📘 নবীজির ﷺ পাঠশালা 📄 ইউনুস আলাইহিস সালাম

📄 ইউনুস আলাইহিস সালাম


রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— ইউনুস আলাইহিস সালাম তার সম্প্রদায়কে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে জানিয়েছিলেন যে, তিনদিন পরই তাদের ওপর শাস্তি নেমে আসবে। এরপর তিনি তাদের ছেড়ে চলে যান। তখন তার জাতি সমস্ত সন্তান থেকে তাদের মায়েদের আলাদা করে দেয়। সকলে বের হয়ে আল্লাহর আশ্রয় নেয়। তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। আল্লাহ তাআলা আজাব উঠিয়ে নেন।
অপরদিকে ইউনুস আলাইহিস সালাম আজাবের অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো আজাব দেখতে পেলেন না। তাদের রীতি ছিল, যদি কেউ মিথ্যা বলে আর আপন বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো দলিল-প্রমাণ পেশ না করতে পারে তাহলে সে হত্যার উপযুক্ত হবে। তাই তিনি রাগান্বিত হয়ে বের হয়ে যান। এক জাহাজের কাছে আসেন। তারা তাকে উঠিয়ে নেয়। জাহাজের লোকেরা তাকে চিনতে পারে। তিনি আরোহণ করার পর জাহাজটি থেমে যায়। জাহাজটি ডানে-বামে কোনো দিকেই চলছিল না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমাদের এই জাহাজের কী হলো?' তারা বলল, 'আমরা জানি না।' তিনি বললেন, 'কিন্তু আমি জানি। এ জাহাজে মনিব থেকে পলাতক এক গোলাম রয়েছে। আল্লাহর কসম, যতক্ষণ না তোমরা তাকে ফেলে দেবে ততক্ষণ এটা চলবে না।' তারা বলল, 'হে আল্লাহর নবী! আমরা আপনাকে ফেলে দিতে পারব না।' ইউনুস আলাইহিস সালাম বললেন, 'তোমরা লটারি করো, যার নাম আসবে তাকে নিক্ষেপ করা হবে।'
তারা লটারি করলে তিন-তিনবারই ইউনুস আলাইহিস সালাম-এর নাম আসে। তাকে ফেলে দেওয়া হলে আল্লাহ তাআলা তাকে মাছের মুখে ছেড়ে দেন। মাছ তাকে গিলে ফেলে। তাকে নিয়ে সমুদ্রের গভীরে চলে যায়। ইউনুস আলাইহিস সালাম সেখানে নুড়ি পাথরের ঘর্ষণের মতো তাসবিহ পাঠ শুনতে পান। এ সময় তিনি দুআ করেন। যার বর্ণনা কুরআনে উঠে এসেছে এভাবে—
'তখন তিনি অন্ধকারের মধ্যে (আল্লাহকে) ডেকে বলেন, আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; আপনি পবিত্রতম সত্তা, আমি গুনাহগার।' [১]
মাছ তাকে পশমবিহীন পাখি-ছানার মতো পেট থেকে উগরে ফেলে। আল্লাহ তাআলা সেখানে একটি লাউগাছ উৎপন্ন করেন। তিনি এর মাধ্যমে ছায়া গ্রহণ করতেন। এরপর লাউ গাছটি শুকিয়ে যায়। গাছটি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি ক্রন্দন করতে থাকেন। আল্লাহ তাআলা ওহি প্রেরণ করে বলেন, 'একটি গাছ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে তুমি ক্রন্দন করছ! কিন্তু এক লক্ষ বা তারও বেশি লোকদের ব্যাপারে তুমি ক্রন্দন করছ না! তাদেরকে তুমি ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলে?' তিনি সেখান থেকে বের হন। এক বালকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। বালকটি মেষ চড়াচ্ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কোন সম্প্রদায়ের?' সে বলল, 'ইউনুস সম্প্রদায়ের।' তিনি বললেন, 'তুমি তাদেরকে গিয়ে সালাম জানাবে। বলবে যে, তুমি ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছ।'
বালকটি বলল, 'যদি তুমি ইউনুস হয়ে থাকো তাহলে তো তুমি জানো, যে কেউ প্রমাণবিহীন মিথ্যা বললে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকে। তোমার উক্ত দাবির পক্ষে কে আমার সাক্ষী হবে?' তিনি বললেন, 'এই গাছ এবং এই স্থানটি তোমার সাক্ষী দেবে।' বালকটি ইউনুস আলাইহিস সালাম-কে বলল, 'তাদেরকে আদেশ করুন।' ইউনুস আলাইহিস সালাম গাছ ও সেই স্থানকে বললেন, 'তোমাদের কাছে বালকটি আসলে তোমরা তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।' গাছ ও স্থান বলল, 'হ্যাঁ।'
বালকটি তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেল। সে বাদশাহর কাছে গিয়ে বলল, 'আমি নবী ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আপনাদেরকে সালাম জানিয়েছেন।' বাদশাহ বালকটিকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। বালকটি বলল, 'আমার সাক্ষী রয়েছে।' বাদশাহ তার সঙ্গে কয়েকজন লোক পাঠান। তারা সেই গাছ ও স্থানের কাছে পৌঁছে। বালকটি এগুলোকে সম্বোধন করে বলে, 'আমি তোমাদেরকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, ইউনুস কি তোমাদেরকে সাক্ষী রাখেননি?' তারা বলল, 'হ্যাঁ।' লোকেরা ভীত হয়ে গেল। তারা বাদশাহর কাছে গিয়ে এর বিবরণ পেশ করল। বাদশাহ বালকটির হাত ধরে তাকে নিজের আসনে বসালেন। বালকটি ৪০ বছর তাদের দায়িত্ব পালন করে। [১]

