📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত সুহাইব (রা.)-এর জবাবে নবীজীর হাসি

📄 হযরত সুহাইব (রা.)-এর জবাবে নবীজীর হাসি


হযরত সুহাইব (রা.) ও হযরত আম্মার (রা.) একই সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবী আরকাম (রা.)-এর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ দুই হযরত আলাদা আলাদা নবীজীর দরবারের উদ্দেশে রওনা করেন। বাড়ির দরজায় এসে উভয়ে অকস্মাৎ একত্রিত হন। একে অপরের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলে দেখা গেল একই উদ্দেশ্যে উভয়ের আগমন। তাহলো ইসলাম গ্রহণ করে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সান্নিধ্যের ঐশী দীপ্তি লাভে ধন্য হওয়া।
ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করার পর সে যুগে মুষ্টিমেয় কয়েকজন মুসলমানের উপর যে জুলুম অত্যাচার করা হতো সেভাবে এদেরকেও নির্যাতিত নিপীড়িত হতে হয়। শেষ পর্যন্ত এসব কষ্ট সহ্য করতে না পেরে হিজরত করেন। কাফেরদেরও এটা সহ্য হতো না যে, মুসলমানরা অন্য কোথাও গিয়ে শান্তিতে বসবাস করুক। তাই যার ব্যাপারে তারা জানতে পারতো যে সে হিজরত করছে তাকে তারা ধরতো। সে হিসাবে তারা এদেরও পিছু নিল। একটি দল তাদেরকে ধরতে গেল। সাহাবীরা তীর বের করলেন। তাদেরকে বললেন, দেখো তোমরা জান আমি তোমাদের চাইতে তীর চালনায় বেশি অভিজ্ঞ। যতক্ষণ পর্যন্ত একটা তীর আমার হাতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা কেউ আমার কাছে আসতে পারবে না। যখন তীর শেষ হয়ে যাবে তখন তলোয়ার চালাতে থাকবে। তলোয়ার যখন হাতছাড়া হয়ে যাবে তখন তোমরা যা খুশি করো। সুতরাং তোমরা যদি চাও তাহলে আমার জীবনের বিনিময়ে আমার সম্পদের ঠিকানা বলে দিতে পারি। যা মক্কায় রয়ে গিয়েছে। সাথে দুটো দাসীও আছে। তাও তোমরা নিয়ে নাও। এতে তারা রাজি হয়ে গেল। তারা তাদের সম্পদ বিসর্জন দিয়ে জীবন বাঁচাল। এ ব্যাপারে আয়াত নাযিল হয়-
وَمِنَ النَّاسِ যখন তাঁরা মদীনা পৌঁছেন তখন নবীজী কুবায় অবস্থান করছিলেন। অবস্থা দেখে তিনি ইরশাদ করেন- তোমরা লাভজনক ব্যবসা করেছ। হযরত সুহাইব (রা) বলেন, নবীজী খেজুরের রস পান করছিলেন। আমার চোখে বেদনা ছিল। আমিও খেতে লাগলাম। নবীজী বলেন- তোমার চোখে ব্যথা আর তুমি খেজুর খাচ্ছ? আমি বললাম, হুযুর! আরেকটি চোখের পক্ষ থেকে খাচ্ছি যা ভালো আছে। এটা শুনে নবীজী হাসতে থাকেন। [উসদুল গাবাহ: ৩: ৩১, ফাযায়েলে আমাল: ২১]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক গ্রাম্য লোকের কথায় নবীজীর হাসি

📄 এক গ্রাম্য লোকের কথায় নবীজীর হাসি


নবীজীর মধ্যে মানবিক গুণাবলীর সমাহার ছিল। তন্মধ্যে একটি হলো, অন্যের প্রতি ক্ষমা। একদিন তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। তখন এক লোক আসলো। এসেই সে তার চাদর নবীজীর গলায় পেঁচিয়ে খুব জোরে চেপে ধরলো। ফলে নবীজীর গলায় দাগ পড়ে গেল। নবীজী বলেন- হে আল্লাহর বান্দা! কী ব্যাপার? সে বলল, যে সম্পদ আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন তা থেকে আমাকেও দাও। নবীজী বলেন- সম্পদ তো আমি দেব কিন্তু তুমি যে কষ্ট দিয়েছ তার বদলা আমি নেব।
সে বলল, না, না। আমি বদলা দেবো না। নবীজী বলেন, কেন?
সে বলল, আপনি তো মন্দ কাজের বদলা মন্দ কাজের দ্বারা নেন না।
এটা শুনে নবীজী হেসে দেন। সাহাবায়ে কেরামকে বলেন, এ লোককে এক উটে যব এবং আরেকটি উটে খেজুর তুলে দাও।

