📄 হামদান গোত্রের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ
ইয়ামনের এক বড় গোত্রের নাম হামদান। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে খালিদ ইবনুল ওলীদ (রা.) কে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য পাঠান। তিনি সেখানে ছয়মাস অবস্থান করেন। কিন্তু কেউ ইসলাম গ্রহণ করল না। তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (রা.)কে চিঠি দিয়ে পাঠান এবং বলেন, খালিদকে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। হযরত আলী (রা.) গিয়ে সবাইকে একত্রিত করেন এবং নবীজীর চিঠি পড়ে শোনান। ইসলামের দাওয়াত দেন। পুরো গোত্র একদিনে মুসলমান হয়ে গেল। হযরত আলী (রা.) চিঠি পাঠিয়ে নবীজীকে খবর দেন। খবর শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকরিয়ার সিজদা আদায় করেন। আর আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে কয়েকবার এ বাক্যটি বলেন- السَّلَامُ عَلَى حَمْدَانَ হামদান গোত্রের প্রতি শান্তি ও নিরাপত্তা হোক। [বাইহাকী, সীরাতুল মুস্তফা: ৩ ১১৩]
📄 হযরত ইকরামার মুসলমানকে শহীদ করা এবং নবীজীর হাসি
এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে মক্কা বিজয়ের দিন একজন মুসলমানকে শহীদ করেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেরে মুচকি হাসি দেন। বলেন, হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জান্নাতী। অর্থাৎ তিনি ইঙ্গিত করলেন যে, শীঘ্রই ইকরামা মুসলমান হয়ে যাবেন। [মাদারিজুন্নাবুওয়ত: ২: ৩৯৩, সীরাতুল মুস্তফা ৩: ৪৫]
📄 কা’ব ইবনে যুবায়েরের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ
কা'ব ইবনে যুবায়ের প্রসিদ্ধ কবি ছিলেন। নবীজীর প্রশংসায় তিনি কবিতা পাঠ করতেন। তিনি ঐ ব্যক্তি, মক্কা বিজয়ের দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যেখানে পাওয়া যাবে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি মক্কা থেকে পলায়ন করেন। পরে মদীনায় গিয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। নবীজীর উদ্দেশ্যে তিনি যে সব কবিতা বলেছেন, তা 'বানাত সুয়াদ' নামে এক গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে। এটা বিশ্বখ্যাত প্রসিদ্ধ একটি সাহিত্য। তার ইসলাম গ্রহণে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব খুশি হন। তাঁকে তিনি একটি চাদর উপহার দেন। [সীরাতুল মুস্তফা: ৩: ৪৭]
📄 উতবা এবং মা'তাবের ইসলাম গ্রহণে নবীজীর আনন্দ
হযরত আব্বাস (রা.) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন- তোমার দুই ভাতিজা এবং আবু লাহাবের সন্তান উতবা ও মা'তাব কোথায়? আমি বললাম, তারা লুকিয়ে আছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তাদেরকে আমার কাছে নিয়ে আস।
আমি বাহনে চড়ে আরাফায় গেলাম। সেখান থেকে উভয়কে নিয়ে এসে নবীজীর সামনে পেশ করলাম। তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করে নিল। নবীজীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করল।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। উভয়ের হাত ধরলেন। কা'বার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ দুআ করলেন। তারপর যখন ফিরে আসেন তখন নবীজীর চেহারায় আনন্দের আলামত দেখা যাচ্ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাআলা আপনাকে সব সময় আনন্দিত রাখুন। কী ব্যাপার? আপনি হাসলেন কেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আমার দুই চাচাত ভাইকে চেয়েছিলাম, আল্লাহ তাআলা আমাকে দান করেছেন। [খাসাইসুল কুবরা : ১ : ২৬৪]