📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 এক আনসার সাহাবীর কথায় নবীজীর হাসি

📄 এক আনসার সাহাবীর কথায় নবীজীর হাসি


হযরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হলো এবং তার কাছে কিছু চাইলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কাছে তো কিছু নেই, আমি তোমাকে কী দেব! বরং তুমি আমার নামে কোন কিছু কিনে নিয়ে যাও। আমার হাতে যখন টাকা আসবে তখন আমি পরিশোধ করে দেব।
এটা শুনে হযরত উমর (রা.) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তাকে দিয়েছেন। কিন্তু যা আপনার হাতে নেই, আল্লাহ তাআলা তার দায়িত্ব আপনাকে দেননি।
উমর (রা.)-এর কথা নবীজীর ভালো লাগলো না। এক আনসার ব্যক্তি বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আপনি খরচ করুন এবং আরশের মালিকের পক্ষ থেকে কোন সংকীর্ণতার ভয় করবেন না। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। তাঁর পবিত্র উজ্জ্বল চেহারায় মুচকি হাসির ঝলক ফুটে উঠলো। তাঁর কথা হলো, তাঁকে এ কাজেরই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত জাবির (রা.) বলেন- এক ব্যক্তি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হলো এবং কিছু চাইল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দিলেন। তখনই আরেক ব্যক্তি আসলো। সেও কিছু চাইলো। তিনি তার সাথে ওয়াদা করে ফেললেন। এটা দেখে হযরত উমর (রা.) দাঁড়িয়ে গেলেন। বললেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে একজন চাইলো। আপনি দিলেন। আরেকজন চাইলো। আপনি দিলেন। তৃতীয় আরেকজন চাইলো। আপনি তার সাথে ওয়াদা করে ফেললেন।
উমরের কথাটি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালো লাগলো না। আবদুল্লাহ ইবনে হুযাইফা সাহমী দাঁড়িয়ে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি খরচ করুন এবং আরশের মালিকের পক্ষ থেকে মুখপেক্ষিতার ভয় করবেন না। এটা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মনীতি।
একবার হযরত বেলাল (রা.) কে বলেন- হে বেলাল! খরচ কর, আরশের মালিকের পক্ষ থেকে সংকীর্ণতার ভয় করো না।
হযরত আনাস (রা.) বলেন- হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে তিনটা পাখি হাদীয়া হিসেবে আসলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা পাখি খাদেমার কাছে দিলেন। সে দ্বিতীয় দিন ঐ পাখিটি খাবারের সাথে নবীজীর সামনে হাজির করলো। তিনি বলেন- আমি কি তোমাকে কোন জিনিস আগামীকালের জন্য রেখে দিতে নিষেধ করিনি? আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন আমার কাছে জীবিকা প্রেরণ করেন। [তিরমিযী, ইবনে জরীর, বায্যার, তাবারানী, আবু নায়ীম, আবু ইয়ালা ও হায়াতুস্ সাহাবা ২: ১৬৩]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হাকীম ইবনে হায্যয়ানের কবিতা শুনে নবীজীর হাসি

📄 হাকীম ইবনে হায্যয়ানের কবিতা শুনে নবীজীর হাসি


হযরত উরওয়া (রা.) বলেন, হাকীম ইবনে হাযযাম ইয়ামন গেলেন। ফেরার সময় সেখান থেকে খুব দামি শাহী পোশাক কিনে আনলেন। ইসলাম গ্রহণ করার আগে তিনি মদীনায় গিয়ে নবীজীকে এ পোশাকটি উপহার হিসেবে পেশ করেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, আমরা মুশরিকের উপহার গ্রহণ করি না। ফলে হাকীম ইবনে হাযযাম পোশাকটি বিক্রি করতে গেলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা ক্রয় করার নির্দেশ দিলেন। কিনে আনার পর সেটা পরিধান করে মসজিদে গমন করেন। হাকীম বলেন- আমি কখনও তাঁর চেয়ে এত সুন্দর আর কাউকে দেখিনি। মনে হচ্ছিল যেন পূর্ণিমার চাঁদ। আমি যখন তাঁকে এ পোশাকে দেখলাম তখন আমি আমাকে হারিয়ে ফেলি। আমার অজান্তেই আমার মুখ থেকে বেরিয়ে পড়লো-
مَا تَنْظُرُ الْحُكَّامُ بِالْحُكْمِ بَعْدَهَا * بَدَا وَاضِعُ ذُوغَرَّةٍ وَحَجُولٍ
إِذَا وَاضَعُوهُ الْمَسْجِدَ رَبِّي عَلَيْهِمْ بِمُتَفَرِّعْ مَاءِ الذُّبَابِ سَخِيلٍ
“নির্দেশ দানকারী এরপর কী নির্দেশ দেবেন যখন এমন ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ পেয়েছে, যাঁর কপাল হাত-পা সবই চমকাচ্ছে। যখন তাঁকে গভীর দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, ভদ্রতা মানুষকে আরও প্রভাবিত করে। (মনে হয় যেন) স্বচ্ছ পরিষ্কার প্রবাহমান পানি তার উপর ঢেলে দেয়া হয়েছে।”
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, নবীজী পোশাকটি নিজেই তার কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন। কিছুদিন পর হযরত উসামা (রা.) কে সেটা দিয়ে দেন। [ইবনে জরীর, হাকীম, কানযুল উম্মাল ৩: ১৭৭, হায়াতুস সাহাবা: ২: ২৭৫]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 আনসার সাহাবীদের একত্রিত হওয়া দেখে নবীজীর হাসি

