📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত সুয়াইদ ইবনে হারিস (রা.)-এর জবাব শুনে নবীজীর হাসি

📄 হযরত সুয়াইদ ইবনে হারিস (রা.)-এর জবাব শুনে নবীজীর হাসি


হযরত সুয়াইদ ইবনে হারিস (রা.) বলেন, আমরা সাতজনের এক প্রতিনিধি দল নবীজীর দরবারে পৌঁছলাম এবং তাঁর সাথে কথা বললাম। তখন তিনি আমাদের আকার-আকৃতি ও সাজগোজ দেখে আশ্চর্য হলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কারা? আমরা বললাম, আমরা মু'মিন। এটা শুনে নবীজী হেসে দিলেন। বললেন, সব বিষয়ের একটা বাস্তবতা থাকে। তোমাদের এ কথা ও ঈমানের বাস্তবতা কী? হযরত সুয়াইদ বলেন, আমরা বললাম- পনেরটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আছে। তন্মধ্যে পাঁচটি আপনার পাঠানো প্রতিনিধি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর পাঁচটি এমন যা আমরা জাহিলী যুগ থেকেই অভ্যস্ত এবং এখনো তাতে জমে আছি। যদি আপনার এটা অপছন্দ হয়, তাহলে আমরা সেসব ছেড়ে দেব। [আবু নাঈম, হায়াতুস্ সাহাবা: ৩: ৩৫]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক ইহুদীর কথা শুনে নবীজীর হাসি

📄 এক ইহুদীর কথা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, একজন ইহুদী আলিম নবীজীর কাছে আসল। এসে বলল, 'হে মুহাম্মদ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তাআলা পুরো আকাশমণ্ডলীকে এক আঙ্গুলে নিলেন, পুরো পৃথিবীকে এক আঙ্গুলে নিলেন, পাহাড় আর বৃক্ষরাজিকে এক আঙ্গুলে, পানি এবং পানির নীচের ভূমিকে এক আঙ্গুলে নিলেন এবং সবগুলোকে নাড়া দিলেন। আর বললেন, আমিই বাদশাহ, আমিই মালিক।'
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, এটা শুনে নবীজী এত হাসতে থাকেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল। এ হাসিটা ঐ ইহুদী আলিমের কথার সত্যায়নের হাসি ছিল। তারপর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতখানা তিলাওয়াত করেন-
وَمَا قَدَرُوا
অর্থাৎ 'এবং (আফসোসের ব্যাপার) তারা আল্লাহ তাআলার যেমন সম্মান করা দরকার তেমন সম্মান করেনি। অথচ (তাঁর সত্তা এত মহান) কিয়ামতের দিন পুরো পৃথিবী তাঁর মুষ্ঠিতে হবে এবং আকাশমণ্ডলী তাঁর ডান হাতে লেপ্টে থাকবে। তিনি পবিত্র এবং তাদের শিরক থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।' [বায়হাকী, বুখারী, মুসলিম, হায়াতুস্ সাহাবা: ৩: ২৭]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 আল্লাহ তাআলার হাসির কারণে নবীজীর হাসি

📄 আল্লাহ তাআলার হাসির কারণে নবীজীর হাসি


হযরত আলী ইবনে রবীয়া (রা.) বলেন, হযরত আলী (রা.) আমাকে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে হুররা'র দিকে রওয়ানা করেন। পথে তিনি তাঁর মাথা আকাশের দিকে উত্তোলন করে বলেন- اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ أَحَدٌ غَيْرُكَ অর্থাৎ- 'হে আমার আল্লাহ! আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ছাড়া আর কোন গুনাহ ক্ষমাকারী নেই।'
তারপর হাসতে হাসতে আমার দিকে তাকান। আমি বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং হাসতে হাসতে আমার দিকে দৃষ্টি দিলেন। এটা কী? হযরত আলী (রা.) বলেন, একবার আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে তাঁর বাহনে চড়ে হুররা'র দিকে যাচ্ছিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর তিনি আকাশের দিকে মাথা উত্তোলন করে বলেন- اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ أَحَدٌ غَيْرُكَ তারপর আমার দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং হাসেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং আমার দিকে হাসতে হাসতে দৃষ্টিপাত করলেন! (এটা কী?) তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আমার রবের হাসি দেখে আমি হেসেছি। আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি আশ্চর্য হন। কারণ বান্দা জানে যে, তার গুনাহ ক্ষমাকারী আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ নেই। [ইবনে আবি শায়বা, ইবনে মুনী', কানযুল উম্মাল: ১: ২১১, হায়াতুস্ সাহাবা: ৩: ৩৪৪]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 শয়তান নিজেই নিজের মাথায় মাটি ঢালার কারণে নবীজীর হাসি

📄 শয়তান নিজেই নিজের মাথায় মাটি ঢালার কারণে নবীজীর হাসি


হযরত আব্বাস ইবনে মরদাস (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের ময়দানে সন্ধ্যাবেলায় তাঁর উম্মতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং রহমত কামনা করে লম্বা দুআ করেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি ওহী প্রেরণ করেন যে, নিঃসন্দেহে আমি তোমার দুআ কবুল করেছি। তুমি যেমন চেয়েছো তেমন করে দিয়েছি। কিন্তু একের প্রতি অন্যের জুলুমের ব্যাপারটি ক্ষমা করিনি। কিন্তু যে গুনাহ আমার আর বান্দার সাথে সম্পৃক্ত তা ক্ষমা করে দিয়েছি।
নবীজী আবেদন করেন, হে আমার রব! নিশ্চয়ই তুমি এরও ক্ষমতা রাখ যে, মজলুমকে জুলুম করার বিনিময় স্বরূপ সওয়াব দিয়ে জালেমকে ক্ষমা করে দিতে। ঐ দিন সন্ধ্যায় এ দুআটি কবুল হয়নি।
মুযদালিফায় সকাল বেলা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার এ দুআ করেন। তখন আল্লাহ তাআলা এটা কবুল করে নেন এবং বলেন- নিশ্চয়ই আমি জালেমকেও ক্ষমা করে দিলাম। এতে নবীজী হেসে দিলেন।
সাহাবায়ে কেরام (রা.) জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমন অবস্থায় হাসলেন, যে অবস্থায় কখনও হাসেন না!
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- দুশমন ইবলিসকে দেখে হাসছি। সে যখন বুঝতে পারলো যে, আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের ব্যাপারে আমার দুআ কবুল করে নিয়েছেন, তখন সে হতাশচিত্তে হায় ধ্বংস! হায় বিপদ! বলে বিলাপ করতে করতে নিজের মাথায় নিজেই মাটি ঢালছিল। [বাইহাকী, হায়াতুস্ সাহাবা: ৩: ৩৬৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00