প্রথম পাঠ
আল্লাহ তাআলা একজনকে অপরজনের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। নবীগণও মানুষ। তাদের একজন অন্যজনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা নবীদেরকে নিষ্পাপ থাকার গুণ দান করেছেন। সেটা ধর্মীয় ক্ষেত্রে এবং ধর্মীয় বিধি-নিষেধ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে। তেমনিভাবে চারিত্রিক ক্ষেত্রেও তারা নিষ্পাপ। কিন্তু পার্থিব বিষয়ে তারা মানুষ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে পরাগায়ন করার প্রশ্নে বলেছিলেন, 'তোমরা পার্থিব বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক অবগত।' বনি ইসরাইল গো-বৎসকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করায় মুসা আলাইহিস সালাম খুব রাগান্বিত হন, এমনকি নিজ ভাই হারুন আলাইহিস সালাম তাকে বলেন— 'হে আমার জননী-তনয় (ভাই), আমার শ্মশ্রু ও মাথার চুল ধরে টেনো না।' [১]
মনুষ্য-স্বভাবের কারণে ইউনুস আলাইহিস সালাম থেকে এ কাজ সংঘটিত হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা ওহির মাধ্যমে তাকে আজাবের সংবাদ দিয়েছিলেন। ইউনুস আলাইহিস সালাম তা জানতেন না। কারণ তিনি তো একজন মানুষ। কোনো অদেখা বিষয় সম্পর্কে তিনি জানেন না। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে বের হয়ে যান। সমুদ্রতীরে এসে জাহাজবাসীকে অনুরোধ করেন। জাহাজটি না চলায় লটারি করা হলে তিনবারই ইউনুস আলাইহিস সালাম-এর নাম আসে। তখন তিনি নিজেই সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'তোমাদের কেউ যেন এটা না বলে যে, আমি ইউনুস ইবনে মাত্তার চেয়ে উত্তম।'

