📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আয়েশা (রা.)-এর কাজে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আয়েশা (রা.)-এর কাজে নবীজীর হাসি


হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হারীরা নামক এক ধরনের হালুয়া পেশ করলাম। যা আমি তাঁর জন্য রেঁধে ছিলাম। আমি হযরত সওদা (রা.) কে ডাকলাম। নবীজী আমার এবং তার মাঝখানে বসলেন। তিনি সওদা (রা.) কে বললেন, খাও। সওদা অস্বীকার করলেন। আমি বললাম, আপনাকে অবশ্যই খেতে হবে। যদি না খান তাহলে আমি এই হালুয়া আপনার চেহারায় লেপে দেব। তারপরও হযরত সওদা খেতে চাইলেন না। তখন আমি হাতে হালুয়া নিয়ে তার চেহারায় লেপে দিলাম। এটা দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে থাকেন এবং আয়েশা (রা.)-এর হাত ধরে ফেলেন। [আবু ইয়ালা, হায়াতুস্ সাহাবা: ২: ২৯৯]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত সাওদা (রা.)-এর কাজে নবীজীর হাসি

📄 হযরত সাওদা (রা.)-এর কাজে নবীজীর হাসি


হযরত সাওদা (রা.) বলেন, একবার হযরত আয়েশা (রা.) আমার চেহারায় হালুয়া লেপে দিয়েছিলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তুমিও আয়েশার চেহারায় লেপে দাও। আমি হালুয়া নিয়ে আয়েশা (রা.)-এর চেহারায় লেপে দিলাম। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। তখনই হযরত উমর (রা.) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- হে আবদুল্লাহ! হে আবদুল্লাহ! তিনি মনে করেছিলেন, উমর হয়তো ভিতরে চলে আসতে পারে। নবীজী বলেন- তোমরা গিয়ে মুখ ধুয়ে নাও। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি সব সময়ই উমরের ব্যাপারে ভয়ে থাকি। কেননা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও উমর (রা.)-এর ভীতিজনক ব্যক্তিত্বের খেয়াল রাখতেন।

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত উমর (রা.)-এর গুরু-গম্ভীর ব্যক্তিত্বের একটি ঘটনা

📄 হযরত উমর (রা.)-এর গুরু-গম্ভীর ব্যক্তিত্বের একটি ঘটনা


হযরত আয়েশা (রা.) বলেন- একদিন আমি লোকদের এবং ছেলেপেলেদের শোরগোল শুনতে পেলাম। দেখলাম, এক হাবশী মহিলা নাচছে। আর মানুষ তার আশপাশে জমায়েত হয়েছে। নবীজী বলেন- আয়েশা! ঐ দেখো! আমি আমার থুতনী নবীজীর কাঁধে রেখে দেখতে লাগলাম। অনেক্ষণ পর নবীজী ক্লান্ত হয়ে গেলেন। তখনই হযরত উমর (রা.) কে দেখা গেল। তাঁকে দেখে সেখানে উপস্থিত বড় ছোট সবাই দৌড়ে পালালো।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আমি দেখেছি, মানুষ এবং জিন শয়তানরা উমরকে দেখে ভাগতে থাকে। এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত উমর (রা.) যে রাস্তা দিয়ে চলেন সে রাস্তা ছেড়ে শয়তান ভেগে যায়। [আবু ইয়ালা, ইবনে আসাকির, ইবনুন্নাজ্জার, ইবনে আদী, কানযুল উম্মাল: ৭: ৩০২, হায়াতুস্ সাহাবা: ২: ৭৯৯]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)-এর ঘটনা শুনে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)-এর ঘটনা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত ইকরামা (রা.) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) তাঁর স্ত্রীর সাথে শুয়ে ছিলেন। সেখান থেকে উঠে তিনি তার ঘরের এক কোণায় থাকা দাসীর কাছে গেলেন এবং তার সাথে মগ্ন হয়ে গেলেন। ওদিকে স্ত্রী তাঁকে বিছানায় না দেখে ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেলেন। উঠে খুঁজতে লাগলেন। দাসীর কাছে গিয়ে দেখেন যে, সেখানে স্বামী মগ্ন হয়ে রয়েছেন। তখন স্ত্রী নিজ নিজ ঘরে ফিরে আসেন এবং একটা ছুরি নিয়ে স্বামীর দিকে যান। তখন স্বামী দাসী থেকে বেরিয়ে পড়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা স্ত্রীকে বলেন, কী ব্যপার? যদি আমি তোমাকে সেখানে পেতাম তাহলে তোমার দুই কাঁধের মাঝখানে এ ছুরি কূপে দিতাম। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) বলেন, তুমি আমাকে কোথায় দেখেছ? স্ত্রী বলেন, আমি তোমাকে দাসীর সাথে মত্ত অবস্থায় দেখেছি। হযরত আবদুল্লাহ বলেন, তুমি কি করতে দেখেছ?' অথচ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সবাইকে গোসল ফরজ অবস্থায় কুরআন মজীদ পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। এটা শুনে স্ত্রী বললেন, তুমি কুরআন পড়তো দেখি। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) একটি কবিতা আবৃত্তি করেন-
آتَانَا رَسُولُ اللَّهِ يَتْلُو كِتَابَهُ كَمَا لَاحَ مَشْهُورٌ مِّنَ الْفَغْرِ سَاطِعُ
أَتَى بِالْهُدَى بَعْدَ الْعَمَى فَقُلُوبُنَا بِهِ مُوْقِنَاتٌ أَنَّ مَا قَالَ وَاقِعُ
يَبْتُ يُجَافِي جَنْبُهُ عَنْ فِرَاشِهِ إِذَا اسْتَثْقَلَتْ بِالْمَشْرَكْنِ الْمَصَاجِعُ
* আমাদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভাগমন করেন এবং আল্লাহর কিতাব পড়েন, যেন সুপরিচিত ও বিস্তৃত প্রত্যেকটি প্রভাতের আলো প্রকাশিত হয়।
* তিনি মানুষের অন্ধত্বের যুগে হেদায়াত নিয়ে এসেছেন। সুতরাং আমাদের অন্তর তাঁকে গভীরভাবে বিশ্বাস করে। তিনি যা কিছু বলেছেন তা সত্য।
* তিনি এমনভাবে সারা রাত ইবাদতে কাটিয়ে দেন যে, তার শরীর বিছানার সাক্ষাত পায় না। অথচ তখন মুশরিকরা বিছানায় ঘুমিয়ে হারিয়ে যায়।
এটা শুনে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার স্ত্রী বলেন, আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম। আর আমি আমার চোখকে মিথ্যা সাব্যস্ত করছি। (অর্থাৎ তাঁর স্ত্রী এ কবিতাকে কুরআন ভেবে ধরে নিলেন যে, তার স্বামী দাসীর সাথে কিছু করেন নি।)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা সকাল ভোরে নবীজীর দরবারে হাজির হয়ে ঘটনাটি অবহিত করেন। শুনে নবীজী এমনভাবে হাসতে থাকেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। [দারাকুতনী, হায়াতুস সাহাবা ৩/১২]

টিকাঃ
১ তখন ক্রীতদাসী থাকতো, আর শরীয়তে ক্রীতদাসীর সাথে সহবাস বৈধ ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00