📘 নবীজির সাঃ পদাঙ্ক অনুসরণ > 📄 আল্লাহ তোমার সাথে আছেন

📄 আল্লাহ তোমার সাথে আছেন


রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহকে হেফাজত করো, তাহলে তাঁকে তুমি তোমার সামনে পাবে।" আরেক বর্ণনায় আছে, “আল্লাহকে হেফাজত করো, তাহলে তাঁকে তুমি তোমার আগে পাবে।” এর অর্থ হলো, যে কেউ আল্লাহর নির্ধারিত সীমা হেফাজত করে এবং তাঁর অধিকারসমূহ যত্নসহকারে পালন করে, সে সকল ব্যাপারে আল্লাহকে তার সাথে পাবে। আল্লাহ তাকে বেষ্টন করে রাখবেন, সাহায্য করবেন, সংরক্ষণ করবেন, অবলম্বন দান করবেন, তার পা দৃঢ় রাখবেন, এবং আসমানি সাহায্য প্রদান করবেন। তিনি “প্রত্যেক প্রাণীর উপার্জনের প্রতি দৃষ্টি রাখেন”৮৭ এবং তিনি “যারা তাকওয়া অবলম্বন করে আর সৎকর্মশীল, তাদের সাথে আছেন।”৮৮
কাতাদাহ বলেন, “যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের সাথে আছেন। কারও সাথে যদি আল্লাহ থাকেন, তাহলে তো সে এমন পক্ষকে নিজের সাথে পেল যে কখনো পরাজিত হবে না; এমন পাহারাদার পেল, যে কখনো ঘুমাবে না; এমন পথপ্রদর্শক পেল, যে কখনো পথ হারাবে না।”৮৯
একজন সালাফ তাঁর এক ভাইয়ের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, “পর সমাচার এই যে... আল্লাহ যদি তোমার সাথে থাকেন, তাহলে তোমার আর ভয় কিসের? তিনি যদি তোমার বিরুদ্ধে থাকেন, তাহলে তুমি আর কার উপর আশা-ভরসা করবে? সালাম।"
এই “সঙ্গে থাকার বিষয়”টি বিশেষ এবং আলাদা, যা কেবল মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত। এখানে সাধারণভাবে "সঙ্গে থাকা”র কথা বোঝাচ্ছে না, যার কথা নিম্নোক্ত আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে:
"...তোমরা যেখানেই থাকো, তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন..."১০
"কিন্তু তারা আল্লাহ হতে গোপন করতে পারে না, কেননা যে সময়ে তারা রাতে এমন বিষয়ে পরামর্শ করে যা আল্লাহ পছন্দ করেন না, তখনো তিনি তাদের সঙ্গেই আছেন..."১১
বিশেষ "সঙ্গে থাকা” বলতে সাহায্য, সহযোগিতা ও হেফাজত করা বোঝায়। যেমনটি আল্লাহ বলেছিলেন মূসা ও হারুন -কে
"... আমি তোমাদের সাথেই আছি। আমি (সবকিছু) শুনি ও দেখি।”১২
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"...সে তার সঙ্গীকে বলেছিল, 'চিন্তা কোরো না, আল্লাহ আমাদের সাথেই আছেন।'..."১৩
নবীজি আবু বকর-কে বলেছিলেন, "এমন দুইজনের ব্যাপারে তুমি কী মনে করো, যাদের তৃতীয়জন হলেন আল্লাহ?”১৪
এখানে "সঙ্গে থাকা” বলতে যা বোঝানো হয়েছে, তা নিম্নোক্ত আয়াতে বর্ণিত বিষয়টির মতো নয়:
"...তিনজনের মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যাতে চতুর্থজন আল্লাহ হন না। আর পাঁচজনেও হয় না ষষ্ঠজন তিনি ছাড়া। এর কমসংখ্যকেও হয় না, আর বেশিসংখ্যকেও না, তিনি তাদের সঙ্গে থাকা ব্যতীত, তারা যেখানেই থাকুক না কেন... "১৫
এটি সাধারণ অর্থে এবং যে কারও ক্ষেত্রেই সত্য।১৬ আর বিশেষায়িত “সঙ্গে থাকা”র কথা বলা হয়েছে এই হাদীসে,
“...বান্দা নফল ইবাদাত করার মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে। এমনকি আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি তখন আমি তার শ্রবণশক্তি হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার দৃষ্টিশক্তি হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে আঘাত করে, তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে হাঁটে।”৯৭
কিতাব ও সুন্নাহর এমন প্রচুর উদাহরণ থেকে প্রমাণিত হয় যে মহান প্রতিপালক তাদের নিকটবর্তী-যারা তাঁকে মান্য করে, তাকওয়া অবলম্বন করে, তাঁর নির্ধারিত সীমা হেফাজত করে এবং তাঁর অধিকারসমূহ আদায় করে।
তাবুকে যাওয়ার সময় বুনান আল-হাম্মাল এক খোলা ভূমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে হঠাৎ তিনি একাকিত্ব বোধ করেন। তখন এক কণ্ঠ শোনা যায়, "কেন তুমি একা বোধ করছ? তোমার ভালোবাসার পাত্র (আল্লাহ) কি তোমার সাথে নন?”৯৮
অতএব যে'কেউ আল্লাহকে হেফাজত করে ও তাঁর অধিকারসমূহের ব্যাপারে যত্নবান হয়, সে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে নিজের সামনে ও আগে পাবে। সে তাঁরই মাঝে স্বস্তি খুঁজে পাবে এবং মাখলুকের বদলে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হবেন। হাদীসে আছে, “সর্বশ্রেষ্ঠ ঈমান হলো-বান্দা জানবে যে-সে যেখানেই থাকুক না কেন, আল্লাহ তার সাথে আছেন।” হাদীসটি তাবারানি ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। ১৯
এই বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করতে গেলে আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ হয়ে যাবে। ১০০
এক প্রাজ্ঞ আলিম একা একা সফর করছিলেন। কিছু মানুষ তাঁকে বিদায় জানানোর জন্য এলে তিনি এই কবিতা দিয়ে উত্তর দেন: যখন যাত্রা করি মোরা এমনকি রাতেও, তোমার সঙ্গ আর যিকির শ্রেষ্ঠ পাথেয়।
শিবলি এই কবিতা প্রায়ই পাঠ করতেন এবং কখনো কখনো এটি আবৃত্তি করে মজলিস শেষ করে উঠতেন।

টিকাঃ
৮৭ সূরাহ আর-রা'দ, ১৩: ৩৩
৮৮ সূরাহ আন-নাহল, ১৬: ১২৮
৮৯ আবু নুয়াইম: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪০
৯০ সূরাহ আল-হাদীদ, ৫৭:৪
৯১ সূরাহ আন-নিসা, ৪: ১০৮
৯২ সূরাহ ত্বা-হা, ২০ : ৪৬
৯৩ সূরাহ আত-তাওবাহ, ৯:৪০
৯৪ বুখারি: ৩৬৫৩-৩৯২২-৪৬৬৩; মুসলিম : ২৩৮১; আবু বাকর ১২ থেকে বর্ণিত।
৯৫ সূরাহ আল-মুজাদালাহ, ৫৮ : ৭
৯৬ লেখক জামিউল উলুম খণ্ড ১, ৪৭১ পৃষ্ঠায় যোগ করেন, "এই 'সাথে থাকা' অর্থ হলো তিনি জানেন তারা কী করে, তিনি তাদের ব্যাপারে পূর্ণ ওয়াকিফহাল, সতর্ক নজরদারি কারী। এর ফলে তাঁর প্রতি ভয় তৈরি হয়।"
৯৭ বুখারি: ৬৫০২; আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। একই রকম হাদীস মুসনাদু আহমাদে আইশা থেকে, তাবারানিতে আবু উমামা থেকে, ইসমাঈলির মুসনাদ আলিতে আলি থেকে, তাবারানিতে ইবনু আব্বাস থেকে, তাবারানিতে আনাস থেকে, আবু ইয়ালাতে মায়মুনাহ থেকে। তাহকিক কালিমাতুল ইখলাস গ্রন্থে ইবনু রজব বলেন, “এর অর্থ হলো, ভালোবাসা যখন হৃদয়কে ভরে ফেলে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তখন কেবল রবের পছন্দনীয় কাজই করবে। এই অবস্থায় আত্মা প্রশান্তি বোধ করবে। কারণ, তা এমনই বিলীন হয়ে গেছে যে, নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে সে কেবল রবের ইচ্ছানুযায়ীই কাজ করে। হে আল্লাহর বান্দা, সেভাবে আল্লাহর ইবাদাত করো, যেমনটা তিনি চান। তুমি যেভাবে চাও, সেভাবে না। শেষোক্ত পদ্ধতিতে ইবাদাতকারী বান্দা যেন নড়বড়ে কিনারায় দাঁড়িয়ে ইবাদাত করছে। তার সাথে ভালো কিছু ঘটলে সে খুশি থাকে। কিন্তু পরীক্ষা এলে সে পেছন ফিরে চলে যায়। ফলে দুনিয়া ও আখিরাত দুইই হারায়। প্রজ্ঞা ও ভালোবাসা যখন শক্তিশালী হয়ে যায়, বান্দা তখন তার রবের ইচ্ছানুযায়ীই চলে।"
৯৮ আবু নুয়াইম: খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩২৪
৯৯ তাবারানি, আল-কাবির এবং আল-আসওয়াত: ৮৭৯৬; আবু নুয়াইম খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১২৪; আবু উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত। সুয়ুতি, আল-জামিউস সগীর ১৪২৩ এবং আলবানি, আয-যঈফাহ, ২৫৮৯-এ একে যঈফ বলেছেন
১০০ কাশফুল কুরবাহ গ্রন্থে ইবনু রজব লেখেন, "তাঁদের অনেকের মাখলুকের সাথে ভাব আদানপ্রদানের শক্তিই থাকত না। তাই তাঁরা প্রিয়তম রবের সাথে একা থাকার জন্য নির্জনে পালিয়ে যেতেন। এ জন্যই তাঁদের অনেকে লম্বা সময় নির্জনবাস করতেন। তাঁদের একজনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'আপনি কি একাকিত্বের তিক্ততা অনুভব করেন না?' তিনি জবাব দেন, “কী করে তা অনুভব করতে পারি, যখন তিনি বলেছেন তিনি তাঁর স্মরণকারীর সঙ্গী?' আরেকজন বলেছিলেন, 'কী করে কেউ নিঃসঙ্গতা অনুভব করতে পারে, যখন আল্লাহ তার সাথে আছেন?' আরেকজন বলেছিলেন, 'একা থাকলে নিঃসঙ্গতার তিক্ততা অনুভব করার কারণ হলো রবের সাথে প্রশান্তি লাভ করতে না পারার লক্ষণ।' ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায ঘন ঘন নির্জনবাসে যেতেন। তাঁর ভাই তাঁকে এ জন্য তিরস্কার করে বলেছিলেন, 'আপনি যদি মানুষদের মাঝে একজন মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার মানুষের সঙ্গও প্রয়োজন।' তিনি জবাব দেন, 'আপনি মানুষের মাঝে একজন মানুষ হয়ে থাকলে আপনার আল্লাহকে প্রয়োজন।' তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়, 'আপনি মানুষের কাছ থেকে হিজরত করে চলে গেছেন। তাহলে আপনি কার সাথে থাকেন?' তিনি জবাব দেন, 'তাঁর সাথেই, যার ওয়াস্তে আমি হিজরত করেছি।' গাযওয়ানকে একবার নির্জনবাসের কারণে তিরস্কার করা হলে তিনি জবাব দেন, 'যিনি আমার প্রয়োজন পূরণ করেন, তাঁর সাথে বসে আমি প্রশান্তি লাভ করি।' তাঁরা গুরাবা ছিলেন বলে তাঁদের কাউকে পাগল ভাবা হতো, যেমনটা ভাবা হয়েছিল ওয়াইসকে। আবু মুসলিম আল-খাওলানি এত যিকর করতেন যে, তাঁর জিহ্বা সব সময় নড়তে থাকত। এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করল, 'আপনার সঙ্গী কি পাগল নাকি?' আবু মুসলিম জবাব দেন, 'না রে, ভাই! এটা বরং পাগলামির চিকিৎসা।' তাঁদের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল-হাসান বলেন, 'অজ্ঞ ব্যক্তি তাঁদের দেখে অসুস্থ মনে করে, অথচ তাঁরা অসুস্থতা থেকে বহু দূরে! সে বলবে যে তাঁরা সংবিৎ হারিয়ে বসেছেন। অবশ্যই তাঁরা সংবিৎ হারিয়েছেন এক মহান বিষয়ের কারণে, তাদের অপবাদ থেকে যা অনেক মহান। আল্লাহর কসম! তোমার দুনিয়াবি জিনিস থেকে (মুখ ফিরিয়ে) তাঁরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।' এ বিষয়েই কবি বলেছেন: "ভালোবাসার পবিত্রতার শপথ, আপনি ছাড়া আমার কেউ নেই, হে প্রতিপালক, আমার লক্ষ্য কেবল আপনাকে ঘিরেই। আপনার প্রতি টান দেখে তারা বলে, 'এ লোক পাগল নির্ঘাত'। আমি বলি, 'এ পাগলামি কখনো ছেড়ে না যাক।”

