📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)-এর ঘটনা শুনে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)-এর ঘটনা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত ইকরামা (রা.) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) তাঁর স্ত্রীর সাথে শুয়ে ছিলেন। সেখান থেকে উঠে তিনি তার ঘরের এক কোণায় থাকা দাসীর কাছে গেলেন এবং তার সাথে মগ্ন হয়ে গেলেন। ওদিকে স্ত্রী তাঁকে বিছানায় না দেখে ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেলেন। উঠে খুঁজতে লাগলেন। দাসীর কাছে গিয়ে দেখেন যে, সেখানে স্বামী মগ্ন হয়ে রয়েছেন। তখন স্ত্রী নিজ নিজ ঘরে ফিরে আসেন এবং একটা ছুরি নিয়ে স্বামীর দিকে যান। তখন স্বামী দাসী থেকে বেরিয়ে পড়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা স্ত্রীকে বলেন, কী ব্যপার? যদি আমি তোমাকে সেখানে পেতাম তাহলে তোমার দুই কাঁধের মাঝখানে এ ছুরি কূপে দিতাম। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) বলেন, তুমি আমাকে কোথায় দেখেছ? স্ত্রী বলেন, আমি তোমাকে দাসীর সাথে মত্ত অবস্থায় দেখেছি। হযরত আবদুল্লাহ বলেন, তুমি কি করতে দেখেছ?' অথচ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সবাইকে গোসল ফরজ অবস্থায় কুরআন মজীদ পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। এটা শুনে স্ত্রী বললেন, তুমি কুরআন পড়তো দেখি। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) একটি কবিতা আবৃত্তি করেন-
آتَانَا رَسُولُ اللَّهِ يَتْلُو كِتَابَهُ كَمَا لَاحَ مَشْهُورٌ مِّنَ الْفَغْرِ سَاطِعُ
أَتَى بِالْهُدَى بَعْدَ الْعَمَى فَقُلُوبُنَا بِهِ مُوْقِنَاتٌ أَنَّ مَا قَالَ وَاقِعُ
يَبْتُ يُجَافِي جَنْبُهُ عَنْ فِرَاشِهِ إِذَا اسْتَثْقَلَتْ بِالْمَشْرَكْنِ الْمَصَاجِعُ
* আমাদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভাগমন করেন এবং আল্লাহর কিতাব পড়েন, যেন সুপরিচিত ও বিস্তৃত প্রত্যেকটি প্রভাতের আলো প্রকাশিত হয়।
* তিনি মানুষের অন্ধত্বের যুগে হেদায়াত নিয়ে এসেছেন। সুতরাং আমাদের অন্তর তাঁকে গভীরভাবে বিশ্বাস করে। তিনি যা কিছু বলেছেন তা সত্য।
* তিনি এমনভাবে সারা রাত ইবাদতে কাটিয়ে দেন যে, তার শরীর বিছানার সাক্ষাত পায় না। অথচ তখন মুশরিকরা বিছানায় ঘুমিয়ে হারিয়ে যায়।
এটা শুনে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার স্ত্রী বলেন, আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম। আর আমি আমার চোখকে মিথ্যা সাব্যস্ত করছি। (অর্থাৎ তাঁর স্ত্রী এ কবিতাকে কুরআন ভেবে ধরে নিলেন যে, তার স্বামী দাসীর সাথে কিছু করেন নি।)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা সকাল ভোরে নবীজীর দরবারে হাজির হয়ে ঘটনাটি অবহিত করেন। শুনে নবীজী এমনভাবে হাসতে থাকেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। [দারাকুতনী, হায়াতুস সাহাবা ৩/১২]

টিকাঃ
১ তখন ক্রীতদাসী থাকতো, আর শরীয়তে ক্রীতদাসীর সাথে সহবাস বৈধ ছিল।

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত সুয়াইদ ইবনে হারিস (রা.)-এর জবাব শুনে নবীজীর হাসি