দ্বিতীয় পাঠ
তাওবা আজাব উঠিয়ে নেয়। দুআ তাকদির পরিবর্তন করে দেয়। আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করে রেখেছেন যে, দুআ ও তাওবা শাস্তিকে ফিরিয়ে দেয়। ইউনুস আলাইহিস সালাম-কে আল্লাহ তাআলার লিখিত প্রথম তাকদির সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় তাকদির তিনি জানতেন না। দেখা যাবে বহু আজাব নেমে আসার মতো ছিল; কিন্তু তাওবার ফলে তা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় পাঠ
মানুষের স্বভাব বিভিন্ন ধরনের। নবীদের স্বভাব অন্য মানুষের তুলনায় ভিন্ন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদরের বন্দীদের ব্যাপারে সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তিনি তখন অত্যন্ত চমৎকার কথা বলেন। তিনি বলেন, 'হে আবু বকর, তুমি ঈসা ইবনে মারিয়ামের মতো। আর হেমর, তুমি নুহের মতো।' [৩] বদান্যশীল ব্যক্তি সবসময় বদান্যতা প্রদর্শন করে। কৃপণ ব্যক্তি চিরদিন কৃপণ রয়ে যায়। ঈমান মানুষের স্বভাবকে পরিমার্জিত করতে পারে কিন্তু একে সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে দেয় না।

চতুর্থ পাঠ
জায়েজ ক্ষেত্রে লটারি করাটা ভিত্তিহীন বিষয় নয়। এটি নবীদের রীতি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধে বের হওয়ার সময় স্ত্রীদের মধ্যে লটারি করেছেন। [১] এর মাধ্যমে কোন স্ত্রীকে যুদ্ধে নিয়ে যাবেন—এ মধুর সমস্যার সমাধান হতো। লটারি এক চমৎকার সমাধান।

পঞ্চম পাঠ
আল্লাহ তাআলা অসীম ক্ষমতার অধিকারী। মানুষ-খেকো হিংস্র মাছকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সে ইউনূস আলাইহিস সালাম-কে গিলে নেয়। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাকে রক্ষা করতে পারেন। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও ইউনুস আলাইহিস সালাম-এর আমলের পার্থক্যের কারণে আল্লাহ কর্তৃক তাদের হেফাজতে পার্থক্য ঘটেছে। ইউনুস আলাইহিস সালাম আজাব না আসায় রাগান্বিত হয়ে বের হয়ে যান। আল্লাহ তাআলা তার জীবনকে রক্ষা করেছেন, তবে ঘটে যাওয়া কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য তিনি তাকে সমস্যায় নিপতিত করেন।

ষষ্ঠ পাঠ
মানুষের সঙ্গে তাদের মর্যাদা অনুযায়ী আচরণ করুন। লক্ষ করুন, প্রথমবার লটারিতে নাম আসার সঙ্গে সঙ্গেই লোকেরা ইউনুস আলাইহিস সালাম-কে সমুদ্রে ফেলে দেয়নি। কারণ তিনি তাদের এক সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতেম তাই-এর মেয়েকে সম্মান করেছিলেন। কারণ তার পিতা আরবের একজন মর্যাদাবান ও সম্মানিত লোেক ছিলেন। অভিজাত ও অনুগ্রহশীল ব্যক্তির পদস্খলন ঘটে গেলে তা হালকাভাবে গ্রহণ করুন।

সপ্তম পাঠ
মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'মুসলমান ভীরু হতে পারে, কৃপণ হতে পারে, কিন্তু মিথ্যুক হতে পারে না।' [২] ইউনুস আলাইহিস সালাম-এর সম্প্রদায় মিথ্যাকে এত অপছন্দ করত যে, এর শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদি কাফের সম্প্রদায় মিথ্যাকে এমন অপছন্দ করতে পারে, তাহলে মুসলমান কীভাবে মিথ্যুক হতে পারে!

