📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আবু বকর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর খুশি

📄 হযরত আবু বকর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর খুশি


হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমি নবীজীর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে ইয়ামান গিয়েছিলাম। ইদ গোত্রের এক আলিমের কাছে আমি হাজির হলাম। তিনি মানুষ সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন। যখন ঐ শেখ আমাকে দেখলেন তখন বললেন- আমার মনে হয় তুমি মক্কার লোক। আমি বললাম- হ্যাঁ। তিনি বললেন, মনে হয় তুমি কুরাইশ বংশের লোক? আমি বললাম- হ্যাঁ। তিনি বললেন- মনে হয় তুমি তামীম গোত্রের লোক? আমি বললাম- হ্যাঁ। আমার নাম আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে তামীম ইবনে মুররা। তিনি বলেন- ব্যস, আরেকটা আলামত বাকী আছে। তুমি তোমার পেট থেকে কাপড় উঠাও। আমি বললাম- কেন উঠাবো আগে বলুন। শেখ বললেন- আমি বিশুদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে এটা জানতে পেরেছি যে, মক্কায় একজন নবী আসবেন। তাঁর নবুওয়তের কাজে একজন যুবক এবং একজন বৃদ্ধ লোক সাহায্যকারী হবেন। যুবক যিনি হবেন তিনি তাঁর দুঃখ-দুর্দশার অংশীদার হবেন এবং বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবেন। আর বৃদ্ধ ব্যক্তি ফর্সা হবেন। হালকা-পাতলা শারীরিক গঠন। তাঁর পেটে একটা তিল থাকবে। আর তার বাম রানে একটা চিহ্ন থাকবে।
এখন তুমি তোমার পেটের তিল দেখাও। রানের চিহ্ন দেখানোর দরকার নেই (কেননা এটা সতরের অংশ)। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন- আমি আমার কাপড় পেট থেকে উঠালাম। তিনি আমার নাভীর উপর একটা তিল দেখতে পেলেন এবং বললেন- কা'বার প্রতিপালকের কসম! সেই ব্যক্তি তুমিই।
তারপর তিনি বললেন- আগে আগেই তোমাকে একটা কথা বলে রাখছি। শোন! ওটা থেকে বাঁচবে। আবু বকর বলেন- ওটা কী? তিনি বলেন- হেদায়াত থেকে দূরে সরে যাওয়া থেকে বাঁচবে এবং সঠিক পথ থেকে পিছুটান দেবে না। আল্লাহ তাআলা তোমাকে যা দান করবেন, তার ব্যাপারে মনে ভয় রাখবে।
হযরত আবু বকর (রা.) বলেন- আমি ইয়ামানে আমার কাজ শেষ করে ফেরার পথে ঐ শেখের সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম। তিনি বলেন- আমি ঐ নবীর প্রশংসায় কাসীদা পাঠ করছি। তুমি শুনতে থাক। আমি বললাম, খুব ভালো।
হযরত আবু বকর (রা.) বলেন- আমি মক্কায় ফিরে দেখি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়তের ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন।
আমার কাছে উকবা ইবনে আবু মুঈত, শাইবা, রবীয়া, আবু জেহেল, আবুল বুখতরী এবং কুরাইশের অন্য নেতারা আসলো। আমি তাদেরকে বললাম- কী ব্যাপার, কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে? নাকি কোন গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকাশ পেয়েছে?
তারা বলল- আবু বকর! এ যুগের বিখ্যাত খতীব আবু তালিবের ইয়াতীম ভাতিজা, সে মনে করে যে, সে একজন প্রেরিত নবী। আবু বকর! তুমি সফরে না থাকলে এত দিনে আমরা তার কাম খতম করে দিতাম। কোন অপেক্ষা করতাম না। এখন তুমি এসেছো। তোমার সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য যথেষ্ট। আবু বকর (রা.) বলেন- আমি তাদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়ে বিদায় দিলাম। আমি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায়? তারা বলল- হযরত খাদীজার ঘরে। আমি সেখানে গেলাম। দরজায় শব্দ করলাম। নবীজী বের হয়ে আসেন।
আমি বললাম- হে মুহাম্মদ! আমি আপনাকে বাইরে আসার কষ্ট দিয়েছি। আপনি নাকি আপনার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করেছেন?
তিনি বলেন- আবু বকর! আমি আল্লাহর রাসূল। তোমার প্রতি এবং সব মানুষের প্রতি। সুতরাং তুমি ঈমান আনো। বললাম- আপনার নবুওয়তের প্রমাণ কী? তখন তিনি বললেন- ঐ শেখ যার সাথে তুমি ইয়ামানে সাক্ষাত করেছ। আমি বললাম- আমি ইয়ামানে তো অনেক শেখের সাথেই সাক্ষাৎ করেছি। তিনি বলেন- ঐ শেখ যে তোমাকে কাসীদা দিয়েছে।
আমি বললাম- হে আমার হাবীব! এ খবর আপনাকে কে দিল?
তিনি বলেন- ঐ মহান সত্তা যিনি আমার পূর্বে অনেক নবী দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন।
হযরত আবু বকর বলেন- আমি বললাম, আপনার হাত বাড়ান। আমি ইসলামের বায়আত গ্রহণ করব। আর ঘোষণা করলাম- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ ٱللَّٰهِ -
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আর নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল।
আবু বকর (রা.) বলেন- আমি ফিরে আসলাম এবং নবীজীকে আমার ইসলামের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত দেখেছি। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে যান তিনি। [উসুদুল গাবাহ: ৩: ২০৮]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 বিসমিল্লাহর কারণে শয়তানের বমি এবং নবীজীর হাসি