📄 হযরত সুয়াইদ ইবনে হারিস (রা.)-এর জবাব শুনে নবীজীর হাসি


হযরত সুয়াইদ ইবনে হারিস (রা.) বলেন, আমরা সাতজনের এক প্রতিনিধি দল নবীজীর দরবারে পৌঁছলাম এবং তাঁর সাথে কথা বললাম। তখন তিনি আমাদের আকার-আকৃতি ও সাজগোজ দেখে আশ্চর্য হলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কারা? আমরা বললাম, আমরা মু'মিন। এটা শুনে নবীজী হেসে দিলেন। বললেন, সব বিষয়ের একটা বাস্তবতা থাকে। তোমাদের এ কথা ও ঈমানের বাস্তবতা কী? হযরত সুয়াইদ বলেন, আমরা বললাম- পনেরটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আছে। তন্মধ্যে পাঁচটি আপনার পাঠানো প্রতিনিধি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর পাঁচটি এমন যা আমরা জাহিলী যুগ থেকেই অভ্যস্ত এবং এখনো তাতে জমে আছি। যদি আপনার এটা অপছন্দ হয়, তাহলে আমরা সেসব ছেড়ে দেব। [আবু নাঈম, হায়াতুস্ সাহাবা: ৩: ৩৫]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক ইহুদীর কথা শুনে নবীজীর হাসি

📄 এক ইহুদীর কথা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, একজন ইহুদী আলিম নবীজীর কাছে আসল। এসে বলল, 'হে মুহাম্মদ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তাআলা পুরো আকাশমণ্ডলীকে এক আঙ্গুলে নিলেন, পুরো পৃথিবীকে এক আঙ্গুলে নিলেন, পাহাড় আর বৃক্ষরাজিকে এক আঙ্গুলে, পানি এবং পানির নীচের ভূমিকে এক আঙ্গুলে নিলেন এবং সবগুলোকে নাড়া দিলেন। আর বললেন, আমিই বাদশাহ, আমিই মালিক।'
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, এটা শুনে নবীজী এত হাসতে থাকেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল। এ হাসিটা ঐ ইহুদী আলিমের কথার সত্যায়নের হাসি ছিল। তারপর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতখানা তিলাওয়াত করেন-
وَمَا قَدَرُوا
অর্থাৎ 'এবং (আফসোসের ব্যাপার) তারা আল্লাহ তাআলার যেমন সম্মান করা দরকার তেমন সম্মান করেনি। অথচ (তাঁর সত্তা এত মহান) কিয়ামতের দিন পুরো পৃথিবী তাঁর মুষ্ঠিতে হবে এবং আকাশমণ্ডলী তাঁর ডান হাতে লেপ্টে থাকবে। তিনি পবিত্র এবং তাদের শিরক থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।' [বায়হাকী, বুখারী, মুসলিম, হায়াতুস্ সাহাবা: ৩: ২৭]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 আল্লাহ তাআলার হাসির কারণে নবীজীর হাসি

📄 আল্লাহ তাআলার হাসির কারণে নবীজীর হাসি


হযরত আলী ইবনে রবীয়া (রা.) বলেন, হযরত আলী (রা.) আমাকে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে হুররা'র দিকে রওয়ানা করেন। পথে তিনি তাঁর মাথা আকাশের দিকে উত্তোলন করে বলেন- اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ أَحَدٌ غَيْرُكَ অর্থাৎ- 'হে আমার আল্লাহ! আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ছাড়া আর কোন গুনাহ ক্ষমাকারী নেই।'
তারপর হাসতে হাসতে আমার দিকে তাকান। আমি বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং হাসতে হাসতে আমার দিকে দৃষ্টি দিলেন। এটা কী? হযরত আলী (রা.) বলেন, একবার আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে তাঁর বাহনে চড়ে হুররা'র দিকে যাচ্ছিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর তিনি আকাশের দিকে মাথা উত্তোলন করে বলেন- اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ أَحَدٌ غَيْرُكَ তারপর আমার দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং হাসেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং আমার দিকে হাসতে হাসতে দৃষ্টিপাত করলেন! (এটা কী?) তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আমার রবের হাসি দেখে আমি হেসেছি। আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি আশ্চর্য হন। কারণ বান্দা জানে যে, তার গুনাহ ক্ষমাকারী আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ নেই। [ইবনে আবি শায়বা, ইবনে মুনী', কানযুল উম্মাল: ১: ২১১, হায়াতুস্ সাহাবা: ৩: ৩৪৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00