📄 আনসার সাহাবীদের একত্রিত হওয়া দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আমর ইবনে আওফ আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহকে বাহরাইন প্রেরণ করেন যেন তিনি সেখান থেকে জিযিয়া বা অমুসলিমদের উপর আরোপিত কর উসুল করে আনেন। তিনি সেখান থেকে জিযিয়া উসুল করে আনেন। যখন আনসার সাহাবীগণ জানতে পারলেন যে, আবু উবাইদা (রা.) এসেছেন, তখন তারা সবাই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ফজরের নামায পড়ে তাঁর সামনে বসলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দেখে হেসে দিলেন। তারপর বলেন, আমার মনে হয়, তোমরা খবর পেয়েছ যে, আবু উবায়দা বাহরাইন থেকে কিছু নিয়ে এসেছেন। সাহাবারা জবাব দিলেন- জি হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ!
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদেরকে সুসংবাদ দিচ্ছি, তোমরা এমন ব্যাপারে আশান্বিত থাক যা তোমাদেরকে খুশি করে দেবে। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দরিদ্রতার ভয় করি না। বরং তোমাদের সামনে দুনিয়া প্রসারিত হওয়ার ব্যাপারে আমি ভীত। তোমাদের পূর্বসুরীদের সামনে যেভাবে দুনিয়া প্রসারিত হয়ে গিয়েছিল। তোমরা ধীরে ধীরে দুনিয়ার মোহে পড়ে যাবে। তোমাদের পূর্বসুরীদের মতো। তারপর দুনিয়া তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে। যেমন তোমাদের পূর্বসুরীদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। [বুখারী, মুসলিম, তারগীব ও হায়াতুস সাহাবা: ২: ২৯২]

📘 নবীজীর ﷺ হাসি > 📄 হযরত আবু বকর ও উমর (রা.)কে দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আবু বকর ও উমর (রা.)কে দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আনাস (রা.) বলেন- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুহাজির ও আনসার সাহাবাদের মধ্যে আবু বকর ও উমর (রা.)ও বসা থাকতেন। নবীজী আগমন করলে এ দু'জন ছাড়া আর কেউ তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতেন না। এঁরা দু'জন নবীজীকে দেখতেন আর নবীজীও তাঁদেরকে দেখতেন। তাঁরা নবীজীকে দেখে হাসতেন। নবীজীও তাঁদেরকে দেখে মুচকি হাসি দিতেন।
হযরত বারা ইবনে আযিব (রা.) বলেন- আমরা নবীজীর মজলিসে এমনভাবে চুপচাপ বসে থাকতাম যেন আমাদের মাথায় পাখি বসে আছে, আর নড়লেই তা উড়ে যাবে। কেউ কোন কথা বলছে না। তখন হঠাৎ কিছু লোক নবীজীর কাছে আসলো। তারা জিজ্ঞেস করলো- আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা কে?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী। [হাকীম, তিরমিযী, তাবারানী, ইবনে হিব্বান, আবু ইয়ালা, শিফা লিল কাযী ইয়াজ, তরজুমানুস সুন্নাহ, কানযুল উম্মাল ৭: ১১১, হায়াতুস সাহাবা: ২: ৩৬৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00