📄 বিসমিল্লাহর কারণে শয়তানের বমি এবং নবীজীর হাসি


হযরত উমাইয়া ইবনে মুখশী (রা.) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর একজন সাহাবী ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে বসে খাচ্ছিল। সে বিসমিল্লাহ পড়েনি। সে যখন শেষ লোকমা তার মুখে দিচ্ছিল তখন বলল- بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَةَ (বিস্‌মিল্লাহি আউয়ালাহু ওয়া আখিরাহু) শুরু থেকে তার সাথে খাচ্ছিল। শেষে যখন সে বিসমিল্লাহ বলল, তখন শয়তান তার পেটে যাওয়া সব খাবার বমি করে ফেলে দিল। (কেননা শয়তান যে খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম নেয়া হয় সে খাবার খায় না। আর ঐ ঘরে প্রবেশ করে না যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয়।) [আহমদ, উসদুল গাবাহ: ১: ১২১]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর হাসি দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর হাসি দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাইয়াব (রা.)। আনসারগণের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি নবীজীর সাথে বদর, উহুদ, খন্দক এমনকি সবক'টি যুদ্ধে অংশ নেন।
আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ছয় ব্যক্তি প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারা হলেন বনি নাজ্জারের আস'আদ ইবনে যুরারা (রা.), আউফ ইবনে মালিক (রা.), রাফে ইবনে মালিক ইবনে আজালান (রা.), কুতবা ইবনে আমির (রা.), উকবা ইবনে আমির (রা.) এবং জাবির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে রাইয়াব (রা.)। এই আবদুল্লাহ ইবনে রাইয়াব (রা.) বলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আমি নামায পড়ছিলাম। জিবরাঈল (আ.) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে হাসেন এবং আমিও তাঁর দিকে তাকিয়ে হেসে দিই। [উসুদুল গাবাহ]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 জারুদ ইবনে মুআলা (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ

📄 জারুদ ইবনে মুআলা (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ


জারুদ ইবনে মুআল্লা (রা.) কে অনেকে বলেন, তিনি ইবনে আ'লা। অনেকে বলেন, তিনি জারুদ ইবনে আমর। তিনি আবদুল কায়েস গোত্রের লোক ছিলেন।
তাঁর ডাক নাম ছিল আবুল মুনযির। অনেকে বলেন- আবু গিয়াস। অনেকে বলেন- আবু ইতাব। মোটকথা তাঁর নাম ও ডাকনামের ব্যাপারে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। তাঁকে জারুদ এজন্য বলা হতো যে, তিনি জাহেলী যুগে বকর ইবনে ওয়াইলের সম্পদ লুটপাট করেছিলেন।
তিনি দশ হিজরী সালে নবীজীর দরবারে উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে খৃষ্টান ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করাতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনন্দিত হন। তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন। তাঁকে নৈকট্য দান করেন। ইরান বা নাহাওন্দ এলাকায় তিনি শাহাদত বরণ করেন। [উসুদুল গাবাহ: ১: ২৬১]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00