📄 হযরত রশীদ আল্-হিজরীর কথা শুনে নবীজীর হাসি
হযরত রশীদ (রা.) একজন সাহাবী। তাঁকে ফারসীও বলা হতো। আবু উমর বলেন, তিনি উহুদের যুদ্ধে নবীজীর সাথে ছিলেন। মুয়াবিয়া আল ফারসী পরিবারের ক্রীতদাস ছিলেন। যুদ্ধে তিনি বনী কেনানার (গোত্র) এক মুশরিকের সাথে মিলিত হলেন। সে লোহার আড় তৈরি করে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল। সে এই বলে চিৎকার করে উঠল যে, 'আমি আওইফের সন্তান'। হযরত সা'দ, যিনি হাতিব গোত্রের ক্রীতদাস ছিলেন, তিনি তার সাথে লড়াই করার জন্য সামনে হাজির হন। মুশরিক লোকটি হযরত সা'দের উপর আক্রমণ করে এবং তাঁকে দু'টুকরো করে ফেলে। এটা দেখে হযরত রশীদ (রা.) তার দিকে তেড়ে গেলেন এবং তার ঘাড়ে তলোয়ারের আঘাত হানলেন। আক্রমণ বৃথা যায়নি। তার বাহু কেটে গেল এবং শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তারপর বলেন- (প্রতিশোধ!) আমি ফারসীর গোলাম। প্রিয় নবী ঘটনাটি অবলোকন করেন। বক্তব্যও শোনেন। তিনি বললেন- এমন বললে কেন? বলতে যে, আমি আনসারদের গোলাম। ঠিক তখন ইবনে আওইফের অন্য ভাই কুকুরের মত তেড়ে আসল। হযরত রশীদ বীর বিক্রমে তার উপর আক্রমণ চালান। সে লোহার টুপি পরিহিত ছিল। তার গলায় কোপ মেরে মাথা দ্বিখণ্ডিত করে দেন। আর বলেন- (প্রতিশোধ!) আমি আনসারের গোলাম। নবীজী এ কথা শুনে হেসে দেন এবং বলেন- হে আবদুল্লাহর পিতা! তুমি খুব ভালো করেছ, ভালো বলেছ। নবীজী তাঁকে আবদুল্লাহর পিতা বলেছেন অথচ তাঁর কোন সন্তান ছিল না। [উদুল গাবাহ: ২: ১৭৬]
📄 আবু লুবাবা (রা.)-এর তওবায় নবীজীর হাসি
হযরত রিফায়া আবদুল মুনযির (রা.) যার ডাক নাম ছিল আবু লুবাবা। বদরের যুদ্ধের সময় তিনি বয়সে ছোট ছিলেন। তাই তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। বনু কুরায়যা যখন দুর্গে লুকিয়ে ছিল, নবীজী তাদেরকে বললেন- তোমরা দুর্গ থেকে বেরিয়ে আস। বনু কুরায়যা বলল- আপনি আবু লুবাবাকে আমাদের কাছে পাঠান। আমরা ব্যাপারটা নিয়ে তার সাথে পরামর্শ করে নিই। নবীজী আবু লুবাবা (রা.) কে তাদের কাছে পাঠিয়ে দেন। আবু লুবাবা আওস গোত্রের সাথে সম্পর্ক রাখতেন। আর বনু কুরায়যা তাদের মিত্র। তিনি তাদের কাছে গেলে তাদের নারীরা এবং শিশুরা তাঁর সামনে কাঁদতে শুরু করে। এটা দেখে হযরত আবু লুবাবা (রা.)-এর অন্তর নরম হয়ে গেল। (কিন্তু এ নরম অনুভূতি নবীজীর চাহিদার বিপরীত ছিল) তারা জিজ্ঞেস করল, হে আবু লুবাবা! আমরা কি হযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথায় দুর্গ থেকে বেরিয়ে যাব? তিনি বলেন- হ্যাঁ। কিন্তু সাথে সাথে গলায় আঙ্গুলের ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন যে, তোমাদেরকে জবাই করা হবে। হযরত আবু লুবাবা (রা.) বলেন- আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে গাদ্দারী করেছি, তখন আমার পা কাঁপতে শুরু করে। আমি ফিরে আসলাম। নবীজী উপস্থিত ছিলেন না। আমি নিজেকে মসজিদের একটা খুঁটির সাথে বেঁধে নিলাম। আর মনে মনে বললাম, আল্লাহ তাআলা যতক্ষণ আমার তওবা কবুল না করবেন ততক্ষণ এ বাঁধন খুলবো না। আমি অঙ্গীকার করছি, আমি আর কখনো বনু কুরায়যার সাথে নরম ব্যবহার করবো না। এ খবর যখন নবীজীর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি বলেন- নিজেকে বাঁধার আগে সে আমার কাছে আসলে তো আমি তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম। এখন আমি তাকে খুলবো না যতক্ষণ আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল না করেন।
আবদুল্লাহ ইবনে কাসীত বলেন- নবীজীর কাছে আবু লুবাবা (রা.)-এর তওবা কবুল হওয়ার সংবাদ নাযিল হলো। তিনি তখন উম্মে সালামার ঘরে ছিলেন।
হযরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন- আমি আবু লুবাবা (রা.)-এর তওবা কবুল হওয়ার খবর শুনেছি। তখন নবীজী হাসছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ আপনাকে সব সময় হাস্যোজ্জ্বল রাখুন। আপনি কেন হাসছেন? নবীজী বলেন- আবু লুবাবার তওবা কবুল করা হয়েছে। তাই হাসছি। নবীজী সকালে যখন নামাযের জন্য মসজিদে গেলেন তখন তাকে তার বাঁধন খুলে মুক্ত করে দেন। [উদুল গাবাহ্: ২: ১৮৩]
📄 হযরত রি’ফায়া (রা.)-এর পিতার কসম শুনে নবীজীর হাসি
হযরত রিফা'য়া ইয়াসরাবী (রা.) বলেন, আমি আমার পিতার সাথে নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলাম। নবীজী আমাকে দেখে আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করেন, এ কি তোমার ছেলে? পিতা বললেন- কা'বার রবের কসম! হ্যাঁ, আমি এর সাক্ষী দাঁড় করাতে পারব। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দেন।... [উদুল গাবাহ: ২: ১৮৬]
📄 হযরত রি’ফায়ার স্ত্রীর ঘটনায় নবীজীর হাসি
হযরত রিফা'য়া (রা.) তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। পরে তিনি হযরত আবদুর রহমান ইবনে যুবায়ের (রা.) কে বিয়ে করেন। মহিলা একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হন। বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রিফা'য়া আমাকে তালাক দিয়েছিলেন। তা আমি আবদুর রহমান ইবনে যুবায়ের (রা.) কে বিয়ে করি। কিন্তু তাঁর কাছে কিছু নেই (অর্থাৎ তার যৌনাঙ্গ নিস্তেজ)। কাপড়ের এক কোণা ধরে বলেন- এর মত নির্জীব। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে হেসে দেন এবং বলেন, তুমি কি আবার রিয়া'য়ার কাছে যেতে চাও? তার কাছে তুমি ততক্ষণ যেতে পারবে না যতক্ষণ তুমি বর্তমান স্বামীর মজা না চাকবে এবং সে তোমার মজা না চাকবে। [উদুল গাবাহ: ৩: ২৩৯]