📘 নবীজির সাঃ পদাঙ্ক অনুসরণ > 📄 আল্লাহকে জানা

📄 আল্লাহকে জানা


আল্লাহর রাসূল বলেছেন, “স্বাচ্ছন্দ্যের সময়ে আল্লাহকে জেনো, তাহলে তোমার বিপদের সময় তিনি তোমাকে জানবেন।” বান্দা যদি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহর নির্ধারিত সীমা হেফাজত করে এবং তাঁর অধিকারের ব্যাপারে সচেতন থাকে, এর অর্থ হলো সে আল্লাহকে জানতে শিখেছে। এর ফলে আল্লাহ ও তার মাঝে এক আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সম্পর্ক তৈরি হয়, যার ফলে বিপদ-দুর্দশার সময় আল্লাহ তাকে জানবেন। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বান্দা যে আমল করেছে, তা আল্লাহ জানবেন এবং এই জানার বদৌলতে তাকে দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দেবেন।
এই জানা থাকার বিষয়টিও বিশেষ ও আলাদা, যা বান্দার প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নৈকট্য, ভালোবাসা ও দু'আ কবুল করার সাথে সম্পর্কিত। এ ছাড়া মাখলুকের কোনো কিছুই যে আল্লাহর কাছ থেকে গোপন নেই, সেটি হচ্ছে সাধারণভাবে জানা থাকা। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"...তিনি তোমাদের ভালোমতোই জানেন যখন তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন আর যখন তোমরা তোমাদের মায়ের গর্ভে ভ্রূণ-অবস্থায় ছিলে... ১০১
“আমিই মানুষকে সৃষ্টি করেছি; আর তার প্রবৃত্তি তাকে (নিত্যনতুন) কী কুমন্ত্রণা দেয়, তাও আমি জানি... "১০২
আর এই বিশেষ “জানা থাকা”র ব্যাপারটি এই হাদীসে কুদসিতে বর্ণিত বিষয়ের অনুরূপ : "... বান্দা নফল ইবাদাত করার মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে। এমনকি আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি তখন আমি তার শ্রবণশক্তি হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার দৃষ্টিশক্তি হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে আঘাত করে, তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে হাঁটে। "১০৩
শাওয়ানাহ নামের এক ইবাদাতগুজার নারীর সাথে সাক্ষাৎ করে ফুদাইল বললেন তাঁর জন্য দু'আ করতে। তিনি বলেন, "কিসে আপনাকে তাঁর থেকে পৃথক করছে? আপনি (নিজেই) যদি দু'আ করেন, (তাহলেও) তিনি জবাব দেবেন।" এ কথা শুনে ফুদাইল আবেগের আতিশয্যে মুর্ছা গেলেন। ১০৪
আবু জাফর আস-সাইহ বর্ণনা করেন, হাজ্জাজের কাছ থেকে পালিয়ে আল-হাসান এলেন হাবিব আবু মুহাম্মাদ এ-এর কাছে। বললেন, “আবু মুহাম্মাদ, আমাকে হাজ্জাজের বাহিনীর কাছ থেকে লুকান। তারা আমাকে ধাওয়া করেছে।” তিনি জবাব দিলেন, "আবু সাইদ, আমি লজ্জিত! আপনার সাথে আপনার প্রতিপালকের কি এমন কোনো আস্থার সম্পর্ক নেই যে, আপনি তার কাছে দু'আ করবেন আর তিনি আপনাকে এই সবকিছু থেকে লুকিয়ে ফেলবেন? আসুন, ঘরে ঢুকুন।” এর কিছুক্ষণ পর হাজ্জাজের বাহিনীও সেই ঘরে ঢুকল কিন্তু তাঁকে খুঁজে পেল না। এই খবর হাজ্জাজের কানে পৌঁছানো হলে তিনি বলেন, "বরং সে সেই ঘরের ভেতরেই ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের দৃষ্টি ঢেকে দিয়েছেন বলে তারা তাকে দেখতে পায়নি।"
আল্লাহর ব্যাপারে এই বিশেষ জ্ঞান যখন লাভ হয়, তখন বান্দা ও রবের মাঝে প্রশান্তি-ঘনিষ্ঠতা ও লজ্জাশীলতার অনুভূতিসম্পন্ন এক সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রত্যেক মুমিনের মাঝেই সাধারণভাবে যে জ্ঞান থাকে, এই জ্ঞান সে রকম নয়। এই বিশেষ ধরনের জ্ঞান লাভের জন্যই সাধকগণ কঠোর সাধনা করে থাকেন।
আবু সুলাইমান এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, "আমি গত রাতটি নারীদের ব্যাপারে কথা বলে কাটিয়েছি।” তিনি বললেন, "ধিক তোমাকে! তোমার কি তাঁর (আল্লাহর) প্রতি কোনো লজ্জা নেই? সারা রাত তিনি তোমাকে দেখেছেন যে, তুমি তাঁকে ছাড়া অন্য কারও স্মরণ করে রাত কাটিয়েছ। কিন্তু তুমি যাকে জানোই না, তাঁর সামনে লজ্জিত কী করে হবে?"
আহমাদ ইবনু আসিম আল-আনতাকি বলেন, "আমার ইচ্ছা হলো আমার মনিবকে জানার পর মৃত্যুবরণ করা। জানার অর্থ (তাঁর অস্তিত্ব) স্বীকার করা নয়; বরং এটি এমন এক ধরনের জ্ঞান যা লাভ করলে তাঁর সামনে লজ্জিত হওয়া যায়।”
এই বিশেষ জ্ঞান ও বিশেষ ধরনের “জানা”র মাধ্যমে বান্দা তার রবের প্রতি সন্তুষ্ট হতে শেখে, তাঁর উপর নির্ভর করতে শেখে, সকল বিপদ হতে উদ্ধার হওয়ার ব্যাপারে তাঁর উপর আস্থা রাখতে শেখে। ঠিক একইভাবে এই জ্ঞানের ফলে রবও বান্দার দু'আ কবুল করতে থাকেন।
হাসান আল-বাসরি যখন হাজ্জাজের কাছ থেকে পালাচ্ছিলেন, তাঁকে বসরায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি ফুঁপিয়ে কেঁদে বললেন, “আমি নিজের এলাকা, পরিবার, ভাইদের ছেড়ে যাব? আমার প্রতিপালকের ব্যাপারে আমার জ্ঞান এবং যেই নিয়ামত দিয়ে তিনি আমাকে ধন্য করেছেন, এতে আমার বিশ্বাস হয়ে গেছে তিনি আমাকে বাঁচাবেন ও তার হাত থেকে নিষ্কৃতি দেবেন, ইনশাআল্লাহ তা'আলা।” হাজ্জাজ তাঁর কোনো ক্ষতিই করতে পারেননি; বরং এ ঘটনার পর তিনি হাসানকে অত্যন্ত সম্মান করতে শুরু করেন এবং তাঁর ব্যাপারে ভালো ভালো কথা বলেন।
মারুফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “কিসে আপনাকে নির্জনে গিয়ে ইবাদাত করতে উদ্বুদ্ধ করল?” সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রশ্নকারী মৃত্যু, আল-বারযাখ, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি জবাব দিলেন, “এসব আবার কী! এগুলো তো তাঁরই হাতে। তোমার ও তাঁর মাঝে যখন জ্ঞানের সম্পর্ক স্থাপিত হবে, তখন তিনিই এই সকল ঘাঁটিতে তোমার জন্য যথেষ্ট হবেন।”
তিরমিযিতে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এই হাদীস এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তোলে। রাসূল বলেন, “যে চায় তার দুঃখ-দুর্দশার সময় আল্লাহ তার দু'আ কবুল করুন, সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বেশি বেশি দু'আ করে।”১০৫
ইবনু আবিদ্দুনিয়া, ইবনু আবি হাতিম, ইবনু জারির ও অন্যরা ইয়াযিদ আর-রাকাশির সূত্রে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আনাস থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “মাছের পেটে থাকা অবস্থায় ইউনুস যখন দু'আ করছিলেন, তখন ফেরেশতারা বললেন, 'এ তো একটি পরিচিত কণ্ঠ, অথচ আসছে এক অপরিচিত জায়গা থেকে।' তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, 'ইনি কে?' আল্লাহ বললেন, 'আমার বান্দা ইউনুস।' তাঁরা বললেন, 'আপনার বান্দা ইউনুস, যার সকল আমল ও সকল দু'আ কবুল করা হয়েছে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' তাঁরা বললেন, 'হে প্রতিপালক, তিনি সুখের সময়ে যা করতেন, তার উসিলায় আপনি কি তাঁর এই দুঃখের সময় তাঁর প্রতি রহম করবেন না?' তিনি জবাব দিলেন, 'অবশ্যই।' তিনি মাছকে আদেশ দিলেন ইউনুস -কে মরুভূমির উপকূলে বের করে দিতে।"১০৬
দাহহাক ইবনু কায়স বলেন, "স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহকে স্মরণ করো, তিনি তোমাকে তোমার দুর্দশার সময়ে স্মরণ করবেন। ইউনুস আল্লাহকে স্মরণ করতেন। পরে যখন মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, আল্লাহ তা'আলা বললেন:
“সে যদি আল্লাহর তাসবীহকারী না হতো, তাহলে নিশ্চিতই তাকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত মাছের পেটে থাকতে হতো।”১০৭
ফিরআউন ছিল এক যালিম, যে আল্লাহর স্মরণের প্রতি গাফেল ছিল। সে ডুবে যাওয়ার সময় বলেছিল, "আমি ঈমান আনলাম।” আল্লাহ তা'আলা বললেন:
"কী! এখন? আগে তো অমান্য করেছ আর ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত থেকেছ। "১০৮
রিশদিন ইবনু সাদ বলেছেন, "আবুদ্দারদা -এর কাছে এক ব্যক্তি উপদেশ চাইলো। তিনি জবাব দিলেন, 'স্বাচ্ছন্দ্যের সময়ে আল্লাহকে স্মরণ করো, তিনি তোমার দুর্দশান সময়ে তোমাকে স্মরণ করবেন।”১০৯
সালমান আল-ফারিসি বলেন,
"কেউ যদি স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছে দু'আ করতে অভ্যস্ত থাকে, তাহলে সে কোনো বিপদে পড়ে দু'আ করলে ফেরেশতারা বলেন, 'এ তো একটি পরিচিত কণ্ঠ!' তারপর তাঁরা তার জন্য সুপারিশ করেন। আর সে যদি স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছে দু'আ করতে অভ্যস্ত না থাকে, তাহলে সে কোনো বিপদে পড়ে দু'আ করলে ফেরেশতারা বলেন, 'এ তো একটি অপরিচিত কণ্ঠ!' তাঁরা তার জন্য সুপারিশ করেন না।”
