজীর দাঁত মোবারক চমকে উঠলো। তিনি আমাকে তাঁর পায়ের কাছে শুইয়ে দিলেন। তাঁর চাদরের অংশ আমার গায়ে জড়িয়ে দিলেন। আমি আমার বুকের সাথে নবীজীর পায়ের তালু জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লাম। [তাফসীরে দুররে মানসুর।

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত নায়ীমান (রা.)-এর উট জবাই করা দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত নায়ীমান (রা.)-এর উট জবাই করা দেখে নবীজীর হাসি


হযরত রবীআ ইবনে উসমান (রা.) বলেন, এক গ্রাম্য লোক নবীজীর দরবারে আসেন। তিনি তার উট মসজিদের বাইরে বেঁধে রাখেন। সাহাবায়ে কেরামের কেউ কেউ হযরত নায়ীমান (রা.)-কে বলেন, যদি তুমি উটটিকে জবাই করে দাও তাহলে আমরা এর গোশত খাব। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল্য পরিশোধ করে দেবেন।
হযরত নায়ীমান (রা.) উটটি জবাই করে ফেলেন। গ্রাম্য লোকটি ফিরে যাওয়ার জন্য বের হয়ে দেখেন তাঁর উটটি জবাই করা। তিনি বাইরে গোলমাল শুরু করে দেন এবং নবীজীকে ডাকতে থাকেন। তিনি বাইরে আসেন এবং জিজ্ঞেস করেন- এটা কে করেছে? সবাই বললো, নায়ীমান (রা.)। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে দিবাআ বিনতে যুবায়ের ইবনে আবদুল মুত্তালিবের ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি ওখানে লুকিয়ে ছিলেন। এক ব্যক্তি নায়ীমান (রা.)-এর দিকে ইশারা করে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাঁকে এখানেই দেখেছিলাম। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সেখান থেকে বের করলেন। জিজ্ঞেস করলেন, কোন ব্যাপারটি তোমাকে এ কাজে উৎসাহ যুগিয়েছে?
হযরত নায়ীমান (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা সবাই আমাকে বললো, তুমি জবাই করলে আমরা গোশত খাব এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল্য পরিশোধ করে দেবেন।
এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারায় লেগে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার করছিলেন আর হাসছিলেন। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ লোকের উটের মূল্য পরিশোধ করে দেন। [উসদুল গাবাহ: ৫: ৩৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00