📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হাকীম ইবনে হায্যয়ানের কবিতা শুনে নবীজীর হাসি

📄 হাকীম ইবনে হায্যয়ানের কবিতা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত উরওয়া (রা.) বলেন, হাকীম ইবনে হাযযাম ইয়ামন গেলেন। ফেরার সময় সেখান থেকে খুব দামি শাহী পোশাক কিনে আনলেন। ইসলাম গ্রহণ করার আগে তিনি মদীনায় গিয়ে নবীজীকে এ পোশাকটি উপহার হিসেবে পেশ করেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, আমরা মুশরিকের উপহার গ্রহণ করি না। ফলে হাকীম ইবনে হাযযাম পোশাকটি বিক্রি করতে গেলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা ক্রয় করার নির্দেশ দিলেন। কিনে আনার পর সেটা পরিধান করে মসজিদে গমন করেন। হাকীম বলেন- আমি কখনও তাঁর চেয়ে এত সুন্দর আর কাউকে দেখিনি। মনে হচ্ছিল যেন পূর্ণিমার চাঁদ। আমি যখন তাঁকে এ পোশাকে দেখলাম তখন আমি আমাকে হারিয়ে ফেলি। আমার অজান্তেই আমার মুখ থেকে বেরিয়ে পড়লো-
مَا تَنْظُرُ الْحُكَّامُ بِالْحُكْمِ بَعْدَهَا * بَدَا وَاضِعُ ذُوغَرَّةٍ وَحَجُولٍ
إِذَا وَاضَعُوهُ الْمَسْجِدَ رَبِّي عَلَيْهِمْ بِمُتَفَرِّعْ مَاءِ الذُّبَابِ سَخِيلٍ
“নির্দেশ দানকারী এরপর কী নির্দেশ দেবেন যখন এমন ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ পেয়েছে, যাঁর কপাল হাত-পা সবই চমকাচ্ছে। যখন তাঁকে গভীর দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, ভদ্রতা মানুষকে আরও প্রভাবিত করে। (মনে হয় যেন) স্বচ্ছ পরিষ্কার প্রবাহমান পানি তার উপর ঢেলে দেয়া হয়েছে।”
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, নবীজী পোশাকটি নিজেই তার কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন। কিছুদিন পর হযরত উসামা (রা.) কে সেটা দিয়ে দেন। [ইবনে জরীর, হাকীম, কানযুল উম্মাল ৩: ১৭৭, হায়াতুস সাহাবা: ২: ২৭৫]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 আনসার সাহাবীদের একত্রিত হওয়া দেখে নবীজীর হাসি

📄 আনসার সাহাবীদের একত্রিত হওয়া দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আমর ইবনে আওফ আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহকে বাহরাইন প্রেরণ করেন যেন তিনি সেখান থেকে জিযিয়া বা অমুসলিমদের উপর আরোপিত কর উসুল করে আনেন। তিনি সেখান থেকে জিযিয়া উসুল করে আনেন। যখন আনসার সাহাবীগণ জানতে পারলেন যে, আবু উবাইদা (রা.) এসেছেন, তখন তারা সবাই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ফজরের নামায পড়ে তাঁর সামনে বসলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দেখে হেসে দিলেন। তারপর বলেন, আমার মনে হয়, তোমরা খবর পেয়েছ যে, আবু উবায়দা বাহরাইন থেকে কিছু নিয়ে এসেছেন। সাহাবারা জবাব দিলেন- জি হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ!
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদেরকে সুসংবাদ দিচ্ছি, তোমরা এমন ব্যাপারে আশান্বিত থাক যা তোমাদেরকে খুশি করে দেবে। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দরিদ্রতার ভয় করি না। বরং তোমাদের সামনে দুনিয়া প্রসারিত হওয়ার ব্যাপারে আমি ভীত। তোমাদের পূর্বসুরীদের সামনে যেভাবে দুনিয়া প্রসারিত হয়ে গিয়েছিল। তোমরা ধীরে ধীরে দুনিয়ার মোহে পড়ে যাবে। তোমাদের পূর্বসুরীদের মতো। তারপর দুনিয়া তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে। যেমন তোমাদের পূর্বসুরীদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। [বুখারী, মুসলিম, তারগীব ও হায়াতুস সাহাবা: ২: ২৯২]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আবু বকর ও উমর (রা.)কে দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আবু বকর ও উমর (রা.)কে দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আনাস (রা.) বলেন- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুহাজির ও আনসার সাহাবাদের মধ্যে আবু বকর ও উমর (রা.)ও বসা থাকতেন। নবীজী আগমন করলে এ দু'জন ছাড়া আর কেউ তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতেন না। এঁরা দু'জন নবীজীকে দেখতেন আর নবীজীও তাঁদেরকে দেখতেন। তাঁরা নবীজীকে দেখে হাসতেন। নবীজীও তাঁদেরকে দেখে মুচকি হাসি দিতেন।
হযরত বারা ইবনে আযিব (রা.) বলেন- আমরা নবীজীর মজলিসে এমনভাবে চুপচাপ বসে থাকতাম যেন আমাদের মাথায় পাখি বসে আছে, আর নড়লেই তা উড়ে যাবে। কেউ কোন কথা বলছে না। তখন হঠাৎ কিছু লোক নবীজীর কাছে আসলো। তারা জিজ্ঞেস করলো- আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা কে?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী। [হাকীম, তিরমিযী, তাবারানী, ইবনে হিব্বান, আবু ইয়ালা, শিফা লিল কাযী ইয়াজ, তরজুমানুস সুন্নাহ, কানযুল উম্মাল ৭: ১১১, হায়াতুস সাহাবা: ২: ৩৬৪]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত সাফিনার কাজে নবীজীর হাসি

📄 হযরত সাফিনার কাজে নবীজীর হাসি


হযরত সাফিনাহ (রা.) বর্ণনা করেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সিঙা লাগিয়ে বিষাক্ত রক্ত বের করালেন। সেটা আমাকে দিয়ে বললেন- এটা এমন জায়গায় মাটিচাপা দিয়ে দাও যেন কোন প্রাণী এর নাগাল না পায়। আমি নবীজীর থেকে সরে আড়াল হয়েই তা পান করে ফেললাম। পরে নবীজীকে ঘটনাটি বললে তিনি শুনে হেসে দিলেন।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন- তাঁর পিতা মালিক ইবনে সিনান (রা.) ওহুদের যুদ্ধে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহত হন এবং চেহারা থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল তখন তিনি তাঁর রক্ত চুষতে ছিলেন। আর গিলে খাচ্ছিলেন।
তাঁকে বলা হলো, আপনি নবীজীর রক্ত চুষছেন? তিনি বলেন- হ্যাঁ, আমি হুযুরের রক্ত পান করছি। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার রক্ত তার রক্তের সাথে মিশে গিয়েছে। এখন আর জাহান্নামের আগুন তার গায়ে লাগবে না। [তাবারানী, মাজমাউয যাওয়াইদ লিল হায়ছামী, হায়াতুস্ সাহাবা: ২ : ২৬৭]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00