পাথর দিয়ে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে আটকে পড়া তিন ব্যক্তির হাদীসও এখানে উল্লেখ্য। বিপদে পড়ে তাঁরা এমন নেক আমলের উসিলা দিয়ে দু'আ করেছিলেন, যেগুলো তাঁরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময়ে করেছিলেন। পিতামাতার প্রতি সদাচরণ, অশ্লীল কাজ পরিত্যাগ আর আমানত রক্ষা করা। ১১০
এটি জানা কথা যে, স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বান্দা আল্লাহকে স্মরণ করলে তার দুর্দশার সময় আল্লাহ তাকে স্মরণ করবেন। জীবনে যত বিপদ আসে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো মৃত্যু। তার মৃত্যু-পরবর্তী গন্তব্য যদি ভালো না হয়, তাহলে মৃত্যুর পরের ঘাঁটিগুলো এরচেয়ে ভয়াবহ হবে। আর গন্তব্য ভালো হলে মৃত্যুই হবে সবচেয়ে হালকা বিপদ। তাই এই বিপদের সময় আসার আগেই মানুষকে এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে ও আমল তৈরি করতে হবে। কেউ জানে না কোন দিন বা কোন রাতে তার মৃত্যু চলে আসবে।
মৃত্যুর সময় নেক আমলের কথা স্মরণ করতে পারলে রবের প্রতি বান্দার সুধারণা তীব্র হয়, মৃত্যুযন্ত্রণা লাঘব হয় ও আশার সঞ্চার হয়।
একজন সালাফ মোটামুটি এমন একটি কথা বলেছিলেন, “তাঁরা নেক আমলের একটি ভান্ডার প্রস্তুত রাখা ওয়াজিব মনে করতেন, যাতে মৃত্যুযন্ত্রণা লাঘব হয়।”
কোনো নেক আমল-যেমন হাজ্জ, জিহাদ, সিয়াম ইত্যাদি-করার পরপরই মারা যাওয়াকে তাঁরা অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ বলে বিশ্বাস করতেন।
নাখঈ (রহ.) বলেছেন, “মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তিকে তার নেক আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়াকে তাঁরা প্রশংসনীয় বলে জানতেন। এতে করে রবের প্রতি বান্দার সুধারণা তৈরি হয়।”
আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি (রহ.) তাঁর মৃত্যুশয্যায় বলেছিলেন, “আমি কী করে আমার প্রতিপালকের প্রতি সুধারণা না রাখতে পারি, অথচ আমি আশিটি রমাদান যাবৎ সিয়াম পালন করেছি?”১১১
আবু বাকর ইবনু আইয়্যাশ-এর মৃত্যু উপস্থিত হলে তাঁর আশপাশের মানুষেরা কান্না করতে লাগলেন। তিনি বললেন, “কান্না কোরো না। আমি এই মুসাল্লায় তেরো হাজার বার কুরআন সম্পূর্ণ তিলাওয়াত করেছি।”
বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর সন্তানকে বলেছিলেন, “তোমার কি মনে হয় আল্লাহ তোমার পিতার জীবনের চল্লিশটি বছর নষ্ট করে দেবেন, যার প্রতিটি রাতে সে কুরআন সম্পূর্ণ তিলাওয়াত করেছে?”১১২
একজন সালাফ তাঁর মৃত্যুশয্যায় তাঁর পুত্রকে পাশে বসে কাঁদতে দেখলেন। তিনি বললেন, “কেঁদো না। তোমার পিতা কখনো কোনো অশ্লীল কাজ করেননি।”
আদাম ইবনু আবু ইয়্যাস মৃত্যুশয্যায় কাপড় জড়ানো অবস্থায়ই সম্পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করেন। তিনি বললেন, “আপনার প্রতি আমার ভালোবাসার উসিলায় এই ভয়াবহ সময়ে আমার প্রতি সদয় হোন। এই মহাদিবসের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সারাক্ষণ আমার সকল আশা-ভরসা আপনার প্রতি ছিল। লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ!” এতটুকু বলে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন।১১৩
দুনিয়াবিরাগী সাধক আব্দুস সামাদ তাঁর মৃত্যুশয্যায় বলেছিলেন, “হে আমার প্রভু, এই সময়টির জন্যই আমি আপনাকে আমার গুপ্ত ধনভান্ডার হিসেবে রেখেছি। এই সময়টির জন্যই আমি আপনার হেফাজত করেছি। আপনার ব্যাপারে আমার সুধারণাকে বাস্তবায়ন করুন।”১১৪
ইবনু আকিল-এর মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে বসে কান্নারত নারীদের তিনি বলেন, "পঞ্চাশ বছর যাবৎ আমি তাঁর জন্য রায় গোপন রেখে এসেছি। আজ আমাকে তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিতে একা থাকতে দাও।"
কারামিতা* সম্প্রদায় (ইসমাঈলি শিয়াদের একটি শাখা) হাজীগণের উপর আক্রমণ করে। তখন তাঁরা তাওয়াফ করছিলেন। সুফি আলি ইবনু বাকওয়াইহ সেখানে ছিলেন। তিনিও তাওয়াফ করছিলেন। কিন্তু তরবারির উপর্যুপরি আঘাত পেয়েও তিনি তাওয়াফ থামাননি। এ অবস্থায়ই তাঁর মৃত্যু চলে আসে। তখন তিনি এ কবিতা পাঠ করছিলেন :
প্রেমিকেরা সেজদা দিয়ে শুয়ে আছে যে ঘরে, আসহাবে কাহফ ঘুমোয় যেমন শতাব্দী ধরে। যদি বলে তারা যুদ্ধের দিন আগে থেকেই ছিল মৃত, ওয়াল্লাহি! এ কথা মিথ্যে হিসেবে হবে না কভু ধৃত।
যে কেউ জীবদ্দশায় আল্লাহর সীমা হেফাজত করে ও তাঁর কথা মান্য করে, তার মৃত্যুশয্যায় আল্লাহ তাকে হেফাজত করবেন ও ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করবেন। কবরে ফেরেশতাদের সওয়ালের মুখে আল্লাহ তাকে শক্তিশালী কালিমাহ দিয়ে শক্তিশালী করবেন, কবরের আযাবকে তার থেকে হটিয়ে দেবেন, একাকিত্ব আর অন্ধকারের জীবনে তার জন্য সান্ত্বনা হবেন।
একজন সালাফ বলেছিলেন, “কবরে প্রবেশ করার সময় যদি আল্লাহ তোমার সাথে থাকেন, তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তও হবে না, একাকীও হবে না।”
একজন নেককার আলিমের মৃত্যুর পর তিনি স্বপ্নে দেখা দেন। তাঁকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমার মহাপবিত্র ও সুমহান প্রতিপালক আমাকে সঙ্গ দেন।”
দুনিয়ার একাকিত্বে আল্লাহ যার সঙ্গী হন, সে আশা করতেই পারে যে কবরের একাকিত্বেও আল্লাহ তার সঙ্গী হবেন। এ অর্থেই একজন সালাফ বলেছিলেন :
একাকিত্বে আমার সঙ্গী হও, হে রব। আমি বিশ্বাস করি তোমার ওয়াহী সব। আল্লাহর দিকে যাত্রায় আমি করি না কোনো ভয়, আমার প্রতি তাঁর দয়া যে পরিবারের চেয়ে বেশি হয়!”
কিয়ামাতের ভয়াবহতা ও কাঠিন্যের ব্যাপারেও এ কথা সত্য। আল্লাহ যখন তাঁর অনুগত বান্দার দেখভাল করেন, তিনি তাকে এই সবকিছু থেকে উদ্ধার করে নেবেন।
আল্লাহ তা'আলার বাণী :
"যে কেউ তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে কোনো না-কোনো পথে উদ্ধার করে দেবেন।” ১১৫
এর ব্যাখ্যায় কাতাদাহ বলেন, "অর্থাৎ মৃত্যুযন্ত্রণা ও কিয়ামাতের ভয়াবহতা থেকে (বের হওয়ার পথ করে দেবেন)।"১১৬
আলি ইবনু আবু তালহা থেকে বর্ণিত আব্বাস এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, "আমি (আল্লাহ) তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কষ্ট থেকে মুক্তি দেবো।”১১৭
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন: "যারা বলে, 'আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ' অতঃপর (সে কথার উপর) সুদৃঢ় থাকে, ফেরেশতারা তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় আর বলে, 'তোমরা ভয় কোরো না, চিন্তা কোরো না। আর জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার ওয়াদা তোমাদের দেওয়া হয়েছে।”১১৮
এর ব্যাখ্যায় যাইদ ইবনু আসলাম বলেছেন, "মৃত্যুর ক্ষণে, কবরে ও কিয়ামাতের দিন তাকে সুসংবাদ দেওয়া হবে। সুসংবাদের আনন্দ হৃদয় থেকে বের হওয়ার আগেই সে নিজেকে জান্নাতের সামনে আবিষ্কার করবে।”১১৯
সাবিত আল-বুনানি এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, "আমাদের কাছে এ কথা পৌঁছেছে যে, যে দুজন ফেরেশতা তাকে এ দুনিয়ায় সঙ্গ দিতেন, তাঁরা কবর থেকে পুনরুত্থানের দিন মুমিনের সাথে দেখা করে বলবেন, 'ভয় কোরো না, চিন্তা কোরো না।' আর আল্লাহ তার ভয় লাঘব করে চোখকে প্রশান্তি দেবেন। কিয়ামাতের দিন মানুষকে যত বিপদই গ্রাস করবে, মুমিনের জন্য তা প্রশান্তিদায়ক হবে। কারণ, আল্লাহ তাকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং দুনিয়ায় সে নেক আমল করেছে।”১২০ ইবনু আবি হাতিম ও অন্যান্যদের কাছ থেকে বর্ণনাগুলো এসেছে।
আর যারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময়ে আল্লাহকে জানে না, তার দুঃখ-দুর্দশার সময়ে আল্লাহও তাকে জানবেন না-হোক তা দুনিয়া বা আখিরাতে। দুনিয়ায় এসব মানুষের অবস্থা দেখে বোঝা যায় যে, আখিরাতে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে।
কারণ, তাদের কোনো রক্ষাকারী বা সাহায্যকারী থাকবে না।

