📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত সা’দ (রা.)-এর তীর চালনা দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত সা’দ (রা.)-এর তীর চালনা দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আমির ইবনে সা'দ (রা.) বলেন- আমার পিতা হযরত সা'দ (রা.) বলেন- আমি খন্দকের যুদ্ধের দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এত হাসতে দেখেছি যে, তাঁর মাড়ির দাঁতগুলো দেখা যাচ্ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কীভাবে হলো?
হযরত আমির (রা.) জবাবে বলেন- এক ব্যক্তির কাছে ঢাল ছিল। আর সাদ (রা.) তো তীর চালনায় অভিজ্ঞ ছিলেন। ঐ ব্যক্তিটি তার ঢাল এদিক ওদিক ঘুরাচ্ছিল এবং তার কপালকে হেফাজত করতে সচেষ্ট ছিল। সাদ (রা.) তার জন্য তীর বের করলেন। যখন লোকটি তার মাথা উঁচু করলো, সাথে সাথে সা; (রা.) তার দিকে তীর ছুঁড়ে মারেন। তীর লোকটির কপাল ভুল করেনি। ফলে সে লুটিয়ে পড়লো এবং তার পা উপরের দিকে উঠে গেল। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে থাকেন। এত হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল। আমি সাদ (রা.) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবীজী কি কারণে হেসেছিলেন? হযরত আমির বলেন- লোকটির সাথে হযরত সাদ (রা.)-এর ঐ আচরণে নবীজী হাসছিলেন। [তিরমিযী- শামাইল অধ্যায়, হায়াতুস সাহাবা: ২: ৭৪৪]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক ব্যক্তির জবাবে নবীজীর হাসি

📄 এক ব্যক্তির জবাবে নবীজীর হাসি


হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন- এক ব্যক্তি নবীজীর দরবারে হাজির হলো। এসে সে বললো, আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। আমি রমজান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। নবীজী বলেন- একজন দাস মুক্ত করে দাও। সে বললো- আমার কাছে কোন দাস-দাসী নেই। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তুমি দুই মাস একাধারে রোযা রাখ। সে বলল, এ শক্তিও আমার নেই। তখন তিনি বলেন, ষাটজন মিসকিনকে একবেলা খাবার খাওয়াও। সে বলল, এ সামর্থও আমার নেই। ঠিক তখন নবীজীর কাছে এক থলে খেজুর আসলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, প্রশ্নকারী কোথায়? সে হাজির হলে বলেন- এই থলে নিয়ে যাও এবং এ খেজুরগুলো সদকা করে দাও। সে বললো, আমার চেয়ে দরিদ্র ব্যক্তিকে কি সদকা করবো? আল্লাহর কসম! আমার চেয়ে দরিদ্র মদীনার দুই পাথুরে ভূমির মাঝখানে আর কেউ নেই।
এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে থাকেন। এত হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। তারপর বলেন- তুমি এবং তোমার পরিবার এটা খেয়ে নাও। [বুখারী: ২: ৮৯৯, হায়াতুস সাহাবা: ২: ৫৪৪]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তির অপরাধের স্বীকারুক্তির ব্যাপারে নবীজীর হাসি

📄 কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তির অপরাধের স্বীকারুক্তির ব্যাপারে নবীজীর হাসি


হযরত আবু যর (রা.) বলেন- প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আমি ঐ ব্যক্তিকে জানি যে প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং ঐ ব্যক্তির ব্যাপারেও জানি যে সবার শেষে দোযখ থেকে মুক্তি পাবে। তিনি বলেন- কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে সামনে হাজির করা হবে। বলা হবে, তার ছোট ছোট গুনাহগুলো পেশ কর। বড় বড় গুনাহগুলো লুকিয়ে রাখ। সে সবই স্বীকার করবে এবং বড় গুনাহর ব্যাপারে ভীত থাকবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হবে, তার সবগুলো গুনাহর বিনিময়ে সওয়াব দিয়ে দাও। এটা দেখে সে আবেদন করবে, আমার আরও অনেক গুনাহ আছে, যা আমি এখানে দেখছি না। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমি দেখলাম নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটুকু বলে হাসতে থাকেন। এত হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। [শামায়েলে তিরমিযী, হায়াতুস্ সাহাবা: ২: ৭৪৪]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক ব্যক্তির আল্লাহকে ‘ঠাট্টা করছেন’ বলায় নবীজীর হাসি

📄 এক ব্যক্তির আল্লাহকে ‘ঠাট্টা করছেন’ বলায় নবীজীর হাসি


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আমি ঐ ব্যক্তিকে চিনি যে সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বের হবে। সর্বশেষে এক লোককে বসা অবস্থায় টেনে হেঁচড়ে বের করা হবে। তাকে বলা হবে, যা জান্নাতে গিয়ে প্রবেশ কর। সে জান্নাতে গিয়ে দেখবে যে, জান্নাতের সব জায়গা পরিপূর্ণ। তার জন্য কোন খালি জায়গা নেই। সে ফিরে আসবে। বলবে, হে রব! লোকেরা সব জায়গা দখল করে আছে। তাকে বলা হবে- তুমি কামনা কর। সে কামনা করবে। তাকে বলা হবে, তুমি যা কামনা করেছ তা তোমাকে দেয়া হলো। এমনকি দুনিয়ার চেয়ে দশগুণ বেশি তোমাকে দেয়া হলো। সে তখন বলবে, হে আমার রব! তুমি আমার সাথে ঠাট্টা করছো? অথচ তুমি বাদশাহ, তুমিই মালিক! (সেখানে তো একটুও জায়গা খালি নেই।) বর্ণনাকারী বলেন, এটা বলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল। [শামায়েলে তিরমিযী, হায়াতুস্ সাহাবা ২ ৭৪৫, বুখারী: ২:৯৭২]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00