টিকাঃ
[১] সুরা আম্বিয়া, আয়াত-ক্রম: ৮৭
[১] মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস-ক্রম: ৩১৮৬৬। সনদ হাসান।
[১] সূরা ত্বহা, ২০:৯৪
[১] সুরা মায়িদাহ, আয়াত-ক্রম: ১১৮
[২] সুরা নূহ, ৭১: ২৬
[৩] মুসনাদে আহমদ, ৩৬৩২। যঈফ।
[১] সহিহ বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৪১৪১
[১] সহিহ বুখারি, হাদিস-ক্রম: ২৫১৮
[২] বায়হাকী, শুআবুল ঈমান, হাদিস-ক্রম: ৪৪৭২

📘 নবীজির ﷺ পাঠশালা 📄 ইউশা ইবনে নুন আলাইহিস সালাম

📄 ইউশা ইবনে নুন আলাইহিস সালাম


আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
'এক নবী জিহাদে বের হবার প্রাক্কালে নিজ সম্প্রদায়কে বললেন, “এমন কোনো ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে না, যে কোনো নারীকে বিয়ে করেছে এবং তার সঙ্গে মিলিত হবার ইচ্ছা রাখে, কিন্তু এখনো মিলিত হয়নি। এমন ব্যক্তিও না, যে ঘর তৈরি করেছে কিন্তু তার ছাদ তোলেনি। আর এমন ব্যক্তিও না, যে গর্ভবতী ছাগল বা উটনী কিনেছে এবং তার প্রসবের অপেক্ষায় আছে।”
অতঃপর তিনি জিহাদের জন্য বের হলেন। আসরের নামাজের সময় কিংবা এর কাছাকাছি সময় তিনি একটি জনপদের কাছাকাছি পৌঁছুলে সূর্যকে লক্ষ্য করে বললেন, “তুমিও আদেশ পালনকারী আর আমিও আদেশ পালনকারী। হে আল্লাহ! সূর্যকে থামিয়ে দিন!” সূর্যকে থামিয়ে দেওয়া হলো। আল্লাহ তাকে বিজয় দান করলেন। তিনি গনিমতের সম্পদগুলো একত্র করলে এগুলো জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য আগুন এল, কিন্তু আগুন তা জ্বালাল না।
ওই নবী তখন বললেন, “তোমাদের মধ্যে (গনিমত) আত্মসাৎকারী রয়েছে। প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন যেন আমার কাছে বায়আত হয়।” একজনের হাত তখন নবীর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। নবী বললেন, "তোমাদের গোত্রেই আত্মসাৎকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎকারী রয়েছে।” অবশেষে তারা গাভীর মস্তক-পরিমাণ স্বর্ণ উপস্থিত করল এবং তা রেখে দিল। এরপর আগুন এসে তা জ্বালিয়ে ফেলল। তবে আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতার প্রতি লক্ষ করে আল্লাহ আমাদের জন্য তা হালাল করে দিয়েছেন।' [২]

প্রথম পাঠ
ঘটনায় যে নবীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তিনি ইউশা ইবনে নুন আলাইহিস সালাম। কুরআনুল কারিমে তার ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে— 'যখন মুসা তার যুবক (সঙ্গী)-কে বললেন।' [৩] মুসা আলাইহিস সালাম-কে বনি ইসরাইল বলেছিল— 'যতক্ষণ তারা সেখানে থাকবে আমরা কখনো সেখানে যাব না। বরং আপনি ও আপনার রব যান এবং উভয়ে যুদ্ধ করুন। আমরা এখানেই বসলাম।' [১] আল্লাহ তাআলা তখন তাদেরকে তিহ ময়দানে প্রবেশ করান। হারুন ও মুসা আলাইহিমাস সালাম-এর ইন্তেকালের পর আল্লাহ তাআলা ইউশা ইবনে নুন আলাইহিস সালাম-কে নবুওয়াত প্রদান করেন। তিনি আমালেকাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করেন।