টিকাঃ
১০১ সূরাহ আন-নাজম, ৫৩: ৩২
১০২ সূরাহ কাফ, ৫০: ১৬
১০০ বুখারি: ৬৫০২; আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
১০৪ আবু নুয়াইম: খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১১৬, হাদীস নং ১১৫৬৭-তে আরও বলা হয়, ফুদাইল বলেন, "আমাদের আনুগত্যের মহত্ত্ব দিয়ে মহান করুন, আর অবাধ্যতার অপমান দিয়ে অপমানিত করবেন না।"
১০৫ তিরমিযি: ৩৩৮২; তিনি একে গারীব বলেছেন। হাকিম: ১৯৯৭ একে গারীব বলেছেন। যাহাবি একমত। মুনযিরি, আত-তারগীব: খণ্ড, ২, ৩৮৮ পৃষ্ঠাতে বলেন এর ইসনাদ সহীহ। সুয়তি, জামিউস সগির: ৮৭৪৩ এবং আলবানি, আস-সহীহাহ: ৫৯৩ ও সহীহুত তারগীব: ১৬২৮-এ একে হাসান বলেছেন।
১০০ ইবনু আবিদ্দুনিয়া, আল-ফারাজ বাদাশশিদ্দাহর ২৫ পৃষ্ঠায় এর ইসনাদ যঈফ বলেছেন।
১০৭ সূরাহ আস-সফফাত, ৩৭: ১৪৩-১৪৪
১০৮ সূরাহ ইউনুস, ১০: ৯১
১০৯ আবু নুয়াইম: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৯
১১০ বুখারি: ২২১৫-২২৭২-২৩৩৩-৩৪৬৫-৫৯৭৪ এবং মুসলিম: ২৭৪৩; ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত।
১১১ আবু নুয়াইম: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯২
১১২ খাতিব, তারিখ: খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৮৩
১১০ খাতিব, তারিখ: খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৯
১১৪ ইবনুল জাওযি, সিফাতুস সাফওয়াহ: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭২
*কারামিতা সম্প্রদায়: বাতিনিয়্যাহ গোষ্ঠীর মতো আকীদা পোষণকারী একটি দল এবং মায়মুন ইবনু দায়সানের অনুসারী। বাতিনিয়্যাহ হলো শিয়াদের একটি দল, যারা ইসমাঈল ইবনু জাফারের অনুসারী। এরা বিশ্বাস করে যে, কুরআন-হাদীস কেবল ভাসা ভাসা কিছু বক্তব্যের সমষ্টি, যার অন্তর্নিহিত আসল বক্তব্য বাহ্যিক বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। জান্নাত, জাহান্নাম ও আখিরাতের ব্যাপারে তাদের ভ্রান্ত এ ব্যাখ্যাগুলো তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের উদাহরণ।
১১৫ সূরাহ আত-তালাক, ৬৫: ২
১১৬ সুয়ুতি, আদ্দুররুল মানসুর: খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৫৩৭ একে আব্দ ইবনু হুমাইদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন; আবু নুয়াইম, আল-হিলইয়াহ: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪০
১১৭ তাবারি : খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৩; সুয়ুতি, আদ্দুররুল মানসুর: খণ্ড ১৪, ৫৩৮ পৃষ্ঠায় একে ইবনুল মুনযির ও ইবনু আবি হাতিমের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।
১১৮ সূরাহ ফুসসিলাত, ৪১ : ৩০; অনুরূপ সূরাহ আল-আহকাফ, ৪৬ : ১৩
১১৯ সুয়ুতি, আদ্দুররুল মানসুর: খণ্ড ১৩, ১০৭ পৃষ্ঠায় একে ইবনু আবি শাইবাহ ইবনু আবি হাতিমের সাথে সম্পৃক্ত করেন।
১২০ সুয়ুতি, আদ্দুররুল মানসুর: খণ্ড ১৩, ১০৮ পৃষ্ঠায় একে ইবনুল মুনযির ও ইবনু আবি হাতিমের সাথে সম্পৃক্ত করেন।

