📄 এক ব্যক্তির জবাবে নবীজীর হাসি
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন- এক ব্যক্তি নবীজীর দরবারে হাজির হলো। এসে সে বললো, আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। আমি রমজান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। নবীজী বলেন- একজন দাস মুক্ত করে দাও। সে বললো- আমার কাছে কোন দাস-দাসী নেই। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তুমি দুই মাস একাধারে রোযা রাখ। সে বলল, এ শক্তিও আমার নেই। তখন তিনি বলেন, ষাটজন মিসকিনকে একবেলা খাবার খাওয়াও। সে বলল, এ সামর্থও আমার নেই। ঠিক তখন নবীজীর কাছে এক থলে খেজুর আসলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, প্রশ্নকারী কোথায়? সে হাজির হলে বলেন- এই থলে নিয়ে যাও এবং এ খেজুরগুলো সদকা করে দাও। সে বললো, আমার চেয়ে দরিদ্র ব্যক্তিকে কি সদকা করবো? আল্লাহর কসম! আমার চেয়ে দরিদ্র মদীনার দুই পাথুরে ভূমির মাঝখানে আর কেউ নেই।
এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে থাকেন। এত হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। তারপর বলেন- তুমি এবং তোমার পরিবার এটা খেয়ে নাও। [বুখারী: ২: ৮৯৯, হায়াতুস সাহাবা: ২: ৫৪৪]
📄 কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তির অপরাধের স্বীকারুক্তির ব্যাপারে নবীজীর হাসি
হযরত আবু যর (রা.) বলেন- প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আমি ঐ ব্যক্তিকে জানি যে প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং ঐ ব্যক্তির ব্যাপারেও জানি যে সবার শেষে দোযখ থেকে মুক্তি পাবে। তিনি বলেন- কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে সামনে হাজির করা হবে। বলা হবে, তার ছোট ছোট গুনাহগুলো পেশ কর। বড় বড় গুনাহগুলো লুকিয়ে রাখ। সে সবই স্বীকার করবে এবং বড় গুনাহর ব্যাপারে ভীত থাকবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হবে, তার সবগুলো গুনাহর বিনিময়ে সওয়াব দিয়ে দাও। এটা দেখে সে আবেদন করবে, আমার আরও অনেক গুনাহ আছে, যা আমি এখানে দেখছি না। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমি দেখলাম নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটুকু বলে হাসতে থাকেন। এত হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। [শামায়েলে তিরমিযী, হায়াতুস্ সাহাবা: ২: ৭৪৪]
📄 এক ব্যক্তির আল্লাহকে ‘ঠাট্টা করছেন’ বলায় নবীজীর হাসি
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আমি ঐ ব্যক্তিকে চিনি যে সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বের হবে। সর্বশেষে এক লোককে বসা অবস্থায় টেনে হেঁচড়ে বের করা হবে। তাকে বলা হবে, যা জান্নাতে গিয়ে প্রবেশ কর। সে জান্নাতে গিয়ে দেখবে যে, জান্নাতের সব জায়গা পরিপূর্ণ। তার জন্য কোন খালি জায়গা নেই। সে ফিরে আসবে। বলবে, হে রব! লোকেরা সব জায়গা দখল করে আছে। তাকে বলা হবে- তুমি কামনা কর। সে কামনা করবে। তাকে বলা হবে, তুমি যা কামনা করেছ তা তোমাকে দেয়া হলো। এমনকি দুনিয়ার চেয়ে দশগুণ বেশি তোমাকে দেয়া হলো। সে তখন বলবে, হে আমার রব! তুমি আমার সাথে ঠাট্টা করছো? অথচ তুমি বাদশাহ, তুমিই মালিক! (সেখানে তো একটুও জায়গা খালি নেই।) বর্ণনাকারী বলেন, এটা বলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল। [শামায়েলে তিরমিযী, হায়াতুস্ সাহাবা ২ ৭৪৫, বুখারী: ২:৯৭২]
📄 হযরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর আত্মমর্যাদাবোধে নবীজীর হাসি
হযরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হয়ে বললো, অমুক লোক আমার পিতার স্ত্রীর কাছে যাওয়া আসা করে। হযরত উবাই তখন বলে উঠলেন, যদি আমি হতাম তাহলে তার গর্দান তলোয়ার দিয়ে উড়িয়ে দিতাম। এটা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। বললেন- হে উবাই! তুমি তো ভীষণ আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি। আমি তোমার চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এবং আল্লাহ তাআলা আরও বেশি। (যার আত্মমর্যাদাবোধ নেই সে মানুষ নয়, গাধা।)
হযরত মুগীরা (রা.) থেকে বর্ণিত, হযরত সাদ ইবনে উবাদা (রা.) বলেন, আমি যদি আমার স্ত্রীর কাছে কাউকে পাই, তাহলে চার সাক্ষির অপেক্ষা করবো না। বরং তার গর্দান তলোয়ার দিয়ে উড়িয়ে দেব। আনসার সাহাবীরা নবীজীকে ব্যাপারটি বললে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা সাদ ইবনে উবাদাকে বকাঝকা করো না। সে খুব আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি। সে কখনও কুমারী ছাড়া কাউকে বিবাহ করেনি। আর যাকে সে তালাক দিয়েছে তাকে আবার তার সাথে বিবাহের ব্যবস্থা করিনি, তার মর্যাদাবোধের কারণে।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তোমরা সাদ ইবনে উবাদার আত্মমর্যাদাবোধে আশ্চর্য হচ্ছো, আমি তার চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ করি এবং আল্লাহ তাআলা তারচেয়েও বেশি আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন সত্তা।
একবার হযরত আলী (রা.) বলেন, আমার কাছে তোমাদের স্ত্রীদের এ খবর কি আসেনি যে, তারা বাজারে গিয়ে অনারব লোকদের ধাক্কা খেয়ে চলে। তোমাদের কি আত্মমর্যাদাবোধ বলতে কিছু নেই! (যে তোমাদের স্ত্রীরা ঢ্যাং ঢ্যাং করে বাজারে ঘুরে বেড়ায়)। তারপর বলেন, যার মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ নেই তার মধ্যে কোন কল্যাণই নেই। [বুখারী, মুসলিম, ইবনে আসাকির, আবু ইয়ালা, আহমদ, কানযুল উম্মাল: ২: ১৬১, হায়াতুস সাহাবা: ২: ৭৪৬]