দ্বিতীয় পাঠ
কখনো পরিমাণ নিয়ে আলোচনা করবেন না; বরং গুণগতমান নিয়ে আলোচনা করুন। ইউশা আলাইহিস সালাম যাদের মন অন্য কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদেরকে শরিক করেননি। যেমন— যে কোনো নারীকে বিয়ে করেছে কিন্তু ঘরসংসার করেনি, ঘর বানিয়েছে কিন্তু ছাদ তোলেনি, পশুর প্রসবের অপেক্ষায় আছে। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, দুনিয়া মানুষকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে। ঈমান মানুষের স্বভাবকে পরিমার্জিত করতে পারে কিন্তু একে সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে দেয় না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান ইবনে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কোলে নিয়ে বলেন— 'আর জেনে রাখো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অকল্যাণের সম্মুখীনকারী।' [১] দ্বীন গ্রহণ করার অর্থ হারাম থেকে বেঁচে থাকা, জীবন থেকে হাত গুটিয়ে নেয়া নয়।

তৃতীয় পাঠ
সকল বিষয় আল্লাহ তাআলার হাতে। জুমার দিন আসরের শেষ সময় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এ কারণেই ইউশা আলাইহিস সালাম সূর্যকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, 'আমিও আদিষ্ট তুমিও আদিষ্ট।' এটাই হলো প্রকৃত ঈমান। এই বিশ্বজগতের সবকিছুই আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। জিবরাইল আলাইহিস সালাম থেকে নিয়ে ছোট্ট পিপীলিকা— সবকিছুই আল্লাহর নির্দেশের সামনে সমান। আমাদের দায়িত্ব হলো উপকরণ গ্রহণ করা, কিন্তু ফলাফল আল্লাহর হাতে।

চতুর্থ পাঠ
একজন সেনাপতি বা পরিচালককে মানবিক হতে হয়। জ্ঞানী দায়িত্ববান ব্যক্তি মানুষকে নিয়ম-কানুনের মাধ্যমে নয়, বরং অন্তরের মাধ্যমে অনুগত করে রাখেন। ব্যর্থ দায়িত্বশীল হলো সে, যে নিজেকে নিয়ম-কানুনের গোলাম বানিয়ে রাখে।

পঞ্চম পাঠ
নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যেও স্তর-ভেদ রয়েছে। ইউশা ইবনে নুন আলাইহিস সালাম-এর বাহিনীর প্রতি লক্ষ করুন। দুনিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেককে তিনি দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। দেখা গেল, খুব কম মানুষই উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। এমনকি তাদের মধ্যেও কেউ কেউ গনিমতের সম্পদ চুরি করেছে। এ দুনিয়া পুরোটাই এক জাদু ও ফেতনা।

ষষ্ঠ পাঠ
আকিদার ক্ষেত্রে সকল নবী-রাসুল একমত। কিন্তু শরিয়তের ক্ষেত্রে তাদের ভিন্নতা রয়েছে। পূর্ববর্তী সকল উম্মতের ওপর গনিমতের সম্পদ হারাম ছিল। তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল-গনিমতের সম্পদ একত্রিত করার পর আকাশ থেকে আগুন এসে তা জ্বালিয়ে দিত। এই যুদ্ধে আগুন প্রথমদিকে জ্বালিয়ে দেয়নি কারণ এক ব্যক্তি সম্পদ আত্মসাৎ করেছিল। পরে তা ফেরত আনলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এটিই ছিল কবুল হওয়ার আলামত।

টিকাঃ
[১] (গনিমত সংক্রান্ত নিয়মাবলী)
[২] সহিহ বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৩১২৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ১৭৪৭
[৩] সুরা কাহাফ, আয়াত-ক্রম: ৬০
[১] সুরা মায়িদাহ, আয়াত-ক্রম: ২৪
[১] সুরা আনফাল, ৮: ২৮

📘 নবীজির ﷺ পাঠশালা 📄 রাসুল-কন্যা যাইনাব ও আবুল আস ইবনে রবি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা

📄 রাসুল-কন্যা যাইনাব ও আবুল আস ইবনে রবি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা


আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন- মক্কাবাসী যখন বদরযুদ্ধে বন্দী হওয়া স্বজনদের মুক্তির জন্য মুক্তিপণ স্বরূপ বিভিন্ন পণ্য প্রেরণ করছিল তখন আবুল আস ইবনে রবির মুক্তিপণ স্বরূপ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মেয়ে যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা কিছু অর্থ-সম্পদ পাঠান। তাতে তিনি একটি গলার হারও পাঠান। হারটি ছিল খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা'র। হারটি দেখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্তর অত্যন্ত বিগলিত হয়ে যায়। তিনি বলেন, 'যদি তোমরা ভালো মনে করো তাহলে এই হারটি তাকে (যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা) ফেরত দিয়ে বন্দীকে মুক্ত করে দিতে পারো।' সাহাবায়ে কেরাম বললেন, 'অবশ্যই, ইয়া রাসুলাল্লাহ।' তখন তারা তাকে মুক্ত করে দেন। যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা'র হার তাকে ফেরত দিয়ে দেন।' [১]

প্রথম পাঠ
আবুল আস ইবনে রবি হলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মেয়ে যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা'র খালাতো ভাই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রশংসা করে বলেন, 'আবুল আস ইবনে রবি'র কাছে আমি মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। সে আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছে এবং তা রক্ষা করেছে।' [২] আবুল আস যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করেছিলেন নবুওয়াত লাভের আগে। আবুল আস যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা'র ঈমান আনার বিষয়ে অবগত হলেও তাকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করেননি। কুরাইশরা যাইনাবকে পৃথক করে দেওয়ার জন্য আবুল আসকে চাপ দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বদরের যুদ্ধে আবুল আস বন্দী হন। যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা স্বামীর মুক্তির জন্য গলার হার পাঠান যা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে দিয়েছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবুল আসকে মুক্ত করে দেন এবং যাইনাবকে মদিনায় পাঠিয়ে দিতে বলেন। যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা মদিনায় হিজরতের পর স্বামী আবুল আসের কাছ থেকে প্রায় ছয় বছর বিচ্ছিন্ন থাকেন। পরে আবুল আস মদিনায় গিয়ে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন এবং যাইনাবকে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় পাঠ
যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা ও আবুল আসের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। বিচ্ছেদের সকল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি স্বামীর সঙ্গে জীবনযাপন করতে থাকেন। তিনি আশা করতে থাকেন যে একদিন স্বামী ইসলাম গ্রহণ করবেন। মনের সঙ্গে মনের মিল হয়ে গেলে ব্যক্তিগত স্বার্থ সেখানে তিরোহিত হয়ে যায়। সেখানে শুধুই 'আমরা' থাকে।

তৃতীয় পাঠ
ইসলাম উত্তম আচরণের ধর্ম। ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। এই ধর্মের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা'র জন্য আবুল আসকে ভালোবাসতে বাধা প্রদান করেননি। ভালোবাসা কোনো দোষ নয়। তবে ভালোবাসার আদব রয়েছে। যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা আল্লাহর নির্দেশ পালনে পিছুপা হননি, আবার আবুল আসের জন্য দীর্ঘ ছয়টি বছর অপেক্ষা করেছেন।

চতুর্থ পাঠ
এক দিকে ভালোবাসায়-কুরবান-হয়ে-যাওয়া এক কন্যা, বিপরীতে পিতৃত্বের ক্ষেত্রে সজাগ এক পিতা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাতার মুক্তিপণের হার দেখে বিগলিত হলেও সাহাবিদের সম্মতি নিয়েছিলেন। তিনি মেয়েকে ইচ্ছাধিকার প্রদান করেছিলেন। পিতৃত্বের অর্থ এটা নয় যে সন্তানকে বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সন্তান যাতে পড়ে না যায় এজন্য তাকে ধরে রাখাটা পিতার দায়িত্ব নয়; বরং পড়ে গিয়ে সে যেন নতুন করে দাঁড়াতে পারে এজন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই তার দায়িত্ব। যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন আবুল আসকে নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'মুসলমানদের অতি সাধারণ ব্যক্তিও সকল মুসলমানের বিপরীতে কাউকে আশ্রয় দিতে পারে।' [১]