📘 নবীজির সাঃ পদাঙ্ক অনুসরণ > 📄 আল্লাহর কাছে চাওয়া

📄 আল্লাহর কাছে চাওয়া


রাসূল বলেছেন, “যখন চাইবে, আল্লাহরই কাছে চাইবে।” আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা শুধু তারই কাছে দু'আ করার আদেশ করেছেন। অন্য কারও কাছে দু'আ করা নিষিদ্ধ করেছেন।
"তোমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ কামনা করো।”১২২
তিরমিযিতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল বলেন,
"আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ চাও। কারণ, তাঁর কাছে চাওয়াকে আল্লাহ ভালোবাসেন।”১২২
এ ছাড়া আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল বলেন, “আল্লাহর কাছে না চাওয়া হলে তিনি রাগান্বিত হন।”১২৩
আরেক হাদীসে আছে,
“আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা বিশুদ্ধচিত্তে ও ক্রমাগত দু'আ করতে থাকে।”১২৪
আরেক হাদীসে আছে, “তোমাদের সকলের উচিত সকল প্রয়োজনে রবের কাছেই চাওয়া, এমনকি জুতোর ফিতা ছিঁড়ে গেলেও।”১২৫
একই অর্থসম্পন্ন আরও অনেক হাদীস রয়েছে। এ ছাড়া মাখলুকের কাছে চাইতে নিষেধ করেও অনেক হাদীস রয়েছে।
ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেন, “ধনী হওয়া সত্ত্বেও এক ব্যক্তি কেবল চাইতেই থাকবে, চাইতেই থাকবে। শেষমেশ তার চেহারা নিঃশেষ হয়ে যাবে আর আল্লাহর সামনে তার কোনো চেহারাই থাকবে না।”১২৬
রাসূল ﷺ তাঁর একদল সাহাবার কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করেছিলেন যে, তাঁরা মানুষের কাছে কিছু চাইবেন না।১২৭ তাঁদের মাঝে আবু বকর, আবু যার ও সাওবান ছিলেন। তাঁদের চাবুক বা উটের রশি পড়ে গেলেও তাঁরা তা অন্য কাউকে তুলে দিতে ডাকতেন না।
জেনে রাখুন, যৌক্তিক ও শরয়ী উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু আল্লাহর কাছে চাওয়াটাই সমীচীন। তাঁর সৃষ্টির কাছে নয়।
কোনো কিছু চাওয়ার অর্থ হলো-যার কাছে চাওয়া হচ্ছে তার সামনে নিজের মর্যাদা উৎসর্গ করা ও নিজেকে নীচ করা। এটি শুধু আল্লাহর সাথেই প্রযোজ্য। ইবাদাত ও দু'আর মাধ্যমে শুধু আল্লাহর সামনেই অবনত হতে হয়। এটি সত্যিকার ভালোবাসারও একটি লক্ষণ।
ইউসুফ ইবনুল হুসাইন-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “প্রেমিকদের কী হলো যে, তারা নিজেদের ভালোবাসায় অবনত করে এত আনন্দ পায়?” তিনি উত্তর দেন:
ভালোবাসায় নীচতাই হলো মহান, প্রেমাস্পদের কাছে সমর্পণই সম্মান।
এই ধরনের বিনয় ও ভালোবাসা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য। এগুলো ইবাদাতেরই বিভিন্ন উপাদান, যা একমাত্র সত্যিকার উপাস্যের প্রাপ্য।
ইমাম আহমাদ দু'আ করার সময় বলতেন,
“হে আল্লাহ, যেভাবে আপনি আমার চেহারাকে আপনি ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করা থেকে হেফাজত করেছেন, তেমনিভাবে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য কারও কাছে চাওয়া থেকে হেফাজত করুন।”
আবুল খাইর আল-আত্তা বলেন, "আমি এক বছর মক্কায় ছিলাম। আমি দারিদ্র্যক্লিষ্ট ও ক্ষুধাপীড়িত হয়ে পড়ি। যতবারই আমি ভিক্ষা করতে বের হতে নিতাম, একটা কণ্ঠ বলে উঠত, 'আমাকে সেজদাকারী চেহারাটিকে কি তুমি অন্য কারও কাছে নিবেদন করতে চললে?”
এই অর্থে একজন সালাফ বলেছিলেন: আল্লাহর কাছে একবার চেহারা সঁপেছে যে, ভিক্ষায় প্রাচুর্য এলেও ভিখারি হবে না সে। দাঁড়িপাল্লায় দু'আর সাথে ওজন করলে সবই, দু'আই হবে ভারী সবচেয়ে, বাকিরা হালকা খুবই। ভিক্ষা করেই চাও যদি-বা চেহারা করতে মলিন, তাঁরই কাছে চাও, যিনি দানশীল, দয়ালু সীমাহীন।
সহীহ বুখারি ও মুসলিমের হাদীস থেকে প্রমাণিত যে, যে ব্যক্তি প্রয়োজন ছাড়া ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করবে, কিয়ামাতের দিন তার চেহারায় এক টুকরো মাংসও থাকবে না।১৮ কারণ, দুনিয়াতে সে এই চেহারার পবিত্রতা ও মহত্ত্ব নষ্ট করেছে।
তাই কিয়ামাতের দিন আল্লাহ এই চেহারার বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট করে দিয়ে কেবল একটি কঙ্কাল বসিয়ে রাখবেন। এ ছাড়া এর অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যও আল্লাহ কেড়ে নেবেন। ফলে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তির আর কোনো সম্মানই থাকবে না।
আল্লাহর কাছে চাওয়ার মাধ্যমে ইবাদাতের এক গূঢ় তাৎপর্যপূর্ণ রূপ প্রকাশ পায়। কারণ, এর মাধ্যমে বান্দা তার রবের কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আর তার অসহায়ত্ব দূর করতে রবের সক্ষমতার সাক্ষ্য দেয়। কোনো সৃষ্টির কাছে কিছু চাওয়া হলো যুলুম। কারণ, মাখলুক নিজের কোনো উপকার করতে পারে না, নিজেকে কোনো ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে না-অন্যের লাভক্ষতি করতে পারা তো দূরের ব্যাপার। মাখলুকের কাছে চাওয়ার অর্থ হলো সক্ষম সত্তাকে সরিয়ে অক্ষম সত্তাকে সেই জায়গায় বসানো।
এর পক্ষে সমর্থন পাওয়া যায় সহীহ মুসলিমে আবু যার থেকে বর্ণিত এক হাদীসে, যেখানে রাসূল ﷺ বলেন, “হে আমার বান্দারা, যদি তোমাদের শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সকল জিন ও মানুষ একত্র হয়ে আমার কাছে চায় আর আমি প্রত্যেককে তার প্রয়োজন পূরণ করে দিই, তাহলে আমার ভান্ডার থেকে ততটুকুও কমবে না যতটুকু সুচ ডুবিয়ে তুলে আনলে সাগর থেকে পানি কমে।”১২৯
তিরমিযির বর্ণনায় অতিরিক্ত অংশ আছে, “...এর কারণ, আমি দানশীল, প্রাচুর্যশালী, প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে, সুমহান। আমি যা ইচ্ছা, তা-ই করি। আমার পুরস্কার কেবল একটি শব্দ আর শাস্তিও কেবল একটি শব্দ। যখন আমি কোনো কিছু সংঘটনের ইচ্ছে করি, তখন কেবল বলি ‘হও!’ আর তা হয়ে যায়।”১৩০
তাহলে কী করে প্রাচুর্যশালীকে ত্যাগ করে একজন অভাবগ্রস্তের কাছে চাওয়া যেতে পারে? আজিব ব্যাপার!
একজন সালাফ বলেছিলেন, "আমি আল্লাহর কাছেই এই দুনিয়ার কোনো কিছু চাইতে লজ্জিত হই, যদিও তিনি এর মালিক। তাহলে আমি কী করে এমন কারও কাছে চাইতে পারি, যে এর মালিকই নয়?” অর্থাৎ, মাখলুক।
একজন সালাফ বিপদে পড়ে তাঁর এক ভাইয়ের কাছে সাহায্য চাওয়ার মনস্থির করলেন। স্বপ্নে এক ব্যক্তি দেখা দিয়ে তাঁকে বললেন,
মুক্ত ব্যক্তি সবই যখন পায় এক আল্লাহর কাছে, বান্দার দিকে মন ফেরানো তখন কি তার সাজে?
তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠে আবিষ্কার করলেন যে, তিনি মানুষের মাঝে সবচেয়ে সন্তুষ্টচিত্তের অধিকারী।
একজন সালাফ বলেছেন, "আমি এক আসমানি কিতাবে এই কথাগুলো পড়েছি, 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন, বিপদের সময় আমি ছাড়া আর কারও কাছে কি আশা করা হয়? বিপদ (দেওয়া ও তুলে নেওয়ার ক্ষমতা) আমার হাতে। আমি চিরঞ্জীব, অমুখাপেক্ষী। আমি ছাড়া আর কারও কাছে আশা করা হয় কি অথবা দিনের শুরুতে কারও দরজায় কড়া নাড়া হয় কি? আমার কাছেই সকল ভান্ডারের চাবি আর আমার কাছে দু'আকারীর জন্য আমার দরজা খোলা। কে বলতে পারবে যে, কষ্টের সময় সে আমার কাছে চেয়েছে অথচ আমি তাকে নিরাশ করেছি? কে বলতে পারবে যে, বিপদের সময় সে আমার কাছে চেয়েছে অথচ আমি তাকে আশাহত করেছি? কে বলতে পারবে যে, সে আমার দরজায় কড়া নেড়েছে অথচ আমি তার জন্য দরজা খুলিনি? আমি আশার উৎস, তাহলে কী করে আশাকে আমার থেকে দূরে সরানো যায়? আমি কি গরিব যে বান্দা আমাকে কৃপণ হিসেবে পাবে? দুনিয়া, আখিরাত, দয়া, মায়া-সবই কি আমার কাছে নয়? আশান্বিতদের কিসে বাধা দেয় আমার প্রতি আশা করা থেকে? আমি যদি আসমান-জমিনের সকলকে একত্র করে প্রত্যেককে তা দিই-যা আমি সবাইকে একসাথে দিই-যদি আমি প্রত্যেকের আশা পূরণ করি, তাহলে আমার রাজত্ব থেকে অণু পরিমাণও কমবে না। এমন রাজত্ব কী করে কমতে পারে, যার ধারক আমি? ধ্বংস তাদের, যারা আমার দয়া থেকে নিরাশ হয়। ধ্বংস তাদের, যারা আমাকে অমান্য করে ও আমার নিষেধ করা সীমানায় পা বাড়ায়।”
আল্লাহর কাছে চাওয়াকে তিনি ভালোবাসেন আর তাঁর কাছে না চাইলে তিনি রাগান্বিত হন। তিনি চান তাঁর বান্দারা তাঁর কাছে কামনা করুক, চেয়ে নিক, তাঁকে ডাকুক, তাঁর প্রতি নিজেদের প্রয়োজন প্রকাশ করুক। তিনি তাদের ভালোবাসেন, যারা বিশুদ্ধচিত্তে ও ক্রমাগত দু'আ করে। মাখলুকের কাছে চাওয়া হলে সে রেগে যায়, কারণ সে অভাবগ্রস্ত ও অসমর্থ।
ইবনুস সাম্মাক বলেন, "এমন কারও কাছে চেয়ো না, যে তোমার অনুরোধ না শুনে তোমার কাছ থেকে দৌড়ে পালাবে। বরং তাঁর কাছে যাও, যিনি তাঁর কাছে চাইতে আদেশ করেছেন।”
আবুল আতাহিয়্যাহ বলেন,
আল্লাহ রাগান্বিত হন তাঁর কাছে না চাইলে, বনী আদম রেগে যায় তার কাছে চাইলে। আল্লাহর দিকেই ফেরাও তোমার যত দু'আ, কারণ, তাঁর দিকেই আমাদের চূড়ান্ত যাওয়া।
ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায বলতেন, “হে সেই সত্তা, যার কাছে না চাইলে রাগান্বিত হন! কেউ আপনার কাছে চাইলে তাকে যেন ফিরিয়ে দেবেন না।”
আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের বলছেন তাঁর কাছে চাইতে। প্রতি রাতে তিনি ডাকেন, "কেউ কি আছে যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কেউ কি আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তাতে সাড়া দেবো?”১৩১
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"আমার বান্দারা যখন তোমাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, আমি তো নিকটেই। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিই, যখন সে আমাকে আহ্বান করে।”১৩২
বান্দা যে সময়েই তাঁকে ডাকুক না কেন, আল্লাহ শোনেন, নিকটে থাকেন, জবাব দেন। দুজনের মাঝে কোনো পর্দা থাকে না, দরজায় কোনো দারোগা থাকে না। কোনো মাখলুকের কাছে চাওয়া হলে বেশির ভাগ সময় সাথে সাথেই প্রাচীর উঁচু হয়ে ওঠে, দরজা বন্ধ হতে শুরু করে, আর সব রকমের বাধা দেখা দিতে শুরু করে।