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত তালহা (রা.)-এর কথা শুনে নবীজীর হাসি

📄 হযরত তালহা (রা.)-এর কথা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত হাসীন ইবনে উহু'হ্ (রা.) বলেন, যখন হযরত তালহা ইবনে বারা (রা.) নবীজীর সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন কোলাকুলি করতেন এবং পা মোবারকে চুমু খেতেন। এ অবস্থায় তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যা পছন্দ করেন সে নির্দেশ আমাকে দিন। আমি কখনো অবাধ্য হবো না। নবীজী হেসে দিলেন। হযরত তালহা (রা.) তখনও যুবক। নবীজী বললেন- যাও, তোমার পিতাকে হত্যা করে আস। হযরত তালহা (রা.) শুনেই দৌড় দিলেন। যেন নবীজীর নির্দেশ পালন করে আসেন। নবীজী তাকে ডাকলেন এবং বললেন- আমি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য আবির্ভূত হইনি।
একবার হযরত তালহা (রা.) অসুস্থ হলেন। নবীজী শীতের কারণে মোটা চাদর গায়ে দিয়ে তার শুশ্রূষার জন্য গেলেন। আর বলেন- হযরত তালহার মৃত্যু নিকটবর্তী মনে হচ্ছে। তোমরা অবশ্যই আমাকে জানাবে। আমি তার জানাযা পড়ব। আর তাকে দাফন করতে দেরী করবে না।
হযরত তালহা (রা.) বলেন- আমার মৃত্যু হয়ে গেলে আমাকে দাফন করে দেবে। আমাকে আমার প্রতিপালকের সাথে মিলিয়ে দেবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানাবে না। কেননা রাস্তায় ইহুদীরা থাকতে পারে। এমন যেন না হয় যে, আমার কারণে তিনি বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। (তাঁর মৃত্যু হয়েছিল রাতে) সকালে নবীজীর কাছে খবর পাঠানো হলো। তিনি আগমন করেন এবং তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন- হে আল্লাহ! তুমি তালহার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ কর, যেমন তুমি তাকে দেখে হাসছ এবং সে তোমাকে দেখে হাসছে। [উসুদুল গাবাহ: ২: ২]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত রশীদ আল্-হিজরীর কথা শুনে নবীজীর হাসি

📄 হযরত রশীদ আল্-হিজরীর কথা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত রশীদ (রা.) একজন সাহাবী। তাঁকে ফারসীও বলা হতো। আবু উমর বলেন, তিনি উহুদের যুদ্ধে নবীজীর সাথে ছিলেন। মুয়াবিয়া আল ফারসী পরিবারের ক্রীতদাস ছিলেন। যুদ্ধে তিনি বনী কেনানার (গোত্র) এক মুশরিকের সাথে মিলিত হলেন। সে লোহার আড় তৈরি করে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল। সে এই বলে চিৎকার করে উঠল যে, 'আমি আওইফের সন্তান'। হযরত সা'দ, যিনি হাতিব গোত্রের ক্রীতদাস ছিলেন, তিনি তার সাথে লড়াই করার জন্য সামনে হাজির হন। মুশরিক লোকটি হযরত সা'দের উপর আক্রমণ করে এবং তাঁকে দু'টুকরো করে ফেলে। এটা দেখে হযরত রশীদ (রা.) তার দিকে তেড়ে গেলেন এবং তার ঘাড়ে তলোয়ারের আঘাত হানলেন। আক্রমণ বৃথা যায়নি। তার বাহু কেটে গেল এবং শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তারপর বলেন- (প্রতিশোধ!) আমি ফারসীর গোলাম। প্রিয় নবী ঘটনাটি অবলোকন করেন। বক্তব্যও শোনেন। তিনি বললেন- এমন বললে কেন? বলতে যে, আমি আনসারদের গোলাম। ঠিক তখন ইবনে আওইফের অন্য ভাই কুকুরের মত তেড়ে আসল। হযরত রশীদ বীর বিক্রমে তার উপর আক্রমণ চালান। সে লোহার টুপি পরিহিত ছিল। তার গলায় কোপ মেরে মাথা দ্বিখণ্ডিত করে দেন। আর বলেন- (প্রতিশোধ!) আমি আনসারের গোলাম। নবীজী এ কথা শুনে হেসে দেন এবং বলেন- হে আবদুল্লাহর পিতা! তুমি খুব ভালো করেছ, ভালো বলেছ। নবীজী তাঁকে আবদুল্লাহর পিতা বলেছেন অথচ তাঁর কোন সন্তান ছিল না। [উদুল গাবাহ: ২: ১৭৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00