পঞ্চম পাঠ
ভালোবাসা অন্তরের বিষয়। টাকা-কড়ি থাকলে অনেকেই ভালোবাসতে চাইবে, কিন্তু দুঃসময়ে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রকৃত প্রেমিক-যে ভালোবাসা ও মহব্বতের কথা মুখে প্রকাশ করতে পারে না-সে আপনার পাশেই পড়ে থাকবে। আবুল আস কুরাইশদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং যাইনাবকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি হননি।

ষষ্ঠ পাঠ
নিষ্ঠুর অন্তরও মাঝে-মধ্যে নরম হয়ে যায়। দূরে অবস্থানকারী ব্যক্তিটি কখনো নিকটে চলে আসতে পারে। যেটাকে আজ অসম্ভব মনে করছেন, আগামীকালই তা আপনার সামনে হাজির দেখতে পারেন। আপনাকে বুঝতে হবে যে, এক অন্তরের ওপর অপর অন্তরের অধিকার রয়েছে। এই পথে চলতে গিয়ে বহু কষ্টের সম্মুখীন হতে পারেন, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।

সপ্তম পাঠ
ইসলাম আগমনের পূর্ব থেকেই আরবদের অনেক সুন্দর চরিত্র ছিল। আরবরা কখনো কোনো ওয়াদা ভঙ্গ করত না। হান ইবনে মাসউদ বা সামওয়ালের মতো বহু ব্যক্তিত্বের অঙ্গীকার পালনের কাহিনী ইতিহাসে প্রসিদ্ধ। ইসলাম এসে আরবদের অনেক ভালো গুণাবলী বহাল রেখেছে। আর আমরা আজ সভ্য হওয়ার নামে নিজেদের ঐতিহ্য ও ভালো বৈশিষ্ট্যগুলো বিসর্জন দিচ্ছি।

টিকাঃ
[১] মুসনাদে আহমদ, হাদিস-ক্রম: ২৬৩৬২
[২] সহিহ বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৩৭২৯
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস-ক্রম: ২৭৫১

📘 নবীজির ﷺ পাঠশালা 📄 আল্লাহর ওপর স্পর্ধা প্রদর্শনকারী

📄 আল্লাহর ওপর স্পর্ধা প্রদর্শনকারী


রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
'বনি ইসরাইলের দুই ব্যক্তির মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। তাদের একজন গুনাহ ও পাপাচারে লিপ্ত থাকত আর অপরজন ইবাদত-বন্দেগিতে থাকত মগ্ন। ইবাদতগুজার ব্যক্তিটি তার বন্ধুকে গুনাহে লিপ্ত থাকতে দেখে বলত, "তুমি বিরত হও।” একদিন তাকে গুনাহ করতে দেখে বলল, “তুমি বিরত হয়ে যাও।” তখন ঐ ব্যক্তিটি বলল, "আমাকে আমার রবের হাতে ছেড়ে দাও। তোমাকে কি আমার ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী করে পাঠানো হয়েছে?"
ইবাদতগুজার ব্যক্তিটি বলল, “আল্লাহর কসম, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না!” কিংবা সে বলেছে, “আল্লাহ তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না।”
এরপর তাদের উভয়ের রুহ কবজা করা হয়। তারা উভয়ে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছে একত্রিত হয়। আল্লাহ তাআলা তখন ইবাদতগুজার লোকটিকে বললেন, "তুমি কি আমার ব্যাপারে জানতে কিংবা তুমি কি আমার ক্ষমতার ওপর কর্তৃত্ববান?” আর পাপাচারীকে বললেন, “যাও, তুমি আমার রহমতের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করো।” এবং অপরজন (অর্থাৎ ইবাদতগুজার ব্যক্তির) ব্যাপারে (ফেরেশতাদের) বললেন, “তোমরা তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাও।” [১]