আতা -কে তাউস বলেন, "এমন কারও কাছে কিছু চাওয়া থেকে সাবধান থাকো, যে তোমার মুখের উপর দরজা আটকে দেবে আর বাধা খাড়া করে দেবে। বরং এমন কারও কাছে যাও, যার দরজা কিয়ামাত পর্যন্ত খোলা, যিনি তোমাকে আদেশ করেছেন তাঁর কাছে চাইতে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জবাব দেওয়ার।”১৩৩
একজন আলেমের উদ্দেশ্যে ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ বলেছেন,
“আমার কাছে কি এই খবর পৌঁছেনি যে, আপনি রাজা ও রাজপুত্রদের কাছে ঘুরে বেড়ান আপনার জ্ঞান (বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে) নিয়ে? ধিক আপনাকে! আপনি এমন কারও কাছে যাচ্ছেন, যে আপনার মুখের উপর দরজা আটকে দেবে, নিজের বিত্তশালিতা গোপন করে গরিব সাজবে। অথচ আপনি তাকে ছেড়ে দিচ্ছেন, যার দরজা দিনে-রাতে খোলা থাকে আর তিনি তাঁর বিত্তশালিতা দেখিয়ে বলেন, 'আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেবো।"
একন শাসকের দুয়ারে কয়েকজন লোককে জড়ো হতে দেখে মায়মুন ইবনু মিহরান বলেছিলেন,
"সুলতানের মাধ্যমে যার প্রয়োজন পূরণ হয় না, সে জেনে রাখুক আর- রহমানের দরবারগুলো সব সময় খোলা। মাসজিদে গিয়ে দুই রাকআত সালাত পড়ে নিজের প্রয়োজনগুলো তাঁর কাছেই ব্যক্ত করো।”
বাকর আল-মুযানি বলতেন, “হে আদমসন্তান, তোমার মতো আর কে আছে? তুমি যখনই চাও, তখনই পবিত্রতা অর্জন করে গোপনে তোমার প্রতিপালকের সাথে আলোচনা করতে পারো মাঝখানে কোনো পর্দা বা দোভাষী ছাড়াই।”
এক সৎকর্মশীল ব্যক্তিকে আরেক ব্যক্তি এসে অনুরোধ করল কোনো একজনের কাছে তার ব্যাপারে সুপারিশ করার জন্য। তিনি জবাব দিলেন, “খোলা দরজা ফেলে আমি বন্ধ দরজার দিকে কখনোই যাব না।”
এ প্রসঙ্গে একজন সালাফ বলেছেন: রাজার দুয়ার বন্ধ সকল, আল্লাহর দুয়ার অনর্গল।
আরেকজন বলেছেন: যাচকের থেকে পালিয়ে বেড়ানো প্রহরী ঘেরা ব্যক্তিরা, শোনো! আল্লাহর দুয়ারে প্রহরী নেই কোনো।
এক আলিমের উদ্দেশ্যে আরেকজন বলেছেন: ঢুকতে দেবে না যে, বসতে হয় না তার দুয়ারে, অথচ তুমি প্রয়োজন মেটাতে ডাকছ উহারে।
বাদ দাও তারে, চাও তার প্রতিপালকের কাছে, পূরণ হয়ে যাবে তোমার যত প্রয়োজন আছে।
ইবনু আবিদদুনিয়া৩০৮ আৰু উবাইদাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবিজি ﷺ-এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল, অমুক গোত্র আমাকে আক্রমণ করে আমার সন্তান ও উট নিয়ে গেছে।” নবিজি ﷺ জবাব দিলেন, “মুহাম্মদের পরিবার এ রকম এ রকম জায়গায় থাকে, তাদের কাছে এক মুদ্দ বা সা (পরিমাপে দুটি একক) পরিমাণ খাবারও থাকে না। অতএব, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে চাও।” লোকটি ফিরে গেলে তার স্ত্রী জিজ্ঞাসা করল, “তিনি কী বলেছেন।” সে তা শোনালে স্ত্রী বলল, “কতই-না উত্তম জবাব!” অল্প কিছুদিন পরেই আল্লাহ তার সন্তান ও উট তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আরও এত পরিমাণ উট দিলেন, যা তার আগে ছিলই না। সে নবিজি ﷺ-এর কাছে ফিরে এসে সব ঘটনা খুলে বলল। নবিজি ﷺ মিম্বরে উঠে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর লোকদের আদেশ দিলেন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে চাইতে ও তাঁরই উপর আশা রাখতে। তিনি তিলাওয়াত করলেন :
“যে তাকওয়া অবলম্বন করে, তিনি তার জন্য পথ করে দেবেন এবং তাকে তাঁর কল্পনাতীত উৎস থেকে রিযক দেবেন।”৩০৯
সাবিত আল-বুনানিকে এক ব্যক্তি অনুরোধ করলেন তার হয়ে কাফির কাছে সুপারিশ করতে যাতে তার কিছু প্রয়োজন পূরণ করে দেওয়া হয়। সাবিত তাঁর সাথে চললেন। পথে যত মাসজিদ পড়ল প্রতিটিতে ঢুকে তিনি সালাত পড়লেন ও দু’আ করলেন। তাঁরা আদালতে যখন পৌঁছলেন ততক্ষণে লোকটি সাবিতকে এ জন্য দোয়া-খারাপ করতে লাগল। তিনি জবাবে বললেন, “এই পুরোটা সময় আমি তোমার অনুরোধের জবাব দিচ্ছিলাম।” পরে কাফির সাথে দেখা করা ছাড়াই আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দিলেন।
ইসহাক ইবনু উকবাদ আল-বাসরি ইউমাচ্ছিলেন। স্বপ্নে এক লোককে তিনি বলতে দেখলেন, “অতি দৃষ্টিতাপ্রবণকে উদ্ধার করো!” তিনি জেগে উঠে বললেন, “প্রতিবেশীদের মাঝে কি কোনো অভাবগ্রস্ত আছে?” লোকেরা জবাব দিলো, “আমরা জানি না।” তিনি ঘুমিয়ে পড়লে দ্বিতীয়বারও একই স্বপ্ন দেখলেন। তৃতীয়বারে স্বপ্নের সেই ব্যক্তিটি বলল, “তুমি তার প্রয়োজন পূরণ না করে।
ঘুমাচ্ছ?” তিনি জেগে উঠে তিন শ দিরহাম সাথে নিয়ে খচ্চরে চড়ে বসরায় রওনা হলেন। তিনি সেখানে মাসজিদে থামলেন। সেখানে জানাযার সালাত হচ্ছিল। সেখানে তিনি এক ব্যক্তিকে সালাতরত দেখলেন। তাঁর উপস্থিতি টের পেয়ে সে সালাত শেষ করে তাঁর কাছে এল। ইসহাক বললেন, “হে আল্লাহর বান্দা, এই সময়ে তুমি মাসজিদে কী করছ?” সে বলল, "আমার মাত্র এক শ দিরহাম ছিল, যা আমি হারিয়ে ফেলেছি। এ ছাড়া আমার দুই শ দিরহাম দেনা আছে।” ইসহাক তাঁর টাকা বের করে বললেন, “এখানে তিন শ দিরহাম আছে। এটা নাও।” সে সেটা নিলে ইসহাক জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি আমাকে চেনো?” সে বলল, "না।” তিনি বললেন, “আমার নাম ইসহাক ইবনে উব্বাদ। আমি অমুক জায়গায় থাকি। তোমার কিছু লাগলে আমার কাছে এসো।” সে জবাব দিলো, “আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। আমার কিছু লাগলে আমি তাঁকেই আগে ডাকব, যিনি আপনাকে এখানে নিয়ে এলেন।”
আব্দুর রহমান ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম বলেন, "এক সকালে আমার মা আমার বাবাকে বললেন, 'আল্লাহর কসম! আপনার ঘরে খাওয়ার মতো এক টুকরা মাংসও নেই।' তিনি উঠে দাঁড়িয়ে ওযু করে পোশাক গায়ে দিলেন এবং ঘরে সালাত আদায় করলেন। আমার মা আমাকে বললেন, 'তোমার বাবা এরচেয়ে বেশি কিছু করবে না। বরং তুমিই যাও।' আমি বের হলাম। আমার এক বন্ধুর কথা মনে পড়ল, যে খেজুর বিক্রি করত। আমি তার দোকানে গেলাম। সে আমাকে দেখে তাঁর ঘরে নিয়ে গিয়ে খাওয়াল। আমি কিছু বলার আগেই সে নিজে থেকে ত্রিশ দিনার ভরা একটি থলি বের করে বলল, 'তোমার বাবাকে সালাম দিয়ো। জানিয়ো যে আমরা তাঁকে আমাদের ব্যবসার অংশীদার করেছি। এই হলো তাঁর শেয়ার।”
ইবরাহীম ইবনু আদহাম এক যুদ্ধাভিযানে গেলেন কয়েকজন সহকর্মীসহ। তারা খরচ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। ইবরাহীম ভাবতে লাগলেন কোন সহকর্মীর থেকে ধার নেওয়া যায়। হঠাৎ তিনি সংবিত ফিরে পেয়ে ভাবলেন, “ধিক আমাকে! আমি তাদের মনিবকে ভুলে মনিবের বান্দাদের কাছে চাইছি! অথচ মনিব আমাকে বলেন, 'আমার চেয়ে বেশি কে তোমার আবেদনের দাবিদার?” তিনি ওযু করে দুই রাকআত সালাত আদায় করলেন এবং সেজদায় বললেন, “হে আমার প্রতিপালক, আপনি জানেন আমি কী করেছি। তা ভুলক্রমে অজ্ঞতাবশত হয়ে গেছে। আপনি যদি আমাকে শাস্তি দিতে চান, আমি তার যোগ্য। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা করতে চান, আপনি তা করতে সক্ষম। আপনি আমার প্রয়োজন জানেন। আপনার রহমত দিয়ে তা পূরণ করে দিন।” তিনি মাথা তুলে নিজের
সামনে চার শ দিনার পড়ে থাকতে দেখলেন। সেখান থেকে তিনি এক দিনার নিয়ে চলে গেলেন।
আসবাগ ইবনু যাইদ বলেন, “আমি এবং আমার সাথে থাকা লোকেরা তিন দিন কোনো কিছু না খেয়ে কাটালাম। আমার ছোট মেয়েরা আমার কাছে এসে কান্না করল, 'বাবা, ক্ষিদে পেয়েছে!' আমি ওযু করে সালাত আদায় করলাম এবং বিশেষ একটি দু'আ করার ইশারা পেলাম যার শেষ কথাগুলো ছিল, 'হে আল্লাহ, রিযকের দরজাগুলো আমার জন্য খুলে দিন। আমাকে কারও কাছে ঋণী রাখবেন না এবং আখিরাতে আপনার দয়ায় আমাকে এ জন্য দায়ী রাখবেন না, হে আরহামুর রাহিমীন!' আমি ঘরে ফিরতেই আমার বড় মেয়ে বলল, 'বাবা, আমাদের চাচা এসেছিলেন। তিনি এই দিরহামভর্তি থলে, এই ময়দাভর্তি বস্তা আর বাজারভর্তি এই বস্তা দিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, 'ভাইজানকে আমার সালাম দিয়ো। আর বোলো কোনো কিছু লাগলে সেই দু'আটি করতে।” আসবাগ বলেন, "আল্লাহর কসম! আমার কোনো ভাই নেই। আমি জানিও না সেই লোকটি কে। কিন্তু আল্লাহ সর্বশক্তিমান।”
হাকাম ইবনু মূসা বলেন, "আমি এক সকালে ঘুম থেকে উঠতেই স্ত্রী অনুযোগ করল যে ঘরে কোনো ময়দা বা রুটি নেই। আমি কিছু পাব না জেনেই ঘর থেকে বের হলাম আর হাঁটতে হাঁটতে বললাম, 'হে আল্লাহ, আপনি জানেন আমার ঘরে কোনো ময়দা, রুটি বা টাকা নেই। অতএব আমাদের সেসব দিন।' এক ব্যক্তি আমার সাথে দেখা করে বলল, 'আপনার কী রুটি লাগবে, না ময়দা?' আমি বললাম, 'যেকোনোটি।' তারপর আমি সারা দিন আমার দরকারি জিনিস খুঁজতে ঘোরাঘুরি করলাম, কিন্তু কোত্থাও তা পেলাম না। আমি ফিরে এসে দেখলাম আমার পরিবারে রুটি আর মাংসের বিরাট আয়োজন চলছে। আমি বললাম, 'এসব কোথায় পেলে?' জবাব দিলো, 'আপনি যেই লোকটাকে পাঠালেন, তার কাছে।' আমি চুপ করে রইলাম।”
আওযায়ি বলেন, "আমি তাওয়াফ করার সময় দেখলাম এক ব্যক্তি কাবার গিলাফ চড়িয়ে ধরে আছে আর বলছে, 'হে আল্লাহ, আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমি গরিব। আমার সন্তানরা উলঙ্গ। আমার উট কৃশকায়। অতএব আপনি যা দেখতে পাচ্ছেন, হে অদৃশ্য সর্বদ্রষ্টা!' একটি কণ্ঠ তার পেছন থেকে ডেকে বলল, 'আসিম, আসিম। তায়েফে তোমার চাচার ঘরে যাও। তিনি মারা গেছেন। তিনি এক হাজার ভেড়ি, তিন শ উট, চার শ দিরহাম, চারজন দাস ও তিনটি ইয়ামানি তরবারি রেখে গেছেন। গিয়ে সেগুলো গ্রহণ করো। কারণ, তুমি তার একমাত্র উত্তরাধিকারী।'
আমি বললাম, 'আসিম, তুমি যার কাছে দু'আ করছিলে, তিনি নিকটেই ছিলেন।' সে বলল, আপনি কি আল্লাহর এই আয়াত পড়েননি:
"আমার বান্দারা যখন তোমাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, আমি তো নিকটেই। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিই, যখন সে আমাকে আহ্বান করে। ১৩৬

টিকাঃ
১২২ সূরাহ আন-নিসা, ৪ : ৩২
১২২ তিরমিযি : ৩৫৭১; তাবারানি, আল-কাবির: খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১২৪ ইজলুনি, কাশফুল খফা: ১৫০৭-এ বলেন ইরাকি একে যঈফ এবং ইবনু হাজার একে হাসান বলেছেন। এক যঈফ ঘোষণা করেন আলবানি, আয-যঈফা: ৪৯২; ইরাকি, আল-মুগনি: ৯৮৭-তে বলেন, এর বর্ণনাসূত্রে হাম্মাদ বিন ওয়াকিদ আছেন, যাকে ইবনু মাইন ও অন্যান্যরা যঈফ বলেছেন। সাখাওয়ি, মাকসাদুল হাসানাহ: ১৯৫-এ বায়হাকির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হাম্মাদ একাই এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি শক্তিশালী নন।
১২৩ আহমাদ: ৯৭০১; তিরমিযি: ৩৩৭৩; ইবনু মাজাহ : ৩৮২৭ এর ইসনাদ যঈফ বলেছেন যাহাবি, আল-মিযান: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৩৮; আরনাউত ও অন্যান্য, তবে অন্যান্য সমর্থনকারী হাদীসের কারণে আলবানি এক হাসান বলেছেন, আস-সহীহাহ : ২৬৫৪
১২৪ তাবারানি, আদ-দু'আ: ২০; বায়হাকি, শুয়াবুল ঈমান: ১১০৮, কুদাই ১০৬৯; আইশাহ থেকে বর্ণিত। তিরমিযি হাদীসটি বর্ণনা করেননি। ইবনু আদি একে বাতিল বলেছেন; একই কথা বলেছেন আলবানি, আয-যঈফাহ: ৬৩৭; আল-ইরওয়া: ৬৭৭-এ তিনি একে মাওযু বলেন; অনুরূপ ইবনু হাজার, তালখিসুল হাবির: ৭১৬; উকাইলি: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৫৫৪, হাদিস নং ২০৮৫; ইবনু আদি, আল-কামিল: খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৫০০-৫০১
১২৫ তিরমিযি : ৩৬৮২; আনাস থেকে বর্ণিত; তিরমিযি একে গারীব বলেছেন। একে যঈফ বলেছেন আলবানি, আয-যঈফাহ: ১৩৬২
১২৬ বাযযার : ৯১৯; তাবারানি, আল-কাবির: খণ্ড ২০, পৃষ্ঠা ৩৩৩, হাদিস নং ৭৯০; মুয়ায ইবনু আম্মার থেকে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ থেকে নয়। ইবনু আবি হাতিম, আল-জারহ ওয়া তা'দিল : খণ্ড ৮, ২৮২ পৃষ্ঠাতে একে মুনকার বলেছেন। বুখারি: ১৪৭৪ এবং মুসলিম: ১০৪০ ইবনু উমার থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ বলেন, "কোনো ব্যক্তি মানুষের কাছে ভিক্ষা করতে থাকে। এভাবে করে সে কিয়ামাতের দিন মুখমণ্ডলে এক টুকরাও মাংস ছাড়া দণ্ডায়মান হবে।" আহমাদ: ২২২২০ এবং বাযযার: ৯২৩-এ সাওয়াব থেকে করেন, রাসূলুল্লাহ বলেন, "যে কেউ তার অপ্রয়োজনীয় জিনিস যেচে বেড়ায়, এটি কিয়ামাতের দিন তার চেহারা নষ্ট করে দেবে।" বাযযার এর ইসনাদ হাসান বলেছেন। আরনাউত ও অন্যান্যদের মতে সহীহ।
১২৭ মুসলিম: ১০৪৩; আওফ ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত।
১২৮ বুখারি: ১৪৭৪; মুসলিম: ১০৪০
১২৯ মুসলিম: ২৫৭৭
১৩০ আহমাদ: ২১৩৬৭-২১৩৬৯; তিরমিযি ২৪৯৫; ইবনু মাজাহ: ৪২৫৭, তিরমিযি একে হাসান বলেছেন; আরনাউত ও অন্যান্যরা একে শাহীদের কারণে সহীহ বলেছেন।
১৩১ বুখারি: ১১৪৫-৬৩২১-৭৪৯৪ এবং মুসলিম: ৭৫৬ আবু হুরায়রা এ থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি বলেন “প্রতিরাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের মহান প্রতিপালক শেষ আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, 'কেউ কি আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি জবাব দেবো? কেউ কি আছে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেবো? কেউ কি আছে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?'"
১০২ সূরাহ আল-বাকারাহ, ২: ১৮৬
১০০ আবু নুয়াইম: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১; খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৪১
৩০৮ ইবনু আবিদদুনিয়া, আল-ফারাজ বাদাশশিদদাহ : পৃষ্ঠা ১০ এবং আল-কানাইয গায়িত ‘আ’আফফুফ : পৃষ্ঠা ৫৪; বায়হাকি, আদ-দালাইল : খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১০৭
৩০৯ সুরা আত-তালাক, ৬৫ : ২
১৩৬ আল-বাকারাহ, ২: ১৮৬