প্রথম পাঠ
নেক আমল এবং ইবাদত-বন্দেগিতে অধ্যবসায় মানুষকে বান্দা থেকে ইলাহের স্তরে পৌঁছে দিতে পারে না। কিছু মানুষ আমলের অহংকারে ভুলে যায় যে সে নিজেও আল্লাহর রহমতের অধীন। জান্নাত-জাহান্নামের ফয়সালা করার দায়িত্ব কারো হাতেই অর্পণ করা হয়নি। আমরা পাপাচারী বা ইবাদতগুজার যেই হই না কেন, আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউ মুক্তি পাব না।

দ্বিতীয় পাঠ
সৎ কাজের আদেশের অর্থ অন্যের দোষ-ত্রুটির পাহারাদার বনে যাওয়া নয়। কাউকে গুনাহে লিপ্ত দেখলে ঘৃণা না করে তাকে আল্লাহর রহমতের কথা শোনান। সাবধান, তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করার পরিবর্তে দূরে ঠেলে দেবেন না! যে ব্যক্তি ৯৯ জনকে হত্যা করেছিল সে নিরাশকারী দাঈর পাল্লায় পড়ে খুনের সেঞ্চুরি করেছিল, কিন্তু পরে আশার বাণী পেয়ে তাওবা করেছিল।

তৃতীয় পাঠ
শব্দ প্রয়োগে সতর্ক হোন! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মানুষ আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কোনো কথা বলে ফেলে যাকে সে তেমন গুরুত্ব দেয় না, কিন্তু সেই কথার কারণেই সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। [১] আমাদের কথাগুলো কর্তনকারী তরবারির ন্যায়। বান্দাকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করা মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ তাআলা বলছেন- 'তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন।' [১] আকাশের বিষয়ে ফায়সালা দেওয়ার ক্ষমতা কোনো মানুষের নেই।

চতুর্থ পাঠ
এক বন্ধু অপর বন্ধুর আয়না। বন্ধু তো সে যে ভুল হলে শুধরে দেয়। হাদিসে উল্লিখিত ইবাদতগুজার বন্ধুটি দাওয়াতের পদ্ধতিতে ভুল করেছে। বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা আপনাকে আল্লাহর সীমা লংঘন করার সুযোগ এনে দেয় না। পদ্ধতি এবং শৈলী হলো চিন্তা-চেতনা পরিচালিত হওয়ার মূল ভিত।

পঞ্চম পাঠ
শেষ ভালো যার সব ভালো তার। উত্তম পরিণামের জন্য সবসময় আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে। কোনো আমল আপনাকে আল্লাহর রহমত থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিতে পারে না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিনে সত্তরেরও অধিকবার ইস্তেগফার করতেন। [১] শরীরের অন্তরটি ভালো হলে সব ভালো। হাদিসে এসেছে যে কেউ সারা জীবন জান্নাতের আমল করে কিন্তু শেষ মুহূর্তে তকদির অগ্রগামী হয়ে সে জাহান্নামে যায়। [৪]

ষষ্ঠ পাঠ
আল্লাহর আদালতে ইনসাফ পাওয়া যাবে। ইবাদতগুজার ব্যক্তিটি আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারে স্পর্ধা দেখিয়েছিল, অপরদিকে পাপাচারী ব্যক্তিটি আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করেছিল। ইবাদত যদি অন্তরের ইবাদতের সঙ্গে না মেলে তবে তার ওজন নেই। পাপাচারী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর প্রতি সুধারণা তাকে মুক্তি দিয়েছে, আর আমলদার হওয়া সত্ত্বেও অহংকার অন্যজনকে জাহান্নামে নিয়ে গেছে।

টিকাঃ
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস-ক্রম: ৪৯০১
[১] সহিহ বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬৪৭৮
[১] সুরা যুমার, আয়াত-ক্রম : ৫৩
[২] সুরা আলে ইমরান, আয়াত-ক্রম : ১২৮
[১] সহিহ বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬৩০৭
[২] সুরা ফাতাহ, আয়াত-ক্রম : ২
[৩] সহিহ বুখারি, হাদিস-ক্রম : ৫২
[৪] সহিহ বুখারি, হাদিস-ক্রম : ৩২৩২
[১] সহিহ বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৭৪০৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px