📘 নবীজির সাঃ পদাঙ্ক অনুসরণ > 📄 আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া

📄 আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া


রাসূল বলেন, “যখন সাহায্য চাইবে, আল্লাহর দিকেই ফিরবে।” আল্লাহর হেফাজত করা আর স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহকে জানার আদেশ দেওয়ার পর তিনি আমাদের ইবাদাতের সারনির্যাসের কথা বলছেন। তা হলো শুধু আল্লাহর কাছেই দু'আ করা। নু'মান বিন বাশির থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ বলেন, “দু'আ হলো ইবাদাত।” তারপর তিনি এই আয়াত পাঠ করেন,
"তোমাদের প্রতিপালক বলেন, 'আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেবো।'”১৩৭ এ ছাড়া চারটি সুনান গ্রন্থেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ১৩৮
এই সকল আদেশের পর তিনি আমাদের এক আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে নির্দেশ দিচ্ছেন। এই নির্দেশ উৎসারিত হয়েছে আল্লাহর এই আয়াত থেকে :
"আমরা শুধু আপনারই ইবাদাত করি এবং আপনার কাছেই সাহায্য চাই।”১৩৯
এর মাধ্যমে এক ব্যাপক-বিস্তৃত মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, সকল আসমানি কিতাবের মূল বার্তা এই মূলনীতিকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।
শুধুই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার দুটি তাৎপর্য রয়েছে:
১. আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আল্লাহর আনুগত্য করা বান্দার পক্ষে সম্ভব না।
২. আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ছাড়া আর কেউই বান্দাকে তার দুনিয়াবি ও আখিরাতি জীবনের উন্নতির জন্য সাহায্য করতে পারে না। যাকে আল্লাহ সাহায্য করেন, সে প্রকৃত অর্থেই সাহায্যপ্রাপ্ত; আর যাকে আল্লাহ পরিত্যাগ করেন, সে সত্যিকার অর্থেই পরিত্যক্ত।
এক সহীহ হাদীসে এসেছে, নবীজি বলেছেন, “তোমার উপকারে আসবে এমন সকল জিনিস কামনা করো এবং আল্লাহর সাহায্য চাও। আর নিরাশ হোয়ো না।”১৪০
তিনি এ কথাটি খুতবায় বলতেন ও সাহাবাগণকে বলতে শিক্ষা দিতেন, “সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে হিদায়াত কামনা করি...”১৪১
তিনি মুয়ায -কে শিখিয়েছেন তিনি যেন প্রত্যেক সালাতের পর এ দু'আ করেন, “হে আল্লাহ, আপনাকে স্মরণ করতে, আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে ও আপনার জন্য আমার ইবাদাতকে সুন্দর করতে আমাকে সাহায্য করুন।”১৪২
নবীজি-এর একটি দু'আ এমন ছিল, “হে আমার প্রতিপালক, আমাকে সাহায্য করুন। আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করবেন না।”১৪৩
উমার -এর নির্ধারিত দু'আ কুনুতের একটি অংশ হলো, “হে আল্লাহ, আমরা আপনার সাহায্য চাই।”১৪৪
এক বিখ্যাত বর্ণনায় আছে, সাগর দ্বিখণ্ডিত করার জন্য আঘাত করে মূসা বলেন, “হে আল্লাহ, সব প্রশংসা আপনার। আপনার কাছেই অভিযোগ করা হয়। আপনিই সেই সত্তা, যার সাহায্য কামনা করা হয়। আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হয় মুক্তির জন্য, আপনার প্রতিই আস্থা রাখা হয় এবং আপনি ছাড়া আর কারও শক্তি বা গতি নেই।”১৪৫
আল্লাহর আদেশ পালন, আল্লাহর নিষেধকৃত বস্তু পরিত্যাগ এবং তাকদিরের ভালোমন্দ মেনে নেওয়া বান্দার পক্ষে কখনোই সম্ভব না আল্লাহর সাহায্য ছাড়া। ইয়াকুব বলেন,
"...আমি উত্তম ধৈর্যধারণ করব। তোমরা যা বানিয়েছ, তার ব্যাপারে আল্লাহই আমার আশ্রয়স্থল।”১৪৬
এ কারণেই নিজের উপর মিথ্যে অপবাদ আরোপের খবর (ইফকের ঘটনা) শুনে আয়িশা এই কথাটি বলেছেন। পরে আল্লাহ তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করে আয়াত নাযিল করেন।
মূসা তাঁর জাতিকে বলেছিলেন :
"অতএব আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং ধৈর্যধারণ করো।”১৪৭
আল্লাহ বলেন:
"(রাসূল) বলল, 'হে আমার প্রতিপালক, তুমি ন্যায্য মীমাংসা করে দাও, আর আমাদের প্রতিপালক তো দয়ার আধার। তোমরা যেসব কথা বলছ, সে বিষয়ে তিনিই একমাত্র আশ্রয়স্থল। "১৪৮
নবীজি যখন উসমান-কে সুসংবাদ দিলেন যে তিনি ফিতনার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তখন উসমান বলেছিলেন, “আল্লাহর সাহায্য চাই।”১৪৯ ফিতনাবাজরা যখন ভেতরে ঢুকে উসমান-কে মারতে লাগল আর তাঁর শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল, তখন তিনি পড়ছিলেন, “(হে আল্লাহ) আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি মহাপবিত্র। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত (ইউনুস -এর সেই দু'আ)। হে আল্লাহ, তাদের বিরুদ্ধে আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আপনি আমাকে যা দিয়ে পরীক্ষা করছেন, তা সহ্য করার জন্য আমি আপনার কাছে সাহায্য চাই।”
আবু তালহা থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক যুদ্ধে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে বললেন, “হে বিচারদিবসের মালিক, আমরা আপনারই ইবাদাত করি এবং আপনারই কাছে সাহায্য চাই।” আবু তালহা বলেন, “আমি দেখলাম শত্রুরা জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাচ্ছে।” আবুশ শাইখ আল-আসবাহানি এটি বর্ণনা করেছেন। ১৫০
দ্বীনি ও দুনিয়াবি জীবনে ভালো করার জন্য বান্দার আল্লাহর সাহায্য প্রয়োজন। যুবাইর তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ-এর প্রতি শেষ উপদেশে বলেন, তাঁর ঋণগুলো যেন শোধ করে দেওয়া হয়। তারপর বলেন, “যদি তা করতে অসমর্থ হও, আমার মনিবের কাছে সাহায্য চেয়ো।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা, আপনার মনিব কে?” তিনি জবাব দিলেন, “আল্লাহ।” আব্দুল্লাহ বলেন, “যখনই ঋণ পরিশোধ করতে কষ্ট হতো, আমি বলতাম, 'হে যুবাইরের মনিব, তাঁর ঋণ শোধ করে দিন।' আর তা শোধ করার ব্যবস্থা হয়ে যেত।”
মিম্বর থেকে দেওয়া নিজের প্রথম খুতবায় উমার ইবনুল খাত্তাব বলেন, “আরবরা এক দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্ত উট১৫১, যার রশি আমি ধরেছি। আমি একে নিয়ে বিস্তীর্ণ ভূমি পার হব আর এ কাজে আমি আল্লাহর সাহায্য চাই।”
মৃত্যু থেকে শুরু করে কিয়ামাতের সকল ভয়াবহতা সহ্য করার জন্যও বান্দা আল্লাহর সাহায্যের মুখাপেক্ষী।
খালিদ বিন ওয়ালিদ যখন মৃত্যুশয্যায়, তাঁর পাশে থাকা এক লোক বলল, "এটি (মৃত্যু) ভয়াবহ রকমের কঠিন।” খালিদ বললেন, “নিশ্চয়। কিন্তু আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাহায্য চাই।”
আমির বিন আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর মৃত্যুশয্যায় কান্না করে বলেন, “আমি কান্না করছি কেবল দিনের উত্তাপ (সিয়াম) আর দাঁড়ানোর শৈত্য (তাহাজ্জুদ) হারিয়ে ফেলার কারণে। আমি এই মারাত্মক ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই।”
অতীতের এক ব্যক্তি বলেছিলেন, “হে আমার প্রতিপালক, আমার অবাক লাগে, যে আপনাকে জানে সে কী করে অন্য কারও প্রতি আশা রাখতে পারে? আমার অবাক লাগে, যে আপনাকে জানে সে কী করে অন্য কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারে?”
উমার বিন আব্দুল আযিয -কে আল-হাসান চিঠি লেখেন, “আল্লাহ ছাড়া আর কারও সাহায্য চাইবেন না। না হলে যার কাছে সাহায্য চাচ্ছেন আল্লাহ আপনাকে তার দায়িত্বে ছেড়ে দেবেন।”
একজন সালাফ বলেছিলেন, “আল্লাহর সাহায্য চাও। তাঁর সাহায্য চাও, কারণ যাদের কাছে সাহায্য চাওয়া হয় তাদের মাঝে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।”

টিকাঃ
১৩৭ সূরাহ গাফির, ৪০: ৬০
১৩৮ আবু দাউদ: ১৪৭৯; তিরমিযি: ২৯৬৯-৩২৪৭-৩৩৭২; নাসাঈ, আল-কুবরা: ১১৪৬৪; ইবনু মাজাহ : ৩৮২৮ তিরমিযি একে হাসান সহীহ বলেছেন। নববী, আল-আযকার: ৪৭৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন এর ইসনাদ হাসান; ইবনু হাজার, ফাতহ: খণ্ড ১, ৬৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন, এর ইসনাদ জাইয়্যিদ; ইবনু হিব্বান : ২৩৯৬ একে সহীহ বলেছেন; একই কথা বলেছেন হাকিম: ১৯০২; যাহাবি একমত। আলবানি, সহীহুত তারগীব: ১৬২৭, একে সহীহ বলেছেন।
১০১ সূরাহ আল-ফাতিহাহ, ১:৫
১৪০ মুসলিম: ২৬৬৪; আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
১৪১ শাফিঈ, মুসনাদ : খণ্ড ১, ১৪৭ পৃষ্ঠায় ইবনু আব্বাস থেকে যঈফ জিদ্দান সূত্রে বর্ণনা করেছেন, খুতবাটি “তাঁর হিদায়াত কামনা করো" অংশটি ছাড়া সহীহ মুসলিমে এসেছে।
১৪২ আহমাদ: ২২১১৯-২২১২৬; আবু দাউদ: ১৫২২; নাসাঈ: ১৩০৪ এবং আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ: ১০৯
নববী, আল-আযকার: পৃষ্ঠা ১০৩ এবং আল-খুলাসাহ: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬৮ এবং রিয়াদ : ৩৮৯-১৪৩০ এ বলেন এর ইসনাদ সহীহ। একই কথা বলেছেন ইবনু কাসির, আল-বিদায়া: খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৯৭; ইবনু আল্লান, আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ: খণ্ড ৩, ৫৫ পৃষ্ঠাতে ইবনু হাজারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এটি সহীহ। আলবানি, সহীহুত তারগীব: ১৫৯৬-এ একে সহীহ বলেছেন, আরনাউত একই কথা বলেছেন।
১৪০ আহমাদ : ১৯৯৭; আবু দাউদ : ১৫১০-১৫১১; তিরমিযি: ৩৫৫১, তিরমিযি একে হাসান বলেছেন, যাহাবি একমত। আলবানি সহীহুত তিরমিযিতে একে সহীহ বলেছেন। আরনাউত বলেছেন এর ইসনাদ সহীহ।
১৪৪ তাহাবি, মা'আনিউল আসার: খণ্ড ১, ২৫০ পৃষ্ঠায় জাইয়্যিদ ইসনাদ সহকার বর্ণনা করেছেন।
১৪৫ তাবারানি, আল-আসওয়াত, আস-সগীর, ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত; হায়সামি : খণ্ড ১০, ১৮৩ পৃষ্ঠাতে বলেছেন, "এর ইসনাদে থাকা বর্ণনাকারীদের আমি চিনি না”।
১৪৬ সূরাহ ইউসুফ, ১২: ১৮
১৪৭ সূরাহ আল-আ'রাফ, ৭: ১২৮
১৪৮ সূরাহ আল-আম্বিয়া, ২১: ১১২
১৪৯ মুসলিম: ২৪০৩
১৫০ তাবারানি, আল-আসওয়াত: ৮১৬৩; ইবনুস সুন্নি, আমালুল ইয়াওমা ওয়াল লাইলাহ : ৩৩৪; হায়সামি: খণ্ড ৫, ৩২৮ পৃষ্ঠায় বলেন, এর ইসনাদে আব্দুস সালাম ইবনু হাশিম আছেন, যিনি যঈফ। আলবানি, আয-যঈফাহ: ৫১০৫-এ একে যঈফ বলেছেন।
১৫১ অর্থাৎ, যেকোনো কষ্ট সহ্য করে নেয় এবং যা করা উচিত তা করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00